মে বি টুমরো, মে বি টু মানথস। আমার এক প্রিয়জন নিরুদ্দেশ। আমাকে খুঁজতে হবে।
ও বাবা! সে যে ইনডেফিনিট ব্যাপার। কে বলুন তো!
আমার ভগ্নিপতি। হি ওয়াজ ডেডলি সিক।
খবরেব কাগজে দিয়েছেন?
না তো!
সেইটেই সবার আগে দিন। অ্যান্ড মিসিং পার্সনস স্কোয়াড।
মাথায় খেলেনি তো কথাটা!
বাট ইউ হ্যাভ এ ফার্স্ট ক্লাস ব্রেন। ডোন্ট ওয়ারি। খবর পাবেন। বাট ডোন্ট মেক ইট অ্যান ইস্যু।
জয়েন করার ক’দিন পর আপনারা আমাকে আমেরিকায় পাঠাবেন?
ছ’মাসের মধ্যে। মে বি আর্লিয়ার।
দীপনাথ মাথা হেলিয়ে চোখ বুজে একটু ভাবল। তারপর হঠাৎ চোখ খুলে বলল, দি ডিসিশন ইজ মেড। আমি রাজি।
এসপ্ল্যানেডের মোড়ে গাড়িটা দাড় করিয়ে মিত্র সত্যিকারের খুশির হাসি হেসে হাত বাড়িয়ে দীপনাথের হাত ধরল, ওয়াইজ ম্যান।
দীপনাথ ম্লান একটু হাসে। কথা বলে না।
মিত্র মৃদু স্বরে বলে, রজার্স আপনাকে দিয়ে অনেক নোংরা কাজ করাত। সানফ্লাওয়ার তা করাবে না। বিলিভ মি, ইউ হ্যাভ ডান দি রাইট থিং। কালই অ্যাপয়েন্টমেন্ট চলে যাবে আপনার ঠিকানায়। ঠিক আছে?
আছে।
বাই।
বাজারে কোনও কথাই গোপন থাকে না।
দিন তিনেক বাদে বোস সাহেব তার চেম্বারে ডাকে দীপনাথকে।
আমেরিকায় পাঠাচ্ছে সানফ্লাওয়ার?
দীপনাথ শুধু মাথা নাড়ে।
আপনার রেজিগনেশন নোটিশ পেয়েছি। পাসপোর্টের জন্য অ্যাপ্লাই করেছেন?
করব।
করে আমাকে বলবেন। যাতে তাড়াতাড়ি হয়ে যায় দেখব।
দীপনাথ একটু হাসে। পাসপোর্টের জন্য বোস সাহেবের সাহায্য তার বিশেষ দরকার নেই। তার নিজেরও চেনাজানা এতদিনে কিছু কম হয়নি। তবে সে কিছু বলল না।
বোস সাহেব গম্ভীর মুখে বলে, কাল দীপাকে খবরটা দিলাম।
কোন খবরটা?
আপনার খবর। দীপা খুব রিঅ্যাক্ট করল।
তাই নাকি?—গলাটা নিস্পৃহ রাখার চেষ্টা করে দীপনাথ।
ভীষণ। বলল, সবাই কেন আমেরিকায় যায় বলো তো!
একটু হাসে দীপনাথ। তাই তো! সবাই কেন আমেরিকায় যায়। কী আছে সেখানে?
বোস সাহেব বলে, আপনি চলে গেলে আই শ্যাল ফিল লোনলি। বাট দীপা উইল বি লোনলিয়ার।
প্রসঙ্গটা থাক বোস সাহেব।
বোস মাথা নাড়ে, না চ্যাটার্জি। কথাটা স্পষ্ট করে বলাই ভাল। আমি আপনাকে বলতে চাই, ইউ আর এ গ্রেট ম্যান। বি অলওয়েজ এ গ্রেট ম্যান।
দীপনাথ রাঙা হয়ে ওঠে। অস্ট গলায় বলতে চেষ্টা করে, আমি কেন গ্রেট হব বোস সাহেব?
রিয়েলি ইউ আর গ্রেট। বড় চাকরি অনেকেই করে, সেটা কথা নয়। আপনি একটা বড় চাকরি যে একদিন করবেন তা আমারও জানা ছিল। বাট দেয়ার ইজ সামথিং মোর ইন ইউ।
দীপনাথ মাথা নিচু করে থাকে।
বোস একতরফাই বলে, আপনি নাকি মাঝে মাঝে একটা পাহাড়ের কথা বলেন। দীপা বলছিল। আপনি বোধহয় একটা পাহাড়ে চলে যেতে চান, তাই না?
