হরিপদ আচ্ছালতু খায়রুম মিনাননাউমের আগেই এসেছে, হয়তো সারারাত মাদ্ৰাছার পাশে নদীর পারেই ব’সে ছিলো। হরিপদটা আহম্মক, ব্যবসা বোঝে, কিন্তু বকুলমালা ও কণকলতাকে বোঝে না।
ওমর দিবস
আমরা সকাল নটার সময় ‘ওমর দিবস’ শুরু করবো, ভৈরবের নাম আজ বদলে দেবো; যেমন উতরিবের নাম বদলে দেয়া হয়েছিলো। মুরতাদ আর ইহুদিদের খতম করবো, একবারে না হ’লেও ধীরেধীরে; আমি নিশ্চিত জানি, একবার কোনো মহান কাজ শুরু হ’লে তা বিপত্তির মুখে পড়তে পারে, কিন্তু তার জয় কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারে না; আমাদেরটিও কেউ পারবে না।
সকাল থেকেই আমার তিনটি মোবাইল (নাউজুবিল্লা, এগুলোও কাফেররা, নাছারারা তৈরি করেছে, তা তো করবেই, ওই শয়তানগুলো আমাদের পাক কিতাব থেকে গোপনে এসব বানানোর নিয়ম শিখে আমাদের ফতুর করে দিয়েছে) পাগল হয়ে ওঠে, জ্যাম হয়ে যেতে চায়; ঢাকা থেকে নেতারা, কয়েকটি সেক্রেটারি, কয়েকটি মিনিস্টার আমাদের মোবারকবাদ জানায়, আমাদের সঙ্গে তারা আছে; কলের পর কােল আসতে থাকে চট্টগ্রাম, মাইজদি, সিলেট, দিনাজপুর, যশোর, লালমনিরহাঠ থেকে।
তারা আমাদের দিকে, আমার দিকে, তাকিয়ে আছে।
এখান থেকেই তো শুরু হ’তে যাচ্ছে পাক সার জমিন সাদ বাদ।
মিনিস্টার আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, ‘আমিও তো তোমার মতো সাম্যবাদ করতাম, মিনিস্টার হওয়ার জইন্যে এখন এই মেইন পার্টিতে আছি, কিন্তু আল্লার রহমতে মনে মনে আছি তোমার সঙ্গেই, একদিন জামাঈ জিহাদে জয়েন করবো। আজকের দিনটাকে সাকসেকফুল করতেই হইব, ডোন্ট বি অ্যাফ্রেইড, রাহমানির রাহিম আল্লা ইজ উইথ ইউ, দারোগাপুলিশ বাস্টার্ডগুলিরে আমি ম্যানেজ করব।’
আমি বলি, ‘দোয়া করবেন।‘
তিনি বলেন, ‘দোয়া তোমারে সব সময়ই করি, তোমার উপর আল্লার রহমত বর্ষিত হোক, তুমি পারবা, তুমি দ্যাশটারে ট্র্যান্সফর্ম কইর্যা দিবা। তোমার বড় নেতাগুলি গ্ৰেইট মুছলমান, তবে দে ল্যাক ব্রেইন।’
সেক্রেটারি কাদির জিনালি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লা, আই উইশ ইউ অল সাকসেস, উই মাস্ট রিইস্টাবলিশ পাক সার জমিন সাদ বাদ। তুমি দ্যাকতেই ত পাইতেছ কোনো গভর্নমেন্ট ফাংশনে ওই ব্লাডি সোনার বাংলাটা বাজতেছে না; ওইটা চালাইলেই দশ লাখ টাকার প্লেয়ার ব্ৰেক্স ডাউন, ইলেকট্ৰিছিটি বন্দী হইয়া যায়। গ্রেইট আব্দুল্লা দি গাফরুর রাহিম ডাস নট লাইক দ্যাট ব্লাডি সোনার বাঙলা আই ফাক ইউ রিটেন বাই এ মালাউন বাস্টার্ড; উই নিড পাক সার জমিন সাদ বাদ ইন অর্ডার টু গেট হিজ ব্লেসিং।’
সেক্রেটারি সাহেব এখন একটি নতুন পেয়ারে পড়েছেন, তিনি মনে করেন আল্লার রহমত ছাড়া যুবতী মেয়েটির সঙ্গে তিনি ছহবত করতে পারবেন না। আমাকে তাঁর একটু দরকার: প্রথম ছহাবতটার জন্যে তিনি পাগল হয়ে উঠেছেন। যুবতীটি আবার রেস্ট হাউজে যেতে চায় না, তার প্যালেসেই প্ৰথম ছহবত করতে চায়; এটা একটু ডিফিকাল্ট।
জামাঈ জিহাদের, আমাদের, বড়ো নেতা ফোন ক’রে বলেন, ‘কয়টারে কতল করব? কয়টা জ্বালাইবা? সব আগে থিকা আব্দুল্লার রহমতে ঠিক করছ ত?’
