বললে–তোমরা সবাই লেডিদের যে-চোখে দেখো আমি সে-চোখে দেখি না। উমিচাঁদ বললে–আমরা কী চোখে দেখি?
ক্লাইভ বললে–শুধু তুমি কেন? এই ওয়াটসন, এও একজন ক্রিশ্চান, জেসাস ক্রাইটের ফলোয়ার, সানডেতে চার্চে যায়, এও লেডিদের অনার করে কথা বলতে জানে না। আমার ক্যাম্পের পাশে দু’জন লেডিকে আমি শেলটার দিয়েছি, দে আর হেলপলেস, তাদের রিলেটিভদের কাছে তারা যেতে পারছে না। দে আর ইন্ডিয়ান, কিন্তু ইন্ডিয়ান তো তাদের আশ্রয় দেয়নি। আমি কি তাদের আটকে রেখেছি বলতে চাও? অ্যাম আই সো মিন? যেদিন তারা নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় পাবে, সেইদিনই আমি তাদের সেখানে পাঠিয়ে দেব
উমিচাঁদ এবার কৌতূহলী হয়ে উঠল।
কে তারা?
ক্লাইভ বললে–আই ডোন্ট নো৷ আমি জানি না। আমি তাদের জিজ্ঞেসও করিনি—
তোমার কাছে তারা এল কী করে?
দে ওয়্যার স্ট্র্যান্ডেড। আমি আমার সেপাই হরিচরণকে তাদের দেখাশোনা করবার জন্যে রেখে দিয়েছি। ওরা কেষ্টনগরে যেতে চেয়েছিল, সেখানেও যেতে পারেনি ফ্রেঞ্চদের ভয়ে, তারা হাতিয়াগড় যেতে চেয়েছিল, সেখানেও
হাতিয়াগড়?
উমিচাঁদ যেন হঠাৎ কৌতূহলী হয়ে উঠল।
ক্লাইভ বললে–হ্যাঁ, হাতিয়াগড়।
হাতিয়াগড়ে যেতে চেয়েছিল কেন?
আই ডোন্ট নো। শুনেছি সেখানে তাদের রিলেটিভস আছে। কিন্তু আই ডোন্ট বদার আইদার। আমি শুধু ওদের সেফটির জন্যে আমার কাছে রেখে দিয়েছি। আমি জানি তোমাদের নবাব একজন লেডিকিলার, যদি একবার কোনওরকমে তোমাদের বিস্টলি নবাবের হাতে এরা পড়ে তো–দি ইয়ং লেডি উইল বি রেপড হি উইল মেক এ বেগম অব হার–ওকে বেগম বানিয়ে ছাড়বে।
তারপর একটু থেমে বললে–তুমি কি মনে করো ওদের আমি মিছিমিছি আমার কাছে রেখেছি?
এতক্ষণ অ্যাডমিরাল ওয়াটসন চুপ করে বসে ছিল। বললে–রবার্ট, ওসব কথা থাক, লেট আস কাম টু আওয়ার ওয়র্ক। উমিচাঁদসাহেব বলছে নবাবের সঙ্গে আমাদের মিটমাট করিয়ে দেবে।
মিটমাট করে কী হবে?
অ্যাডমিরাল ওয়াটসন বললে–কিন্তু কতদিন এভাবে আমরা থাকতে পারব এখানে? কেউ আমাদের সঙ্গে কারবার করছে না। আমাদের মার্কেট কোথায়? শুধু ফোর্ট দখল করলেই চলবে? আমাদের এখানে থাকা-খাওয়া আমি মেনটেন করার খরচ নেই? আমাদের কোম্পানির হেড অফিস। থেকে চিঠি লিখছে বেঙ্গল ছেড়ে চলে আসবার জন্যে। শেষকালে কোথায় টাকা পাব?শ্যাল উই স্টার্ভ?
ক্লাইভ বললে–কিন্তু আমি তো এখানে হারবার জন্যে আসিনি—
কে বলছে আমরা হেরেছি? আমরা তো জিতেছি।
ক্লাইভ বললে–একে জেতা বলে না। আমি একেই বলি হার। ওরা আমাদের বিজনেস বয়কট করলে আমাদের হারই হল–
কিন্তু মিটমাট করতে তোমার আপত্তিটা কী?
