বেশী নয়। আমার রেফারেন্সে গেলে ভিজিট হয়তো নিতেই চাইবে না। তোরা মেয়েরা এত কিম্বুস কেন রে? প্রাইভেট টিউটরের চিকিৎসা করাতে চায় সেটা বেশ ভাল, জেসচার, কিন্তু ভিজিট বেশী হলে চিকিৎসা করাবে না। এটা কেমন কথা?
মেয়েরা হিসেব করে চলে বলেই স্বামীরা টিকে আছে।
বেশী বকিস না। নিজের শাড়ি, গয়না, সাজের জিনিস কেনার সময় স্বামীর টাকার মায়া করিস? ওই একটা ব্যাপারে মেয়েরা মোটেই কিম্বুস নয়।
তাহলে ভিজিট বেশী নয় বলছিস?
আমি খবর রাখি না। তবে কণাদকে বলে দেবোখন যেন প্ৰাইভেট টিউটরের ভিজিট না নেয়, আর রিয়ার ভিজিট যেন অবশ্যই নেয়।
ঠিক আছে বাবা, তাই হোক। রিয়া মোটেই বিনা ভিজিটে চিকিৎসা করাতে চাইছে না।
এবার কি কথা শেষ হয়েছে?
আর একটা কথা।
আবার কী?
একটা ফাস্ট ক্লাস মেয়ে আছে আমার হাতে। তোর সঙ্গে খুব মানাবে।
সে তো পুরোনো কাসুন্দি। তোর হাতে সব সময়েই পাত্রী মজুদ থাকে, আর তাদের সবাইকেই আমার সঙ্গে মানায়।
না মাইরি, এ মেয়েটা দারুণ ভাল।
ভাল না হওয়ার তো কারণ নেই। দুনিয়াতে বিস্তর ভাল মেয়ে আছে।
আমার একটা কি সন্দেহ হয় জানিস? তোকে কেউ দাগ দিয়েছে। কিন্তু কে যে দিল সেইটেই বুঝতে পারছি না। আগে তো সব কথা আমাকে বলতিস, আজকাল লুকোস। বলবি সত্যি কথাটা?
বলছি। আমাকে একজন ভীষণ দাগ দিয়ে গেছে। হল তো!
ইয়ার্কি রাখি। সত্যি করে বল না ভাই!
তুই যা শুনতে ভালবাসিস তাই তো বলছি।
আচ্ছা, তুই কি নারী বিদ্বেষী?
প্ৰবল রকমের। তোর মতো মেয়েদের দেখে দেখেই বিদ্বেষটা জন্মেছে।
আমার জন্য কত ছেলে পাগল ছিল তা জানিস?
জানি। পৃথিবীতে আহাম্মকদের সংখ্যাই বেশী। আমার ঘুম পাচ্ছে, এবার ছাড়ছি।
ওরে দাঁড়া, দাঁড়া। কাজের কথাটাই তো হয়নি।
আবার কিসের কাজের কথা?
শোন না পাগলা, কাল ডাক্তারের কাছে যাওয়ার ব্যাপারে একটু প্রবলেম রয়েছে যে!
কিসের প্রবলেম?
কাল আমাদের অন্তু ড্রাইভার দেশে যাচ্ছে। গাড়ি চালাবে কে?
তার আমি কি জানি? অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন থেকে ড্রাইভার নিয়ে নে।
দূর পাগলা, বাইরের একটা অচেনা লোক গাড়িতে থাকলে কি ফ্রীলি কথা বলা যায়, বল! গাড়ি চড়ার আরামটাই মাটি হয়ে যায়। অন্তু থাকলে কথা ছিল না, সে পুরোনো লোক।
কী বলতে চাস খোলসা করে বলবি? অন্তু না থাক, তোর আর একটা গাড়ি আর তার ড্রাইভারও তো আছে।
ছাই জানিস। সেটা তো আমার কর্তা নিজে চালায়। গত সপ্তাহে আমস্টারডাম যাওয়ার আগে ড্রাইভারকে ছাড়িয়ে দিয়ে গেছে। আমাকে বলে গেছে, যেন এই অয়েল ক্রাইসিসে দুটো গাড়ি ব্যবহার না করি। ফলে ও গাড়ি এখন অস্পৃশ্য। কর্তা ফিরলে ফের চলবে।
তাহলে মানেটা কী দাঁড়াল?
মানে দাঁড়াল, কাল তুই একটু সকাল সকাল অফিস থেকে বেরিয়ে সোজা আমার এখানে চলে আসবি। তোর সঙ্গেই আমরা দুই বান্ধবী ডাক্তারখানায় যাবো।
অসম্ভব! অসম্ভব!
