আমি বলি, ‘শহিদ মোঃ হাফিজুদিন নিজের বুকের খুন দিয়ে এক নতুন নগর প্রতিষ্ঠা ক’রে গেছেন, যার নাম ‘ওমরপুর’। তাঁর রক্ত বৃথা যাবে না, শহিদের রক্ত বৃথা যায় না। তাঁর রক্ত থেকে সৃষ্টি হবে এক পাক পবিত্র স্তান, তার গান হবে পাক সার জমিন সাদ বাদ।’
আওয়াজ উঠতে থাকে ‘শহিদ মোঃ হাফিজুদিন জিন্দাবাদ’, ‘আল্লাহু আকবর’, ‘নারায়ে তকবির’, ‘শহিদ মোঃ হাফিজুদিনের রক্ত বৃথা যেতে দিব না’, ‘মালাউনদের খতম করো’, ‘মালাউনদের দালালদের খতম করো’।
আমি বলি, ‘বলেন ভাইয়েরা কে খুন করেছে, কারা খুন করেছে আমাদের প্রিয় জিহাদি শহিদ মোঃ হাফিজুদ্দিনকে? বলেন জিহাদিরা, বলেন।’
জিহাদিরা আওয়াজ তোলে, ‘জিহাদি শহিদ মোঃ হাফিজুদ্দিনকে খুন করেছে মালাউনরা আর মালাউনদের দালালরা।‘
আমি জিজ্ঞেস করি, ‘এখন জিহাদি ভাইয়েরা, আপনাদের কি কর্তব্য? আপনারা এখন কি করবেন? এই ইহুদিদের মালাউনদের মালাউনদের দালালদের হাতে আপনারা কি এখনও খুন হবেন? আপনারা কি শুধু খুন হ’তে চান?’
তারা আকাশ ফাটিয়ে মাটি কাপিয়ে আওয়াজ তোলে, ‘আমরা কতল করব।
আওয়াজ উঠতে থাকে মালাউনগো কতল করো’, ‘দালালগো কতল করো’, ‘শহিদ মোঃ হাফিজুদিন জিন্দাবাদ’, ‘আল্লাহু আকবর’, ‘নারায়ে তকবির’, ‘শহিদ মোঃ হাফিজুদ্দিনের রক্ত বৃথা যেতে দিব না’, ‘মালাউনদের খতম করো’, ‘মালাউনদের দালালদের খতম করো’।
জিহাদিরা দিকে দিকে ছুটতে থাকে।
যেমন ছুটেছে তারা উতরিবে, আলেকজান্দ্রিয়ায়, বাগদাদে, স্পেনে, বঙ্গদেশে, সিন্ধুদেশে; তারা মালাউন ও তাদের দালালদের ঘরবাড়ি দোকানে আগুন লাগাতে থাকে, কয়েকজনকে খুন করে বস্তায় ভ’রে ফেলে।
বিজয়ের নিয়ম হচ্ছে একটি সম্পূর্ণ দিন ধরে তাণ্ডব চালাতে হবে।
পুরোনোকে সম্পূর্ণ ধ্বংস ক’রে নতুনকে সৃষ্টি করতে হবে, নাপাককে শেষ ক’রে পাককে শুরু করতে হবে; নাপাকের যেখানে শেষ পাকের সেখানে শুরু। আমরা যেতে থাকি স্কুল থেকে স্কুলে, কলেজ থেকে কলেজে; সেখানে যতো শহিদ মিনার ছিলো, সেগুলোকে একে একে ধ্বংস করি। শহিদ মিনার হচ্ছে মূর্তিপূজা, মূর্তিপূজা থেকে আমরা উদ্ধার করি আমাদের স্তানের প্রথম পুরকে। ভৈরব রূপান্তরিত হয় ওমরপুরে, আমাদের জিহাদ সাফল্য লাভ করে।
সারা শহর চুপ করে যায়; ভৈরব ভেদ করে ওমরপুর জেগে ওঠে।
মোবাইল এতোক্ষণ বন্ধ ছিলো; তিনটি মোবাইল আবার কলকল ক’রে ওঠে।
বড়ো নেতা ফোন করেছেন, ‘ফল কি হইল আলার রহমতে, আমরা জানার জইন্যে বেচইন হইয়া আছি, দিল কাপতেছে।‘
আমি বলি, ‘আলহামদুলিল্লা, আমরা বিপ্লব কায়েম করছি, ভৈরবের নাম এখন থেকে ওমরপুর, চিরকাল থাকবে ওমরপুর।’
তিনি বলেন, ‘সোভানাল্লা, আমি জানতাম আল্লার রহমতে তোমাগো জিহাদ কায়েম হইব, তুমি যেইখানে আছ সেইখানে জয় না হইয়া পারে না, আমরা এই হারাম দ্যাশরে পাক স্তান কইর্যা তুলুম।‘
আমি বলি, ‘আলহামদুলিল্লা।’
তিনি বলেন, ‘আর কি কি করলা?’
