আমি বলি, ‘আপনার কি মনে হয় আপনার বেগম ছাহেবা আগেই সার্ভিস শিখে এসেছিলেন?’
সে বলে, ‘তোবা, আস্তাগাফেরুল্লা, অইডা বিবিজান করে নাই, পরথম যেই দিন ছোফার উপর ছহবত করি, লউয়ে ছোফা ভিজ্জা গেছিল; পরদিনই নতুন ছোফা কিনতে অইছিল।‘
আমি বলি, ‘অনেক টাকা ব্যয় হয়ে গিয়েছিলো তাতে?’
কোরবান আলি ব্যাপারি বলে, ‘ট্যাকা ত মুত। ছোফায় লউ দেইক্যা আমার দিল ভইর্যা গেছিল, মনে অইছিল আমি হুরি পাইছি।‘
আমি মোঃ আবু লাদেনকে জিজ্ঞেস করি, ‘মোঃ আবু লাদেন শাদি করেছো কয়টা?’
মোঃ লাদেন বলে, ‘না। হুজুর, ইছলামের জইন্যে জীবন কুরবানি কইর্যা দিছি, একটা বিবিও লই নাই, লমুও না।’
আমি বলি, ‘এটা ঠিক নয়, বিবি নেয়ার আদেশ আছে।’
মোঃ আবু লাদেন বলে, ‘অহন বিবি লওয়ার ট্যাকা অয় নাই, হুজুর।’
আমি বলি, ‘শিগগিরই হবে, একটি দুটি বিবি নিও।’
মোঃ আবু লাদেন বলে, ‘আপনে দয়া করলে লমু, হুজুর।’
আমি বলি, ‘এখন কষ্ট হয় না?’
সে একটু লজ্জিত হয়, তবু বলে, ‘হুজুর, আপনের কাছে মিছা বলুম না, আমার কয়ড়া গেলমান আছে, আর হুজুর শান্তির ঠাণ্ডা আগুনের সোম কয়ডা মালাউন মাইয়ার লগে ছহবত করছি।‘
আমি বলি, ‘কোনটি তোমার পছন্দ?‘
সে বলে, ‘হুজুর, মালাউন মাইয়াগুলি হুরির মতন, গেলমান দিয়া ঠ্যাকা কাম চালাই, হুজুর অনুমতি দিলে আইজ রাইতে একজন গেলমান আনুম।’
আমি বলি, ‘একটি মালাউন মাইয়া আনতে পারো নি?’
সে বলে, ‘না, হুজুর, অহন ত শান্তির ঠাণ্ডা আগুন নাই; আবর কবে শান্তির ঠাণ্ডা আগুন লাগাইবেন, হুজুর?’
আমি বলি, ‘আগুন তো লেগেই আছে।’
আজ আমার কোনো হুর বা হুরি নেই বা উর্বশী নেই, দরকারও বোধ করছি না; কালকের শ্যামসিদ্ধিকে পাক করার পর দরকার হবে।
আজি আছে ব্ল্যাক লেবেল ও সিভাস রিগ্যাল, আলহজ কোরবান আলি ব্যাপারি পাজেরোতে ক’রে কয়েক বোতল নিয়ে এসেছে আমার জন্যে। আমারও একটি পাজেরো আছে, পুরানো, পাজেরো ছাড়া দেশকে পবিত্র স্তানে পরিণত করা যায় না; আর শারাব খুবই দরকার, গুলশানে আমার একটি ফ্ল্যাট আছে, আমার কিনতে হয় নি, এক ডোনার সেটি উপহার দিয়েছেন। আমিরাত থেকে তিনি আসেন মাঝেমাঝে, মুম্বাই থেকে একটি-দুটি হুর নিয়ে আসেন, বাঙালি হুরও তাঁর পছন্দ। মালাউন হুর তার বিশেষ বিশেষ পছন্দ–তার মতে ওদের সার্ভিস ফাইভ স্টার; তবে তাঁর শ্ৰেষ্ঠ পছন্দ চাকমা মারমা হুরী–দিঘিনালায় একবার চাকমা না মারমা হুর টেস্ট করার পর, আর কোনো হুরে তার রুচি নেই। আমিরাতিদের সবাই আমির; এলেই আমার হাজার পঞ্চাশেক ডলার থাকে, আর ওই ডলার জিনিসটা দেখলেই নফল নামাজ আদায় করতে ইচ্ছে হয়।
আমি একটি ব্ল্যাক লেভেল খুলি, মোঃ লাদেনকে জিজ্ঞেস করি, ‘চলবে?’
সে বলে, ‘হুজুর, এত দামি জিনিশ কোন দিন খাই নাই; ভাইগ্যে অয় নাই, কেরুই আমার ভাইগ্যে জোডে।‘
আমি বলি, ‘তাহলে তুমি তো এতোদিন কুকুরের মুত খেয়েছে।’
সে বলে, ‘আমরা ছোডো জিহাদি, অইডা খাইয়াই জিহাদ করি।’
আমি বলি, ‘আজ একটু ভালো জিনিশ খেয়ে দেখো।’
সে বলে, ‘হুজুর, আপনের লগেই খামু? আমার গুনাহ অইব না?’
