দেয়ার ইজ এ পয়েন্ট। মায়ের ওপর বুডঢার সফটনেস আছে। জানো তো, আমাদের ফ্যামিলিতে কেউ কাউকে পছন্দ করে না। সবাই সবাইকে ঘেন্না করে। শুধু মা আর বুডঢার মধ্যেই যা একটু ভাল সম্পর্ক।
তোর বাবা কিন্তু তোকে খুব ভালবাসে।
ছাই বাসে। বাবা কাউকেই ভালবাসে না। হি হেটস আস অল।
তুই বুঝিস না রে।
সোহাগ সামান্য হেসে বলে, আমিই যদি না বুঝতে পারি তা হলে আর কেউ বুঝলে লাভ কী বলল। আমাদের ফ্যামিলিকে তুমি ঠিক বুঝতে পারবে না।
কেন রে, তোর ওরকম মনে হয় কেন?
ইট অল স্টার্টেড উইথ পারুল।
পারুলদি?
হ্যাঁ।
সে তো কবেকার কথা।
তা জানি। বাট দি গডেস ইজ দি রুট অব অল মিসচিভস।
আবার ইংরিজি বলছিস?
ভুলে গিয়েছিলাম। সরি।
আমি কিন্তু এই ইংরিজিটা বুঝতে পেরেছি। কিন্তু তুই বারবার পারুলদিকে গডেস বলিস কেন? ওতে দেবদেবীর অপমান হয়। একটা জলজ্যান্ত মেয়ে আবার গডেস কী রে?
পারুল গডেস নয়, সে তো ঠিক কথা। কিন্তু খুব কম বয়সে ওর ছবিটা দেখে কেন যে গডেস মনে হত কে জানে।
সুন্দরী বলে বলছিস?
হ্যাঁ তো৷ গড় আর গডেসরা তো সুন্দরীই হয়। কিন্তু তাদের একটা অরাও থাকে।
কী থাকে বললি?
অরা। অরাটা তোমাকে কী করে বোঝাব বলো তো!
তুই নিয়ম করে রোজ আমাকে একটু একটু ইংরিজি শেখা। তা হলে তোর কথা টক করে বুঝতে পারব।
অরা মানে ধরো একটা-একটা কী বলে ওটাকে বলো তো–
সন্ধ্যা হেসে খুন হয়ে বলে, থাক বাবা, থাক। আর তোকে বোঝাতে হবে না। খুব বুঝেছি।
কী বুঝেছ বলো তো!
ঠাকুর-দেবতাদের গা থেকে জ্যোতি বেরোয় তো! সেটাকেই বোধহয় অরা না কী ছাঁইপাশ বললি, তাই বলে–
মাই গড! তবু তুমি বলবে যে তুমি বোকা?
বোকা নই?
তুমি জলের মতো বুঝতে পেরে গেলে। হ্যাঁ তো, ওই জ্যোতি কথাটা আমার কিছুতেই মনে পড়ছিল না।
কিন্তু পারুলদির মোটেই জ্যোতি-ট্যোতি নেই। গায়ের রংটা অবশ্য ফর্সা। কিন্তু তাকে তো আর জ্যোতি বলে না। তোর মা তো আরও ফর্সা।
ধ্যাত। ফর্সা বলে নয়। সামথিং মোর দ্যান ফর্সা।
আমিও তো তাই বললুম। ফর্সা ছাড়া পারুলদির আর কী আছে বল তো।
মুশকিল কী জানো?
কী বল তো!
ছেলেবেলায় সেই যে মনে হয়েছিল ছবিটা একজন গডেসের সেই হিপনোটিজমটা আজও যায়নি।
আচ্ছা, পারুলদিকে সামনাসামনি দেখেও তোর ভুল ভাঙেনি?
একটু ভেঙেছে বোধহয়। কিন্তু ভাঙুক, তা আমি চাইনি। আমার তো কোনও গডেস নেই, ওই একজন ছাড়া।
কী অদ্ভুত কথা বলিস তুই? এই যে দুর্গামূর্তি দেখলি সেদিন, সে-ই তো গডেস।
ধ্যুত, তুমি যে একটা কী না। দুর্গা হল আইডলাইজড ইমাজিনেশন। ও তো ভীষণ কৃত্রিম।
আহা, দেবদেবীরা সব আমাদের মতো হ্যাতান্যাতা কি না।
তা বলে দুর্গার মূর্তিটা কিন্তু গডেস নয়। বিয়ন্ড মূর্তি গডেস কেউ থাকতেও পারে। কিন্তু মূর্তি দেখলে গডেসে ইমেজ আসে না আমার।
আচ্ছা, তা হলে পারুলদির ছবি দেখেই বা এল কেন বল।
তা জানি না যে!
