আবার এদিকে দু’জন নেটিভ উওম্যানকে নিজের কাছে রেখে দিয়েছে। ওয়াইফকে ভালবাসে, আবার এদেরও ছাড়তে পারে না। আজকাল ড্রিঙ্কও করে না। বিফ খাওয়াও ছেড়ে দিয়েছে।
ওয়াটসন একবার বলেছিল–তা ওদের রেখেছ কেন এখানে? ওদের ছেড়ে দাও না!
রবার্ট রেগে গিয়েছিল কথা শুনে। বলেছিল–কেন, ওরা এখানে থাকলে তোমার কী ক্ষতি হচ্ছে? আর কোম্পানিরই বা কী লোকসান হচ্ছে? ওরা তো আমার টাকায় খাচ্ছে–
তোমার টাকায় খাচ্ছে?
রবার্ট বলেছিলা, তোমরা কি মনে করেছ আমি কোম্পানির অ্যাকাউন্টে ওদের খরচ দেখাচ্ছি? আমি আমার নিজের মাইনের টাকা খরচ করে যাকে ইচ্ছে খাওয়াতে পারি, তাতে কারও কিছু বলবার নেই। আর তা ছাড়া, ওরা কতটুকু খায়? কতটুকু খেতে পারে দু’জনে।
ওয়াটসন বলেছিল-না, আমি তা বলছি না
না, ওদের মধ্যে আবার একজন তো উইডো। ইন্ডিয়ার উইডোরা কিছুই খায় না। ফিশ খায় না, বিফ খায় না, মটন খায় না, এমনকী পেঁয়াজ পর্যন্ত খায় না, তা জানো?
ওয়াটসন বলেছিল–না, আমি তার জন্য বলিনি, আমি বলছিলুম আমার রেশনের জন্যে, রেশন তো আগে প্লেন্টি পাওয়া যেত না
তা এখন তো পাওয়া যাচ্ছে। এখন তো যত চাও তত পাওয়া যাচ্ছে। এখন তো উমিচাঁদ যত কিনবে তত সাপ্লাই করবে! এখন তো আমাদের মাথায় হাত বুলিয়ে ওই বাস্টার্ড মেকিং হিউজ মানি
তারপর থেমে আবার বললে–আর তা ছাড়া, তুমি যদি চাও তো আমি নাহয় নিজে না-খেয়ে আমার রেশন থেকে ওদের খাওয়াতে পারি!
না না, আমি তা বলিনি! কিন্তু এক-একবার ভাবি ওই উওম্যানদের কেন তুমি রেখেছ এখানে? হোয়াট ফর?
কেন রেখেছি তা তুমি জানো না? তোমাকে বলিনি?
ওদের সেফ শেলটার দেবার জন্যে! ওদের নিরাপদ করার জন্যে!
ইয়েস, একজ্যাক্টলি সো! তুমি শুনলে অবাক হয়ে যাবে ওয়াটসন, ক’দিন আগে আমার কাছে হাতিয়াগড়ের রাজা এসেছিল–
কেন? কী বলতে?
মহারাজ কিষণচন্দর তাকে পাঠিয়েছিল আমার কাছে, টু হেলপ হিম!
হাউ? কী ভাবে?
তার ওয়াইফকে বেঙ্গলের নবাব কিডন্যান করে নিজের হারেমে রেখে দিয়েছে।
সে তো তারা এমন করেই! দ্যাট ইজ এ কাস্টম হিয়ার!
কিন্তু তার ওয়াইফকে নবাব কনভার্ট করেছে, হিন্দুকে মহমেডান করেছে, নাম চেঞ্জ করে মরিয়াম বেগম নাম দিয়েছে।
তারপর?
তারপর তার হাজব্যান্ড এখন তার ওয়াইফকে কী করে ফিরিয়ে নেওয়া যায়, সেই পরামর্শ করতে এসেছিল আমার কাছে। বলছিল, নবাবকে ওভার-থ্রো করতে চেষ্টা করলে তারা সবাই আমাদের সঙ্গে কো-অপারেট করবে। আমাদের টাকা দিয়ে, মানুষ দিয়ে সব রকমে হেলপ করবে। অল দি জমিন্দারস আমাদের সাইডে আসবে!
