আমি বলি, ‘কেনো পারবে না? আমি তো আছি।’
হরিপদ বলে, ‘হুজুর, আরো কহন নিতে আসুম?’
আমি বলি, ‘ফজরের আগে, আজানের আগে এসো।‘
হরিপদ বলে, ‘আচ্ছালাতু খাইরুম মিনাননাইউম শোননের আগেই আমি আসুম হুজুর, রাইতে আমার ঘোম হইব না।’
আমি বলি, ‘তোমার মেয়ের ঠিকই ঘুম হবে, তাকে আমি ভালো করে ঘুম পাড়াবো, তোমার মেয়ের কথা তুমি কতোটা জানো? বাপের কাজ মেয়ে জন্ম দেয়া, মেয়েকে নিয়ে আসা, দিয়ে যাওয়া, মেয়ে কীভাবে ঘুমোবে তা বাপের জানার কথা নয়।’
হরিপদ বলে, ‘জি, হুজুর; আমার কলডারে একটু দেইখ্যেন, দোকান দুইডারে দেইখ্যেন, ঘরবাড়িড়া একটু দেইখ্যেন, আপনের আতেই সব সাইপ্যা দিলাম।’
আমি বলি, ‘তোমার কল, মেয়ে, দোকান, বাড়ি নিয়ে চিন্তা কোরো না; তোমার মেয়ে সুন্দর ঘুমোবে, পারলে এখন তুমি গিয়ে ঘুমোও।’
হরিপদ চ’লে যায়, ঘরে ঢুকে দেখি কণাকলতা বোরখা পরেই দাঁড়িয়ে আছে, মুখটিও খোলে নি। আমি ঢুকতেই সে নাচের ভঙ্গিতে মুখের পর্দাটি সরিয়ে বলে, ‘জাহাপনা, আমারে দেখতে কেমন লাগছে?’
আমি বলি, ‘তুমি বোরখা পেলে কই?’
কণকলতা বলে, ‘কি যে কন, হুজুর, একটা ক্যান, আমার তিনটা বোরখা আছে, হিজাব আছে; আর হুজুরের বিবি হওনের জন্যে আসছি, বেশিরম বেলেহাজ হয়ে ত আসতে পারি না। আমারে বিবিজান মনে হইতেছে না?’
আমি বলি, ‘কণকলতা, তুমি বেহেশতের হুর, তুমি উর্বশী।’
কণকলতা বলে, ‘তাইলে আমারে বিবি কইর্যা লন, হুজুর।’
আমি বলি, ‘তোমার রঙ্গ আমার পছন্দ তোমার দেহটির মতোই।‘
কণকলতা বলে, ‘জাহাপনা, আপনে ত সব দেখেন নাই, আইজ আপনে পাগল হইয়া যাবেন। তয় আমারে একটু সুরা পইরা আপনের বিবি বানান।’
কণকলতা আমাকে চেনে, আমিও কণকলতাকে চিনি।
ওর ঠোঁট আর বুক দুটি আমার ভালোভাবেই চেনা, ওগুলো আমি খেয়েছি, সেদ্ধ ডিমের ভর্তা বানিয়েছি, ভর্তা আমি ভালোই বানাতে পারি; দাঁত দিয়ে কেটেছি, আমার দাঁতগুলো স্নায়ুহীন নয়, ওগুলোরও বোধ আছে, স্তনে দাঁতের লাল দাগ আমার চুনির থেকেও সুন্দর লাগে, আর সব সৌন্দৰ্যই আমার খেয়ে দেখতে ইচ্ছে করে, শুধু দেখে আমার সুখ হয় না; আর মহান আল্লাই জানেন আমার কোনো যেনো মালাউনদের গন্ধ ভালো লাগে, ওর গন্ধ নিয়েছি, কোনো ফুলের সঙ্গে ওই গন্ধ মেলাতে না পেরে আমি বিহবল হয়েছি।
শুধু সারাদেহটি আর নিচের মধুঝর্নাটি চিনি না; বকুলমালার ঘরে অতোটা দেখতে আমার খারাপ লেগেছে। আজই ওকে আমি ভালো করে দেখবো, ওর ঝর্নধারায় ভাসবো; বকুলমালার গাঙটা একটু বেশি প্রশস্ত, অনেকটা মেঘনার মতো; কণকলতারটি দিনাজপুরের কাঁকড়া নদীটিার মতোই হবে, ওর কথা ভাবলেই আমার কাঁকড়া নদীটার কথা মনে পড়ে।
ওর ছোটো নদী চলে বাঁকে বাঁকে? দুই ধার উঁচু তার ঢালু তার পাড়ি?
