‘ইছলাম ইজ দি অনলি সলিশন, আন্ড উই উইল সল্ভ্ ইট। নো আদার সলিশন ইজ অ্যাকছেপ্টবল, দেয়ার ইজ নো আদার সলিশন। আল্লা দি গ্রেট দি রাহমানির রাহিম ইজ উইথ আস।‘
‘আই অ্যাম শিউর টুমরো উইল বি এ গ্রেট ডে ইন দি হিস্ট্রি অব ইসলাম, ইন দি হিস্ট্রি অব স্তান, জাস্ট বার্ন দ্যাট ব্লাডি মঠ, ফাক ইট, মেইক দি মালাউন্স ইউর জিম্মিজ। বি কেয়ারফুল অব দেয়ার দালালস, উই শ্যাল নেভার লেট দেম কাম ব্যাক টু পাওয়ার, দি দালালস আর কন্সপাইরিং টু কাম ব্যাক টু পাওয়ার, বাট দে মাস্ট বি ভেপারাইজড, আল্লা হাফেজ।’
‘এমডি অব দি দুবাই-মদিনা-কাতার ব্যাংক স্পিকিং, স্যার। উইশ ইউ অল সাকসেস। আমরা আপনের জইন্যে দুই কোটি ট্যাকা রাখছি সো দ্যাট ইউ ক্যান বিল্ড অ্যান আল আকসা অ্যাট দ্যাট প্লেস, আল্লা হাফেজ। ‘
‘ভিসি অব আইআইইউ স্পিকিং, কংগ্ৰেচুলেশন্স ফর টুমরো, ওয়ান ডে উই শ্যাল ট্রান্সফর্ম ইট ইনটু অ্যান আল আজহার, অনলি দি হোলি কুরআন, হাদিছ, ফিকাহ উইল বি টট, উই শ্যাল থ্রো এওয়ে দি ব্লাডি বাস্টার্ড ওয়েস্টার্ন সাইন্সেস, ইছলাম ইজ দি অনলি সাইন্স, ইট ইজ দি সাইন্স অব আল্লা দি রাহমানির রাহিম; অ্যান্ড উই নিড দ্যাট সং পাক সার জমিন সাদ বাদ। দি সং রিংগস ইন মাই হার্ট, আই লিসন টু ইট এভরি নাইট ইন পিটিভি।‘
‘আমি এই দ্যাশে, নাপাক দ্যাশে শাস লাইতে পারি না, প্লিজ ডু মেইক ইট এ পিউর অ্যান্ড পারফেক্ট পাকিস্তান। পাক সার জমিন সাদ বাদ।’
আর লন্ডন, হেলসিংকি,
নিউ ইয়র্ক, সিডনি, প্যারিস, তোকিও,
জাকার্তা, পুত্রজায়া, বার্লিন, আবু ধাবি, রিয়াদ, কাবুল,
তেহরান, আমস্টারডাম, দিল্লি, মস্কো, সোল, রোম, কাতার,
ইসলামাবাদ, সুনামগঞ্জ, মদনগঞ্জ, ভেদরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ,
ঠাকুরগাঁও, কামারগাঁও, সোনারগাঁও, ব্ৰাহ্মণগাঁও…
আমি একই সঙ্গে উত্তেজনা ও নিরুত্তেজনা বোধ করি; আমি শ্যামসিদ্ধি গ্রামটি ও তার আকাশছোঁয়া মঠটিকে দেখতে পাই।
আমাদের গ্রাম থেকে অনেক দূরে শ্যামসিদ্ধি, কিন্তু এক মাইল হেঁটে গেলেই দূর থেকে ওই মঠটি দেখতে পেতাম, ওটিকে দেখার জন্যে কতো দিন আমি বিকেলে এক মাইল দৌড়িয়েছি, অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে তার চুড়োটি দেখে আবার দৌড়ে বাড়ি ফিরেছি। কী সুখ পেতাম তাতে, আমি জানি না; কখন ওটি তৈরি হয়েছিলো তাও জানি না; কিন্তু গাছপালার ওপর দিয়ে উঠে যাওয়া আকাশচুম্বি ওই মঠ আমাকে আকাশ ছুঁতে বলতো। উচ্চতা আমার পছন্দ।
ওটি ধ্বংস করতে হবে আমাকে, ওটি জামাঈ জিহাদে ইছলামের শক্র, ওই মঠ ও জামাঈ জিহাদে ইছলাম একসঙ্গে থাকতে পারে না।
