রাজি মানে? এগ্রিড?
হ্যাঁ, বারো হাজার টাকা তাকে ব্রাইব দিতে হবে। তা হলে সে আর আমাদের এগেনস্টে আর্মি পাঠাবে না। আজকেই আমরা চন্দননগর অ্যাটাক করব! বি রেডি। নাউ অর নেভার।
কই, চিঠি দেখি!
ক্লাইভ সাহেব টেবিলের ওপর থেকে উমিচাঁদের চিঠিখানা নিয়ে দেখাতে গেল। অনেক কাগজপত্রের ভিড় তার ওপর। ইংলভের সিলেক্ট কমিটিকে যে-চিঠি লিখেছে, বাবাকে যে চিঠি লিখেছে, বাবার কাছ থেকে যে-চিঠি এসেছে তাও রয়েছে।
এই যে, এই নাও!
গুলাব-কে ফুলের কথা লেখা যে-চিঠিটা উমিচাঁদ লিখেছিল সেটা নিয়ে ক্লাইভ ওয়াটসনকে দেখালে।
ওয়াটসন চিঠিটা পড়ে বললে–আমাকে তো তোমার এ-প্ল্যান আগে বলেনি।
না, আগে বলিনি, এখন সাকসেসফুল হয়েছি বলে বলছি।
তুমি কী লিখেছিলে?
আমার এই হল ফার্স্ট লেটার, এই লেটার পেয়ে উমিচাঁদ আমাকে সব লিখলে—
উমিচাঁদের চিঠিটা কোথায়? দেখি
ক্লাইভ উমিচাঁদের চিঠিটা খুঁজতে লাগল। কোথায় গেল সে চিঠিটা। হোয়ার ইজ দ্যাট লেটার? ক্লাইভের মুখটা শুকিয়ে গেল! সে-চিঠিটা কোথায়?
কেউ চুরি করেনি তো?
কে আবার চুরি করবে? আমার ঘরে তো কেউ আসেনি!
কেন, সেই যে নবাবের বেগম এসে বসেছিল তোমার ঘরে, সে নিয়ে যায়নি তো?
কিন্তু..
কিন্তু হঠাৎ ক্লাইভের মনে পড়ল। বেগমসাহেবাকে একলা ঘরে বসিয়ে ক্লাইভ বাইরে ওয়াটসনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিল, সেই সময়ে বেগমসাহেবা চিঠিটা নিয়ে যায়নি তো! সর্বনাশ! গড সেভ মাই সোল! সত্যিই কি চিঠিটা নিয়ে ব্ল্যাকমেল করবে নাকি! কথাটা ভাবতেই রবার্ট ক্লাইভের বুকটা ধড়াস করে উঠল। তা হলে কী হবে!
*
অ্যাডমিরাল ওয়াটসন দেখছিল এতক্ষণ। রবার্টকে যতদিন ধরে দেখছে ততদিনই কেমন অবাক লাগছে। রবার্ট শুধু এখানে যেন যুদ্ধ করতে আসেনি, একান্ট্রিটাকে জানতেও এসেছে। সেই ম্যাড্রাস থেকেই দেখেছে ওয়াটসন। ছেলেটা কখন কী করে, কখন কী মতলব আঁটে, তা কারও জানবার উপায় নেই। হয়তো নিজেই জানে না। কিন্তু যার হাতে এতগুলো লোকের জীবন নির্ভর করছে, যার ওপর কোম্পানির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে, তার পক্ষে কি এত খেয়ালি হলে চলে!হঠাৎ বলা নেই কওয়া নেই, এখানকার ইন্ডিয়ানদের সঙ্গে গল্প করতে বসে যায়। ভিলেজের লোকরা রাস্তায় হুঁকো নিয়ে তামাক খেতে খেতে চলেছে, রবার্ট দেখতে পেয়েই দাঁড়িয়ে যায়। বলে হোয়াট ইজ দিস? এটা কী?
নেটিভরাও ভয় পেয়ে যায় প্রথমে। তারপর বলে–এ হুঁকো
হুঁকো?
