শমিতা আগুনের ফুলকির মতো সব হাত ঠেলে ঠেলে নানা টেবলির মধ্য দিয়ে এঁকে বেঁকে টলতে টলতে বলছিল, নো-নো-নো-নট ইউ, ডগস।
প্রথম দেখাটা এভাবে হবে, ভাবতে পারা যায়নি। স্থির পলকহীন আমি তাকিয়েই আছি। আমার চোখে পাতা পড়ছে না।
কিন্তু কে জানত, আমার জন্যে দারুণ রকমের আরো একটা চমক অপেক্ষা করছিল। প্রায় উড়তে উড়তে আর টলতে টলতে শমিতা এক সময় আমার পাশ কাটিয়ে যেতে যেতে আচমকা দাঁড়িয়ে গেল। দাঁড়াল ঠিকই, তবে স্থিরভাবে নয়। তার পা-মাথা এবং গোটা শরীরটা টলছিল; চোখ আরক্ত; মুখ থেকে হুইস্কির গন্ধ বেরিয়ে আসছে। শমিতা ঢুলু ঢুলু চোখে আমাকে দেখতে দেখতে বলল, হু ইউ? নেভার সিন বিফোর।
হে মহান ভারতীয় জনগণ, আমার মতো একটি লোক, যে মনুষ্যজাতির যাবতীয় দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে থাকে কয়েক মুহূর্তের জন্যে সে পর্যন্ত হকচকিয়ে গেল। দশ সেকেন্ডের মধ্যে অবশ্য আমি আমার মধ্যে ফিরে এলাম। বললাম, এ স্ট্রেঞ্জার
তাই মনে হচ্ছে। বলেই একুট চুপ করে থাকল শমিতা। তারপর আচমকা আমার একটা হাত ধরে বলল, কাম অন–
অবাক হয়েই জিগ্যেস করলাম, কোথায়?
যেখানে ফ্লোর-ডান্স চলছিল সেই জায়গাটা দেখিয়ে শমিতা বলল, ওখানে। তার পরেই বার-এর সামনে যে সব মাতালেরা বসে ছিল তাদের দিকে আঙুল তুলে বলল, ওই কুকুরগুলোর সঙ্গে রোজ নেচে নেচে ডিসগাস্টেড হয়ে গেছি। আই ওয়ান্ট এ নিউ পার্টনার। উড ইউ জয়েন মি
হে মহান জনগণ, আমি এবার সত্যি সত্যি কাঁচাকলে পড়লাম। স্বীকারোক্তি করতে বাধা নেই, এই সব বিদেশি নাচ-ফাচ, বিদেশি কেন–কোনও রকম নৃত্য-কলাই আমি জানি না। কিন্তু শমিতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হলে এই সুযোগটা ছাড়া উচিত হবে না। আমার নিয়তি যেন আমাকে বলিয়ে দিল, মোস্ট গ্ল্যাডলি-
শমিতা আমার হাত ধরেই ছিল। জোরে টান দিয়ে আরেকবার বলল, কাম অন
নিশির ডাকের মতো অদৃশ্য কোনও আকর্ষণ ধাক্কা মারতে মারতে আমাকে শমিতার পিছু পিছু ডান্সিং ফ্লোরে ঠেলে নিয়ে চলল।
পিছন থেকে অনেকগুলো মাতালের জড়িত কণ্ঠস্বর ভেসে এল। তারা আমারই উদ্দেশ্যে চেঁচাচ্ছে, চিয়ার ইউ লাকি সোয়াইন! অর্থাৎ শমিতা আমাকে নাচের পার্টনার নির্বাচন করায় ওরা অভিনন্দন জানাচ্ছে।
যাই হোক, নাচের জায়গায় এসে আমার গা দিয়ে গলগল করে ঘাম ছুটতে লাগল। বুঝতে পারছি অনভ্যস্ত পা নাচের তালে তালে সঠিক স্টেপ ফেলতে পারছে না। একমাত্র বাঁচোয়া, এখানে কেউ সাদা চোখে নেই। আমার ভুল কেউ ধরতে পারবে না। আশেপাশে যারা নাচছে, ফ্লোর ডান্সে নেহাত আনাড়ি হলেও, বুঝতে পারছি তাদের স্টেপিংও ঠিক হচ্ছে না। এমনকী আমার পার্টনারও এলোমেলো পা ফেলে যাচ্ছে। আসলে নাচবার মতো অবস্থাই নয় শমিতার। এক হাত দিয়ে আমার এটা হাত ধরে, আরেকটা হাতে আমার পিঠটা সাপের মতো বেষ্টন করে সে দুলছিল। ফ্লোর ডান্সের নিয়ম অনুযায়ী আমার একটা হাতও শমিতার কোমরের পাশ দিয়ে শমিতার পিঠটাকে বেড় দিয়ে রেখেছে।