আমি বলি, ইনশাল্লা গোটা তিনেক, আর জ্বালাতে হবে গোটা দশেক, ভাঙতে হবে গোটা পাঁচেক৷’
তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লা, সোভানাল্লা।‘
তিনটি মোবাইল আমাকে পাগল ক’রে তোলে।
কেউ বাদ নেই, সবাই ফোন করে মোবারক বাদ জানাচ্ছে। ৩টি ভিসি, ৭টি প্রোভিসি ফোন করেছে, তারা আমার দিকে তাকিয়ে আছে :
৮টি অ্যামবোসাডর, ১১ এনজিরও ডোনার ফোন করেছে;
২০টি ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট, ৩টি ইছলামি ব্যাংকের অনিছলামি এমডি,
২৫টি খাটি মুছলমান স্মাগলার, ৫টি পরহেজগার রাজস্বের
কালেক্টর, ৪টি ইছলামি অভিনেতা, ৫টি সেক্সি হিজাবপছন্দ নায়িকা,
আর আমেরিকা, কানাডা, উইকে, সুইডেন, জার্মানি, ইটালি,
সিডনি থেকেও ফোন আসছে; সৌদি, আমিরাত, সিরিয়া, পাকিস্তান, লিবিয়া।
ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া। কোরিয়া থেকে আসছে। ভেবেছিলাম মহাথির মহম্মদ, ওসামা বিন লাদেনও ফোন করবে, ব্যাটারা ফোন করে নি।
আমাদের নেটওয়ার্কটি বড়ো, অনেকেই টের পায় না, যারা ফোন করছে, তারাও জানে না কতো বড়ো নেট পাতা হয়েছে।
সটুপিড আমেরিকা জানে না আমরা কতোটা শক্তিশালী, ওদের আরো কতো দালানে আমাদের প্লেন পড়বে।
সকাল আটটার মধ্যেই মাদ্রাছা-হ-মদিনাতুন্নবির সামনের রাস্তা ভ’রে যায়।
সারা এলাকার মাদ্ৰাছার তালেবানরা এসেছে সালোয়ার, পাকিস্থানি পাঞ্জাবি, মাথায় সুন্দর মাদানি টুপি প’রে; আর আছে আমাদের মদিনাতুন্নবি এলাকার জিহাদিরা; সব মিলে হাজার পাঁচেক হবে। সবার হাতেই ফেস্টুনপ্ল্যাকার্ড: আরবিতে সুন্দর করে লেখা ‘আল্লাহু আকবর’, আর বাঙলায় আরবির মতো পেঁচিয়ে লেখা ভৈরব হচ্ছে কাফেরি নাম, তার নাম হইবে ওমরপুর’, ‘ইহুদিদের ধ্বংস কর’, ইছলাম জিন্দাবাদ’, ‘মালাউনদের বিদায় করো’, ‘মালাউনদের দালালদের খতম করো’।
‘পাকিস্থান জিন্দাবাদ’ প্ল্যাকার্ডও কতকগুলো তৈরি করেছিলো আহাম্মক মোঃ হাফিজুদিন; কিন্তু সেগুলো রাস্তায় দেখানোর সময় এখনো আসে নি। আমি ওগুলি নদীতে ফেলে দিতে বলি।
বড়ো বড়ো দশটি পেতলের ফলকে খোদাই ক’রে লেখা হয়েছে ‘ওমরপুর’।
একেকটি অক্ষর তিন ফুট উঁচু। আগের ভৈরব নামের ফলকগুলো ভেঙে ফেলে ওগুলো শহরের নানা জায়গায় শক্ত পেরেক মেরে লাগানো হবে; এতো শক্ত করে লাগানো হবে যে রোজ কেয়ামত পর্যন্ত টিকে থাকবে। এখন থেকে লোকজন কাফেরি ভৈরভে ঢুকলেই দেখবে পবিত্র ‘ওমরপুর’, বেরোতেই দেখবে ‘ওমরপুর’; ভৈরব আর দেখবে না; ঢোকার সময় তাদের দিল জান্নাতের সুখে জ্যোতিতে ভ’রে উঠবে, বেরোবার সময় তারা দিল ভ’রে নিয়ে যাবে জান্নাতের সুখ আর জ্যোতি।
