তার আনন্দ চিৎকার তার স্ত্রী পারলির কানে গিয়ে আর্তনাদের মতো ঢোকে।
তার স্ত্রী ছুটে এসে জিজ্ঞেস করে, তুমি এত চিল্লাইতে আছ ক্যান, ছুরইত্তার মতন তুমিও পাগল অইয়া গ্যালা নি?
আলালদ্দি লজ্জা পেয়ে বলে, খোয়াব দেকছি, রুই মাছের খোয়াব।
পারলি ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে, তোমার বাপেও রুইত মাছ দ্যাহে নাই, তোমার মতন মরদ দ্যাহে রুইত মাছ।
আলালদ্দি বলে, আসল রুইত মাছ না, খোয়াব দেকছি।
পারলি বলে, খোয়াবেও তোমার মিরকা মাছই দ্যাহনের কতা, তুমি মিরকা মাছের পুরুষপোলা।
আলালদ্দি খোয়াবে আচ্ছন্ন বলে রাগতে পারে না, নইলে সে পারলির বাপের নাম ভুলিয়ে দিতো, যেমন সে মাঝেমাঝেই ভুলিয়ে দেয়। পারলি তখন নিজের বাপের নাম ভুলে আলালদ্দির নাম ডাকতে থাকে।
আলালদ্দি বলে, বড়ো সুখ লাগতাছে, রুইত মাছ দেকছি।
পারলি বলে, খোয়াব লইয়াই থাক, রান্ধনের লিগা বইচা মাছও নাই।
ওই আলালদ্দিই রাতের বেলা ঘুমনাখোয়াব দেখে হুহু করে কেঁদে ওঠে।
খোয়াবে সে তার কুমড়ো ক্ষেতটি দেখতে পায়।
আলালদ্দি দেখতে পায় তার ক্ষেত ভ’রে বড়ো বড়ো কুমড়ো হয়েছে, একেকটি একমণ দু-মণ হবে, এতো বড়ো কুমড়ো তার ক্ষেতে আগে কখনো হয় নি, হওয়ার কথাও সে কখনো ভাবে নি। কুমড়োগুলো শুধু বড়োই নয়, খুবই কচকচে, নলামাছ দিয়ে খেলেও মধুর মতো লাগবে, ইলিশ মাছের সাথে লাগবে রসগোল্লার মতো কুমড়োগুলোকে ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে হয় আলালদ্দির। ছোঁয়ার সময় তার মনে হয় সে পারলির দেহটা ছুঁচ্ছে; আজকের পারলির নয়, যে-রাতে সে পারলিকে মাফায় করে কান্দিপাড়া থেকে নিয়ে এসেছিলো, সে-রাতের পারলির দেহের মতো। কিন্তু ছুতে গিয়েই ভয় পেতে থাকে আলালদ্দি; প্রথম কুমড়োটি ছুঁতেই তার আঙুল কুমড়োর ভেতরে ঢুকে যায়, তারপর পুরো হাতটিই ঢুকে যায় কুমড়োটির ভেতর, বিরাট কুমড়োর ভেতর থেকে ভজভজ করে বেরোতে থাকে মলমূত্র, কুমড়োটি তাকে টেনে ঢুকিয়ে ফেলতে চায় খোলের ভেতরে। আলালদ্দি কোনো রকমে হাত টেনে সরিয়ে আনে, এবং ছোঁয় আরেকটি কুমড়ো; ছোঁয়ার সাথে সাথে কুমড়োর ভেতর থেকে গলগল করে উপচে পড়ে মলমূত্র, আলালদ্দি মলমূত্রের নিচে তলিয়ে যেতে থাকে, আর কুমড়োটি তাকে চুমুক দিয়ে নিজের খোলর ভেতর ঢুকিয়ে ফেলে। আলালদ্দি চিৎকার করতে চায়, পারে না; সে আবর্জনার ভেতর লুপ্ত হয়ে যেতে থাকে; শুধু হুহু শব্দ উঠতে থাকে।
পারলি তাকে ঠেলা দিয়ে জিজ্ঞেস করে, অ, রহমানের বাপ, এমন কইর্যা গোঙ্গাইতে আছ ক্যান?
