তাই নাকি?
হ্যাঁ। ইউরোপে একা ব্যাচেলর মানুষ থাকতাম, মহিলাসংসর্গ হয়নি বলি কী করে? কিন্তু সেগুলো প্রাক-বিবাহ যুগে। পরে কাজের চাপে আর নেশায় আমার অন্য সব বোধই চলে যায়।
সোনালিদির সন্দেহ কি অমূলক?
মাথা নেড়ে গোপীনাথ বলল, তাও বলছি না। তবে এ প্রসঙ্গটা বাদ দিলেই ভাল করবি। দেয়ার ওয়াজ এ হেল অফ মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিংস। আমি কাউকে দোষ দিই না।
সোনালিদি কিন্তু অত্যন্ত রিজার্ভড মহিলা, উইথ পারসোনালিটি।
জানি।
আমার মনে হয় আপনি সোনালিদিকে খুব ভাল করে এখনও জানেন না। তাও হতে পারে। কিন্তু ডোন্ট ট্রাই রিকনসিলিয়েশন। ইট মে হার্ট ইউ। এখন রোজমারি আর মনোজের কথা বল। এরা কেমন লোক?
রোজমারি বুদ্ধিমতী।
আর মনোজ কি গাধা?
তা বলছি না। তবে মনোজ ক্রাইসিস ম্যান নন। বিজনেস ব্রেনও নেই।
খুব স্বাভাবিক। সেটা আমারও নেই।
আর একটা কথা।
বল।
শুভ নামে রোজমারির একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট আছে। বাচ্চা ছেলে। সে আমার ঘরে এসে মাঝে মাঝে আড্ডা মারে।
সে কিছু বলেছে?
হ্যাঁ। সে বলেছে রোজমারি নাকি প্রায়ই সিঙ্গাপুরে যায়।
সেখানে কী আছে?
একজন আত্মীয় থাকে। বোধহয় বোনটোন হবে। কিন্তু সেটা কথা নয়। কথা হল, শুভ দেখেছে একটা লোক রোজমারির সঙ্গে একই ফ্লাইটে যায় এবং আসে। কিন্তু রোজমারির চেনা লোক নয়।
বটে!
লোকটা বেঁটে, ফরসা এবং স্বাস্থ্যবান। শুভ তাকে বশ্বের নাম দিয়েছে। লোকটাকে শুভ একদিন ফলোও করে। কিন্তু চিৎপুরের একটা বাড়িতে ঢুকে লোকটা গায়েব হয়ে যায়।
কিন্তু এ ঘটনার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কী?
সম্পর্কটা শুভ না জানলেও আমি জানি। আমি কোম্পানির পিআরও। শুভ যে বাড়িটার ঠিকানা দেয় সেই বাড়িতেই লুলু নামে একটা লোক থাকে। লুলু আমাদের কোম্পানির সিকিউরিটির চার্জে আছে। কিন্তু সে কখনও অফিসে আসে না। কোম্পানির অ্যাকাউন্টসে খোঁজ নিয়ে জেনেছি লুলুর নামে একটা বেশ মোটা টাকার বরাদ্দ আছে।
গোপীনাথ বিরক্ত হয়ে বলল, তার সঙ্গেই বা আমাদের কী সম্পর্ক?
আমাদের নয়। রোজমারির।
তুই কি বলতে চাস রোজমারির সঙ্গে ওর এক্সট্রা ম্যারিটাল রিলেশন আছে।
ডিডাকশন তাই সাজেস্ট করে।
তাতেও আমাদের কিছু যায়-আসে না।
আমার ধারণা রোজমারি লুলুকেই আপনার সিকিউরিটির ভার দেবে।
দিক না।
সুব্রত মাথা নাড়ল, আমার কিছু হোমওয়ার্ক করা আছে।
সেটা আবার কী?
পুলিশ রেকর্ড।
লুলু কি ক্রিমিন্যাল?
ড্রাগ ট্রাফিকার। জার্মানিতে ওর বেস। বেশির ভাগ ব্যাবসাই বে-আইনি।
সেটা কি রোজমারি জানে না?
বোধহয় না।
রোজমারি কি বোকা?
বোকা নয়। অজ্ঞানতা। লুলু ইজ এ ব্যাড নিউজ।
তা হলে কী করতে বলিস?