বলে নিজেই সেটা নিয়ে তামাক খেতে যায়।
নেটিভরা আপত্তি করে। বলে-না হুজুর, নিয়ো না
রবার্ট বলে–দেখি না, আমি স্মোক করতে পারি কিনা–
একটা হুঁকোয় অন্য জাতের লোক মুখ দিলে তাতে যে জাত চলে যায় তা রবার্ট বোঝে না। হুঁকোয়। মুখ দিলে জাত চলে যাবে কেন তা তার কাছে দুর্বোধ্য। শেষকালে আবার হরিচরণকে দিয়ে একটা হুঁকো কিনিয়ে আনে। হরিচরণকে দিয়ে তামাক সাজায়, টিকে ধরায়, ধোঁয়া টানে। তারপর মুখ দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে মহা খুশি। হো হো করে হাসে।
ওদিকে আবার মেয়েদের দেখলে তাদের সঙ্গে কথা বলতে যায়। নেটিভ মেয়েরা গঙ্গায় স্নান করতে আসে, মাটির কলসিতে জল নিয়ে বাড়ি যায়, পুকুরে কাপড় কাঁচতে আসে, রবার্ট সেই দিকে হাঁ করে চেয়ে দেখে।
ওয়াটসন বলত ওদের দিকে চেয়ো না অমন করে, ওরা আমাদের ভয় পাবে।
কেন, ভয় পাবে কেন, আমি কি ওদের খেয়ে ফেলব?
না, ওরা ভাববে তুমি ওদের রেপ করবে!
রবার্ট বলত–হোয়াই? ওরা বিউটিফুল, তাই ওদের দিকে চেয়ে দেখছি–ইংলিশ লেডিদের মতন নয়, ওরা পুরুষদের স্লেভ
ইজ ইট?
হ্যাঁ, দেখোনা, নেটিভরা ওদের মেয়েদের বাইরে বেরোতে দেয় না, নেটিভরা কতগুলো বিয়ে করে, ওরা স্লেভস
রবার্ট বলত–কিন্তু ওরা কত বিউটিফুল তা জানে না ওরা?
পরে বুঝেছিল রবার্ট–নেটিভ মেয়েরা অত বিউটিফুল বলেই নেটিভরা অমন করে তাদের ঘরের মধ্যে লুকিয়ে রাখে। পাছে তাদের বিউটিফুল চেহারা দেখে কেউ রেপ করে, কেউ তাদের কিডন্যাপ করে, তাই তারা মাথায় ঘোমটা দিয়ে মুখ ঢেকে রাখতে বলে। হোয়াট এ স্ট্রেঞ্জ পিপল, হোয়াট এ স্ট্রেঞ্জ ল্যান্ড!
অথচ রবার্ট বিয়ে করেছে, ছেলে-মেয়ে হয়েছে তার। বউকে চিঠি লেখে, বাবাকে চিঠি লেখে। তাদের চিঠি না পেলে রবার্টের মন খুব খারাপ হয় আবার।
বলে–এখনও মেল এল না কেন ওয়াটসন–সাত মাস হয়ে গেল, নো লেটার ফ্রম পেগি!
পেগির কাছ থেকে কোনও চিঠি না-এলেই রবার্ট ভাবতে বসে। এক মেলেই দু’খানা তিনখানা চিঠি লিখে দেয়। সব কথা লিখতে মনে থাকে না। বাকি কথাগুলো মনে পড়ে গেলেই আবার আর একখানা চিঠি লিখতে বসে। তোমরা কেমন আছ? এখানে মেয়েরা মাথায় ঘোমটা দেয়। তাদের বিউটিফুল মুখ দেখে পাছে কেউ তাদের কিন্ন্যাপ করে নিয়ে যায় তাই তারা বাড়ির মধ্যে দিনরাত থাকে, রাস্তায় বেরোয় না। শুধু গঙ্গায় স্নান করবার সময় তাদের দেখতে পাই। দে আর ভেরি বিউটিফুল। আর একটা ভারী মজার ব্যাপার করেছি আজ পেগি। আজ আমি হুঁকো খেয়েছি। একটা কোকোনাটের খোলের ওপর নল লাগিয়ে তার ওপর একটা মাটির পটে আগুন দেয়, তারপর কোকোনাটের মুখের গর্ততে দুটো ঠোঁট দিয়ে হাওয়া টানে। তখন মুখ দিয়ে ধোঁয়া বেরোয়। ভেরি প্লেজান্ট। আমাদের সিগারের চেয়ে তা মিষ্টি, ভেরি সুইট। মাই ডারলিং, যখন দেশে ফিরে যাব তখন এখানকার আরও কুইয়ার স্টোরি বলব তোমাকে। এখানে গ্রীষ্মকালের গরমে আমি গায়ে জামা রাখতে পারি না। কিন্তু এখন খুব ঠান্ডা। খুব শীত। আমরা এবার চন্দননগর অ্যাটাক করতে যাচ্ছি। একদিন ফ্রেঞ্চদের সঙ্গে আমি ফাইট করেছি, আবার শুরু হবে ফাইট। ডুপ্লের কথা তো তুমি জানো। ভেরি শ্রুড ম্যান। এবারে হয়তো খবর পেয়ে আবার এই বেঙ্গলে আসবে। আবার মুখোমুখি ফাইট দিতে হবে। লাভ টু চিলড্রেন। থাউজ্যান্ড কিসেস টু ইউ, মাই ডারলিং!
