মুখে আপশোসের একটা চুকচুক শব্দ করে প্রসাদ বলল, এ গ্রেট লস। আদ্রেঁ ওয়াজ এ জিনিয়াস।
আপনি কি ওকে চিনতেন? বলেননি তো কখনও!
চিনতাম। তবে ডেলিগেটদের মধ্যে যে সেও আছে তা জানতাম না। যেমন সেও জানত যে, আমি এই কোম্পানিতে কাজ করি।
আপনি কি জানেন যে, আদ্রেঁর ডেডবডি নিয়ে গিয়ে রোমে একটা অটোপসি করা হয়েছে। এ ভেরি সফিস্টিকেটেড টেস্ট। তাতে ধরা পড়েছে যে, হি ওয়াজ পয়জনড।
তাও শুনেছি। রোজমারি বলেছেন। ঘটনা কি আরও আছে?
আছে। সাক্কি ইনকরপোরেটেড তাদের অর্ডার বহু গুণ বাড়াতে চাইছে। তার পিছনে অন্য মতলব? ঠিক তাই। সাক্কি যা নেয় এ প্রায় তার দশ গুণ। খবরটা ব্যাবসার পক্ষে নিশ্চয়ই ভাল, কিন্তু আরও ভাল হয় যদি আমরা তাদের মতলবটা বুঝতে পারি এবং তাদের আগেই জিনিসটা তৈরি করে বাজারটা ধরে ফেলি।
ওয়াইজ অব ইউ।
সেইজন্যই আপনাকে খাটাচ্ছি।
প্রসাদ মৃদু হেসে বলল, খাটতে আমার কোনওদিনই আপত্তি নেই। কাজ তো আমি ভালইবাসি। কিন্তু এ ব্যাপারে আমার চেয়েও অনেক বড় এক্সপার্ট ছিল আদ্রেঁ।
তা তো ঠিকই। কিন্তু আদ্রেঁ আমাদের নাগালের বাইরে।
প্রসাদ একটু ভাবল। তারপর বলল, আর একজন আছে।
সে কে? তার নাম গোপীনাথ বসু।
হ্যাঁ হ্যাঁ, নাম শুনেছি। কিন্তু তিনি তো আদ্রেঁর লাইনের লোক নন।
প্রসাদ মাথা নেড়ে বলল, না। তবে গোপীনাথ হ্যাজ ইনমেনন্স কোয়ালিটিজ। আরও একটা কারণ হল, সে আদ্রেঁর বন্ধু।
আপনি এত সব জানলেন কী করে?
আদ্রেঁ আমার বন্ধু। গোপীনাথও আমার খুব চেনা। তারা দুজনেই সাক্কিতে কাজ করত। ইন ফ্যাক্ট, সাক্কিতে আদ্রেঁকে ঢুকিয়েছিল গোপীনাথই। বিশাল কোম্পানি, অনেক প্রোজেক্ট।
জানি। আমরা সাক্কির সঙ্গে বিজনেস করি, আপনি কি তা জানেন না?
প্রসাদ মাথা নেড়ে বলে, আমি ল্যাব নিয়ে পড়ে থাকি, বিজনেসের খবরে আমার ইন্টারেস্ট নেই। তবে গোপীনাথ বসুর সঙ্গে যদি যোগাযোগ করতে পারেন, হি মে বি অব সাম হেলপ।
গোগাপীনাথ কি সাক্কির গোপন প্রোজেক্টের খবর আমাদের দেবে?
প্রসাদ একটু ভাবল। তারপর মাথা নেড়ে বলল, না। তবে হয়তো একটা হিন্ট দিলেও দিতে পারে। ওয়ান হিন্ট উইল বি এনাফ ফর মি। আমি অন্ধকারে ঢিল ছুড়ছি। কী করতে চাইছি তাই তো জানি না।
মনোজ ভ্রু একটু কুঁচকে রইল কিছুক্ষণ। তারপর অসহায়ভাবে মাথা নেড়ে বলল, আমিও জানি না। আপনি কি গোপীনাথবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন?
প্রসাদ একটু হাসল, দেয়ার ইজ এ ওয়ে। কিন্তু সেটা কতটা প্র্যাক্টিকেবল হবে জানি।
কী বলুন তো!