হে মহান জনগণ, এবার আপনাদের কাছে আমার দ্বিতীয় স্বীকারোক্তিটি করব। নাচের তালে তালে মাখনের স্তূপের মতো শমিতার বিশাল উরু আমার উরুতে বার বার ঠেকে যাচ্ছে। তার ব্রা-টাইপের পাতলা ব্লাউজের ভেতর দিয়ে রুপোর বাটির মতো গোল উদ্ধত বুক দেখতে পাচ্ছিলাম। পৃথিবীর দুর্লভতম, ফলের মতো সে-দুটো আমার বুকে চেপে বসে আছে। শমিতার শরীর থেকে, চুল থেকে অত্যন্ত উগ্র একটা গন্ধ উঠে এসে আমার নাকের ভেতর দিয়ে মস্তিষ্কে ছড়িয়ে যাচ্ছিল।
হে মহান জনগণ, আমি মদ্যপান করি, দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে লোক ঠকাই। তবু একটা ব্যাপারে গ্যারান্টি দিতে পারি–আমি হান্ড্রেড পারসেন্ট ব্রহ্মচারী; মেয়েমানুষের ব্যাপারে আমার ঝামেলা নেই। তামা-তুলসী ছুঁয়ে ও বিষয়ে আমি শপথবাক্য উচ্চারণ করতে পারি।
ছত্রিশ-সাঁইত্রিশ বছরের লাইফে আগে আর কোনও মেয়ে এভাবে উরুতে উরু ঠেকিয়ে কিংবা বুকে বুক চেপে ধরে আমাকে নাচায়নি। কোনও মেয়েকে আমি এভাবে কখনও জড়িয়ে থাকিনি। অবশ্য লতিকা যেদিন আত্মহত্যা করতে গিয়েছিল সেদিন তাকে জাপ্টে ধরে রেললাইনের বাইরে টেনে নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু সেটা ছিল আলাদা ব্যাপার। তখন বাঁচানোটাই ছিল বড় কথা, একমাত্র উদ্দেশ্য। কোনও যুবতীর দারুণ লোভনীয় শরীর যে বুকের মধ্যে ধরে আছি–এ কথাটা একবারও মনে হয়নি।
কিন্তু এই মুহূর্তে শমিতার দৃঢ় অথচ কোমল বুকে যখন আমার পাঁজরাকে বিদ্ধ করছে সেই সময় মনে হতে লাগল আমি শালা আর বাঁচব না। হে মহান জনগণ, আজ একটি ফোঁটাও মদ্যপান করিনি তবু মনে হচ্ছে তিন বোতল র হুইস্কি টেনেছি। আমার দম আটকে আসছে। আমি মরে যাব, নির্ঘাৎ মরে যাব।
কতক্ষণ নেচেছিলাম, মনে নেই। এক সময় ক্লান্ত নেশাগ্রস্ত শমিতা ওধারের একটা চেয়ারে গিয়ে নিজের শরীরটাকে ছুঁড়ে দিল। আমিও খুব হাঁপিয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু কী করব, বুঝতে পারছি না। আমি কি শমিতার কাছে গিয়ে বসব, না এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই ওকে লক্ষ্য করতে থাকব?
হঠাৎ জড়ানো গলায় শমিতা ডেকে উঠল, ইউকাম হিয়া–
আবার যখন সুযোগ পাওয়া গেছে, দাঁড়িয়ে থাকার মানে হয় না। আমি তক্ষুনি শমিতার মুখোমুখি অন্য একটা চেয়ারে গিয়ে বসলাম।
