উই আর লাইক অ্যালিয়েনস। আমি আজকাল খুব আমাদের নিয়ে ভাবছি। আগে ভাবতাম না, কিন্তু এখানে এসে যখন কিছুদিন ছিলাম তখন আমার জ্যাঠামশাই, জেঠিমা, তোমার মা বাবা, তারপর পারুলদের বাড়ির সবাইকে দেখে ভারী অদ্ভুত লাগত। কই, এরা তো আমাদের মতো নয়। দে আর কোয়াইট ডিফারেন্ট পিপল! সেই থেকে ভাবি।
সোহাগ, তুমি কিছু করতে পারো না?
ঠোঁট উলটে সোহাগ হতাশ গলায় বলল, কী করার আছে বলো তো? ফাদার উইল নট চেঞ্জ, মাদার উইল নট চেঞ্জ। তাহলে কী করে কী হবে! আমার বাবাকে রিসেন্টলি দেখেছ?
ভাল করে লক্ষ করিনি। কেন বলো তো!
কেমন যেন পাগলামিতে পেয়ে বসেছে।
কিন্তু অমলদা কত ভাল ছাত্র ছিল বল। স্কুল ফাইন্যালে স্ট্যান্ড করেছিল।
সেসব বাবা ভুলে গেছে। একদিন মায়ের সঙ্গে কী নিয়ে কথা হচ্ছিল, বাবা কাউকে কিছু না বলে নীচে নেমে গাড়িতে উঠে চুপচাপ ঘুমিয়ে রইল। আর আমরা চারদিকে খুঁজে খুঁজে হয়রান। শেষে রাত দুটো নাগাদ বাবাকে লক করা গাড়ি থেকে বের করা হয়। সাফোকেশনে হয়তোবা মরেই যেত।
ও বাবা!
বাবার ভিতরে একটা সেলফ ডেস্ট্রাকশনের টেন্ডেন্সি দেখতে পাচ্ছি।
পান্নার চোখ ছলছল করছিল। বলল, ডিভোর্স হলে তো তাহলে অমলদা সত্যিই সুইসাইড করে বসবে।
সেসব কথাও ভাবি। আমার মনে হয় আমাদের পরিবারে একটা ডেথ-টেথ কিছু হবে। ইট ইজ ইমিনেন্ট।
যাঃ, ও কথা বোলো না। শুনলেই ভয় করে।
মলিন মুখে একটু হাসল সোহাগ। বলল, ওরকম কিছু না হলে কি আমাদের ফ্যামিলিটা বদলাবে?
যাঃ, কেউ মরলেই বুঝি সবাই বদলে যায়?
কোনও কোনও সিচুয়েশনে বোধহয় যায়।
ওসব বোলো না তো, আমার ভীষণ মন খারাপ হয়ে যায়।
সোহাগ একটুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, ইট মাস্ট এন্ড সামহোয়ার। ইট হ্যাজ টু। আমি দাদুকেও কথাটা বলেছিলাম।
মহিম জ্যাঠাকে!
হ্যাঁ।
জ্যাঠা কী বলল?
দাদুর মনটা খুব খারাপ। শুধু বলল, দিদিভাই, আমি তো ওল্ড টাইমার, এ-যুগের মানুষের কাছে। আমাদের দাম নেই।
শুধু এই কথা!
হ্যাঁ। অ্যান্ড দাদু ওয়াজ রাইট। আমি দেখেছি, দাদুকে কেউ বেশি মানে-টানে না। কিন্তু দাদু ইজ এ নাইস কুল হেডেড ম্যান।
তাহলে কী হবে সোহাগ?
মা ভীষণ অ্যাডামেন্ট। মা সন্দেহ করে বাবা এখনও ভেরি মাচ ইন লাভ উইথ পারুল। পারুল এখন এখানেই আছে। আর সেই জন্যই বাবা পালিয়ে এসেছে এখানে। মায়ের এমনও ধারণা হয়েছিল যে, দুজনে হয়তো একটা ষড়যন্ত্র করেছে।
পান্না সবেগে মাথা নেড়ে বলে, এ মাঃ! না না, একদম বাজে কথা সোহাগ। পারুলদি ওরকম মেয়েই নয়। তার ওপর পারুলদি এখন প্রেগন্যান্ট।
মাই গড! আর ইউ সিওর?
