ওদের ব্যবস্থা ক’রে ঘরে ঢুকে গিয়ে দেখি কণাকলতা জেগে উঠেছে। অল্প ঘুমে ওর মুখটি দ্বিগুণ কণকলতা হয়ে উঠেছে।
আমি আমার পাক পবিত্র কিতাবরাশির পেছন থেকে একটি বোতল বের করি; সিভাস রিগ্যালই আমার একটু বেশি পছন্দ। আহা, যখন সাম্যবাদী সর্বহার লেনিন স্ট্যালিন ট্রটস্কি গুয়েভারা ছিলাম, তখন একঢোক ধেনোও পেতাম না, মেথরপট্টিতে যেতাম, পেলে মনে হতো স্বর্গীয় শারাব পেয়েছি, এখন ব্ল্যাক লেভেল আমার কাছে ট্যাপের পানির মতো। পরম করুণাময় গফুরুর রাহিম কখন কাকে কী দেবেন, তা কে বলতে পারে?
কণকলতা বলে, ‘বতলটি তো খুব সোন্দর, হুজুর, এমুন বতল ত আগে কহনও দেহি নাই।‘
আমি বলি, ‘তোমার দেহখানির মতো সুন্দর নয়, তোমার দেহটি হচ্ছে স্বর্গের বোতল, আর ওই বোতলভরা অমৃত।‘
আমি গ্লাশে রিগ্যাল ঢালি, একটু পানি মেশাই, রঙটা সোনার মতো হয়ে ওঠে; কণকলতার মতো হয়ে ওঠে, তবে কণাকলতা আরো সোনালি।
আমি প্রথমে কণকলতার মুখের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলি, ‘একটু খেয়ে দ্যাখো, ভালো লাগবে।’
কণকলতা বিছমিল্লা’ বলে চুমুক দিয়েই বলে, ‘কী যে ঝাঁজ, তয় অনেক মজার, কী কোক এইটা, হুজুর? এইটা কি আমরিকার কোক?’
আমি বলি, ‘কতোটা মজার?’
কণকলতা বলে, ‘হুজুরের ছ্যাপের মতই মজার।’
কণকলতা আর আমি নগ্ন শুয়ে একটু একটু পান করতে থাকি, কণকলতার দেহটি পান করবো না সিভাস রিগ্যাল পান করবো বুঝতে পারি না; এক সঙ্গে দুই রকমের সিভাস রিগ্যাল পেলে কোনটি বেশি উৎকৃষ্ট, তা ঠিক করতে আমার মতো জ্ঞানীরও কষ্ট হয়। আমি কণকলতা থেকে সিভাস রিগ্যালে, সিভাস রিগ্যাল থেকে কণকলতায় যেতে থাকি। কণকলতাকেই আমার বেশি অ্যালকোহলময় মনে হয়, ১০০% ভলিউম।
কণকলতা বলে, ‘হুজুর, আপনে আমার সোয়ামি।’
আমি বলি, ‘তোমাকে একদিন আমি মুছলমান বানাবো।’
কণকলতা বলে, ‘সোয়ামি, আপনের ওই বান্ডিলটায় কী?’
আমি বলি, ‘সোনা।’
কণকলতা বলে, ‘আমি দেখুম?’
আমি বাণ্ডিলটা এনে ওকে খুলে দেখাই, লাখ লাখ টাকার নতুন নোট দেখে ও কাঁপতে থাকে, বলে, ‘হুজুর, আপনের এতো ট্যাকা?’
আমি পঞ্চাশ হাজারের একটা বান্ডিল তুলে বলি, ‘কণকলতা, এই বাণ্ডিলটা কি আমি তোমার সোনার খনিতে ঢুকাবো?’
কণকলতা বলে, ‘তাইলে আমি মইর্যা যামু, হুজুর, বাণ্ডিলটা আমার হুজুরের হুজুরজির থিকাও মোডা, আর আমার খনিডা ত ট্যাকার খনি না, এইডা তো সোনালি ব্যাংক না, অগ্রণী ব্যাংক না, ইছলামি আরব-দুবাই ব্যাংক না, দক্ষিণ আফ্রিকার জোহান্সবাৰ্গও না, এইডা হইল হুজুরের মধুর খনি, হুজুর ছাড়া আর কিছু ঢুকবো না।’
তবু আমি একটা বান্ডিল ঢুকোতে চেষ্টা করি। কণকলতা চিৎকার করে ওঠে; সব কিছু সব জায়গায় ঢোকে না, যা ঢোকার তা ঢোকে। না ঢুকবে না, কিন্তু আমি এটা ওকে দিতে চাই।
কণকলতা বলে, ‘বান্ডিলডা। আমার দুধের মাঝখানে থোন।’
আমি নিজে খনিতে ঢুকতে থাকি; কণকলতা বলে, ‘বিছমিল্লা শয়তানের রাজিম কইলেন না, হুজুর?’