ও একটা চাইল্ডিশ ফ্যান্টাসি।
বোস মাথা নাড়ে, মে বি। মে বি নট। কে জানে? আমার তো মনে হয়, আপনি সত্যিই একদিন একটা মস্ত পাহাড়ে একা উঠে যাবেন। উই উইল রিমেন বিহাইন্ড উইথ আওয়ার লিটল পেট থিংস। আই উইশ ইউ ক্লাইম্ব দ্যাট হিল। ক্লাইম্ব ইট।
থ্যাংক ইউ।–বলে দীপনাথ উঠে পড়ে।
৭৫. আকাশে অনেক ওপরে
আকাশে অনেক ওপরে এক টুকরো অস্বাভাবিক মেঘকে দেখতে পেল শ্রীনাথ। মেঘটা গোল বলের মতো। রং লালচে। নীল আকাশ থেকে অনেকগুলো টুকরো মেঘের ভিতর থেকে এই অস্বাভাবিক গোল মেঘটা খুব দ্রুত বেগে নীচে নেমে আসছে।
খুব সঙ্গত কারণেই শ্রীনাথ বিপদের গন্ধ পাচ্ছিল। সে জানে এটা পৃথিবীর মেঘ নয়। এর জন্ম দূর মহাকাশে। আবহমান কাল ধরে মানুষের যত শত্ৰু পৃথিবীতে এসেছে এ তা থেকে আলাদা। খুব নিঃশব্দ যে মেঘ বা মেঘের ভ্রম নীচে আসছে তা আসলে একটা অতিকায় জলের ফেঁটা। ফেঁটা নয়, আসলে এক বিপুল জলের পিণ্ড। ঠিক আকাশের এক ফোটা অশ্রুর মতো দেখাচ্ছে।
দেখ-না-দেখ সেই জলপিণ্ড চলে এল কাছে! কী বিশাল তার ব্যাস! কী বিপুল তার আকার! স্তম্ভিত মূক হয়ে থাকতে হয় দৃশ্যটা দেখে। সর্বনাশ বটে, কিন্তু সেই সর্বনাশের বিশালতা দেখে কে
অতীত-ভবিষ্যৎ ভুলে যায়। বড় বিপদেরও এক প্রচণ্ড সম্মোহনশক্তি আছে।
জলের পিণ্ড এগিয়ে এল আরও কাছে। শ্রীনাথ ভেবেছিল খুব কাছেই কোথাও পড়বে। তা পড়ল না। যতক্ষণ ধরে শূন্য পেরোচ্ছিল ততক্ষণে আহ্নিক গতির বশে পৃথিবী একটু ঘুরে গেছে। তবু, খুব দূরে নয়, কাছেই কোথাও ঝম করে সেটা পড়ল। একটু কেঁপে উঠল কি পৃথিবী?
শ্রীনাথ চোখ বুজল। সমস্ত পৃথিবীকে ড়ুবিয়ে দেওয়ার পক্ষে ওই এক ফোটা জলই কি যথেষ্ট নয়? তবু চোখ খুলে সে দেখতে পায়, আকাশের সেই ঠিক একই জায়গায় আবার সেই একই রকম আর-এক ফোটা জল জন্ম নিল। নেমে আসতে লাগল।
ভাগ্যক্রমে শ্রীনাথ দাঁড়িয়ে আছে এক পাহাড়ের কোলে। দ্বিতীয় জলের ফোটা পৃথিবীতে পড়ার আগেই সে হামাগুড়ি দিয়ে উঠে যেতে লাগল ওপরের দিকে। পাহাড়চূড়ায় কয়েকটা খোড়ো ঘর, কিছু অসহায় মানুষ। শ্রীনাথ চূড়ার কাছাকাছি পৌঁছে ফিরে চেয়ে দেখল, এর মধ্যেই এত উঁচু পাহাড়টার অর্ধেকেরও বেশি জলের গ্রাসে চলে গেছে। আর-এক ফেঁটা জল পড়লে বাকি অর্ধেকও যাবে।
বাকি অর্ধেকও যাচ্ছিল। শ্রীনাথ চেয়ে থাকতে থাকতেই ঝম করে দ্বিতীয় জলপিণ্ডটাও নেমে আসে। অমনি নীচের জলরাশি বিপুল গর্জনে, ফেনায়িত অসম্ভব উঁচু ঢেউ তুলে ধেয়ে আসে ওপরের দিকে। নোংরা ঘোলা ক্ষুব্ধ ক্রুদ্ধ জলে ভাসছে মানুষের শব, ঘর, বাড়ি, তৈজসপত্র।
