রিয়ালি?
সুয়্যার
ঠিক আছে, বিশ্বাস করলাম। শমিতা হাসল, নিশ্চয়ই ভেবেছিলাম এ রকম থার্ড ক্লাস মেয়ে আগে আর কখনও দ্যাখেননি।
নো–আমি মাথা নাড়লাম, ভেবেছি আপনার সঙ্গে আবার কখন দেখা হবে, দেখা হলে চিনতে পারবেন কিনা–
কাল বারো পেগ খাবার আগেই আপনার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। বারো পেগের পর দেখা হলে ডেফিনিটলি চিনতে পারতাম না। এখন বলুন কী খাবেন? হুইস্কি, রাম, জিন-এনিথিং ইজ অ্যাভেলেল হিয়ার। বলতে বলতে আচমকা উঠে পড়ল, না, এখানে নয়।
আমি একটু অবাকই হয়ে গিয়েছিলাম। কিছু না বলে তাকিয়ে রইলাম। শমিতা আবার বলল, অ্যাবাউট থ্রি আওয়ার্স আমি এখানে আছি। বোরিং লাগছে। চলুন, অন্য কোথাও গিয়ে ড্রিংক করব।
আমাকে সঙ্গে করে ক্লাব বিল্ডিং-এর বাইরে লনের পাশের পার্কিং জোনে চলে এল শমিতা। এখানে তার ফিয়েট গাড়িটা দাঁড়িয়ে ছিল। চাবি ঘুরিয়ে ডানদিকের দরজাটা খুলে ড্রাইভারের সিটে বসতে বসতে বাঁদিকের দরজা খুলে দিল সে। বলল, উঠে পড়ুন
আমি উঠতেই শমিতা স্টার্ট দিল। একটু পর আমরা সাদার্ন অ্যাভেনিউতে চলে এলাম। উইন্ডস্ক্রিনের বাইরে চোখ রেখে শমিতা বলল, আপনার সঙ্গে কাল আলাপ হয়েছে, রাত্রে আমাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন–অথচ আপনার নামটাই জানি না।
আমার যা প্রফেসান তাতে নিজের নাম বলার অসুবিধা আছে। কেউ জিগ্যেস করলে যা হোক একটা কিছু বলে দিই। কিন্তু এই মুহূর্তে নিজের অজান্তে দুম করে আমার আসল নামটাই বলে ফেললাম।
শমিতা বলল, আমার নাম শমিতা বসু।
ওর নাম বলার দরকার ছিল না। কিন্তু শমিতা কী করে জানবে তার নামটা আমি আগেই জেনে গেছি।
এবার বলল, আপনার এখন কোনও জরুরি কাজ-টাজ নেই তো?
মনে মনে বললাম, তোমার পিছনে লেগে থাকাটাই আমার একমাত্র জরুরি কাজ। মুখে অবশ্য বললাম, না। আই অ্যাম টোটালি ফ্রি।
শমিতার মুখ দেখে মনে হল সে খুশি হয়েছে। বলল, ফাইন! তাহলে অনেকক্ষণ আপনার সঙ্গ পাওয়া যাবে।
উইথ প্লেজার।
নানা রাস্তা ঘুরে ঘুরে কখন যে আমরা পার্ক সার্কাসে চলে এসেছিলাম, খেয়াল নেই। আচমকা একটা বিরাট অ্যাপার্টমেন্ট হাউসের সামনে গাড়িটা দাঁড় করিয়ে দিল শমিতা। বলল, ড্রিংকের আগে চলুন একটু আড্ডা দিয়ে যাই। সুতরাং, হে মহান জনগণ, আমাকে নামতেই হল। শমিতাও নেমে পড়েছিল। গাড়িটা লক করে আমাকে নিয়ে সে লিফট বক্সে পুরে ফেলল। দুমিনিটের মধ্যে হাউইয়ের মতো ফিফটিন্থ ফ্লোরে উঠে এসে একটা সুইটের সামনে আমরা দাঁড়ালাম। শমিতা কলিংবেল টিপতেই দরজা খুলে দিল একটা নন বেঙ্গলি যুবক। চেহারা দেখে গুজরাটিই মনে হয়-উচ্ছ্বাসের গলায় চেঁচিয়ে উঠল, হ্যাল্লো
শমিতাও বলল, হ্যাল্লো
এবার ছোকরা এক কাণ্ডই করে বসল। এক হাতে শমিতার মসৃণ সুগোল গ্রীবা বেষ্টন করে হে মহান জনগণ, এই প্রকাশ্য দিবালোকে এবং আমারই চোখের সামনে চকাত করে তার কাঁধে একটা চুমু খেয়ে বলল, আফটার এ লং টাইম ডার্লিং
চোকরার আদরে বিন্দুমাত্র অস্বস্তি বোধ করল না শমিতা। এটা যেন খুবই একটা নর্মাল ব্যাপার। আস্তে আস্তে গলার থেকে ছোকরার হাতটা নামিয়ে দিয়ে সে বলল, অনেকদিন কোথায়? লাস্ট উইকেও তো এসেছিলাম।
তোমাকে এক দিন না দেখলে মনে হয় এক বছর দেখিনি।
ইউ সোয়াইন, প্লিজ স্টপ ইওর ফ্ল্যাটারি।
এবার আমার দিকে চোখ পড়ল ছোকরার। জিগ্যেস করল, ইনি?
