জামশেদ বলল, আমি কয়েকটি জিনিস তোমার কাছ থেকে জানতে চাই।
আমার মনে হয় না আমি তোমাকে কিছু বলব।
বলবে। আমি জানি মানুষের কাছ থেকে কী করে কথা আদায় করতে হয়।
তোমার কায়দাটা কী?
খুব সহজ কায়দা, ক্যানটারেলা। আমি চুলের কাটা দিয়ে তোমার বাঁ চোখটি উপড়ে ফেলব। আমার ধারণা তা করবার আগেই তুমি কথা বলা শুরু করবে।
তা ঠিক। সত্যি কথা বলতে কি আমি এখুনি কথা বলতে চাই। কী জানতে চাও?
মূল পরিকল্পনাটি কার?
বস ভিকামডিয়ার। তবে পরিকল্পনাটা কার্যকর করেছে ফাজিন। এরা দুজনেই ঘটনার মূল নায়ক। এতরা হচ্ছে খলনায়ক।
এখন বলো কীভাবে ভিকানডিয়াকে হত্যা করা সম্ভব, কীভাবে তার কাছে যাওয়া যায়?
বলছি। তার আগে তুমি কি দয়া করে বলবে এ-বাড়ির ঠিকানা কী করে পেলে? বস ভিকামডিয়া এবং তার লোকজন পর্যন্তু এ-বাড়ির ঠিকানা জানে না। আমি যখন পালিয়ে থাকতে চাই তখনই শুধু এ-বাড়িতে আসি।
জামশেদ ভারী গলায় বলল, আমাকে এ-শহরের অনেকেই এখন সাহায্য করতে চায়। অচেনা লোকজনের কাছ থেকেও এখন আমি খবরাখবর পাই।
তুমি খুবই ভাগ্যবান, জামশেদ। তবে আজ তোমার ভাগ্যটা খারাপ।
ক্যানটারেলার কথা শেষ হবার আগেই জামশেদ ছিটকে পড়ল মেঝেতে। কখন যে অন্ধকারে দুজন মানুষ সিঁড়ি বেয়ে উঠে এসেছে জামশেদ কিছুই বুঝতে পারেনি। ক্যানটারেলা বলল, ওকে ভালো করে বেঁধে ফ্যালো।
ঠিক আছে সার।
জ্ঞান আছে কি?
না, জ্ঞান নেই। নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে।
নিচের ঘরে নিয়ে বদ্ধ করে রাখ। আর একজন ডাক্তার ডাকো।
ডাক্তার?
হ্যাঁ, ডাক্তার। কারণ আমি একজন ভদ্রলোক। আর একটি কথা, তোমরা আসতে এত দেরি করলে কেন? আমি তো ঘরে মানুষ দেখেই বেল টিপলাম।
দেরি করিনি স্যার। আমরা সঙ্গে সঙ্গেই এসেছি, সুযোগের অপেক্ষা করছিলাম।
ভালো। খুব ভালো। তোমরা ভালো পুরস্কার পাবে। ক্যানটারেলা এগিয়ে গিয়ে খানিকটা নির্জলা হুইসকি ঢালল গলায়।
২০.
জামশেদের জ্ঞান ফিরল ঘণ্টাখানেকের মধ্যে। সে তাকাল চারদিকে। ছোট্ট একটি ঘর। সে শুয়ে আছে বিছানায়। তার গায়ে একটি পরিষ্কার চাদর। মাথার কাছে চল্লিশ পাওয়ারের একটি বাল্ব জ্বলছে। পায়ের কাছে ছোট্ট একটি টেবিলে এক জগ পানি। শক্ত লোহার দরজা। ভারী দুটো তালা ঝুলছে সেখানে। এ-ঘর থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়। জামশেদ কয়েকবার ডাকল; কেউ আছে এখানে? কোনো সাড়া পাওয়া গেল না। জামশেদ ঢকঢক করে পুরো জগ পানি খেয়ে ঘুমুতে গেল। বড় ঘুম পাচ্ছে।
ভিকনিডিয়ার সঙ্গে ক্যানটারেলার দেখা হয় পরদিন সকাল দশটার দিকে। ভিকানডিয়া গর্জে উঠল, কোথায় ছিলে কাল সারারাত সমস্ত শহর চষে ফেলা হয়েছে তোমার জন্যে।
ক্যানটারেলা চুপ করে রইল।
ভিকানডিয়া বলল, ঘটনা খুব দ্রুত ঘটছে, বুঝতে পারছ তো?
