ঠিক আছে, তুমি আর দেরি কোরো না; বেরিয়ে পড়ো।
৪. প্রাইভেট ক্লাব
১০.
সাদার্ন অ্যাভেনিউর সেই প্রাইভেট ক্লাবটা খুঁজে বার করতে অসুবিধা হল না। চার্লি রাস্তার উল্টোদিকের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ছিল। আমি ট্যাক্সি থেকে নামতেই দৌড়ে এল। ভাড়া-টাড়া মিটিয়ে তাকে জিগ্যেস করলাম, আজকের এক্সপিরিয়েন্স কী?
চার্লি যা জানাল তা এইরকম। কালকের মতো আজ আর তাকে চরকি কলে ঘুরতে হয়নি। বালিগঞ্জ সার্কুলার রোড থেকে সোজা এখানেই চলে এসেছে শমিতা। চার্লিও তার ছায়া হয়ে এখানে এসে দাঁড়িয়ে আছে। কাল খাওয়া-দাওয়া কিছু হয়নি; আজ ফাঁক বুঝে ফুটপাতের একটা ছাতুওয়ালার কাছ থেকে ছাতু-ফাতু কিনে খেয়েছে। তবে স্নানটা হয়নি; সেই কারণে চোখ-টোখ এবং মাথার চাঁদি জ্বালা করছে। এক দমে কথাগুলো বলে হিপ পকেট থেকে একগাদা নোট আর রেজগি বার করে আমার দিকে বাড়িয়ে বলল, নাও। তুমি যে পঞ্চাশ টাকা দিয়েছিল তার এই ব্যালান্স–বললাম, ওটা ফেরত দিতে হবে না; তোমার কাছেই রাখো।
অল রাইট-নোট-টোট আবার হিপ পকেটে পুরতে পুরতে চার্লি বলল, ডিউটি হ্যান্ডওভার করে দিচ্ছি। তুমি ক্লাবে ঢুকে যাও লর্ড; আমি ওফ হয়ে যাচ্ছি।
ঠিক আছে বলতে বলতেই ডরোথির কথা মনে পড়ে গেল। মেয়েটা আমার জন্যে চৌরঙ্গীর একটা রেস্তোরাঁয় বিকেলে বসে থাকবে। আচমকা আমার মাথায় একটা প্ল্যান এসে গেল। চার্লিকে বললাম, তোমাকে আরেকটা ডিউটি দিয়ে দিচ্ছি। অ্যান্ড ইটস এ ড্যাম গুড থিং
কীসের ডিউটি?
আমার হয়ে তোমাকে এক জায়গায় প্রক্সি মারতে হবে। ব্যাপারটা ক্লিয়ার করে বলো তো
চৌরঙ্গীর যে রেস্তোরাঁয় ডরোথির অপেক্ষা করার কথা তার নাম, কেবিনের নম্বর এবং সময়টা জানিয়ে বললাম, একজন আমার জন্যে ওখানে ওয়েট করবে। তুমি গিয়ে ওকে একটু ম্যানেজ করে নিও-ইচ্ছা করেই ডরোথির নামটা আর বললাম না।
চার্লি জিগ্যেস করল, খাওয়াবে-টাওয়াবে তো?
তুমি যা খেতে চাও
চার্লি দারুণ খুশি হয়ে চলে গেল। আর আমি পায়ে পায়ে ক্লাবটার গেটের দিকে চলে এলাম। ভেতরে ঢুকতে যাচ্ছি, ঝকঝকে উর্দি পরা দারোয়ান দৌড়ে এসে আমার সামনে দাঁড়াল। বলল, সাব, ইয়ে প্রাইভেট ক্লাব। আপ কেয়া মেম্বার হ্যায়?
বুঝলাম ক্লাবের মেম্বারশিপ না পেলে এখানে প্রবেশ নিষেধ। সঙ্গে সঙ্গে আমার মাথায় একটা পরিকল্পনা এসে গেল, চোখ-কান বুজে তাকে জানালাম, আমার এখানে আসার কথা; ক্লাবের একজন মেম্বার আসতে বলেছে। আমি তার গেস্ট।
দারোয়ানটা এক পলক আমার পা থেকে চুলের ডগা পর্যন্ত জরিপ করে নিল। তারপর জিগ্যেস করল, আপ কিসকা গেস্ট?