শমিতা বলল, রাজীব সরকার-আমার নতুন বন্ধু। ছোকরাকে দেখিয়ে আমাকে বলল, আর এ হল হরিশ দেশাই-ওল্ড ফ্রেন্ড।
হরিশ আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিল; কাজেই আমাকেও বাড়াতে হল।
তারপর একই সঙ্গে দুজনে বলে উঠলাম, গ্ল্যাড টু মিট ইউ।
শমিতা এবার হরিশকে বলল, বাইরেই দাঁড় করিয়ে রাখবে নাকি?
হরিশ ব্যস্তভাবে বলল, সরি! এসো
ভেতরে যেতে যেতে শমিতা জিগ্যেস করল, তুমি ছাড়া আর কে কে আছে?
সুধাময়, অমিত আর রবিন্দর সিং
ওনলি?
এই বিকেলে এর বেশি লোক হয় নাকি। ভিড় বাড়বে সন্ধের পর।
ওদের সঙ্গে ভেতরের একটা ঘরে এসে দেখলাম গোল টেবল ঘিরে তিনটে যুবক রানিং ফ্ল্যান্স খেলছে। চারপাশে এই রকম আরো কটা টেবল সাজানো হয়েছে। তবে সেখানে কেউ নেই। দেখেশুনে মনে হল এটা একটা পার্মানেন্ট জুয়ার আড্ডা। শমিতা কি জুয়াড়িদের সঙ্গে ভিড়ল, ভাবতে পারছিলাম না।
যাই হোক, ওই যুবক তিনটি শমিতাকে দেখে তাস-ফাস ফেলে হরিশের মতোই চেঁচিয়ে উঠল। এবং শমিতা কেন বোজ আসে না, এই নিয়ে খানিকক্ষণ হইচই করল। পরে তাদের উচ্ছ্বাস কমলে যথারীতি আমার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেওয়া হল। আলাপের হর হরিশ শমিতাকে বলল, কী, খেলবে নাকি?
শমিতা বল, সিওর—
হরিশ এবার আমার দিকে ফিরল, আপনি?
হে মহান জনগণ, আমি মানুষের উইকনেসের যাবতীয় সুযোগ নিয়ে থাকি।
সেটাই আমার প্রফেসান কিন্তু জুয়া-ফুয়ার ব্যাপারে আমার মাথায় ঢোকে না। বললাম, আজ আমি দেখব।
ও-কে। ওরা খেলতে শুরু করল। আর আমি, মানে আপনাদের এই রাজীব সরকার সাক্ষীগোপাল হয়ে দেখতে লাগলাম।
খেলার মধ্যে একসময় হরিশ বলল, ড্রিংক দিতে বলব?
শমিতা ঘাড় কাত করল, নো। গ্যাম্বলিং-এর সময় গ্যাম্বলিং, ড্রিংকের সময় ড্রিংক। দুটোকে একসঙ্গে আমি ব্লেন্ড করি না।
ভেরি নাইস ফিলজফি।
ঘণ্টা দেড়েক খেলার পর শখানেক টাকা হেরে দুম করে উঠে দাঁড়াল শমিতা!