পারছি।
পুলিশ জানিয়েছে ওরা যে-লোকটাকে ধরেছে সে জামশেদ নয়।
ভোরবেলার খবরের কাগজে তা-ই পড়লাম।
এখন আমাদের কাজ কী বুঝতে পারছ? যেভাবেই হোক জামশেদকে ধরা।
ক্যানটারেলা শান্তুম্বরে বলল, সে যদি এ-শহরে থাকে তা হলে ধরা পড়বেই।
তোমার ধারণা সে এ-শহরে নেই?
এই বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই।
শহর থেকে বেরুবার সব কটা পয়েন্টে আমাদের লোক থাকবে। এবং আমাদের আরেকটি কাজ করতে হবে। জামশেদের ছবি বড় করে ছাপিয়ে সমস্ত শহরময় ছড়িয়ে দিতে হবে।
ছবি পাওয়া গেছে?
হ্যাঁ, ছবি জোগাড় হয়েছে। ছবির নিচে লেখা থাকবে, ওকে ধরিয়ে দিন।
তাতে কোনো লাভ হবে না। এ-শহরের লোকজন ওকে ধরিয়ে দেবে না।
ভিকানডিয়া সরু গলায় বলল, তোমার বুদ্ধিবৃত্তির ওপর থেকে আমার আস্থা কমে যাচ্ছে। আমরা শুধু ছবিই ছাপাব না। ছবির সঙ্গে এ-ও লিখে দেব, একে ধরিয়ে দিতে পারলে পঁচিশ হাজার ইউ এস ডলার পুরস্কার দেয়া হবে। পুরস্কারের টাকাটা আমরা একটা ব্যাংকে জমা করে দেব। তাও লেখা থাকবে।
ক্যানটারেলা চুপ করে রইল।
ভিকানডিয়া বলল, তোমার ধারণা এতে কাজ হবে?
হতে পারে।
সন্দেহ থাকলে টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে পঞ্চাশ হাজার ইউ এস ডলার করে দাও। টাকায় সবই হয়।
তা হয়।
আমি এই ঝামেলার দ্রুত নিষ্পত্তি দেখতে চাই।
আমরাও চাই, ভিকানডিয়া।
টুনটুন করে ডোরবেল বাজছে
২১.
টুনটুন করে ডোরবেল বাজছে।
এতরার ভ্রূ কুঞ্চিত হল। কে হতে পারে? রাত প্রায় নটা। রুম সার্ভিস হবে না নিশ্চয়ই। দরজার পিপ হোল দিয়ে যে-লোকটিকে দেখা যাচ্ছে, সে ব্রিটিশ। অত্যন্তু ভদ্র চেহারা। এ তার কাছে কী চায়?
এতরা দরজা খুলতেই বাইরে দাঁড়ানো লোকটি বলল, আপনাকে বিরক্ত করবার জন্যে আন্তরিক দুঃখিত।
কে আপনি?
বলছি। তার আগে ভেতরে এসে বসতে পারি কি?
আমার পক্ষে বেশি সময় দেয়া সম্ভব নয়। আমি আজ সকালেই ইংল্যান্ডে এসে পৌঁছেছি। অসম্ভব ক্লান্তু।
আজ সকালে এসেছেন কথা ঠিক নয়, মিঃ এতরা। আপনি এসেছেন পরশু। আমি ভেতরে আসতে পারি?
আসুন।
ভদ্রলোক ভেতরে এসেই বললেন, আমি হচ্ছি লয়েডস ইনস্যুরেন্সের একজন তদন্তকারী অফিসার। আমার নাম রেমন্ড কিন।
এতরা কিছু বলল না। লোকটি অত্যন্ত সহজ ভঙ্গিতে সোফায় বসে হাসিমুখে বলল, অ্যানি নামের একটি মেয়ের ইনস্যুরেন্স পলিসির ব্যাপারে আপনাকে দুএকটি কথা জিজ্ঞেস করব। অবিশ্যি আপনি যদি অনুমতি দেন।
আপনি কী করে জানলেন যে আমি এখানে আছি। আমার ঠিক এই মুহূর্তে এখানে থাকার কথা নয়।
