এক্সপার্ট বলেই তো অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজারের পোস্টে আছেন।
পোস্টটা আমি পেয়েছি তেল দিয়ে। আপনি তো জানেন।
ব্যাপারটা সিরিয়াস। আমি একটা দোকান দিচ্ছি।
দোকান? কিসের দোকান?
পান-বিড়ির।
ওঃ, তা হলে আমি ভাল অ্যাডভাইস দিতে পারব।
তা হলে পরশু? আফটার অফিস-আওয়ার্স?
হ্যাঁ। বোস সাহেবের গাড়িতেই চলে যাব আপনাদের ফ্ল্যাটে।
শুনুন। আপনাকে কিন্তু আমার পার্টনার হতে হবে।
কীরকম পার্টনার?
পার্টনার আবার কীরকম হয়? ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট ফিফটি-ফিফটি।
অর্থাৎ আপনি পান সাজবেন আর আমি বিড়ি বাঁধব?
শপ ম্যানেজমেন্ট আমার, আউটডোর আপনার।
আর কিছু?
আর কী?
ধরুন লাভটা আপনার, লোকসানটা আমার।
ফের ইয়ারকি?
না, ভাবছিলাম রাজনীতি কি একদম ছেড়ে দিলেন?
ছাড়ব কেন? এটাও এক ধরনের লড়াই। অপ্রেশনের বিরুদ্ধে।
আপনি ক্যাপিট্যাল পেলেন কোত্থেকে?
এখনও পাইনি। কী করে পাওয়া যায় তা আপনাকেই জিজ্ঞেস করব। শুনেছি আজকাল ব্যাংক ব্যাবসার জন্য লোন দেয়। সত্যি?
দেয়।
আমার সামান্য কিছু সোনা আছে। বেচে দিচ্ছি।
সর্বনাশ।
সর্বনাশ কেন?
সোনা বেচলে আর কিনতে পারবেন না কখনও। সোনা বেচতে নেই।
ওসব প্রিমিটিভনেস আমার নেই। সোনা আমার কোনও কাজে লাগে না।
ইতিমধ্যেই কি কিছু বেচে দেয়েছেন?
শুধু হারটা।
কতটা সোনা ছিল?
সাড়ে তিন ভরি।
দীপনাথ চুকচুক করে একটা আফসোসের শব্দ করে বলল, নিশ্চয়ই জানি আপনি ঠকেছেন। আজকাল সোনার দর জানেন?
না তো!
কত দিয়েছে আপনাকে?
তিন হাজারের মতো। সোনার পান বাদ দিল যে।
ওরা সব সময়েই পান বাদ দেয়। কিন্তু কথা তো তা নয়। ওর ওপরে বারগেন করতে হয়। আপনি নিশ্চয়ই তা করেননি!
আমি লোককে বিশ্বাস করি।–বলল মণিদীপা, কিন্তু গলার স্বরে তেজ ফুটল না। বরং করুণ শোনাল।
দীপনাথ হাসল।আমি গিয়ে পৌঁছোনোর আগে আর কাউকে সোনা বিক্রি করবেন না। খুব ঠকে যাবেন। তাছাড়া বোস সাহেবের অ্যাডভাইস নিলেন না কেন?
ও জানলে রাগ করবে।
রাগ করাই উচিত।
সেইজন্যই এক্সপার্ট ওপিনিয়ন চেয়েছিলাম। এ সময়ে আপনি নর্থ বেঙ্গলে গিয়ে বসে রইলেন কেন বলুন তো!
আমাকে খেটে খেতে হয়, অন্যের হুকুমে চলতে হয়। আমি কি জানতাম আমি নর্থ বেঙ্গলে এলেই আপনি সোনা বেচবেন!
সোনা আমি সব বিক্রি করব। তবে এবার আপনার থ্রু-তে।
আমি ও দায়িত্ব নিতে পারব না।
তা হলে আমার হাত-খরচ চলবে কীসে?
কেন, বোস সাহেব হাত-খরচও বন্ধ করেছেন নাকি?
ঠিক তা নয়। যা দেয় তাতে চলে না। ট্যুর থেকে ফিরে এসেই ফিনানশিয়াল ব্যারিকেড তৈরি করেছে।
যতদুর জানি, আপনি চারশো টাকা পান।
বিস্মিত মণিদীপা বলে, আপনি জানেন? কী করে? ও কি আপনাকে বলেছে?
