আমি বলি, ‘ওমরপুর জিন্দাবাদ।‘
তারা সহস্র কণ্ঠে বজ্রের আওয়াজ তোলে, ‘ওমরপুর জিন্দাবাদ’, আল্লাহু আকবর’, ‘নারায়ে তকবির’, ‘জামাঈ জিহাদ জিন্দাবাদ’।
আমি বলি, ‘তোমরা কি ক্লান্ত?’
বজ্ৰনিৰ্ঘোষে তারা বলে, ‘না।’
আমি বলি, ‘আমাদের ক্লান্ত হ’লে চলবে না, থামলে চলবে না; তবে আগামীকালও আমাদের মহৎ কর্মসূচি আছে, আগামীকাল আমরা শ্যামসিদ্ধির নাম বদলে দেবো, ওই কাফের গ্রামকে পাক ক’রে তুলবো, ওই মঠকে ধুলোয় গুড়িয়ে দেবো, তাই আমাদের আজ বিশ্রাম দরকার।’
তারা বলে, ‘আপনি আমাগো আদেশ করেন।‘
আমি বলি, ‘মাদ্ৰাছা-ই-মদিনাতুন্নবিতে তোমাদের জন্যে খাবার তৈরি রয়েছে, সেখানে গিয়ে তোমরা আহার করে। তারপর যার যার মাদ্ৰাছায় ফিরে যাও, কিন্তু কুয়ৎ ঠিক রেখো। আগামীকাল সকাল আটটায় আবার সকলে জমায়েত হয়ো মাদ্ৰাছা-ই-মদিনাতুন্নবির সম্মুখে।’
তারা আওয়াজ তোলে ‘ওমরপুর জিন্দাবাদ’, ‘আল্লাহু আকবর’, ‘নারায়ে তকবির’, ‘জামাঈ জিহাদ জিন্দাবাদ’।
জিহাদিদের প্রচুর আহারের ব্যবস্থা
জিহাদিদের প্রচুর আহারের ব্যবস্থা করেছে মাদ্রাছা-ই-মদিনাতুন্নবির মহান প্রতিষ্ঠাতা আলহজ কোরবান আলি ব্যাপারি; সে জানে জিহাদিরা খেতে পছন্দ করে, ওদের মগজ পেটে এবং অরো একটু নিচে, তাই সে তাদের জন্যে গোটা বিশেক গরু কোরবানি দিয়েছে।
খেতে আমিও পছন্দ করি, গরুর সুরুয়ার লাল টকটকে রঙ আর চর্বি আমার পছন্দ। মাদ্রাছা-ই-মদিনাতুন্নবির প্রাঙ্গণে উৎসব শুরু হয়ে গেছে, খাওয়ার উৎসব, জয়ের উৎসব; আমি আলহজ কোরবান আলি ব্যাপারে, আর নতুন দুই নম্বর খেতে বসেছি আমার ‘গোলাপ-ই-সাহারা’য়। আমি যে-বিশাল ঘরটিতে থাকি, সেটির নাম দিয়েছি আমি ‘গোলাপ-ই-সাহারা’, ওই ফুলটির গন্ধ আমাকে কুয়ৎ দেয়। এখন আমার দুই নম্বর জিহাদি মোঃ আবু লাদেন।
লাদেন নামটি যে এই নাপাক দেশে আগেও ছিলো আমি জানতাম না; তার নামটি শুনেই আমার পছন্দ হয়, আরো পছন্দ হয় তার চরিত্র। আমি কয়েক দিনেই বুঝতে পারি সে সত্যিকার ছালাম দেয়, ওপরে উঠতে চায় না, আমি তাকে শুয়োরের গোস্ত খেতে বললেও সে বিছমিল্লা বলে খাবে। আমি একেই পছন্দ করেছি, তাই আজই তাকে দু-নম্বরের গৌরব দিই।
মোঃ আবু লাদেন আমার পায়ে ছালাম ক’রে বলে, ‘হুজুর, আমি খোয়াবেও ভাবি নাই আপনে আমারে আপনের দুই নম্বর করবেন। আপনের লগে আমি কোনো দিন বেঈমানি করুম না।’
আমি বলি, ‘আল্লার রহমত তোমার ওপর বর্ষিত হোক।’
সে আমার ঘরেই কয়েক রাকাত সালাত আদায় ক’রে আমার পায়ের নিচে বসে; একটু পরেই হয়তো সে আমার পা টিপতে শুরু করবে।
আমি বলি, ‘মোঃ আবু লাদেন, তুমি ঈমানের সঙ্গে কাজ করবে; এখন উঠে চেয়ারে বসো, এসো এক সাথে খাই।’
সে আমার সঙ্গে চেয়ারে বসে খাবে কোনো দিন ভাবে নি; আমি তার মুখের দিকে তাকিয়ে পড়ার চেষ্টা করি কোনো দিন সে মোঃ হাফিজুদ্দিন জিহাদি হয়ে উঠবে কি না, এই দুনিয়ায় কাউকেই চিরকাল বিশ্বাস করা যায় না।
খেতে খেতে আমরা গল্প করি, শ্যামসিদ্ধির কথা বলি।
আলহজ কোরবান আলি ব্যাপারি বলে, ‘হুজুর, আপনেই আমাগো ফিউচার, আমরা দেশে ঈমান চাই, শরিয়া চাই, একদিন আপনে হইবেন আমাদের মোল্লা ওমর, দেশটারে আল্লার নামে চালাইবেন।’
আমি বলি, ‘আপনার বিবিজান লাইলাতুল কদর কেমন আছেন?’