হ্যাঁ। পারুলদি আজই ফিরে যাচ্ছে জামশেদপুরে। আমি তো রোজ ওবাড়িতে যাই। আমি জানি অমলদার সঙ্গে পারুলদির দেখা-সাক্ষাৎও হয় না।
সোহাগ ম্লান মুখে বলল, কিন্তু মা কি আর ওসব বিশ্বাস করবে? এখন মায়ের হচ্ছে ওয়ান ট্র্যাক মাইন্ড। আমার কী মনে হয় জান?
কী?
শী উইল ডেস্ট্রয় হিম অ্যান্ড হি উইল ডেস্ট্রয় হার। দুজনেই দুজনকে ধ্বংস করবে। তারপর জুড়োবে।
ফের ওরকমভাবে কথা বলছ! ওসব শুনতে আমার ভাল লাগে না।
দেন লেট আস টক অ্যাবাউট সুইট থিংস। বলে হাসল সোহাগ।
পান্নাও হেসে ফেলল, বলল, আচ্ছা, আমরা কিছু করতে পারি না, না?
তুমি! তুমি কী করবে?
আমার কী ইচ্ছে হয় জান? খুব ইচ্ছে হয় পৃথিবীর সকলের সব দুঃখ দূর করে দিই।
সোহাগ হেসে বলে, তোমার শত্রুরও?
হ্যাঁ তো। তবে আমার কোনও শত্রু নেই যে!
সোহাগ বলল, এবার এসে কী দেখলাম জানো?
কী?
বাবার গলায় পৈতে। আর বাবা নাকি আজকাল গায়ত্ৰীমন্ত্র জপ করে দুবেলা।
ওমা! সে তো বামুনরা করেই। বাবা করে, জ্যাঠারা করে, এমনকী বিজুদা যে নাস্তিক, সেও কিন্তু করে। অমলদার পৈতে ছিল না বুঝি!
না। কখনও দেখিনি।
সেইজন্যই তোমাদের এমন হচ্ছে। গায়ত্রীমন্ত্রের জোর জান? গায়ত্রী জপ করলে ভূতপ্রেত সব পালিয়ে যায়। আরও অনেক কিছু হয়।
সোহাগ হেসে বলে, তাই বুঝি? আমার মা-বাবার রিলেশান খুব স্ট্রেইন্ড হলেও এতদিন সম্পর্কটা টিকে ছিল। গায়ত্রী জপ করার পর তো ডিভোর্স হয়ে যাচ্ছে। সেটাও কি মন্ত্রের জন্যই?
না বাবা, তা নয়।
তাহলে?
হতাশ হয়ে পান্না মাথা নেড়ে বলে, আমি কিছু বুঝতে পারছি না। এ মা, ডালটা পোড়া লাগল নাকি? গন্ধ বেরোচ্ছে যে!
বলে ছুটে গেল পান্না। ডালটার তলার দিকটা একটুখানি ধরেছে মনে হয়। তাড়াতাড়ি ঘটি উপুড় করে জল ঢেলে হাতা দিয়ে তলাটা ভাল করে নেড়ে দিল সে। জল শুকিয়ে চড়চড় করছিল এতক্ষণ।
এই সোহাগ, পোড়া গন্ধ পাচ্ছ?
সোহাগ বাতাস শুঁকে বলল, একটু একটু অ্যাক্রিড স্মেল পাচ্ছি।
এমা! তাহলে আজ মায়ের কাছে আবার বকুনি খেতে হবে। আমার কপালটাই বকুনি খাওয়ার।
একটু ভিনিগার দিয়ে দেখ না!
ভিনিগার! ও বাবা, ওসব মা হেঁসেলে ঢুকতে দেয় না। ভিনিগার নাকি মদ থেকে তৈরি হয়।
রান্নায় মাঝে মাঝে ওয়াইন দিলে তো খেতে চমৎকার হয়।
সে তোমাদের হয়, আমাদের হয় না।
মল্টেড ভিনিগারে অ্যালকোহল থাকতে পারে, সিনথেটিক ভিনিগারে তা থাকে না।
কাঁদো কাঁদো হয়ে পান্না বলে, কিন্তু ভিনিগার তো নেই, কী করি বল তো! বেশি করে হিং দিয়ে ফোড়ন দিলে হবে না?
মাথা নেড়ে সোহাগ বলে, আই নো নাথিং অ্যাবাউট কুকিং। আমি ওমলেট বা চাওমিন বানাতে পারি, আর বার-বি-কিউ। হিং আমাদের বাড়িতে কেউ পছন্দ করে না।