সে তো আমরা জানি!
না, শুধু জগৎশেঠ নয়, মিরজাফর আলি নয়, এমনকী পেটি জমিনদারসরাও উইল হেলপ আস।
দ্যাটস গুড! কিন্তু নবাবকে ওভার-থ্রো করলে কে নিউ নবাব হবে? হু?
রবার্ট বলেছিল–সে পরের কথা। নবাব হবার জন্যে লোকে ইগার হয়ে বসে আছে। সবাই নবাব হতে চায়! সেসব কথা এখন ভাবব না। আগে ফ্রেঞ্চদের এই এরিয়া থেকে তাড়াতে হবে। তা না হলে দে মে জয়েন দি নবাব!
তুমি কী বললে–হাতিয়াগড়ের রাজাকে?
আমি কিছু কমিট করিনি। পুরো কথা হয়নি আমার সঙ্গে। তার আগেই নবাবের আর্মি আমাদের ক্যাম্পে কামান ছুঁড়তে লাগল আর সঙ্গে সঙ্গে এখান থেকে চলে গেল। আই থিঙ্ক, আবার একবার আসবে আমার কাছে। আর সেই জন্যেই আমি এই লেডিদের ছাড়ছি না। লেট দেম রিমেন হিয়ার! নইলে রাস্তায় নবাবের নিজামতের লোক কেউ দেখে ফেললেই, ওদের কিডন্যাপ করে নবাবের হারেমে পুরে দেবে! তুমি নিজে দেখেছ তো, কী রকম বিউটিফুল লেডি? বিউটিফুল নয়?
আমি তো কোনও বিউটি দেখতে পাইনা! যাক গে, আমার বিউটি দেখবার অত সময় নেই তোমার মতো!
আমার সময় কোথায় বিউটি দেখবার?
দেখতে তো পাচ্ছি তোমার সময় রয়েছে। তুমি ওদের সঙ্গে গল্প করো, ওদের সঙ্গে তুমি জোক্ করো!
নো!
ক্লাইভের নীল চোখ দুটো হঠাৎ কথাটা শুনে লাল হয়ে উঠতে যাচ্ছিল, কিন্তু আবার সামলে নিলে। রবার্ট। এদের ওপর রাগ করে কোনও লাভ নেই। ওরা তো ইন্ডিয়াকে আমার চোখ দিয়ে দেখছে না। ওরা তো ইন্ডিয়ানদের মানুষ বলে মনে করে না। এরা এসেছে এ কান্ট্রি কার করতে। আমিও। এসেছি, কিন্তু কান্ট্রি কঙ্কার করতে হলে আগে যে কান্ট্রির লোকেদের হার্ট কস্কার করতে হয় তা এরা। জানে না।
রবার্ট বললেও নিয়ে আমি তোমার সঙ্গে ডিসকাস করতে চাই না। তারপর আমি ভেবেছিলুম হাতিয়াগড়ের রাজাকে ডাকিয়ে আনব আমার কাছে। তার ওয়াইফকে নবাবের হারেম থেকে উদ্ধার করবার চেষ্টা করব। যাতে নবাবকে বলে তাকে রাজার কাছে ফেরত দেয় সেই চেষ্টা করব! কিন্তু না, এখন আর চেষ্টা করব না ঠিক করলাম
না না, তুমি ওর মধ্যে যেয়ো না রবার্ট! নবাবের ফ্যামিলি-অ্যাফেয়ার্স নিয়ে মাথা ঘামাবার দরকার নেই আমাদের। আমরা এখানে এসেছি বিজনেস করতে, টাকা কামাতে। নবাবের মর্যালিটি নিয়ে আমাদের কারবার নয়। লেট হিম ডু হোয়াট এভার হি লাইকস! কোন রাজার বউকে নিয়ে নবাব কী অ্যাডালট্রি করছে, দ্যাটস নট আওয়ার লুক-আউট!
রবার্ট বলেছিল কিন্তু আমিও তো ম্যান! ম্যান হিসেবে আমারও তো একটা মর্যাল ডিউটি আছে!
তা হলে তুমি প্রিচার হলেই পারতে! মিশনারি ফাদার হলেই পারতে!