আমি বলি, ‘না, গুনাহ্ হবে না, যদি বেঈমানি না করো, মনে রেখো আমি তোমার কে। ইছলামে আমরা সবাই সমান, তবে কেউ কেউ সমানের থেকে একটু বেশি, যেমন আমি তোমার থেকে সমানের চেয়ে একটু বেশি।’
সে বলে, ‘হুজুর, মইর্যা গেলেও বেঈমানি করুম না; চিরকাল আমি আপনের পায়ের নিচে পইর্যা থাকুম; আমি মোঃ হাফিজুদ্দিন না।’
একটু চমকে উঠি, তাহলে হাফিজুদ্দিনকে সেও খেয়াল করছে? আহাম্মক দেখালেও এর সম্পর্কেও সাবধান থাকতে হবে।
সন্ধ্যায় আমি মাদ্রাছা-ই-মদিনাতুন্নবির জিহাদিদের, আমার দুই নম্বরকে, আমার বডিগার্ডদের, দুই নম্বরের বডিগার্ডদের, ‘আলি দিবস’-এর মহান কর্মকাণ্ডের কর্মপদ্ধতি বুঝিয়ে দিই। ওই ঘিলুহীন জিহাদিগুলো সহজে কিছু বোঝে না–আল্লা ওদের এভাবেই সৃষ্টি করেছেন, তাঁর পরিকল্পনা কে বুঝতে পারে—, খুন আর ছহবত আর গেলমান ছাড়া, ওদের সব কিছু মুখস্থ করাতে হয়; কিন্তু একবার বুঝিয়ে দিলে, মুখস্থ হয়ে গেলে, ওরা বেশ মুখস্থ করতে পারে, ওরা হাইয়ানের মতো কাজ করে। আরব্য হাইয়ানের মতো; এটা আমার পছন্দ। হাইয়ান না হ’লে প্রকৃত ধাৰ্মিক পরহেজগার হওয়া যায় না, বিশ্বাসী হওয়া যায় না, অন্ধ হওয়া যায় না; যে প্রশ্ন করে, যার সন্দেহ আছে, তাকে দিয়ে কিছু করানো যায় না; যে প্রশ্ন করে না, যার সন্দেহ নেই, যে অন্ধ, তাকে দিয়ে সব করানো যায়; সে হচ্ছে প্রশ্নহীন অগ্নিকাণ্ড, খাপখোলা তলোয়ার।
সাম্যবাদ, সর্বহারার সময়ও আমি এটা দেখেছি, এখনো দেখছি, বেশি করে দেখছি; এবং এটা আমার ভালো লাগে বিশেষ একটি কারণে–আমি নেতা, একনায়ক, আমার আদেশ সবাই মান্য করে। তারা অবশেষে আমার কথা বোঝে, আগামীকাল তারা হরফে হরফে জের জবর পেশা নোক্তাসহ তা পালন করবে। জিনরা একবার বুঝলে জিনের মতোই কাজ করে।
বোঝাতে বোঝাতে রাতের আহারের সময় হয়ে যায়।
আমি আহার করি, একা, দুই নম্বরকে ডাকতে ইচ্ছে করে না, এবং সিভাস রিগ্যালের বোতলটি খুলে খুব নিঃসঙ্গ বোধ করি। এই সব জিনিশ–আঙুর, গম থেকে তৈরি সাকারগুলো–একটু অদ্ভুত, এগুলো মানুষকে একলা করে। বেশ একলা; অনেকের সঙ্গে খাওয়ার সময়ও আমি একলা বোধ করি, আর যখন একলা খাই তখন থাকি বিধাতার মতো নিঃসঙ্গ। অবশ্য এই চরম নিঃসঙ্গতা আমাকে কখনো কখনো চরম সুখ দেয়, নিঃসঙ্গতারও রয়েছে অবর্ণনীয় সুখ; মনে পড়ে এক সময় আমি কবিতা পড়তাম, কাপতাম, বিষন্ন হতাম; এখনো মনে পড়ে, ‘কমরেড, তুমি নবযুগ আনবে না?’, ‘অজস্র জন্ম ধ’রে আমি তোমার দিকে আসছি, কিছুতেই পৌঁছোতে পারছিনা’, ‘ফাটা ডিমে আর তা দিয়ে কী ফল পাবে’। এই সব আমি অনেক দিন করি না। আমি একলা বোধ করি, এবং কাকে যেনো মনে পড়ে। কাকে আমার মনে পড়ছে? কেনো মনে পড়ছে? মনে পড়া খুবই খারাপ, তাতে মানুষ অসুস্থ হয়; তাহলে আমি কি অসুস্থ হচ্ছি?