আপনার পারসোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মিস সোম গোপীনাথের এক্স ওয়াইফ।
মনোজ অবাক হয়ে বলে, তাই নাকি? তা হলে তো বলেই মনোজ টেলিফোনের দিকে হাত বাড়াচ্ছিল।
প্রসাদ হাত তুলে মৃদু হেসে বলল, ডোন্ট বি হেস্টি।
লেট আস আস্ক হার।
প্রসাদ মাথা নেড়ে বলল, ওদের সম্পর্কটা এখন ভীষণ সেনসিটিভ। কেউ কারও নাম শুনতে পারে না।
তা হলে?
মিস সোম আপনাকে হেল্প করবেন না। তবে শি মে গিভ আস দি টেলিফোন নাম্বার অব গোপীনাথ। কিন্তু ও কাজটা আমিই করব।
মনোজ বলল, ঠিক আছে।
প্রসাদ মৃদু হেসে উঠল। বলল, গোপীনাথ যদি ভাইট্যাল হিন্টটা নাও দেয় তা হলেও আমি হাল ছাড়ছি না। চিন্তা করবেন না।
আচ্ছা। থ্যাঙ্ক ইউ।
প্রসাদ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, যদি একটা অত্যাধুনিক ল্যাব এবং যন্ত্রপাতি পেতাম তা হলেও না হয় হত। আমাদের ল্যাব তো তেমন সফিস্টিকেটেড নয়।
মনোজ গম্ভীর মুখে মাথা নেড়ে বলল, ঠিকই বলেছেন। তবু যতদূর যা করা যায়। তারপর দেখা যাবে।
প্রসাদ চলে যাওয়ার পর অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইল মনোজ। একটু অবাক লাগছে। সোনালি গোপীনাথ বসুর স্ত্রী! কী আশ্চর্য। গোপীনাথ মস্ত মানুষ। জিনিয়াস।
সোনালি এল আরও আধ ঘণ্টা পরে। কয়েকটা জরুরি চিঠিপত্র সই করাতে।
সইগুলো করে দিয়ে মনোজ হঠাৎ বলল, মিস সোম। বসুন। একটু কথা আছে।
সোনালি হয়তো অবাক হল। তবু বসল।
মনোজ ভদ্রতা বজায় রেখে আড়চোখে সোনালির মুখখানা লক্ষ করে নিল। মুখখানা ঠিক স্বাভাবিক নয়। এমনিতেই সোনালির মুখটা বেশ গম্ভীর। তার ওপর এখন একটা বিষাদের ভাব যেন যুক্ত হয়েছে।
প্রসাদ সাবধান করে দিয়ে গেছে, তবু মনোজ কথাটা উত্থাপনের লোভ সামলাতে পারল না। একটু দ্বিধা ও দোলাচলের পর বলল, মিস সোম, আমি যদি দু-একটা কথা জিজ্ঞেস করি তা হলে কি কিছু মনে করবেন?
সোনালি একটু অবাক হয়ে বলল, কী কথা?
একটু পারসোনাল।
পারসোনাল?
মানে রিগার্ডিং এ পার্সন।
পার্সনটি কে?
গোপীনাথ বসু।
হঠাৎ তার কথা কেন?
মনোজ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, উই আর ইন এ জ্যাম। সর্ট অব জ্যাম। আমাদের প্রোডাকশন কিনে নিয়ে কেউ অন্যরকম কিছু কাজ করছে।
ও। কিন্তু এসবের সঙ্গে তো আমার কোনও সম্পর্ক নেই।
হয়তো একটু আছে। কিন্তু সে-কথা পরে। আমাদের সমস্যাটার কথা একটু বুঝে দেখুন। আমাদের ধারণা হয়েছে এই অ্যালয় থেকে কেউ আরও কোনও একটা প্রফিটেবল জিনিস তৈরি করছে। সেটা করছে সাক্কি।
সোনালি গম্ভীর থেকে গম্ভীরতর হয়ে যাচ্ছিল। বলল, কিন্তু আমি কী করতে পারি?
এ ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারত আদ্রেঁ। ইন ফ্যাক্ট, কাজটা সে-ই করছিল। কিন্তু আদ্রেঁ এখন আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে। আদ্রেঁ ছাড়া আর যে পারে সে হল গোপীনাথ বসু।