আমি বলি, ‘বান্ডিলটা তোমার, যাওয়ার সময় নিয়ে যেও; এটা তোমার তিন নম্বর ব্রেস্ট, তবে আসল দুটো আমার।‘
কণকলতা বলে, ‘আলহামদুলিল্লা, এমুন ব্রেস্ট মাঝেমইদ্যে দিয়েন, হুজুর, আমি পুরা আলকোরান মোখস্থ কইর্যা ফেলুম, মুছলমান হইয়া যামু। কিন্তু হুজরি, এত ট্যাক দিয়া আমি কি করুম?’
আমি বলি, ‘টাকা হাতে এলেই দেখবে করার কাজের অভাব নেই, তখন দেখবে কতো কিছু করার আগে, কিন্তু হাতে টাকা নেই।’
কণকলতা বলে, ‘তাই না কি, হুজুর? বাবায় আমারে দুই মাস আগে এক শ ট্যাকা দিছিল, অহনও অইডা বালিশের নিচে পইর্যা আছে।‘
কণকলতা সুখের খনি, আমার দিলকে সুখে ভরে দিয়েছে; তাকে শুধু পঞ্চাশ হাজার দিয়ে আমি সুখ পাই না। ড্রয়ার থেকে আমি সবচেয়ে দামি সোনার হারটি বের করি, ওটি কণকলতার মতোই কণকলতা।
কণকলতা ওটির দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে।
আমি বলি, ‘কণকলতা, এটিও তোমার জন্যে।’
কণকলতা বলে, ‘হুজুর, আমার গলায় পরাই দ্যান, বিবি। অইয়া যাই।’
আমি বলি, ‘গলার থেকেও সুন্দর জায়গায় এটি পরাবো, সোনার খনিতে থাকবে এই সোনার হার।’
কণকলতা বলে, ‘সেইটা আবার কি?’
আমি বলি, ‘তুমি কণকলতার মতো ঘুমিয়ে পরো।’
কণকলতা চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকে; আমি সোনার হারটি কণকলতার সোনার খনিতে ধীরেধীরে বিলুপ্ত করি, কণকলতা সুখে কেঁপে কেঁপে ওঠে। সোনার হারও কি তাহলে এক ধরনের শিশ্ন?
আমি বলি, ‘কণকলতা, তোমার খনিতে সোনা আছে, তুমি খনন করে সোনা বের করে নাও, এই সোনা তোমার।’
কণকলতা সেটি বের করে চমকে ওঠে, চোখ ভরে তার সোনা জ্বলতে থাকে, বলে, ‘হুজুর, এইটা আমার গলায় পরাই দ্যান।’
আমি পরিয়ে দিই; কণকলতা আমাকে নমস্কার করে বলে, ‘হুজুর, আইজ থিকা আমি আপনের বিবি হইলাম; আর কেও এই দ্যাহ পাইব না।’
আমি বলি, ‘এর আগে কে পেয়েছে?’
কণকলতা বলে, ‘কতজনে পাইতে চাইছে, কেরেও দেই নাই; কুত্তাগো লগে গাইট বান্ধনের কতা মনে আইলেই আমার ঘিন্না লাগছে।’
আমি বলি, ‘আমিও তো কুত্তা।’
কণকলতা বলে, ‘কি যে কন, হুজুর, আপনে আমার দিল, আমার সোয়ামি, আমরা বাগদাদের বাদশাহ হারুনর রশিদ, দিল্লির সম্রাট শাজাহান। হুজুর, আমি মইর্যা গেলে আপনে আমারে কবর দিয়েন, কবরডার নাম দিয়েন কণকমহল।’
কণকলতা ও বকুলমালা দুই জিনিশ, দুই ফুল, দুই রকম তাদের গন্ধ, দুই রকম তাদের স্বাদ। কণকলতার দেহে আর কথায় কথায় মধুর রস, এই রসটা আমি পছন্দ করি, তার রস অমৃতসমান, নিজেকে আমার পুণ্যবান মনে হয়।
