অবভিয়াসলি রিঙ্কু। আর কে হবে!
মানছি। কিন্তু তবু সন্দেহের কোনও অন্ধুর আমি রাখতে চাইছি না।
এটা আপনার বাড়াবাড়ি।
কোনও কিছুই বাড়াবাড়ি নয়। সত্যের শিকড়ে পৌঁছানো সবসময়েই কঠিন।
সত্যকে আপনি স্বীকার করতে চাইছেন না।
সত্য হলে অবশ্যই স্বীকার করব।
কিন্তু আমাকে টানাটানি করছেন কেন?
জেরা বা রুটিন প্রশ্ন করে ভজনবাবুর কাছ থেকে কিছুতেই কথাটা বের করা যাচ্ছে না। আপনি হয়তো জানেন না লোকটার সহ্যশক্তি অসীম। আমি কাউকে এত ফিজিক্যাল টর্চার সহ্য করার পরও এত শান্ত থাকতে দেখিনি।
তাতে কী হ’ল?
লোকটাকে ক্র্যাকডাউন করাটাই আমার স্বার্থ। কেসটার যা অবস্থা ভজনরাবুর রেহাই পাওয়ার কোনও উপায় নেই। আমি ওঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করছি না। লোকটার ফাঁসি হোক কি যাবজ্জীবন আমার কিছু যায় আসে না। কিন্তু লোকটার কাছ থেকে কথাটা বের করা यGद ब्न्मा 6दङन्म?
এটা কি আপনার জেদ বা প্রেস্টিজ ইসু?
না একেবারেই তা নয়।
মেয়েটা যে রিঙ্কুই তা আপনার মনে হচ্ছে না কেন?
মনে হচ্ছে। আবার হচ্ছেও না।
বড্ড হেঁয়ালি করেন। আপনি। আমার তো মনে হচ্ছে ভজন আপনাকে ঘুষ দিয়েছে।
শবর হাসল, মনে রাখবেন ভজনবাবু গুল্ডা বদমাশদের হাতে মার খেয়েও তাদের চাদা দেননি। ঘুষ দেওয়ার লোক নন।
আমাকে কী করতে হবে?
জাস্ট মিট হিম।
মিট করে কথাটথা বলতে হবে তো!
তা হবে।
কী বলব। তখন?
যেমন মনে হয় বলবেন! প্ৰস্পট করার বা শিখে পড়ে যাওয়ার দরকার নেই।
আমি যে ওর ওপর ভীষণ রেগেও আছি।
তা থাকুন না। কী যায় আসে তাতে?
কোন লাইনে কথা বলতে হবে তা তো বুঝতে পারছি না।
নানা ধরনের কথা হতে পারে। বুদ্ধি খাটিয়ে বলবেন। বলার চেয়েও শোনাটা বেশি জরুরি।
ও আমাকে সব বলবে কেন?
উনি কারও সঙ্গেই কথা বলছেন না বিশেষ। আপনার সঙ্গেও না বলতে পারেন। তবে আমার একটা ধারণা, উনি আপনার ওপর টর্চার করেছেন বলেই একটু অপরাধবোধ থাকতে পারে।
নরপশুদের অনুতাপ থাকে না। রিঙ্কুকে মেরে কি ও অনুতপ্ত?
এ প্রশ্নের জবাব আমার কাছে নেই। আপনি লোকটাকে দেখে বুঝতে চেষ্টা করুন।
আমার কী দরকার?
দরকারটা তো আপনার নয়, আমার।
আপনি আমাকে বড্ড মুশকিলে ফেললেন। আচ্ছা, একটা শর্তে দেখা করব।
কী শর্ত?
আমি আপনার কথা মানছি, বদলে আমাকে সাক্ষী হওয়া থেকে রেহাই দেবেন।
শর্তটা বেশ কঠিন। আমি চেষ্টা করব।
আপনি কি জানেন যে আপনি খুব নাছোড়বান্দা লোক?
জানি। আমার কাজটাই আমাকে আনপপুলার করে তোলে।
আমি কিন্তু আপনাকে ডিজলাইক করিনি। বরং আপনি হেটো মেঠো পুলিশের মতো নন বলে ফ্রিলি কথাও বলেছি।
তার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
কবে যেতে হবে?
