কাকে মনে পড়ছে? কী মনে পড়ছে?
কৃষ্ণকলি, পদ্মবতী, সীতা, রমলা, বকুলমালা, মেহেরুন্নেছা, লাকি, বিউটি, মঞ্জু, শেলিকে? মিনিস্টার, সেক্রেটারি, নেতা, সিডনি, লন্ডন, ঢাকা, কাবুল, কাতার, রিয়াদকে? না, তাদের কথা আমার মনে পড়ে না।
আমার মনে পড়ে কণকলতাকে, স্বৰ্ণলতাকে, সঞ্চারিণী পল্পবিনীকে।
আমি ফোন করি; এই প্ৰথম ফোন করতে আমার আঙুল কাঁপে।
তাহলে আমি কি সত্যিই অসুস্থ হচ্ছি? নইলে আঙুল কাঁপবে কেনো?
মোবাইলটি আমার হাত থেকে পড়ে যেতে চায়, ওটিকে আমার রক্তমাংসময় মনে হয়, কণকলতার চিবুকের মতো, বুকের মতো, টোলের মতো, স্বর্ণদ্বীপের মতো; মোবাইলটির যেনো একটি হৃৎপিণ্ড আছে, সেটি থারথার করছে।
আমার গলা শুনেই কণকলতা বৃষ্টির শব্দের মতো বেজে ওঠে।
‘হুজুর, আমি আপনের বিবি কণকলতা, আপনার কণকলতামণি। হুজুর, আমারে এই রাইতে আপনের মনে পড়ছে? আমি বুক ভাইর্যা আপনেরে ডাকতেছি, যেইভাবে আপনে আল্লারে ডাকেন। আপনে আমার ডাক শোনাতে পাইছেন, হুজুর?’
ওর ডাক আমি সব সময়ই শুনি, কিন্তু সেটা ওকে বলতে চাই না; আমি বলি, ‘তুমি ফোন করো নি কেনো?’
কণকলতা বলে, ‘আমার ডর করতে আছিল, হুজুর।’
আমি বলি, ‘কেনো?’
কণকলতা বলে, ‘মনে হইছিল আপনে জিহাদিগো লগে মিটিং করতেছেন, কাউলকার প্রোগ্রাম ঠিক করতেছেন; আপনের কত কাম, ফোন করার লিগা আমার বুক কাপছিলো।’
আমি বলি, ‘হ্যাঁ, ওই ঘিলুছাড়া বাঞ্চতদের অনেক কিছু বোঝাতে হয়েছে, অনেক সময় লেগেছে, এখন আমার একলা লাগছে।’
কণকলতা বলে, ‘হুজুর, আপনে তাইলে আল্লা রছুলরে ডাকেন, নইলে আমারে ডাকেন, কন কণাকলিতা, কণকলতা, কণকলতা।’
আমি বলি, তাতে আমার কাজ হবে না, তাদের তো আমি দমে দামে ডাকি, এখন আমার তোমাকে দরকার।‘
কণকলতা বলে, ‘খালি দরকার, হুজুর? আর কিছু না?’
আমি বলি, ‘হ্যাঁ, দরকার।‘
কণকলতা বলে, ‘খালি দরকার? আমি আপনের রাইতের দরকারের মাল? আপনের খিদার পান্তাভাতে পিয়াইজ ভর্তা? আপনের মোতনের ডহি?’
আমি বলি, ‘তা আমার দিল জানে, কাউকে জানতে দেবো না।’
কণকলতা বলে, ‘আমারেও জানতে দিবেন না, হুজুর? একবার জানতে দিলে গলায় ফাঁসি দেওনের সোমও সুখ পামু।’
আমি বলি, ‘তোমার ফাঁসি দিতে হবে না।’
কণকলতা বলে, দড়ি ত বিছনার নিচেই রাইখ্যা দিছি, ওইটায় ঝোলনের আগে আপনের দিলের কতা আমারে একবার কন, হুইন্যা সুক পাই।’
আমি বলি, ‘না, কাউকে আমি দিলের কথা বলি না।’
কণকলতা বলে, ‘আমারেও কইবেন না?’
আমি বলি, ‘না।‘
কণকলতা বলে, ‘ক্যান, হুজুর?’