ক্লাইভ বললে–এখন মিটমাট করতে গেলে নবাব আমাদের টার্মস ডিক্টেট করবে। যেসব শর্ত দেবে তাতে সই করা আর লড়াইতে হেরে যাওয়া একই কথা।
অ্যাডমিরাল ওয়াটসন মিস্টার উমিচাঁদের দিকে চাইলে।
বললে–আপনার কী মত মিস্টার উমিচাঁদ?
উমিচাঁদ বললে–নবাব আমাকে বিশ্বাস করে। আপনারা যদি চান মিটমাট হোক, তাও করিয়ে দিতে পারি, আবার আপনারা যদি চান নবাবকে লড়াইতে নামিয়ে দিতে, তাও করিয়ে দিতে পারি। আমি সব করিয়ে দিতে পারি–কোনটা চান আপনারা বলুন।
ওয়াটসন বললে–আমি মিটমাট চাই–
উমিচাঁদ বললে–মিটমাট করে আপনাদের আগেকার কারবার চালাতে চান?
হ্যাঁ! নইলে আমাদের অনেক লস হচ্ছে!
উমিচাঁদ বললেও মিটমাট করিয়ে দিতে পারলে আমি কী পাব? আমায় কত টাকা দেবেন বলুন?
ওয়াটসন রবার্টের মুখের দিকে চাইলে।
ক্লাইভ বললে–আমি চাই ওয়ার, আমি নবাবের সঙ্গে ফাইট করতে চাই
উমিচাঁদ বললে–আমি তাও করিয়ে দিতে পারি। করালে আমায় কত টাকা দেবেন বলুন? আমি কারবারি লোক, কারবার করে খাই, নাফা ছাড়া আমি কিছু বুঝি না
ক্লাইভ চুপ করে শুধু কথাটা শুনল। কিছু কথা বললে–না।
ওয়াটসন উমিচাঁদকে জিজ্ঞেস করলে টেল মি হোয়াট ইজ ইয়োর ডিম্যান্ড–আপনার কত দাবি সেটা বলুন আগে
উমিচাঁদ হঠাৎ উঠল। বললে–বলছি, তার আগে আমি একটু পাশের ঘর থেকে আসছি বলে পাশের ঘরে উঠে গেল উমিচাঁদ সাহেব।
ক্লাইভ দাতে দাঁত চেপে বললে–নাম্বার ওয়ান স্কাউলে–
অত চেঁচিয়ে বোলো না রবার্ট! লোকটাকে এখন আমাদের কাজে লাগাতে হবে! একবার ওকে আমরা প্রিজনার করেছিলাম, দরকার হলে না-হয় আবার ওকে জেলে পুরব। কিন্তু ওকে চটিয়ে লাভ কী। এখন ওকে আমরা হাতের মুঠোয় রাখতে চাই। হি ইজ এ মালটিমিলিওনেয়ার
পাশের ঘরে ফকিরটা তখনও লুকিয়ে ছিল। উমিচাঁদ সাহেব কাছে যেতেই বললে–ওরা ভেগে গেছে নাকি সাহেব?
না, ওদের বসিয়ে রেখে দিয়ে এসেছি। তোকে একটা কাজ করতে হবে।
কী কাজ?
ওরা এখানে থাকতে থাকতে তোকে দেখে আসতে হবে বরানগরে গিয়ে যে, ক্লাইভ সাহেবের ছাউনিতে আওরাত দু’জন কে?
আওরাত?
হ্যাঁ রে, হ্যাঁ, জেনানা! কাদের লুকিয়ে রেখেছে ফিরিঙ্গিটা, সেটা খোঁজ নিয়ে এসে আমাকে বলবি। তারপরে মেহেদি নেসার সাহেবের কাছে যাস!
কিন্তু তা হলে যে আমার দেরি হয়ে যাবে!
দেরি হলে মেহেদি নেসার সাহেবের কাছে আমার নাম করিস। তুই ওই দিকের দরজাটা দিয়ে সোজা বরানগরে চলে যা!
ফকিরটা সত্যি সত্যিই চলে যাচ্ছিল। উমিচাঁদ সাহেব থামিয়ে দিলে। বললেদূর বেত্তমিজ, ফকির সেজে যাসনি। হিন্দুদের মতো সাধুসগ্নেসি সেজে যা!
