আমিও হাসলাম, গুড ইভনিং
অনেকদিন পর আপনাকে আমাদর হোটেলে দেখলাম।
হ্যাঁ। নানা কাজে আটকে গিয়েছিলাম, আসা হচ্ছিল না। বলে একটু থামলাম। তারপর সামনের দিকে খানিকটা ঝুঁকে বললাম, একটা ব্যাপারে একটু সাহায্য করতে পারেন মিস মার্চেন্ট?
গ্ল্যাডলি। আই অ্যাম অলওয়েজ অ্যাট ইওর সারভিস। বলুন কী রকম
ব্যাপারটা স্লাইট ঝামেলার
কী রকম?
আমি এখানে একটা মেয়েকে খুঁজতে এসেছি, এত বড় হোটেলে তাকে কোথায় পাব, বুঝতে পারছি না। এ জন্যে আপনার হেল্প চাই।
শিরিন হেসে ফেলল, এখানে এই মুহূর্তে কয়েক শশা মেয়ে আছে। বোর্ডার ছাড়া তাদের অনেক গেস্টও আছে। তার মধে থেকে কোনও একজনকে খুঁজে বার করা বেশ ডিফিকাল্ট। তবু নামটা বলুন–দেখি চেষ্টা করে।
বললাম, শমিতা সান্যাল। আধঘণ্টা আগে এখানে এসেছে।
আই-ব্রো পেন্সিলে আঁকা সরু ভুরু কুঁচকে গেল শিরিনের, একটু ভেবে সে প্রতিধ্বনি করল, শমিতা সান্যাল!
হ্যাঁ হ্যাঁ-আমার গলায় আগ্রহ ঝকমকিয়ে উঠল।
আধঘণ্টা আগে এক শমিতাকে আমি ভেতরে যেতে দেখেছি, মনে হচ্ছে। তবে সে তো সান্যাল নয়–শি ইজ বোস। এই শমিতা রেগুলার আমাদের হোটেলে আসে।
আমি কিছু একটা উত্তর দিতে যাচ্ছিলাম। তার আগেই শিরিন আবার বলে উঠল, আপনি কি সিওর—যাকে খুঁজছেন সে শমিতা সান্যাল?
এক পলক চিন্তা করে নিলাম। মায়ের অর্থাৎ মনোবীণার পদবি যদি সান্যাল হয় মেয়ের পদবিও তাই হওয়া উচিত। আমার কোথায় যেন একটা খটকা লাগল। পরক্ষণে মনে পড়ে গেল, আরে কী আশ্চর্য, শমিতার একটা ফোটোই তো য়েছে আমার পকেটে। শিরিনকে সেটা দেখলেই তো বোস আর সান্যালের জটটা ছাড়িয়ে নেওয়া যায়। পকেট থেকে তাড়াতাড়ি ফোটোটা বার করে শিরিনের সামনে রাখতেই সে প্রায় চেঁচিয়েই উঠল, আরে এ-ই তো শমিতা বোস। কিন্তু ব্যাপারটা কী মিস্টার সরকার, যাকে খুঁজতে এসেছেন তার সারনেমটাও জানেন না!
যার মা সান্যাল সে কী করে বোস হয়, ওটা আমার মাথায় আসছিল না। যাই হোক, শিরিনের কথার উত্তর না দিয়ে বললাম, কাইন্ডলি একটু দেখবেন শমিতা কোথায় আছে–
দেখতে হবে না। ও এখানে রোজ আসে; আমরা ওকে খুব ভালো করেই চিনি। আপনি এক কাজ করুন। ফিফথ ফ্লোরে যে বারটা আছে সেখানে চলে যান। সেখানে ওকে না পেলে সেভেন্থ ফ্লোরে বল রুমে চলে যাবেন। যে-কোনও এক জায়গায় পেয়ে যাবেন। এই হোটেলে ওই দুটো হল ওর ফেভারিট স্পট।
থ্যাঙ্ক ইউ মিস মার্চেন্ট, থ্যাঙ্ক ইউ ভেরি মাচ। আচ্ছা, চলি—
পা বাড়াতে যাব, শিরিন হঠাৎ ডাকল, মিস্টার সরকার—
আমি ঘুরে দাঁড়ালাম, কিছু বলবেন?