শমিতা বোস মেমসাবকে। বলেই টের পেলাম, ভেতরে ভেতরে বেশ নার্ভাস হয়ে পড়েছি। কেননা দারোয়ানটা যদি আমাকে শমিতার কাছে নিয়ে যায় আর শমিতা যদি আমাকে চিনতে না পারে, অবস্থাটা কী দাঁড়াবে? গোটা ব্যাপারটা ভেবে নিতে কয়েক সেকেন্ড সময় লাগল। ম্যাক্সিমাম আমায় ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বার করে দেবে।
দারোয়ানটা আমার সঙ্গে গেল না। দারুণ উদারভাবে বলল, আন্দার যাইয়ে? মেমসাব সুইমিং পুলকা পাশ হ্যায়–
ভেতরে ঢুকেই নুড়ির রাস্তা। তার দুধারে সবুজ লন। লনের পর তিনতলা বিশাল ক্লাব বিল্ডিং। বিল্ডিং-এ ঢুকতেই বাঁদিকে সুইমিং পুল চোখে পড়ল। কাচের মতো স্বচ্ছ জলে ক’টি মেয়ে সাঁতার কাটছিল। মনে হচ্ছিল যেন কটা লাল-নীল মাছ। পুলটার পারে চারদিক ঘিরে মোজেক করা চত্বর। সেখানে নানারকম ফ্যাশানেবল চেয়ারে বা সোফায় ইন্ডিয়ান এবং নন-ইন্ডিয়ান বেশ কিছু মহিলা আর পুরুষ বসে আছে।
আমি জলের ধারে নীচু ডাইভিং বোর্ডের কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই পুলের মাঝখান থেকে কে যেন বলে উঠল, হ্যাল্লো
আমি তাকাতেই শমিতাকে দেখতে পেলাম। জলের ওপরে একটা হাত তুলে সে আবার বলল, ওয়েট-বলেই জল কেটে-কেটে পুলটার ধারে এসে অ্যালুমিনিয়ামের স্ট্যান্ড বেয়ে ওপরে উঠে এল।
হে মহান জনগণ, শমিতার দিকে তাকিয়ে আমার নাক দিয়ে ধোঁয়া ছুটতে লাগল। তার পরনে যে সুইমিং কস্টিউমটা রয়েছে, সেটার দিকে তাকানো যাচ্ছে না। নাভির ছইঞ্চির নীচে বিকিনি ধরনের একটা জাঙ্গিয়া; বুকে কালো ব্রা। একটা কালো ফিতে দিয়ে ব্রা আর জাঙ্গিয়াটা সামনের দিকে আটকানো।
একটা চেয়ার দেখিয়ে শমিতা বলল, প্লিজ, দশ মিনিট বসুন; আমি আসছি। দশ মিনিট লাগল না; তার আগেই শমিতা ফিরে এল। এখন তার পরণে হট প্যান্ট আর শার্ট; পায়ে স্ট্রাপে-বাঁধা জুতো।
হে মহান জনগণ, আগেও বলেছি মেয়ে-টেয়ে নিয়ে এ পর্যন্ত অর্থাৎ লাইফের ছত্রিশ-পঁইত্রিশটা বছর মাথা ঘামাইনি। কিন্তু এই মেয়েটা অর্থাৎ শমিতাকে দু-বার মোটে দেখলাম। আমি বলতে পারি এ রকম প্রচণ্ড আকর্ষণীয় ফিগার আগে আর কখনও দেখিনি। এটা আমার ফ্র্যাঙ্ক কনফেসান-অকপট স্বীকারোক্তি। ওকে দেখলেই নার্ভের ভেতর কেমন যেন গোলমাল হয়ে যায়। শমিতা আমার মুখোমুখি আরেকটা চেয়ারে বসল। বলল, আপনাকে এখানে দেখব, ভাবতেই পারিনি; ইটস এ প্লেজান্ট সারপ্রাইজ।
শমিতা এখন ড্রিংক করে টিপসি বা বেঁহুশ মাতাল হয়ে নেই। এখন সে আশ্চর্য স্বাভাবিক আর স্বচ্ছন্দ। তাকে দারুণ ভালো লাগছিল। যাই হোক তারই নাম করে যে এখানে ঢুকতে পেরেছি সেটা আর বলালম না। যা বললাম তা এই রকম, এখানে একজনের খোঁজে এসেছিলাম। তার সঙ্গে দেখা হল না। তার বদলে পেয়ে গেলাম আপনাকে। সারপ্রাইজটা আমার কাছেও কম প্লেজান্ট না। একটু চুপ করে থেকে আবার বললাম, জানেন, আজ সকালবেলা উঠবার পর আপনার কথাই ফাস্ট মনে পড়ে গিয়েছিল।
