ফলকগুলোর ডিজাইন মনের মতো করে, জ্যোতি মিশিয়ে, আমিই ক’রে দিয়েছিলাম, কিন্তু বায়তুল মোকাররামের নিচের তলার লোকটি যে এতো সুন্দর এতো খুবসু্রত ক’রে ফলক তৈরি করবে, তা আমি ভাবি নি। ওই লোকটিও আমাদের জামাঈদ জিহাদে ইছলামের সদস্য কি না। আমি জানি না; তবে ফলকগুলো দেখেই বুঝতে পারি তার বুকেও জিহাদ জ্বলছে।
বুকে জিহাদ না থাকলে হাত এতো সুন্দর কাজ করে না; যেমন আমাদের বুকে জিহাদ আছে বলেই আমরা আজ সুন্দর কাজ করতে যাচ্ছি, আজ আমরা সুন্দরকে পয়দা করবো।
‘আল্লাহু আকবর’, ‘নারায়ে তকবির’, ‘ভৈরব হবে ওমরপুর’, ‘ভৈরব নাম ধ্বংস কর’, ‘ইছলাম জিন্দাবাদ’, ‘হজরত ওমর জিন্দাবাদ’ আওয়াজ তুলতে তুলতে আমরা সামনের দিকে এগোই; বলা যায় সামনের দিকটিই আমাদের দিকে এগিয়ে আসে। চারদিকে, আশমানে জমিনে, তাকিয়ে দেখি সমস্ত শহর থেমে গেছে, স্তব্ধ হয়ে গেছে, আনন্দে ঝলমল করছে, ভয়ে কাঁপছে, বেহেশতের বাদ্য শুনছে, ইচ্ছাফিলের শিঙ্গা শুনছে।
একবার থানার অসি এসে আমার সঙ্গে কথা বলে, কথা বলে ধন্য হয়, তারপর চলে যায়, এটাই আমাদের কথা ছিলো; আমরা শহরকে মহান আল্লার নামে মুখর ক’রে তুলি, আল্লার নামে নিস্তব্ধ করে তুলি। তিনিই সমস্ত মুখরতার মালিক, তিনিই সমস্ত স্তব্ধতার মালিক।
রাস্তায় একবার আমরা নীরব নিস্তব্ধ হয়ে দাড়াই; তারপর পাঁচ রোকাত সালাত আদায় করি। কোনো যে পাঁচ রাকাত বেছে নিলাম, তা আমি জানি না; হয়তো গফুরুর রাহিম রাহমানির রাহিমের এটাই ছিলো ইচ্ছে। সালাত সব সময় আদায় করা যায়; মহৎ সব কাজের আগেই সালাত আদায় ক’রে নিলে কাজ আরো মহৎ হয়ে ওঠে। সালাত আদায়ের সময় আমি মদিনাকে দেখতে পাই, উতরিব থেকে ভয়ে পালিয়ে যাচ্ছে ইহুদিরা, সেই দৃশ্য দেখতে পাই; আমার দিল খুশিতে ভ’রে ওঠে। দেখতে পাই পাথরের ঘরগুলো ছেড়ে ইহুদিরা পালাচ্ছে, অনেকে কতল হয়ে যাচ্ছে, ওদের বউ আর মেয়েগুলোকে শেকল দিয়ে বঁধেছি, বন্ধনের মধ্যেও ওদের সুন্দর দেখাচ্ছে, সৌন্দৰ্য সব সময়ই পীড়নে আরো সুন্দর হয়ে ওঠে; দেখতে পাই লম্বা গর্ত খুঁড়ছি, তাতে মাটি চাপা দিচ্ছি কয়েক হাজার ইহুদিকে। আমি জানি ভৈরবের মালাউন ইহুদিগুলো এখন ভয়ে নিজেরাই গর্ত খুঁড়ে মাটির ভেতর ঢুকতে চাচ্ছে, তার তাদের দালাল ইবলিশগুলো কাঁপছে, একদিন ওই দালালগুলো আমাদের কাঁপাতো।
আমার দিল উতরিব থেকে মন্দিনায়–মদিনাতুন্নবিতে, মদিনা থেকে উতরিবে অবিরাম যাতায়াত করতে থাকে; ইহুদিদের আর্তনাদে আমার দিলে আঙুরের রসের ঝর্না বইতে থাকে; ইহুদি যুবতীগুলোকে দেখি, শেকল দিয়ে তাদের বেঁধে নিয়ে যাচ্ছি, কয়েকটি ইহুদি যুবতী আমার দিলে ঢুকছে, ওদের দিলের গর্তে ঢুকোচ্ছি, আর পুরুষগুলোকে গর্ত খুঁড়ে জ্যান্ত মাটিচাপা দিচ্ছি, তারা শব্দও করতে পারছে না।
