অনুকে নিয়ে হেমাঙ্গ বেরোলো।
রাস্তায় পা দিয়ে অনু বলল, আপনি খুব ডিজহার্টেনড, না?
কেন বলো তো!
অনু হি হি করে হেসে বলে, দিদি আসেনি বলে!
হেমাঙ্গ গম্ভীর হওয়ার চেষ্টা করে বলে, তা কেন? অনেকের অনেক জরুরি কাজ থাকতে পারে।
আচ্ছা, আপনি এরকম পিকিউলিয়ার কেন বলুন তো!
কি রকম?
দিদিকে কি আপনি একদিন ফোনে বলেছিলেন যে ওকে আপনি অ্যাভয়েড করতে চান?
তোমাকে কে বলল?
মুনুন, দুজন বোন যখন কাছাকাছি হয় তখন কেউ কারও কাছে কথা লুকোতে পারে না। উই শেয়ার আওয়ার সিক্রেটস। বলুন না, বলেছিলেন।
হেমাঙ্গ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, আনফরচুনেটলি, ইয়েস।
দেন হোয়াই ড়ু ইউ ল্যামেন্ট?
ল্যামেন্ট! কই ল্যামেন্টের কী দেখলে?
ইউ আর ক্রেস্টফলেন, ইউ আর কিপিং মাম, ইউ লুক স্যাড। ইউ আর ল্যামেন্টিং সাইলেন্টলি।
তুমি একটি বিচ্ছু মেয়ে।
হি হি করে হাসল অনু। তারপর ফের গম্ভীর হয়ে বলল, আমার দিদিটা বড্ড সেকেলে। একদম ব্যাকডেটেড। এখনকার দিনে কেউ অত রোমান্টিক আর লাজুক আছে নাকি?
এক-আধজন থাকলে দোষ কি?
রোমান্টিক, লাজুক, পেটে খিদে মুখে লাজ এসব কি আজকাল চলে? আমার যদি কাউকে ভাল লাগে আমি স্ট্রেট বলে দেবো, ডিয়ার ম্যান, আই লাইক ইউ।
হেমাঙ্গ একটু হাসল।
অনু তার দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে একটু চেয়ে বলল, আপনিও ওল্ড ফ্যাশনড় আর রোমান্টিক, তাই না?
কেন? আমি আবার কী করলাম?
দিদিকে আপনি এত ভয় পান কেন? মধ্যযুগীয় নায়কদের মতো বুক-টুক কাপে নাকি?
হেমাঙ্গ মৃদু একটু হাসল। বলল, তোমার দিদির সঙ্গে আমার এখনও কোনও সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। আই অ্যাম স্টিল ভেরি ম্যাচ লোনার।
মিথ্যুক।
কেন, মিথ্যেটা কী বললাম?
তা হলে বোকা।
গালমন্দ করছি কেন?
ইউ কান্ট কল এ স্পেড এ স্পেড।
আমাকে নিয়ে কেন যে এত ভুল বোঝাবুঝি হয় কে জানে!
অনুভ্ৰ কুঁচকে বলল, ভুল বোঝাবুঝি! মাই গড! আর ইউ ট্রায়িং টু সে দ্যাট ইউ আর নট ইন লাভ উইথ দ্যাট রেচেড সিস্টার অফ মাইন ঝুমকি?
হেমাঙ্গ মুচকি হেসে বলল, তোমার ডান দিকে দেখা। এখান থেকে রাতে নদীর ওপর জ্যোৎস্না দেখলে তোমার মাথা খারাপ হয়ে যাবে।
ওপেন আপ ম্যান! আরণ্ট ইউ ইন লাভ?
হেমাঙ্গ একটা দৰ্ঘিশ্বাস ফেলে বলে, শোনো অনু, আমি নিজেকে ঠিক বুঝতে পারি না। শী ইজ এ গুড গার্ল। বাটি…
রাবিশ। ভীষণ বোকা। আপনি।
হেমাঙ্গ কাষ্ঠহাসি হেসে বলল, বোধ হয় কথাটা ঠিক।
তবু স্বীকার করবেন না? আচ্ছা গোয়ার লোক বাবা!
স্বীকার করার কিছু নেই। ঝুমকি তোমাকে কী বলেছে?
বলব কেন? আফটার হোয়াট আই হ্যাভ হার্ড ফ্রম ইউ, আমি দিদিকে সাবধান করে দেবো। শী মে বি হ্যাচিং অ্যান আইডিয়া অফ লাভ অ্যাণ্ড ম্যারেজ। শী ইজ কমিটিং এ ব্লান্ডার।
বলবে এ কথা?
