আলহজ বেগম লাইলাতুল কদর এখন আর অফিসে যায় না, বোরখা হিজাব পরে পাজেরোতে চেপে পেট ফুলিয়ে সে ইস্টার্ন প্লাজা থেকে ওয়েস্টার্ন প্লাজা থেকে সাউদার্ন প্লাজায় ছোটাছুটি করে, সিঙ্গাপুর যায়, লণ্ডন যায়, বছরে বছরে হজ করে, হজ থেকে ফেরার সময় বস্তা ভরে সোনা নিয়ে আসে। শুধু দ্বিনের কাজ করলে তো চলে না, মমিন বান্দাকে দুনিয়ার কাজও করতে হয়।
মাদ্ৰাছা-ই-মদিনাতুন্নবি শক্ত দেয়াল দিয়ে ঘেরা; তালেবানরা কোরান হাদিছ পড়ে–ওদের গলায় মধুর সুর, লতামঙ্গেশকারের মতোই–আমার ঘর থেকে বেশ দূরে, অন্য দিকে থাকে আমার দু-নম্বর নেতা মোঃ হাফিজুদ্দিন, খুবই শানশওকতের সঙ্গে। আমাদের দুজনেরই বডিগার্ড আছে, পাঁচটি তালেবান আমার বডিগার্ড, তিনটি তালেবান হাফিজুদিনের বডিগার্ড; তারা আমাদের ঘর পাহারা দেয়, বাইরে গেলে আমাদের পাহারা দেয়; আর আমাদের একান্ত গোপন পাক জিহাদি কাজের সময় পাহারা দেয়।
তারা আল কোরান ছুঁয়ে শপথ করেছে–তাদের খুন না ক’রে আমাদের কেউ খুন করতে পারবে না; আর আমরা যখন একটু পাক আনন্দ ফুর্তি করবো, তখন তারা একটি কাককেও ঢুকতে দেবে না, কাউকে কিছু কখনো বলবে না।
ওদের ঈমান আছে, ঈমানের জন্যে ওরাও যা পায়, তা কম নয়।
আমার বাপমা আমার একটি বড়ো ক্ষতি করেছে, তারা হাবিয়া দোজগে যাবে এর জন্যে, তারা আমাকে মাদ্ৰাছায় না পাঠিয়ে হাইস্কুলে কলেজে পাঠিয়েছিলো, তাই জীবনের শুরুতে আমি পাক জ্ঞান লাভ করি নি, নাছারা কাফেরদের বিদ্যা শিখেছি–নাউজুবিল্লা। তবে আল্লার রহমতে আর জামাঈ জিহাদে ইছলাম পার্টির দয়ায় আমি তা কাটিয়ে উঠেছি। আসল বিদ্যা, প্রকৃত বিদ্যা শেখানো হয় মাদ্ৰাছায়। মাদ্ৰাছা-ই-মদিনাতুন্নবি একটি ফোরাকানিয়া হাফেজিয়া মাদ্ৰাছা, এখানে ছহিহ কোরান তিলাওয়াত ও কোরান মজিদ হিফজ করানো হয়। এতে যার যতো বছর লাগে, ততো বছর থাকতে দেয়া হয়। তারা হয় খাঁটি মুছলমান।
এখানে আমরা শেখাই জিহাদ, জিহাদের জ্ঞান যার আছে, সেই শ্ৰেষ্ঠ মুছলমান। দাখিল, আলিম, ফাজিল, কামিল আমরা শেখাই না; শেখাই ছোরা মারা, বোমা তৈরি, গ্রেনেড মারা, পিস্তল চালানো, ক্ষৌরকর্ম–রাগাকাটা ইত্যাদি জ্ঞান, যা ছাড়া জিহাদ সম্ভব নয়। তবে দাখিল, আলিম, ফাজিল, কামিল একত্রে শেখানোর দায়িত্ব আমিই নিয়েছি; এই তত্ত্বগুলো আমি তাদের বোঝাই আবু আলা মওদুদ আর আয়াতুল্লা রুহুল্লা খোমেনির কিতাব থেকে। আমরা শেখাই হোলি টেরর, ডিভাইন টেরর, বেহেশতি সন্ত্রাস।
আসল জ্ঞান হচ্ছে জিহাদ, আসল শিক্ষা হচ্ছে।আবার পাকিস্থান।