আলালদ্দি কাঁপতে কাঁপতে বলে, আমারে ধরিছ না, আমার শরিলে গু-মুত; কুমরাখ্যাত গু-মুতে ভইরা গ্যাছে, আমি গু-মুতে ডুইব্যা গ্যাছি।
পারলি বলে, তুমি কী যে কও, গু-মুত আইব কোন হান থিকা। তুমি আইজকাল ছুরইত্তার মতন পাগল অইয়া যাইতাছ।
আলালদ্দি বলে, কুমরার ভিতর গু-মুত; আমারে ঢাইক্যা ফ্যালছে, আমি বাইর অইতে পারতাছি না।
তারপর আলালদ্দি আবার ঘুমিয়ে পড়ে।
সকালবেলা পারলি জানতে চায়, তুমি রাইতে কিয়ের গু-মুতের খোয়ব দ্যাকলা, কুমাখ্যাতে গু-মুতের কতা কইলা?
আলালদ্দি তার খোয়ব মনে করতে পারে না।
এমন অজস্র খোয়ব আমরা দিনরাত দেখছি; আমাদের খোয়াবের কথা দেশের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে, আমরা সেগুলো নিয়ে খুবই ব্যস্ত রয়েছি।
জনদরদী সমাজসেবক বিশিষ্ট শিল্পপতি বান্দিরগোলা পাড়াকমিটি ও আল মদিনা মসজিদ কমিটির চেয়ারম্যান পশ্চিম ধনেরপাড়া ডিগ্রি কলেজ কমিটির সভাপতি আলমিনার তিনতারা হোটেলের এমডি বিসমিল্লা ব্যাংকের চেয়ারম্যান (এবং ঋণখেলাপি) সুলতানপুর এতিমখানা ফোরকানিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা অ্যাপোলো ম্যান পাওয়ার অ্যান্ড ট্রাভেল এজেন্সির চেয়ারম্যান আমেরিকান গার্মেন্টস-এর এমডি ভূতপূর্ব ওয়ার্ড কমিশনার ছলছলাতির পীর সাহেবের মুরিদ ইত্যাদি ইত্যাদি আলহজ্জ মোহাম্মদ হামিদ আলি বিন শমশের সাহেবের ষোড়শী কন্যা মোসাম্মৎ বেনজির হাফসানা রুবাইয়াত বিউটির খোয়াবগুলো আমাদের খুব আশান্বিত করছে এবং ভাবিয়ে তুলেছে।
মিস বেনজির হাফসানা রুবাইয়াত বিউটি
মিস বেনজির হাফসানা রুবাইয়াত বিউটি চার বছর আগে প্রথম ষোড়শী হয়; তারপর তার আর বয়স বাড়ে নি, সে স্থির ষোড়শী হয়ে আছে। গত বছর সে প্রথম মাধ্যমিক পরীক্ষায় ফেল করে পরীক্ষার সময় সে অসুস্থ হয়ে পড়ে, এবং এবারও অসুস্থ ও ফেল করার পর সে খোয়াব দেখতে শুরু করে। আলহজ্জ হামিদ আলি বিন শমশের সাহেব তাকে আমেরিকা পাঠাতে চেয়েছিলেন, পঁয়তাল্লিশ বছর বয়স্ক একজন বিশিষ্ট শিল্পপতির সাথে বিবাহেরও ব্যবস্থা করেছিলেন, কিন্তু তার ঘোড়শী কন্যা সে-সব বাতিল করে দিয়ে শুধু খোয়াব দেখছে।
একদিন দুপুরে মিস বিউটি চিৎকার করে ওঠে, আম্মা, দেখে যাও, বোম্বে থিকা ফটোগ্রাফার কিষাণকুমার আসছে। এইবার আমার ড্রিম ফুলফিল হইলো।
মিস বিউটি তার শীততাপদমিত শয্যাকক্ষে গেঞ্জিটাকে নিচের দিকে টেনে পেছন কাঁপিয়ে ক্যাট ওয়াক করতে থাকে, কখনো নাচতে থাকে, গান গাইতে থাকে–প্যায়ার প্যায়ার প্যায়ার তনহা তনহা তনহা।
আম্মা বাসায় ছিলেন না, তাই তিনি আসেন না, পীর সাহেবের বাড়ি গেছেন তিনি; দুটি কাজের মেয়ে ভয় পেয়ে দৌড়ে আসে।

চমৎকার খুব ভাল লাগলো