বলাই উচিত।
হেমাঙ্গ চুপ করে রইল। বাঁধের ওপর দিয়ে ধীর পায়ে তারা হাঁটছে। দুজনেই নিঃশব্দ, দুজনেই কিছু গভীর। চারদিকের প্রকৃতি মিথ্যেই নানা সৌন্দর্য প্রদর্শন করার চেষ্টা করছে তাদের। তারা দেখছে না কিছু।
অনু থমথমে মুখে হঠাৎ বলল, চলুন, ফিরি। আমার আর ভাল লাগছে না।
বলেই অ্যাবাউট টার্ন হল অনু। উল্টোদিকে হাঁটতে লাগল। হেমাঙ্গ অপ্রস্তুত বোধ করল। মেয়েটা বড্ড জ্বালাচ্ছে তো!
অনু, শোনো। রেগে যোচ্ছ কেন?
অনু মুখ ফিরিয়ে বলল, রাগব কেন?
শোনো শোনো। কথা আছে।
অনু হাঁটার গতি কমিয়ে দিল, কিন্তু মুখের গাম্ভীর্য বজায় রেখেই বলল, বলুন।
তোমাকে আমি বোঝাতে পারছি না হয়তো।
কী বোঝাবেন?
ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড। আমার মন এখনও স্থির নয়।
ইউ হ্যাভ অলরেডি টোল্ড দ্যাট।
কখন বললাম?
নট ইন সো মেনি ওয়ার্ডস, বাট ইউ হ্যাভ হিন্টেড ইট।
তা হলে রেগে যাচ্ছ কেন?
আপনার ওপর রাগব কেন? আমি রেগে যাচ্ছি দিদিটার ওপর। ও কেন এত রোমান্টিক আর বোকা? ও কেন যা নয় তাই মনে করে বসে আছে?
ঝুমকি তোমাকে কী বলেছে। অনু?
বারবার জিজ্ঞেস করবেন না, প্লিজ! আমাদের মধ্যে অনেক কথা হয়। সব কথা সবাইকে বলা যায় না।
হেমাঙ্গ যেন একটা থাপ্পড় খেয়ে চুপ করে গেল। অনুর পাশাপাশি বাড়ির দিকে হাঁটতে হাঁটতে তার ভিতরে ভিতরে একটা যন্ত্রণা আর গ্রানি হচ্ছিল। কী করবে। সে? কী করবে। এখন?
তাদের দেখেই অপর্ণা বলে উঠল, এ কী! অনু, ফিরে এলি যে!
ভাল লাগছে না। মা। বিচ্ছিরি জায়গা। চলো, কলকাতায় ফিরে যাই।
ও মা! এই তো এলাম! আজকের দিনটা থাকব না?
তোমরা থাকো, আমি একা ফিরে যাবো।
হঠাৎ তোর হল কি?
হেমাঙ্গ ভীষণ অস্বস্তি বোধ করছিল। মেয়েটা পরিস্থিতি খারাপ করে দিচ্ছে।
অনু বলল, আমার কিছু হয়নি মা। জায়গাটা ভীষণ গুমি, ভীষণ নোংরা। আমি থাকব না।
মণীশ চুপ করে মেয়ের দিকে চেয়ে বসেছিল। এবার বলল, তোর মেজাজ বিগড়েছে বুঝতে পারছি। আমার কাছে আয়।
না বাবা। আমার কিছু ভাল লাগছে না। লীভ মি অ্যালোন। বলে অনু নদীর দিকটায় চলে গেল। আড়ালে।
অপর্ণা হেমাঙ্গর দিকে চেয়ে বলল, আপনি কিছু মনে করবেন না যেন। ও একটু মুডি। হয়তো কিছুক্ষণ পর সব ঠিক হয়ে যাবে।
হেমাঙ্গ একটু কাষ্ঠহাসি হেসে বলল, ও কিছু নয়।
মেয়ের যা মুড দেখছি আজ হয়তো ফিরে যেতে হবে।
তা কেন? আমি একটু বাদে মাথা ঠাণ্ডা হলে ওকে বোঝাবো। আপনাদের জন্য সব অ্যারেঞ্জমেন্ট করা হয়েছে। আজ কেন ফিরবেন?
মণীশ বলল, আগেকার দিনে ছেলেমেয়েরা বাপ-মায়ের কথা শুনে চলত বা তাদের চলতে বাধ্য করা যেত। এখন বাপ-মাকেই ছেলেমেয়েরা চালায়। বুঝলেন? উই আর নাউ ইন এ হোপলেস টাইম। পেরেন্টহুড বলে কিছু আর নেই। আপনি যদি কখনও বিয়ে করেন তা হলে প্ৰথম থেকেই সাবধান হবেন।