সাবধান হতে বলি।
তুই তো সকালেই আমাকে জিজ্ঞেস করছিলি আমার ঠিকানা রোজমারিকে দিবি কি না। তা হলে আবার একথা বলছিস কেন? লুলু যে ব্যাড নিউজ এটা তো তোর জানাই ছিল।
সুব্রত মাথা নেড়ে বলল, না জানা ছিল না। লুলু সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য পুলিশের একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারের কাছে বলা ছিল। তিনি আমার সম্পর্কে কাকা হন। তিনি ঘণ্টাখানেক আগে আমাকে টেলিফোন করে জানালেন।
লুলুকে তা হলে অ্যারেস্ট করা হচ্ছে না কেন?
প্রমাণাভাব। তা ছাড়া পুলিশ সব ক্রিমিন্যালকে অ্যারেস্ট করেও না, যতক্ষণ না ঘটনা ঘটছে।
গোপীনাথ কাধটা ঝাঁকিয়ে বলল, টোস্ট খাবি? আমার খিদে পেয়েছে।
টোস্ট! এখন এইসব কথার মাঝখানে হঠাৎ টোস্টের কথা কেন?
বিপদ যেমন সত্য, খিদেও তেমন সত্য। কলা আর আপেল আছে, টোস্টের সঙ্গে মন্দ লাগবে না।
সুব্রত একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, আপনি খান। আমি খেয়ে এসেছি।
গোপীনাথ উঠে গিয়ে টোস্ট সেঁকে মাখন লাগিয়ে নিয়ে এল। সঙ্গে কলা আর আপেল। খেতে খেতে বলল, লুলু যে বা যা-ই হোক রোজমারির ল্যাবরেটরিতে একটা অ্যাকসেস আমার দরকার।
কেন গোপীদা? কোনও এক্সপেরিমেন্ট করতে চান?
হ্যাঁ। অ্যান্ড এ ভাইট্যাল ওয়ান।
সুব্রত কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থেকে বলল, গোপীদা, আঁদ্রে যখন খুন হয়, অর্থাৎ যখন তাকে বিষ দেওয়া হয় তখন আমি স্পটে ছিলাম, জানেন?
গোপীনাথ অবাক হয়ে বলল, তাই নাকি?
হ্যাঁ গোপীদা। আঁদ্রে যখন বিয়ারটা খাচ্ছিল তখন আমি তার দিকেই চেয়ে ছিলাম।
বলিসনি তো!
বলে কী হবে! তখন কি জানতাম যে বিয়ারে বিষ আছে?
কে দিয়েছিল জানিস?
যদি বলি জানি?
জানিস! সত্যিই জানিস?
সুব্রত একটু হাসল।
২৭.
সোমবার দুপুরের দিকে সোনালি রোজমারির ফোন পেল।
সোনালি, একবার আমার ঘরে আসবেন?
সোনালি একটু অবাক হল। সে মনোজের সেক্রেটারি। রোজমারির সঙ্গে তার প্রয়োজন খুবই কম। সে বলল, হ্যাঁ, ম্যাডাম আসছি।
সোনালি একটা গোটা উইং পেরিয়ে আর-একটা উইং-এ রোজমারির দফতরে পৌঁছোতে একটু সময় নিল। এবং এই সময়টুকু সে ভাবল। কয়েকদিন আগে মনোজ সেন তাকে ডেকে গোপীনাথ সম্পর্কে কিছু কৌতূহল প্রকাশ করে। তাতে সে মোটেই সন্তুষ্ট হয়নি। বিরক্ত হয়েছে এবং সেটা প্রকাশও করেছে। রোজমারিও আবার সেই একই প্রসঙ্গ তুলবে নাকি?
রোজমারির ঘরে যখন সে ঢুকল তখন রোজমারির মুখে হাসি এবং আপ্যায়ন। সোনালি এই আন-অফিশিয়াল ভাবভঙ্গি পছন্দ করে না বসদের কাছ থেকে।
রোজমারি পরিষ্কার বাংলায় বলল, বসুন সোনালি।
সোনালি বসল। এবং সে হাসল না।
রোজমারি তবু মুখের হাসিটা বজায় রেখে বলল, আপনাকে কয়েকটা কনফিডেনশিয়াল কথা বলতে চাই, সোনালি।