সন্ধ্যা পেরিয়ে যেতে থাকে, একটির পর একটি এক্সএক্সএক্স দেখতে দেখতে ও জিহাদের আলোচনা করতে করতে, আবু আলা মওদুদি, রুহুল্লা খোমেনি, ওসামা লাদেন, মদিনার ইহুদিদের নিয়ে কথা বলতে বলতে, আমরা দুজনেই ছহবতের জন্যে উত্তেজিত হই। এই কয়েক মাস আগে মালাউনদের বাড়িঘরে মাঝরাতে ঢুকে ছহবত করেছি, দরকার হলে আবারও করবো; তবে এখন বাড়িঘরে ঢুকে হাল্কা ছহবতে আমার সুখ হয় না, আমার সারারাত লাগে।
মোঃ হাফিজুদিনের অবশ্য কোনো চিন্তা নেই, আজ তার গেলমানের রাত; তার কয়েকটি গেলমান আছে এখানেই, অন্য মাদ্ৰাছা থেকেও আসে, কিন্তু আমি যাকে আসতে বলেছি, সে এখনো এলো না।
মালাউনগুলো কথা দিয়ে কথা রাখে না; ওদের গায়ের গন্ধ আমি পছন্দ করি, এটা ওদের সৌভাগ্য; আজ কথা না রাখলে কালকে ওর দোকানটা পাক পবিত্ৰ আগুনে ছাই হয়ে যাবে।
গেলমান জিনিশটা জিহাদি মোঃ হাফিজুদিনের খুব পছন্দ।
বাড়িতে ওর একটি বিবি আছে, এর আগে একটি বিবিকে তালাক দিয়েছে, ওর পছন্দ গেলমান; হয়তো জিনিশটা খুবই ভালো, আমি কখনো পরখ ক’রে দেখি নি, দেখতে আমার ইচ্ছে করে না; আমি পছন্দ করি প্রথাগত জিনিশ, তবে মোঃ হাফিজুদ্দিনের মতে সকল জিনিসের সেরা, আসল জিনিস, হলো গেলমান, সোভানাল্লা। ও খুব কচি গেলমান পছন্দ করে, ন-দশ বছরের; একটু একটু ক’রে সে তাদের ট্রেনিং দেয়, নানা রকম ক্রিম সে কেনে ঢাকা গিয়ে।
গেলমানরাও রোজগার ভালোই করে।
হাফিজুদ্দিন বলে, ‘আইজ রাইতে একটা গেলমান ছহবত কইর্যা দেখেন, এইটাই আসল জিনিশ, এইজন্যে বেহেশতেও গেলমান আছে, সোভানাল্লা।’
আমি বলি, ‘না, এটা আমি পারবো না।’
হাফিজুদিন বলে, ‘হুজুর, আপনে আইজও খাটি মুছলমান হইতে পারেন নাই, একবার কইর্যা দেখেন, পরে আর মাইয়ামাইনষের দিকে চোকও দিতে ইচ্ছা হইব না।’
আমি বলি, ‘এই দুনিয়ায় মালাউন উর্বশী আমি পছন্দ করি, ওরা যখন কাপড় তুলে চনচন ক’রে প্রস্রাব করে সেই শব্দটাও আমার ভালো লাগে। মহান পাক রাহমানির রাহিম আমাকে এইভাবেই সৃষ্টি করেছেন।’
হাফিজুদ্দিন বলে, ‘আগে জানলে মহা আল্লাহতাআলা আদমের বদলে আপনারেই সৃষ্টি করতেন।‘
আমি হাফিজুদ্দিনকে একটু বিব্রত করতে চাই, যাতে সে আরো বেশি করে আমার অধীনে থাকে; তাই আমি বলি, ‘নাউজুবিল্লা।’
হাফিজুদিন বলে, ‘হুজুর, মাপ কইর্যা দেন; এইটা আপনের আমার মইদ্যে ক’তা, হুজুর, কারে কোন দিন বইল্যেন না।’
আমি বলি, ‘তুমি আমাকে সন্দেহ করো?’
হাফিজুদিন বলে, ‘না, হুজুর, আপনে সব সন্দেহের বাইরে।’
আমি বলি, ‘মোঃ হাফিজুদ্দিন, তুমি গোলমানের কথা বলেছে, এতে আমি নাখোশ হইনি।’