দীপনাথ থতমত খেয়ে বলে, ঠিক ওভাবে বলেননি। একবার কী একটা কথা প্রসঙ্গে হঠাৎ ইনফরমেশনটা বেরিয়ে আসে।
কুট সন্দেহে চোখ ছোট করে মণিদীপা বলে, ও।
চারশো টাকা কিন্তু কম নয় মিসেস বোস।
কম বলছি না। কিন্তু আমি জানতে চাই আমার স্বাধীনতা নেই কেন? আজকাল বয় বাবুর্চির মাইনে পর্যন্ত বোস সাহেব দেয়, আগে আমার হাত দিয়ে দেওয়ানো হত। জয়েন্ট অ্যাকাউন্টে টাকা নেই। গাড়ি গ্যারাজে তালাবন্ধ। কিন্তু আপনাকে বলে কী হবে? আপনি পুরুষমানুষ, সবসময়ে পুরুষদের পক্ষ নেবেন। আই নো ইউ অল।
আপনিও তো অবলা নারী নন মিসেস বোস। চারশো টাকায় নিম্ন-মধ্যবিত্ত একটা পরিবারের চলে যায়। আর আপনার তো ওটা শুধু হাত-খরচ। খাওয়া থাকা বা পোশাক ওর বাইরে।
হাউ ড়ু ইউ নো সো মাচ? বোস সাহেব কি এসবও বলেছে?
না। তবে টেলিফোনে আর এসব প্রসঙ্গে না বলাই ভাল।
দেন টক অ্যাবাউট ওয়েদার।
এখানে ভীষণ ঠান্ডা। আজ গ্যাংটকে গিয়ে জমে গিয়েছিলাম।
মণিদীপা রাগ করে বলল, রিসিভার রেখে দিচ্ছি কিন্তু।
আরে, রেগে গেলেন যে! ওয়েদারের কথা আপনিই বললেন তো!
রাগ হওয়ার কথা নয় বুঝি? এ দেশ বলেই মেয়েদের এত সহজে বেকায়দায় ফেলা যায়। সভ্য দেশ হলে—
দেশটাকে সভ্য করে তুলুন না! কে আটকাচ্ছে?
আপনারাই আটকাবেন, মেয়েরা প্রগ্রেস করলে যাদের ইন্টারেস্ট হ্যামপার্ড হয়।
আমি তো আপনার পার্টনার। আপনি প্রগ্রেস করলে আমারও প্রগ্রেস।
এখনও পার্টনার হননি।
হচ্ছি তো! পরশুদিন।
আপনাকে পার্টনার করব কি না তা দু’বার ভাবতে হবে।
কোনও মেয়েকে পার্টনার করতে চান? জমবে না।
তার মানে?
মেয়েতে মেয়েতে কো-অপারেশন হয় না।
পুরুষে মেয়েতেও তো হচ্ছে না।
পরশু বরং আপনি আমার একটা ইন্টারভিউ নিন।
ইন্টারভিউ বহুবার নিয়েছি। কাওয়ার্ড, সেলফ কনটেন্ট।
আমি?
নয়তো কে? অলস ভিতু আনস্মার্ট।
তবু আমাকেই পার্টনার করতে চেয়েছিলেন একটু আগে।
এখন চাইছি না। আপনি আমাকে রাগিয়ে দিয়েছেন।
আপনি না রেগে কখন থাকেন বলুন তো! যখনই দেখা হয় তখনই দেখি রেগে আছেন।
আমি মোটেই রাগী নই।
আপনার ব্যাবসা যদি জমে যায় তা হলে কী হবে মণিদীপা?
নামটা মনে পড়েছে তা হলে?
পড়েছে। কিন্তু প্রশ্নের জবাবটা?
আমার ব্যাবসা জমবেই।
কিন্তু তারপর?
তারপর আবার কী? ইট উইল গ্রো বিগার। আমি একটা চেইন অফ শস-এর কথা ভাবছি।
সে না হয় হল। কিন্তু আপনার সাংসারিক বা দাম্পত্যজীবনের কী হবে?
তার সঙ্গে এর কী সম্পর্ক?
আমি জানতে চাই আপনি সংসার ছাড়ার প্রোলোগ হিসেবে এসব ব্যাবসা-ট্যাবসার কথা ভাবছেন কি না।
আমি তো সংসারছাড়া হয়েই আছি। গেস্টদের মতো থাকি খাই।
তবু তো একটু হলেও আছেন।
সেটুকু বাদ গেলেও কারওর ক্ষতি হবে না। বরং ফ্রি হলে অনেক বেশি কাজ করতে পারতাম। আমাদের ডিভোর্সটা আপনার জন্যই হল না। কিন্তু তাতে লাভ কী হল বলুন তো!
