টেলিফোনে আসমানীর সঙ্গে কথা বলে নিতে হবে। তার শরীরটা কেমন কে জানে। শরীর খারাপ থাকলে বের হতে পারবে না। একশ টাকার নতুন একটা ফোন কার্ড কেনা হয়েছে। ফোন কার্ডের কিছুই খরচ হয় নি। পুরো কার্ডটা খরচ করলে কেমন হয়? তাহলে বলা যাবে একশ টাকায় কথা বলা হল।
আসমানী বলল, কে বলছেন?
ফরহাদ বলল, জমিন বলছি।
আসমানী হাসতে হাসতে বলল, জমিন বলছ মানে?
তুমি আসমান হলে আমি জমিন। বাংলা সিনেমা আর কি? তুমি বৃষ্টি, আমি মেঘ। তুমি জল আমি স্থল। এই শরীর কেমন?
শরীর কেমন মানে! তোমার কি ধারণা আমি চীর-রোগী। খবর্দার আর কখনো টেলিফোন করে শরীর কেমন জিজ্ঞেস করবে না।
আচ্ছা যাও করব না। আমাদের বিয়ের তারিখ কি ঠিক আছে?
দুদিন পিছিয়েছে। রবিবার। আমরা আমাদের সব আত্মীয় স্বজনদের রবিবারের কথা বলছি। মামা এর মধ্যে তোমার বাবা-মার সঙ্গে কথা বলবেন। মনে হচ্ছে আজ সন্ধ্যাবেলা যাবেন। সন্ধ্যাবেলা তুমি অবশ্যই বাসায় থাকবে।
হ্যাঁ থাকব।
এখন কি করছ?
আসমানী নামের একটা মেয়ের সঙ্গে কথা বলছি। আচ্ছা শোন তুমি কি আজ আমাকে দোকানে নিয়ে যেতে পারবে?
ওমা কেন পারব না। আমার নিজেরো কিছু কেনাকাটা আছে। এই শোন কথা বাড়িয়ে এক্ষুনী চলে এসো।
এক্ষুনী চলে আসতে পারব না। তোমাকে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলতে হবে। আমি একশ টাকা দিয়ে একটি ফোন কার্ড কিনেছি। কার্ড শেষ না হওয়া পর্যন্ত কথা বলব।
আচ্ছা বল আমি টেলিফোন ধরে আছি।
আসমানী তোমার কোন ধরনের বালিশ পছন্দ। শক্ত না নরম?
বালিশ আবার শক্ত হয় নাকি? বালিশ মানেই তো নরম।
বালিশ যে ক্ষেত্র বিশেষে কি রকম শক্ত হয় তা আমাদের বালিশ না দেখলে বুঝবে না। আমাদের বালিশ দিয়ে মাথায় বাড়ি মারলে সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু হবার সম্ভাবনা। ভাল কথা তোমার খাটের গদী কি ফোমের?
হ্যাঁ ফোমের।
কত ইঞ্চি ফোম?
মেপে দেখিনি। মাপব?
অবশ্যই মাপবে, টেলিফোনে কথা শেষ হোক তারপর মাপবে। কারণ আমি একটা ফোমের তোষক কিনব।
তোমাকে এত খুশি খুশি লাগছে কেন?
খুশি খুশি লাগছে?।
হ্যাঁ খুব খুশি খুশি লাগছে। চাকরি ফেরত পেয়েছ তাই না?
চাকরি ফেরত পাইনি। আমার খুবই দুঃসময়। তাতে কি? আমাকেতো আর দুধের মেয়েকে চিড়ার পানি খাওয়াতে হচ্ছে না।
তার মানে?
তার মানে তুমি বুঝবে না।
আসমানী বলল, আচ্ছা আজ কি বৃহস্পতিবার?
ফরহাদ বলল, কেন বলতো?
তোমার আনন্দ দেখে মনে হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। আমি একটা বই-এ পড়েছি একেকজন মানুষের একেকবারে আনন্দ থাকে। যেমন ধর আমি। আমি হচ্ছি সূর্যের কন্যা। আমি আনন্দে থাকি রোববারে। আচ্ছা শোন, তুমি কথা বলে শুধু সময় নষ্ট কর।
উঁহু আমি আজ একশটাকার কথা বলব। একশ টাকা এখনও শেষ হয় নি।
কখন শেষ হবে?