তা হলে তুই আমার মতোই হাঁদারাম।
সন্ধ্যা আর সোহাগ দুজনেই খুব হাসল।
তুমি খুব ভুল বলোনি পিসি। আমি একটু বোধহয় তোমার মতোই বোকা।
তা হলে আমাকে বোকা বলে স্বীকার করলি?
এখনও করিনি। তবে আমার একটা হ্যাবিট আছে, মাঝে মাঝে কিছু একটা দেখে খুব ইমপ্রেস্ত হয়ে যাই। তুমি হও?
হই না? এই যে তোকে দেখে আমি মুগ্ধ।
আমাকে দেখে? যাঃ! আমি তো একটা বাজে মেয়ে।
ও আবার কী কথা! বাজে মেয়ে কেন হবি।
আমাকে দেখে মুগ্ধ হওয়ার কিছু নেই পিসি।
একটু পাগলি সেজে থাকিস বটে, কিন্তু আমি টের পাই, তোর ভিতরটা বড্ড ভাল।
আচ্ছা, আজ কি আমরা দুজন দুজনেই একটু অয়লিং করছি?
সন্ধ্যা হেসে ফেলে বলে, তা নয়। তবে তুই আমার ভারী লক্ষ্মী মেয়ে। কী করে বুঝলুম জানিস?
কী করে?
যেদিন তুই আমার ঘরে প্রথম এলি, মনে আছে?
হ্যাঁ তো!
সেদিন থেকেই আমার ব্যবসা খুব বেড়ে গেছে।
যাঃ!
সত্যি! কত অর্ডার আসছে ভাবতে পারবি না।
ওই তো তোমাদের রোগ। যাকে তাকে ভগবান বানিয়ে ফেল।
ঠিক তোর মতো, না? পারুলদি যদি ভগবান হতে পারে তো তুই কী দোষ করলি বল তো?
ইউ আর এ গুড ডিবেটার।
এটা কিন্তু বুঝলুম না। বুঝিয়ে দে।
থাক, তোমার বুঝে কাজ নেই। এটা একটা কমপ্লিমেন্ট।
এটা বুঝেছি।
একটু একটু বুঝলেই তোমার চলবে।
তবু আমাকে ইংরেজিটা একটু শেখাস। ইংরেজি জানলে অনেক কাজ হয়।
কী কাজ হবে?
একটা লোন অ্যাপলিকেশন করেছিলুম বাংলায়। দিলই না। কে যেন বলছিল, অফিসারটা সাউথ ইন্ডিয়ান। ইংরেজিতে করলে দিত।
আমি তোমার অ্যাপলিকেশন লিখে দেব।
দিবি? খুব ভাল হয় তাহলে।
এখানে তো কম্পিউটার নেই। তাহলে তোমাকে কম্পিউটারে টাইপ করে দিতাম।
এখানে কিছুই নেই রে। পোড়া জায়গা।
কিন্তু পিওর আলো-বাতাস আছে। গাছপালা আছে। সন্ধের পর আকাশে কত তারা দেখা যায়।
দুর! ওসব দিয়ে কী হয়! আলো-বাতাস তো জন্ম থেকেই পাচ্ছি, কী হয়েছে বল। বরং ভাবি যদি ইংরেজিতে হড়বড় করে কথা কইতে পারতুম, যদি তুঘোড় বুদ্ধি থাকত তাহলে হয়তো সেই লোকটা অমন তাড়িয়ে দিতে সাহস পেত না।
কে লোকটা বলো তো! তোমার হাজব্যান্ড?
তার কথাই বলছি।
আর ইউ স্টিল ইন লাভ উইথ হিম?
তা নয় রে! আসলে কী জানিস, কেন যে আমাকে তার পছন্দ হল না তা আজ অবধি ভেবেই পেলাম না। তাই ভাবি কয়েকটা বাড়তি গুণ থাকলে হয়তো ভাল হত।
তুমি এবার একটা বিয়ে করো পিসি। ইট ইজ হাই টাইম।