আমি বলি, ‘আমার দিল কথা বলতে ভয় পায়।’
কণকলতা বলে, ‘আপনের দিলডা এত ডরায় ক্যান? আপনে ত, হুজুর, ডরান না।’
আমি বলি, ‘আমার দিলটি হৃদয় হয়ে উঠছে।‘
কণকলতা বলে, ‘হৃদয়? এ কোন কতা হুনাইলেন, হুজুর?’
আমি বলি, ‘তোমার বিশ্বাস হয় না?’
কণকলতা বলে, ‘আপনের সব কতাই আমার বিশ্বাস হয়, আপনে আমার কেছে আল্লার মতন, ভগবানের মতন।‘
আমি বলি, ‘এমন কথা বলা কবিরা গুনাহ।’
কণকলতা বলে, ‘হুজুর, আগামীকাইল তা জিহাদ আছে, আমাগো ঘরবাড়ি, বাবার কলডা, আর দোকানগুনি আমারে মনে কইর্যা একটু দেইখ্যেন।’
আমি বলি, ‘আমার একলা লাগছে, কণকলতা।’
কণকলতা বলে, ‘হুজুর, আপনের তাল গাছ আমারে চায়, না আপনের হৃদয় আমারে চায়? কন, আপনের হৃদয় আমারে চায়?’
আমি বলি, দুটোই তোমাকে চায়; হৃদয়ে আর তালগাছে তফাৎ নেই।’
কণকলতা বলে, ‘এই রাইতে আসুম কেমুন কইর্যা, হুজুর? আপনে আমারে দিল দিয়া হৃদয় দিয়া আদর কইরেন; আর হুজুর, আমি আপনের হারটা গলায় পইর্যা আছি, মনে আয় হুজুররে বুকে লইয়া আছি, আমার বুক কাপতেছে।’
আমি বলি, ‘তুমি তবু হার পরেছে, আমার কিছু নেই, আমি একলা।’
কণকলতা বলে, ‘হুজুর, আপনের লিগা আমি কষ্ট পাইতে আছি, হুজুর, আপনের লিগা আমার পরান কান্দে।’
অন্য মোবাইলগুলো আমাকে পাগল ক’রে তোলে।
কিছু না বলেই আমি কণকলতাকে কেটে দিই। শুধু শুনতে থাকি :
‘কাউলকা কয়েকটা মালাউনরে ফালাই দিও, অগো দালালগো ফালাই দিও, আল্লায় তোমারে রহমত করব। তোমার কামের উপরই আমরা ভরসা কইর্যা আছি, পাক স্তানের আর তেরি নাই, আল্লা হাফেজ।’
‘আমাগো তুমি পাক স্তানের দিকে আগাই দিছ, আবার আমরা পাক সার জমিন সাদ বাদ ফিইর্যা পাইব, আমাগো দিল খুশিতে ভাইর্যা আছে, আমাগো পাক স্তানের মুরুব্বিরা তাকাই রইছে, কাউলকা জাহান কাপাই দিবা, ডর নাই, মুরুব্বিরা আছে, আল্লা হাফেজ।’
‘মেইন পার্টির অনেকেই এইখন আমাগো লগে, মেইন পার্টিরে আমরা মাইনর পার্টি কইর্যা তুলুম, তারা আমাগো ট্রিক্স বুজতে পারে নাই; পরের ইলেকশনে আমরাই আসুম, তয় ইলেকশনে ফিলেকশনে আমরা বিশ্বাস করি না, আমাগো বিশ্বাস জিহাদে।‘
‘আমাগো স্বর্ণযুগে ইলেকশন আছিল না, এইখনও থাকব না, ইলেকশন হইল নাছারাগো, ইহুদিগো, খিরিস্টানগো, আস্তাগাফেরুল্লা, ইলেকশন হইল আইয়ামে জাহেলিয়াতের নিয়ম।’
‘দশজন জেনারেল তোমারে প্রশংসা করছে, মোবারকবাদ জানাইছে, তারা এইখন আমাগো লগে আছে, তারা তোমারে জেনারেলের জেনারেল মনে করে, তারা হেল্প করব, আল্লা হাফেজ।‘
‘আমি কাইল তোমার আরও সাকসেস উইশ করি করি, তুমি দ্যাশটারে পাক করবা, আবার আমরা স্তান ফিইর্যা পাব, উই মাস্ট গেট ইট ব্যাক। পিউর অ্যান্ড পারফ্যাক্ট ইছলাম ইজ স্টেজিইং এ কাম ব্যাক থ্রো ইউ. আল্লা হাফেজ।’
