কোল্ডওয়ে বললে–No sherry for me. I will have a peg of meat brandy. Now, Shipton, old boy, let us see how you keep your Impression Registers. This man of your is reliable? Now-a-days, walls have ears, you see!
শিপটন শ্রীরামের দিকে চেয়ে বললে-Oh, he is all right.।
দাদনখাতা নীলকুঠির অতি দরকারি দলিল। সমস্ত প্রজার টিপসই নিয়ে অনেক যত্নে এই খাতা তৈরি করা হয়। স্বয়ং ম্যাজিস্ট্রেট এসে এই দাদনখাতা পরীক্ষা করে থাকেন। অধিকাংশ কুঠিতে দাদনখাতা দুখানা করে রাখা থাকে, ম্যাজিস্ট্রেটকে আসল খাতাখানা দেখানো। হয় না।
শিপটন দাদনখাতা পূর্বেই আনিয়ে রেখেছিল টেবিলে, খুলে সবাইকে দেখালে।
ম্যালিসন বললে–This is your original Register?
-Yes. The other one is in the office. This I keep al ways under lock and key.
-Sure. You have got this weeks Englishman?
-Sure I have.
কোল্ড ওয়েল বললে–It is funny, a deputation waited on the Lieutenant Governor the other day. The blooming old fellow has given them a benediction.
শিপটন্ বললে –As he always does, thc old padre!
তারপর খুব জোর পরামর্শ হল সাহেবদের। পরামর্শের প্রধান ব্যাপার হল প্রজাবিদ্রোহ শুরু হয়ে গিয়েচে-সাহেবদের আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা কতটা। হলে স্ত্রীলোক ও শিশুদের চুয়াডাঙ্গার বড়কুঠিতে রাখা হবে, না কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হবে।
শিপটন্ বললে–I dont think the beggars would dare as much, I will keep them here all right.
কোল্ডওয়েল বললে–Please yourself, old boy. You are the same bullheaded Johnny Shipton as ever. Pass me a glass of sherry Mallison, will you?
ম্যালিসন ভুরু কুঁচকে হেসে বলে–Funny, is it not? You said you would have to do nothing with sherry, did you not?
-Sure I did. I was feeling out of sorts with the wor ries and troubles and also with the long ride through drenching rain. বেয়ারা, ইধারে আইসো। লেবো আনিটে পারিবে?
শিপটন শ্রীরাম মুচির দিকে চেয়ে বললে–বাগান হইটে লেবো লইয়া আসিবে সায়েবের জন্য। এক ডজন, দশটা আর দুইটা, লেবো লইয়া আসিবে, বুঝিলে?
–হ্যাঁ, সায়েব।
শ্রীরাম মুচি চলে গেলে সাহেবদের আরো কিছুক্ষণ পরামর্শ চললো। ঠিক হল চুয়াডাঙ্গার বড়কুঠির ম্যানেজারের কাছে লোক পাঠানো হবে কাল সকালেই। আগ্নেয়াস্ত্র সেখানে কি পরিমাণে আছে। সকল কুঠির মেম ও শিশুদের সেখানে পাঠানো ঠিক হয়েচে, সে কথা জানিয়ে। দিতে হবে–সেজন্যে যেন বড়কুঠির ম্যানেজার তৈরি থাকে।
ম্যালিসন শিপটনকে বললে–You oughtnt to be alone at present.
শিপটন মদের গ্লাসে চুমুক দিয়ে বললে–what do you mean? Alone? Why, havent I my own men? I must fight this out by myself. Leave everything to me.
-Well all right then.
সেদিন রাত্রে সায়েবেরা সকলেই কুঠিতে থাকলো। অন্য সময় হলে চলে যেতো যে যার ঘোড়ায় চড়ে কিন্তু এসময় ওরা সাহস করলে না একা একা যেতে।
শেষরাত্রে খবর এল রামনগরের কুঠি লুঠ করতে এসেছিল বিদ্রোহী প্রজার দল। বন্দুকের গুলির সামনে দাঁড়াতে না পেরে হটে গিয়েচে। রামনগরের কুঠি এখান থেকে ত্রিশ মাইল দূরে, তার ম্যানেজার অ্যানড্র সায়েব কত মেয়ের যে সতীত্ব নষ্ট করেছে তার ঠিক নেই। স্বজাতি মহলেও সেজন্যে তাকে অনেকে সুনজরে দেখে না। ম্যালিস শুনে মুখ বিকৃত করে ভুরু কুঁচকে বললে–oh the old beggar?
শিপটনের দিকে তাকিয়ে বললে–You dont see anything significant in that?
শিপটন বললে –I dont see what you mean, I cannot carry on this indigo business here without my men, without that wily old dewan to help us, you see? They will not fail me at least, I know.
-Very kind of them, if they dont.
সাহেবরা ছোট-হাজারি খেলে বড় অদ্ভুত ধরনের। এক এক কাঁসি পান্তাভাত এক ডজন লেবুর রস মেখে। রাত্রের টেবিলের ঠাণ্ডা হ্যাম। একটা করে আস্ত শশা জনপিছু। চার-পাঁচটা করে খয়রা মাছ সর্ষের তেলে ভাজা। বহুদিন বাংলা দেশের গ্রামে থাকবার ফলে ওদের সকলেরই আহারবিহার এদেশের গ্রাম্য লোকের মতো হয়ে গিয়েচে। ওরা আম-কাঁঠালের রস দিয়ে ভাত খায়। অনেকে হুঁকোয় তামাক খায়। নিম্নশ্রেণীর মেয়েদের সঙ্গে মেশে, অনেককে ঘরেও রাখে। ওদের দেখে বিলেত থেকে নবাগত বন্ধুবান্ধবেরা মুখ বেঁকিয়ে নিজেদের মধ্যে বলাবলি করে–Gone native! ওরা গ্রাহ্য করে না।
বেলা বাড়লে সাহেবেরা বিদায় নিয়ে চলে গেল। দিনচারেকের মধ্যে সংবাদ এল, আশপাশের কুঠির সব সাহেব স্ত্রীপুত্রদের সরিয়ে দিয়েচে চুয়াডাঙ্গার কুঠিতে অথবা কলকাতায়। দেওয়ান রাজারাম সর্বদা ঘোড়ায় করে কুঠির চারিদিকের গ্রামে বেড়িয়ে সংবাদ সংগ্রহ করেন। তিনিই একদিন সন্ধান পেলেন আজ সাতখানা গ্রামের লোক একত্র হয়ে নীলকুঠি লুঠ করতে আসবে গভীর রাত্রে। খবরটা তাঁকে দিলে নবু গাজি। একসময়ে সে বড়সাহেবের কাছ থেকে সুবিচার পেয়েছিল, সেটা সে বড় মনে রেখেছিল। বললে–দেওয়ানবাবু, আর যে সায়েবের যা খুশি তোক গে, এ সায়েব লোকটা মন্দ নয়। এর কিছু না হয়–