কোরবান ব্যাপারি বলে, ‘তার প্যাড ত খালি থাকে না, এইখনও একটা প্যাডে। আমার অসুবিদা হইতেছে।’
আমি বলি, ‘খাঁটি মুছলমান আওরাতের পেট ভরা থাকাই নিয়ম, পেট খালি রাখলে তারা শয়তানের সঙ্গে জিনা করতে পারে।‘
কোরবান আলি ব্যাপারি বলে, ‘শয়তানের লগে যাইতে জিনা করতে না পারে হেইরা লিগাই ত তার পেডটারে আমি গুদামের মতন ভাইরা থুই; তয় অখন আমার অসুবিদা হইতেছে, আমি তার উপরে ওটতে পারি না, আমার প্যাডটা ত দেকতে পাইতেছেনই, আর তারে উপরে ওটতে কইলে সে কয় এইডা ইছলামে হারাম, হে অনেক মছল্লা শিকছে।’
আমি বলি, ‘খাঁটি মুছলমানের নিয়মিত ছহবত দরকার।‘
কোরবান আলি ব্যাপারি বলে, ‘হ, হুজুর, সাচা কতা কইছেন।’
আমি বলি, ‘আপনার গার্মেন্টসে তো অনেক কচি মেয়ে আছে, গার্মেন্টসের পেট খসানোর জন্য তো অনেক এনজিও আছে?’
কোরবান আলি ব্যাপারি বলে, ‘হা, তাগো কয়টারে দিয়াই এইখন টেমপরারি কাম চালাইতে আছি, এইখন বোঝতে আছি ক্যান চাইরটা বিবি দরকার, আল্লা যা করেন ভালর লিগাই করেন।’
আমি বলি, ‘মাসে কটির পেট বানান?’
কোরবান আলি ব্যাপারি বলে, ‘হেই হিসাব রাখনের সময় আমার নাই, হুজুর, প্ৰডাকশন, এক্সপোর্ট, ইমপোট, কাস্টমস, সোনা আনন, ব্যাংক লোন, লোন শোদি না করনের ফাঁক বাইর করন, ট্যাকা পয়সার হিসাব রাখতে রাখতেই মাতা খারাপ অইয়া যায়।‘
আমি বলি, ‘প্রেগন্যান্ট হ’লে প্ৰব্লেম হয় না?’
সে বলে, ‘এইটা আইজাকাইল কোনো প্ৰব্লেমই না, হায়েজ না হইলেই পাঠাই দেই, আমাগো কন্টাক্ট করা ক্লিনিক আছে, তারা খসাই দেয়, তিন শ কইর্যা লয়, মাইয়াগুলিও ফুর্তিতে কাম করে, ফুর্তি ছাড়া কেউ কাম করতে চায় না।’
আমি বলি, ‘আপনার বিবিজান জানেন?’
সে বলে, ‘অহন জানলে আর না জানলে কিছু আহে যায় না। তয় হে ট্যাকা চিনে, আমার থিকা বাড়ি ল্যাখাই নিছে, দশ কোটি ট্যাকাও নিছে ল্যাকাপরা জানা বিবি ত, সব বোঝে, ট্যাকা বোঝে বেশি। তয় তার ছাৰ্ভিছটা ফাশ কেলাশ, গার্মেন্টসের মাইয়াগুলি অই রকম পারে না, ব্যাংককের ছেমরিরাও পারে না। আমি তাজ্জব অই বিবি এই ছাৰ্ভিছ শিগলো কোহ হানে?’