আমি বিশাল হ’তে চাই, বিশাল হতে হ’লে বিশালকে ধ্বংস ক’রেই হতে হয়; উচ্চ হতে চাই, উচ্চ হতে হ’লে উচ্চকে ধ্বংস করতেই হয়; ক্ষুদ্রকে ধ্বংস ক’রে কেউ আকাশ ছুঁতে পারে না।
একটু বেশি পান করেছি, বডিগার্ডদের বলে রেখেছি ফজরের আগেই আমাকে উঠিয়ে দিতে, তা তারা দেবে; কিন্তু আমার ঘুম আসছে না।
আমি কণকলতা ও শ্যামসিদ্ধর মঠটিকে দেখতে পাচ্ছি।
আজকের বিশাল কর্মকাণ্ড, নিঃসঙ্গতা, সিভাস রিগ্যালের জন্যে হয়তো আমি একটু স্মৃতিকাতর হয়ে উঠেছি, স্মৃতি সব সময়ই ক্ষতিকর; তা মানুষকে এগোতে দেয় না, মহৎ হ’তে দেয় না, স্মৃতিকে ধ্বংস ক’রেই গ্রেট হতে হয়। যাদের স্মৃতি নেই, তারাই গ্রেট।
আমি বোধ হয় গ্রেট হতে পারবো না, আমার স্মৃতি জেগে উঠছে–ওই মঠে কী হতো, এখন কী হয়, তা আমি জানি না; একবার একটুকু কাছে গিয়েছিলাম, দেখেছিলাম ঝাঁকেঝাঁকে পাখি এসে বসছে মঠের ফাঁকে ফাঁকে, আবার উড়ে যাচ্ছে, আমার মনে হচ্ছিলো ঝাঁকেঝাঁকে রঙ আর সুর এসে বসছে আর উড়ে যাচ্ছে, এখন অবশ্য আমি আবাবিল ছাড়া আর কোনো পাখি চিনি না।
আমি দেখি আশমান ভ’রে আবাবিল।
পাখির রঙ আর সুর আমাকে আর মুগ্ধ করে না, আমি মুগ্ধ হই পাথরের টুকরো মুখে করে আসা হিংস্র পাখির কথা ভেবে, যা বেহেশত থেকে ছুটে এসেছিলো রাহমানির রাহিম পরম করুণাময়ের নির্দেশে। হাতি নিয়ে এসেও কোনো কাজ হয় নি ওই পাক পবিত্র পাখির সামনে।
কয়েক বছর আগে একটি কাফেরের লেখা বই পড়ে আমি ক্রুদ্ধ হয়ে উঠেছিলাম, কাফেরটিকে না পেয়ে বইটিকে পুড়িয়ে ফেলেছিলাম।
কাফেরটি লিখেছে ওইগুলো পাখি ছিলো না, সে-বছর মক্কায় বসন্তু রোগ দেখা দিয়েছিলো, তাতে অনেকে মারা যায়, আর কাফের আক্রমণকারীরা বসন্তের ভয়ে পালিয়ে যায়। যারা বেঁচেছিলো, তাদের মুখ আর শরীর ভরে থাকে বসন্তের কুৎসিত দাগে; ওই দাগগুলোকেই মনে করা হয় আবাবিল পাখির ছোড়া পাথরের টুকরোর দাগ। আস্তাগফেরুল্লা।
কাফের নাছারারা কতো মিথ্যেই যে রটাতে পারে; তাই দুনিয়া থেকে তাদের সরিয়ে দিতে হবে। কিন্তু আমি ভুলতে পারছি না কণকলতাকে ও শ্যামসিদ্ধির মঠটিকে, আমি ঘুমোতে পারছি না।
রাত ভোর হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ওই মঠটি হবে শূন্যতা।
নতুন মহাপূর্ণতা সৃষ্টির জন্যে শূন্যতা সৃষ্টি করতে হয়; আগামীকাল আমি শূন্যতা সৃষ্টি করবো মহাপূর্ণতা সৃষ্টির জন্যে।
কিন্তু আমি দেখতে পাই আমি বিকেলে বাড়ি থেকে দৌড়ে এসে দাঁড়িয়েছি পথের ধারে, দূর থেকে দেখতে পাচ্ছি শ্যামল খয়েরি মঠটি আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে, আকাশ মঠটির দিকে তাকিয়ে আছে; আমি একটি ঘাসফুলের মতো তাকিয়ে আছি মঠ ও আকাশের দিকে।