ওই মেয়েটার পেছনে ঘুরছেন-ব্যাপারটা কি খুবই গভীর? বলে ঠোঁটে দাঁত বসিয়ে হাসল শিরিন।
কোনও রিশেপসানিস্ট ঠিক এভাবে সম্মানিত কাস্টমারের (সব কাস্টমারই সম্মানিত) সঙ্গে কথা বলে না। কিন্তু শিরিনের সঙ্গে আমার অনেক দিনের আলাপ, এক ধরনের হৃদ্যতাই হয়েছে তার সঙ্গে, আমি তাকে খানিকটা প্রশ্রয়ই দিয়ে থাকি। শিরিন সেই প্রশ্রয়ের কিছুটা সুযোগ নেয়, তবে কখনওই শোভনতার সীমা ছাড়ায় না। যাই হোক, বললাম, বুঝতে পারছি না। তবে আজ থেকে ওয়াইল্ড গুজ চেজ করা শুরু করেছি।
তাহলে দেখা যাচ্ছে লিস্টে আরেকটা নাম যোগ হল। অ্যান্ড দ্যাট নেম ইজ রাজীব সরকার।
মানে?
মানে এই ওয়াইল্ড গুজটির পেছনে আপনার আগে থেকেই কয়েক ডজন লোক ঘুরে বেড়াচ্ছে।
থ্যাঙ্ক ইউ ফর দি ইনফরমেসন। আচ্ছা, বাই
বাই। বেস্ট অফ লাক। শিরিন হাত নেড়ে হাসল।
.
শিরিনের কথামতো লিফটে করে ফিফথ ফ্লোরের বারে এসে শমিতাকে দেখতে পেলাম না। অতএব সেভেন্থ ফ্লোরের বলরুমে চলে এলাম।
এই হোটেলে আগে এলেও বলরুমে কখনও ঢুকিনি। তবে শুনেছি, বলরুমে এসে নাচের জন্য পার্টনার পাওয়া যায়। অবশ্য সঙ্গী নির্বাচন একতরফা হয় না; একজন আরেকজনকে পছন্দ করা চাই।
বল-রুমটা প্রকাণ্ড–প্রায় তিন সাড়ে তিন হাজার স্কোয়ার ফুট জুড়ে। এখানেও একধারে বার রয়েছে; আরেক ধারে আয়নার মতো পালিশ করা ঝকঝকে মেঝেতে নাচের ব্যবস্থা।
হে মহান জনগণ, স্বৰ্গত লেজার-কিপার ভরতচন্দ্র সরকারের ছেলে আপনাদের রাজীব সরকার সুড়ুৎ করে সেখানে ঢুকে পড়ল।
এক ধারে জমজমাট, মাতালদের আড্ডা। বার-বয়রা ছোটাছুটি করে তাদের ইউস্কি-টুইস্কি সার্ভ করে যাচ্ছিল। আরেক ধারে নাচের জন্যে নির্দিষ্ট ফ্লোরে বিভিন্ন বয়সের বেশ কিছু মত্ত পুরুষ আর মহিলা নেচে যাচ্ছে। উঁচু একটা ডায়াসে মিউজিক হ্যান্ডরা কখনও দ্রুত লয়ে কখনও বা ধীরে ধীরে বাজিয়ে চলেছে। আমি এক কোণে দাঁড়িয়ে চারদিকের মহিলাদের লক্ষ্য করতে লাগলাম। কিন্তু এত বড় বার-কাম-বল রুমে প্রতিটি মহিলার মুখ দেখা সম্ভব না। টেবলে টেবলে ঘুরে বা নৃত্যরত জোড়া জোড়া নারী পুরুষের কাছে গিয়ে শমিতাকে খুঁজে বার করাও অসম্ভব ব্যাপার।
কী করব যখন ভাবছি সেই সময় হঠাৎ চোখে পড়ল বার-এর শেষ মাথায় একটা টেবল থেকে সে-হা সে-ই তো, অর্থাৎ যার ফোটো বুকের ভেতর পুরে নিশি-পাওয়া মানুষের মতো ছুটে বেড়াচ্ছি সেই শমিতা উঠে দাঁড়িয়েছে।
আগুনের একটা হলকার মতো দেখাচ্ছে তাকে। পরনে নাভির নীচে একটা বেলবটুস আর ব্রা। ব্রা-র ওপর কাচের মতো স্বচ্ছ একটা জামা।
সে উঠে দাঁড়াতেই, হে মহান জনগণগোটা বল রুমটায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো কিছু একটা ঘটে গেল যেন। নানা টেবল থেকে কয়েক ডজন হাত তার দিকে উঠে আসতে লাগল সেই সঙ্গে অসংখ্য মাতালের জড়ানো কণ্ঠস্বর আমার কানের পর্দায় ধাক্কা দিতে লাগল। ওরা সবাই বলছিল, আমাকে আজ তোমার পার্টনার করে নাও।