আমি বলি, ‘মালাউন আর মালাউনদের দালালদের ঘরবাড়ি পুড়েছে, কতল হয়েছে, সব শহিদ মিনার চুরমার হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সোভানাল্লা, এইডাই ত চাইছিলাম’।
আমি বলি, ‘তবে সবচেয়ে বড়ো একটি জিনিশ আমরা পেয়েছি।’
আমি বলি, ‘আমরা একজন মহান শহিদ পেয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘শহিদ? ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না। কে শহিদ হইল?’
আমি বলি, ‘আমিই শহিদ হতে পারতাম, অল্পের জন্যে হই নি, শহিদ হয়েছেন জিহাদি মোঃ হাফিজুদ্দিন, আমার দুই নম্বর।’
তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লা, আল্লায় আমাগো রহমত দিয়াছেন। আমাগো একজন মহান শহিদ দরকার আছিল। তিনি এখন ভেস্তে আছেন, সোভানাল্লা।’
আমি বলি, ‘আমি শহিদ হ’লেই ধন্য বোধ করতাম, পাক স্তানের জন্যে নিজের বুকের রক্ত দিয়ে ধন্য হতাম।’
তিনি বলেন, ‘না, না, তোমার এইখন শহিদ হইলে চলাব না, তোমার গাজি থাকতে হইব; তয় এইখন কি কর্মসূচি নিছ?’
আমি বলি, ‘একটা বড়ো কর্মসূচি হয়ে গেছে, শহিদ মোঃ হাফিজুদিনের জানাজার পর আরো কর্মসূচি আছে।’
তিনি বলেন, ‘ঠিক কইর্যা কইরো, আল্লার রহমত আছে তোমার উপর।’
মোবাইলের পর মোবাইল।
মিনিস্টার আবদুল হান্নান মোল্লা বলেন, ‘কংগ্ৰেচুলেশন্স, তুমি সাকসেকফুল হইছ, এইটা আমারই সাকসেস; তবে অই অ্যাম শকড় অ্যান্ড সরি যে তোমাদের একজন শহিদ হয়েছে, মালাউন আর তাগো দালালদের দু-চারটি ফেলে দিতে পারলা না? উই আর উইথ ইউ অ্যান্ড ইছলাম।’
আমি বলি, আকাশে মাটিতে অনেক জিনিস আছে যার খবর আল্লা ছাড়া আর কেউ জানে না; দু-তিন দিনের মধ্যেই ঢাকা আসছি, তখন আপনাকে সব বলবো, আলহামদুলিল্লা।’
মিনিস্টার বলেন, ‘তুমি এখন বিজি, শহিদ মোঃ হাফিজুদিনরের শহরের শ্ৰেষ্ঠ জায়গায় কবর দিও, সে অমর, কয়েক দিন পর আমি জিয়ারত করতে আসব।’
আমি বলি, ‘আমি গিয়ে নিয়ে আসবো, আল্লা হাফেজ।’
সেক্রেটারি কাদির জিলানি অনেকক্ষণ ধরে চেষ্টা করছে, আমি তার নামটা দেখতে পাচ্ছি মোবাইলে, কিন্তু ধরছি না; সে চেষ্টা করুক, কয়েকবার চেষ্টা করুক, তাহলে বুঝবে আমি কতো বড়ো মহৎ কাজে লিপ্ত রয়েছি।
সেক্রেটারি কাদির জিলানি বলেন, ‘মোবারকবাদ, কংগ্ৰেচুলেশন্স, তুমি তো সারা দেশরে কাপাই দিছ, ইউ আর নাও আওয়ার হিরো। দি নেম ভৈরব ওয়াজ শিয়ার আইডলেট্রি, নাউ উই হ্যাভ গট অ্যান ইছলামিক নেম–ওমরপুর। মেইন পার্টির নেতারাও টকিং অ্যাবাউট ইউ ফ্রম দি ভেরি ডন; বাট অই অ্যাম শকড় অ্যান্ড হ্যাপি দ্যাট নার ইউ হ্যাভ এ মার্টিয়ার, হো উইল গিভ উইটনেস টু আল্লা, দি রাহমানির রাহিম। ইছলাম ইজ নট ফার বিহাউন্ড।‘