আমি সালোয়ার পাঞ্জাবি খুলে লুঙ্গি পরি, লুঙ্গি পরার সময় আমার লুঙ্গিটা টেনে ফেলে খিলখিল করে হেসে ওঠে। কণকলতা।
কণকলতা জীবনকে সুন্দরভাবে নিয়েছে, আমাকে ও সামান্য ক’রে ফেলেছে। কণকলতা বলে, ‘হুজুর, আপনের আলহজ মওলানা ছাহেব হুজুরট দেখি এখনই খাড়া তালগাছ হইয়া আছে।’
আমি বলি, ‘খাঁটি মমিনের হুজুর এমনই হয়, তার কোনো অবসর নেই, আর এখন তো আমাদের সব সময় দণ্ডায়মান থাকা দরকার।’
কণকলতা হাসতে হাসতে বলে, ‘হুজুর, জাহাপনা, আপনে আমারে বিছমিল্লা আলহামদুলিল্লা রাহমানের রাহিম শয়তানের রাজিম বইল্যা শাদি কইর্যা লন; আমি আপনের চাইরডা বিবির একটা হইয়া থাকি, আপনেরে আমার ভাল লাগে, আপনের সঙ্গে পেয়ার করতে আমি সুখ পামু, আমার দেহডা সুন্দর, আপনের দিলডা সুন্দর, আমারে বউ পাইলে আপনের দিলও সুক পাইব।’
আমি বলি, ‘আমার কোনো বিবি নেই।’
কণকলতা খিলখিল করে হাসে. বলে, ‘তাইলে আমারেই আপনের এক নম্বর বিবি কইর্যা লন, হুজুরের বিবি হইতে আমার ভাল লাগবো, আমার নাম রাইখ্যেন বিবি রহিমা।‘
আমি বলি, ‘কণকলতা।’
কণকলতা বলে, মালাউন হইয়া থাকতে আমার ভাল লাগে না, আইজ এইডার লগে কাইল অইডার লগে হুইতে হইতে আমি বেশ্য হইয়া যামু, বেশ্যা অইতে আমার ভাল লাগবে না, দৌলতদিয়া গিয়া আমি থাকতে পারুম না।’
আমি বলি, মুছলমান হ’তে চাইলে পরে আমার কোনো জিহাদির সঙ্গে তোমার শাদি দিয়ে দেবো, সে তোমাকে খাঁটি মুছলমান বানাবে।’
কণকলতা বলে, ‘সে কি আপনের মতন পারব? আমি ত আপনের হুজুররেই চাই, ওই হুজুররেই আমি ছেজদা করতে চাই, পারবেন হুজুর? আর আপনের জিগাদিগো দেকলে আমার বমি আহে।‘
আমি বলি, ‘তারা মমিন মুছলমান, বমি আসবে কেনো?’
কণকলতা বলে, ‘মমিন মালাউন দেকলেও আমার বমি আহে, মমিন মুছলমান দেকলেও আমার বমি আহে।’
আমি জিজ্ঞেস করি, ‘তুমি কি পিল খাও?’
কণকলতা খিলখিল ক’রে বলে, ‘পিল খামু ক্যান?’
আমি বলি, ‘যদি পেট হয়ে যায়?’
কণকলতা বলে, ‘তাইলে তা আলহামদুলিল্লা। আইজ আমি আইছি প্যাডে একটা পাক মমিন নেওনের জন্যে, হুজুরের পোলা নেওনের জন্যে, যে এক সময় পাহাড়ের মতন মুছলমান হইয়া দুনিয়ায় ইছলাম কায়েম করব, যে দ্যাশটারে পাকিস্থান বানাইব।’
আমি বলি, ‘এখন আমি পোলা চাই না।‘
কণকলতা খিলখিল করে বলে, ‘আল্লায় না কইছে একটা বীজও নষ্ট অইতে দেওন যাইব না? প্ৰত্যেকটা বীজ থিকা মমিন মুছলমান বানাইতে হইব, যাতে জীবন ভইর্যা জিহাদ করতে পারে? আইজ আমি একটা মমিন পোলা চাই।‘