আজ এবং এখনই।
আমার যে ভয় করছে।
ভয় কী? লোকটা শোওয়ার ঘরে নরপশু হলেও এমনিতে এ সিক ম্যান।
তবু নার্ভাস লাগছে।
আমি কাছাকাছি থাকব।
গরাদের ভিতর দিয়ে দেখা হবে তো!
শবর হেসে বলল, আপনি চাইলে তাই হবে। তবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে যদি চিন্তিত না হন তা হলে আমার ইচ্ছে আপনাদের দেখাটা হোক পুলিশ কাস্টডির বাইরে কোথাও।
সে কী। পুলিশ ওকে ছেড়ে দেবে?
আইনত ছাড়বে না। তবে আমার আন্ডারটেকিং-এ ছাড়বে। চলুন।
ঠিক আছে। সব রিস্ক কিন্তু আপনার।
নিশ্চয়ই।
আপনার খুব আত্মবিশ্বাস, তাই না?
না মিস ভট্টাচাৰ্য, আত্মবিশ্বাস নয়। শুধু লজিক্যাল।
ঠিক আছে চলুন। আমি পোশাকটা পালটে আসছি। গাড়ি আছে?
আছে। পুলিশের জিপ।
ওতেই হবে।
শবর যখন বিভাবরীকে নিয়ে বেরোল তখন বেলা দুটো। পথে বিভাবরী তেমন কথাটথা বলল না। শবর জিজ্ঞেস করল, স্টিল ফিলিং নার্ভাস?
হ্যাঁ।
ওর প্রতি আপনার ঘেন্নার ভাবটা এখনও আছে?
থাকবে না? আমি ভুলতে পারি না।
আপনাদের দেখা হবে।
আপনি খুব রিস্ক নিচ্ছেন। কিন্তু। থানাই ভাল ছিল। আমি সেফ ফিল করতাম।
আপনি সেফটি নিয়ে ভাববেন না। ইউ উইল বি সেফ।
বিভাবরী চুপ করে রইল।
৪. বড়লোকের বাগানবাড়ি
শবর যে বাড়িটায় নিয়ে এল বিভাবরীকে, তা যে বড়লোকের বাগানবাড়ি তা দেখলেই বোঝা যায়। চারদিকে অনেকটা জমিতে ভারী সুন্দর নিবিড় গাছপালা। সামনে ফুলের বাগান। এই বর্ষাকালের শেষেও বাগানে ফুলের অভাব নেই। বাংলো প্যাটার্নের চমৎকার বাড়ির সামনে একটা মনোরম বারান্দা। তারপর ঘর টর।
এটা কার বাড়ি শবরবাবু?
একজন বড়লোকের। কেউ থাকে না। ফাঁকা পড়ে থাকে। শুধু মালি আছে।
জিপটা একেবারে বারান্দার কাছ ঘেঁষে দাঁড়াল। শবর জিপ থেকে নেমে বলল, আসুন।
কেউ নেই তো এখানে দেখছি।
আসবে। কয়েক মিনিট অপেক্ষা করতে হবে।
ভিতরে ঢুকে বিভাবরী চারদিকে চেয়ে দেখল। বৈঠকখানাটা কী সুন্দর করে যে সাজানো! বেশি আসবাব নেই। কিন্তু, রুচির পরিচয় আছে।
এখানে নয়, ভিতরের ডাইনিং হল-এ।
বিভাবরী বলল, ঠিক আছে।
ডাইনিং হলটাও দারুণ সাজানো। গ্লাস টপ মস্ত খাবার টেবিল ঘিরে গদি আঁটা চেয়ার। ভারী নরম। এয়ার কন্ডিশনার চলছে বলে ভ্যাপিসা গরম থেকে এসে ভারী আরাম বোধ করল। বিভাবরী। চারদিক নিস্তব্ধ।
কী খাবেন? চা, কফি বা কোন্ড ড্রিঙ্ক?
জল খাব। আর কিছু নয়।
একজন পরিচ্ছন্ন পরিচারক ট্রে-তে একটা টাম্বলার। আর ঝকঝকে কাচের গেলাস এনে রাখল সামনে। বিভাবরী খানিকটা জল খেয়ে বুঝল তার তেষ্টাটা নাৰ্ভাসনেসের। বারবার তেষ্টা পাবে।
শবর তাকে বসিয়ে রেখে বেরিয়ে যাওয়ার আগে বলল, আমি বা আর কেউ আর আসব। না। ঘাবড়াবেন না। জাস্ট ফেস হিমা অ্যান্ড টকা।