অসম্ভব কথাটা কাদের অভিধানে থাকে তা জানিস?
বোকাদের। আমি তো বোকাই।
বোকা একটু আছিস, তবে সেটা ধরছি না। আসলে তুই হচ্ছিস কলকাতার সবচেয়ে ভাল দশ জন মোটর ড্রাইভারদের একজন। ইন ফ্যাক্ট তুই-ই হয়তো এক নম্বর।
তেল দিয়ে লাভ হবে না রে। আমি পারব না। কলকাতায় ট্যাক্সির অভাব নেই।
কী যে বলিস তার ঠিক নেই। পুরুষ ছাড়া শুধু মেয়েরা ট্যাক্সিতে চড়ে কখনও? যদি নিয়ে পালিয়ে যায়?
তোকে নিয়ে কেউ পালাবে না, যদি ঘটে তার বুদ্ধি থাকে। তুই হচ্ছিস যে কোনও পুরুষের গভীর লায়াবিলিটি। আর, কলকাতার ট্যাক্সিওলাদের অনেক দোষ থাকলেও মহিলা হাপিস করার বদনাম নেই। প্রতিদিন শয়ে শয়ে মেয়ে একা একটা ট্যাক্সিতে চড়ে দাবড়ে বেড়াচ্ছে।
আমরা কি ওরকম? অতি সাহস আমার নেই। তা ছাড়া জায়গাটাও যে ভাল চিনি না। সেই কবে একবার গিয়েছিলাম। লক্ষ্মী, ভাই, তোর তো পরোপকারী বলে একটা নাম আছে।
আমি আজকাল তেল নিই না রে।
তেল নয়, তোর কিছু ভাল গুণ তো সত্যিই আছে। তোর কি আর সবটাই খারাপ?
সবটাই খারাপ এমন লোক দুনিয়াতে বিশেষ নেই। ওটা কোনও কমপ্লিমেন্ট হল না। আর তোর মতো দুমুকো লোকের কমপ্লিমেন্ট আমি নিইও না।
আমি দুমুখো লোক! আচ্ছা বেশ তাই হল। কিন্তু একটা ট্যাক্সিতে গিয়ে যদি আমাদের বিপদ হয় তো মামার কাছে মুখ দেখাতে পারবি? নিজের বিবেককেই বা কি বলবি?
তুই কলকাতা-চষা ঝানু মেয়ে, ন্যাকামি রাখ। তোকে যে-ট্যাক্সিওলা সীতাহরণ করবে। সে এখনও মায়ের পেটে।
কিডন্যাপ নয় না-ই করল, টাকা-পয়সা গয়নাগাটি কেড়ে নিতে পারে তো!
না, পারে না। বাজে কথার সময় নেই। ছাড়ছি।
আহা, শোন না কথােটা! ছেলেবেলায় তোর মনটা কত নরম ছিল ভোব তো। আমার একদিন স্কুল থেকে ফিরতে দেরী হয়েছিল বলে কেঁদে ভাসিয়েছিলি। মনে আছে, আর একটা কথা শোন, পিন্টুটাও সঙ্গে যাবে। ওর খুব ইচ্ছে তোর সঙ্গে যায়।
উফ, তোদের চক্রান্তে একটা ইনোসেন্ট বাচ্চাকেও টেনে নামালি! তোর মত…
আচ্ছা, আচ্ছা, তুই বরং পিন্টুর সঙ্গেই কথা বলে দেখ!
সে যে লড়াইয়ের হারছে তা হেমাঙ্গ বুঝতে পারছিল। কিন্তু করার নেই। চারুশীলার দুই সন্তানের মধ্যে বড়টি মেয়ে নন্দনা, ছোটোটি স্পন্দন বা পিন্টু। দুটিই সাহেব-বাচ্চাদের মতো সুন্দর। পিন্টুটা কোনও এক কার্যকরণে হেমাঙ্গর ভীষণ ন্যা ওটা। যখন দুধের শিশু ছিল তখনই আর কারও কোলে নয়, শুধু হেমাঙ্গ হাত বাড়ালে ঝাপ খেয়ে চলে আসত এবং আর কারও কাছে যেতে চাইত না। হেমাঙ্গ চারুশীলাকে বলত, দেখ, শিশুরা ঠিক মানুষ চেনে। ওরা হচ্ছে ভগবানের লোক, তাই নিষ্পাপ মানুষ দেখলেই তার কাছে চলে আসতে চায়। চারুশীলা বলত, তা নয় রে। ও আসলে তোর মধ্যে আর একটি অবোধ শিশুকেই দেখতে পায়, তাই আমন করে। তোর মাথাটা তো ডেভেলপ করেনি।