আমি ৬২২-এর পবিত্র মদিনাকে দেখতে পাই, আমার রক্ত জ্বলতে থাকে।
দেখি শয়তান অবিশ্বাসী ইহুদি গোত্রগুলো—বানু-আল নাদির, বানু কুরাইজা, এবং বানু কাইনুকাকে। আমার মনে হয় এখনো তারা আমাদের ঘিরে আছে, মদিনা থেকে তাদের আমরা বিতাড়িত করেছিলাম, তারা এখন জুড়ে বসেছে। এদেশে, তাই দেশকে পাক স্তান করতে হবে, যেমন করেছিলাম ১৪০০ বছর। আগে। মনে হয় যেনো আমি ঢুকছি। উতরিবে, নাপাক অঞ্চলে, আমার প্রথম কাজ হচ্ছে ইহুদিদের খতম করা, আজ আমি তা করবো।
আমি দেখতে পাই মালাউন ও তাদের দালালদের কয়েকটি ছিন্ন মাথা আমার পায়ের নিচে পড়ে আছে, যা কয়েক কোটি টাকার থেকেও মূল্যবান। আমি দেখতে পাই আল নাদের দাঁড়িয়ে আছে আমার সামনে, ওকবা দাঁড়িয়ে আছে আমার সামনে, এবং আমি ছিন্নভিন্ন করছি তাদের।
আমার বুক থেকে আওয়াজ বেরোচ্ছে ‘আল্লাহু আকবর’।
সালাত শেষ ক’রে কাফেরি ভৈরবের নানা পথের প্রান্তে প্ৰান্তে স্থাপিত নাম ফলকগুলোর দিকে ‘আল্লাহু আকবর’, ‘নারায়ে তকবির’, ‘ভৈরব হবে ওমরপুর’, ‘ভৈরব নাম ধ্বংস কর’, ‘ইছলাম জিন্দাবাদ’, ‘হজরত ওমর জিন্দাবাদ’, ‘মুরতাদদের ধ্বংস করো’ আওয়াজ তুলে এগোতে থাকি।
জিহাদি মোঃ হাফিজুদ্দিনকে ভার দেয়া হয়েছে ভৈরবের নামফলকগুলো তুলে ফেলে সেখানে নতুন নামফলক ওমরপুর লাগানোর; এটা তার জন্যে একটি পুরস্কার, সে চিরদিন গৌরব করতে পারবে এগুলো তার নিজের হাতে লাগানো। যখন আমরা সব কিছু দখল করবো তখন হয়তো তাকে ভার দেয়া হবে এই নতুন পুরের, যার নামফলকের স্থপতি সে। মোঃ হাফিজুদিন পালোয়ান পুরুষ, মল্লযোদ্ধা, সে নিজের হাতেই ওগুলো টেনে খুলে ফেলতে চায়, বাহুতে জোশ তার উপচে পড়ছে, কিন্তু সে খুলতে পারছে না; সঙ্গে সে ভারি হাতুড়ি নিয়ে এসেছে, এগুলো আমাদের সব সময় দরকার হয়, তার সঙ্গে তালেবানরা একের পর এক ভাঙছে ভৈরব নামের ফলকগুলো, সেখানে লাগাচ্ছে ওমরপুরের ফলকগুলো, চারদিক জ্যোতিতে ভাস্বর হয়ে উঠছে; আর আওয়াজ উঠছে ‘আল্লাহু আকবর’, ‘নারায়ে তকবির’, ‘ভৈরব হলো ওমরপুর’, ‘ভৈরব নাম ধ্বংস হলো’, ‘ইছলাম জিন্দাবাদ’, ‘হজরত ওমর জিন্দাবাদ’।
আমি নিজেই থারথার করে কঁপিছি, অপূর্ব আবেগ ও জ্যোতিতে ভরে উঠছি, একটি উজ্জ্বল গুহার জ্যোতি দেখছি। লোকজন দূর থেকে আমাদের কাজ দেখছে, আমি তাদের চোখেও জ্যোতি দেখতে পাচ্ছি, তারাও জিহাদে পরিপূর্ণ, তারা নতুন যুগের সূচনা দেখছে। একে একে আমরা দশটি জায়গায় ‘ওমরপুর’ ফলক লাগাই; সারা শহর জ্যোতিতে ভ’রে ওঠে। এতো জ্যোতি আমি আগে কখনো দেখি নি; মাটির নিচের কূট অন্ধকারে যদি দশটি শামস জ্বলে ওঠে, তাহলে যে-জ্যোতি দেখা দিতে পারে, তা আমি দেখতে পাই।