তাও বলতে পারছি না। তবে আর মনে হয় কথা বলতে পারব না।
কেন?
আমার পেছনে লম্বা লাইন হয়ে গেছে। লাইনের লোকগুলি বিশ্রীভাবে আমার দিকে তাকাচ্ছে।
ভাল হয়েছে। অগ্নি দৃষ্টিতে তোমাকে ভস্ম করে দিক। হ্যালো শোন টেলিফোন রাখার আগে খুব জরুরী একটা কথা জিজ্ঞেস করি। কি রঙের শাড়ি পরব বলতো? তোমার পছন্দের কোন রঙের শাড়ি পরতে ইচ্ছা করছে।
আমাকে কিছু বলতে হবে না। আমি মনে মনে যে রঙটা ভাবব তোমাকে সেই রঙের শাড়ি পরেই আসতে হবে। এই বিষয়ে আমার আধ্যাত্বিক ক্ষমতা আছে। ইএসপি টাইপ ক্ষমতা, পরীক্ষা হয়ে যাক। আমি টেলিফোন রেখেই আমার পছন্দের রঙের কথা এক টুকরো কাগজে লিখে মানিব্যাগে রেখে দেব। তুমি দেখবে যে রঙের শাড়ি পরে বের হয়েছ সেই রঙটার কথাই আমি লিখেছি।
উফ ফালতু কথা বলবে নাতো। প্লীজ।
বাজি?
আচ্ছা যাও বাজি।
টেলিফোন রেখে দেই?
দাও। তবে টেলিফোন রাখার আগে দয়া করে বলতো আমার সোনার বাংলা গানটার পরের লাইনটা যেন কি?
আমি তোমায় ভালবাসি।
আসমানী তার মার কাছ থেকে নিয়ে ধবধবে শাদা রঙের একটা শিফন শাড়ি পরেছে। শাদা রঙের শাড়ি সে কখনো পরে না। ফরহাদকে শিক্ষা দেয়ার জন্যে এমন শাড়ি পরা। সে নিশ্চয়ই ভাববে না, আজকের দিনে সে শাদা শাড়ি পড়বে।
আসমানী হাসি হাসি মুখে বলল, দেখি তোমার মানিব্যাগের কাগজ।
ফরহাদ কাগজ বের করে আসমানীর হাতে দিল। কাগজে লেখা—শাদা। আসমানী খুবই অবাক হয়ে ফরহাদের দিকে তাকাচ্ছে। সে কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না। আসমানীর বিষ্মিত মুখ দেখে ফরহাদের খুবই মায়া লাগছে। ইচ্ছা করছে সত্যি ব্যাপারটা বলে দিতে। মানিব্যাগে শুধু যে শাদা লেখা কাগজই ছিল তা না, একটা কাগজে লেখা ছিল নীল, একটায় সবুজ, একটায় লাল এবং একটায় কালো। অন্য কাগজগুলি রেখে ফরহাদ শাদা লেখা কাগজটা বের করে দিয়েছে। ছেলেমানুষী ম্যাজিক। পিসি সরকারের ছোটদের ম্যাজিক বই থেকে শেখা। আসমানী এতটা অভিভূত হবে সে ভাবে নি। ফরহাদের খুবই লজ্জা লাগছে। ছছাট্ট এই কৌশলটা করায় সে মনে হচ্ছে নিজের কাছে ছোট হয়ে গেছে।
ফরহাদ বলল, আসমানী তোমাকে শাদা শাড়ীতে খুবই সুন্দর লাগছে। তোমাকে আজ যত সুন্দর লাগছে তত সুন্দর এর আগে কখনো লাগে নি। শাদা শাড়ি তুমি ঘন ঘন পরবে।
আসমানী বলল, তোমাকে এই ছাই রঙা শার্ট খুবই কুৎসিত লাগছে। এরকম কুৎসিত শার্ট আর কখনো পরবে না। তোমাকে কেমন লাগছে বলব?
বল।
মাছ কাটার আগে মাছের গায়ে ছাই মাখানো হয়। মনে হচ্ছে তোমার গায়ে ছাই মাখানো হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তোমাকে কাটা হবে।
