ছবিটা দেখতে দেখতে চার্লি বলল, ওহ গড়, এ যেন এলিজাবেথ টেলর! একে তুমি কোথায় পেলে?
চার্লি এলিজাবেথ টেলরের দুর্দান্ত ফ্যান। এলিজাবেথের যে-কোনও ছবি আসুক, সে দেখবেই।
যেখানেই পাই, তোমার কাজটা হল এর ওপর নজর রাখা। পারবে?
গ্ল্যাডলি। চুরি-ফুরির চাইতে বিউটিফুল মেয়েদের পেছনে ঘোরা অনেক ভালো প্রফেসান। আহ হেভেন! অনবরত সুন্দরী মেয়ে দেখলে চোখ ভালো হয়ে যায়, না কী বলো!
হাসলাম। তারপর মনোবীণা সান্যালের ঠিকানাটা দিয়ে বললাম, এখনই তুমি ওখানে চলে যাও। বাড়ির ভেতরে ঢুকবে না; বাইরে ট্যাক্সি নিয়ে ওয়েট করবে। মেয়েটা কোথায় যায় লক্ষ্য রাখবে। যদি দেখো কোথাও বেশিক্ষণ থাকছে আমার অফিসে একটা ফোন করে দেবে। আমি এগারোটার পর অফিসে থাকব।
ঠিক আছে লর্ড। কিছু ক্যাশ দেবে না? ট্যাক্সি-ফ্যাক্সির খরচ আছে।
হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। মনোবীণা সান্যাল যে টাকাটা অ্যাডভান্স করেছিল তার থেকে পঞ্চাশটা টাকা চার্লিকে দিলাম।
টাকাটা এবং সেই সঙ্গে শমিতার ফোটোটা পকেটে পুরতে পুরতে চার্লি বলল, থ্যাঙ্ক ইউ। তারপর জানালা পর্যন্ত গিয়ে হঠাৎ ঘুরে দাঁড়াল। গলা নামিয়ে বলল, ব্যাপারটা কী লর্ড?
কী জানতে চাইছ?
শমিতার ফোটোটা দেখিয়ে চার্লি বলল, ইঁদুরকলে পা ঢুকিয়ে দাওনি তো? মেয়ে-ঘটিত বিষয়গুলোকে চার্লি ইঁদুর-কল বলে থাকে।
আমি হাসাম, বুঝতে পারছি না। তুমি এখন যাও।
চার্লি জানালার শিক সরিয়ে নারকেল গাছ বেয়ে নীচে নেমে গেল।
৩. অফিসে চলে এলাম
০৫.
এগারোটার কিছু আগেই অফিসে চলে এলাম। চার্লি আজ আর রান্না-টান্না করবার সময় পায়নি; তাই একটা হোটেল থেকেই খেয়ে আসতে হয়েছে।
নিজের চেম্বারে ঢুকতে গিয়ে দেখলাম কাচের পার্টিসান ওয়ালের ওধারে লতিকা বসে আছে। ফোন-লাগানো রিভলভিং চেয়ারটায় বসতে বসতে লতিকার বাবা, দু-নম্বর মা এবং তার ছেলেমেয়েদের কথা মনে পড়ে গেল। বললাম, বাড়ির খবর কী?
লতিকা বিস্বাদ গলায় বলল, কী আর। কালই তো তোমাকে বললাম, বাবা আর সেই মেয়েমানুষটা এসে গেছে।
তোমার মা অজ্ঞান হয়ে যায়নি?
অজ্ঞান হোক আর মরে যাক, এবারআর ওদের তাড়ানো যাবে না। পার্মানেন্টলিই ওরা এসে বসল। যাক গে–তারপর খুব সংক্ষেপে পারিবারিক ঝঞ্জটের কথা শেষ করে লতিকা বলল, তারপর বলো, কাল বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে সেই মহিলার কাছে গিয়ে কী করলে?
লক্ষ্য করলাম, লতিকার চোখ-মুখ আগ্রহে চকচক করছে। সঙ্গে সঙ্গে আমার খেয়াল হল, আরে, অন্য দিন বারোটার আগে অফিসে আসে না সে; আজ এগারোটা বাজতে না বাজতেই এসে বসে আছে। নিশ্চয়ই সেই মহিলাটির বিষয়ে জানবার জন্যে ভেতরে ভেতরে অস্থির হয়ে উঠেছে। আমার দারুণ মজা লাগছিল। বললাম, প্রথমেই বলে রাখি মহিলাটি বেশ এজেড।
মহিলার বয়স সম্পর্কে আমার মাথা ব্যথা নেই। ওখানে কী হল সেটাই জানতে চাইছি।
বলছি, তার আগে আরেকটা খবর দিয়ে নিই। মহিলা এজেড হলেও তার মেয়েটি তরুণী–তার বয়স ম্যাক্সিমাম টোয়েন্টি থ্রি-টোয়েন্টি ফোর। আমার কাছে তার একটা ফোটো আছে। দেখবে নাকি?
কথা বলতে গেলে মহিলার সঙ্গে; ফোটো নিয়ে এলে তার মেয়ের ব্যাপারটা–এই পর্যন্ত বলে চুপ করে গেল লতিকা।
বুঝতে পারছি ফোটোটা দেখবার খুবই ইচ্ছা লতিকার, কিন্তু তার আত্মমর্যাদা এবং শোভনতাবোধ তাকে বাধা দিচ্ছে। ব্রিফকেস থেকে শমিতার ফোটোটা বের করে কাচের দেয়ালের গোল ফোকর দিয়ে লতিকার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললাম, বেশ সুন্দর, না?
ফোটোটা এক পলক দেখেই আমাকে ফিরিয়ে দিতে দিতে লতিকা বলল, হ্যাঁ। এবার বলো–
মনোবীণা সান্যালের সঙ্গে আমার যা-যা কথা হয়েছে, সব বলে গেলাম। এমনকী অ্যাডভান্সের কথাটাও বাদ দিলাম না। তবে চার্লিকে যে শমিতার ওপর নজর রাখার জন্য লাগিয়েছি, সেটাই শুধু বললাম না।
সব শুনে লতিকা বলল, অ্যাডভান্স নিয়ে এসেছ। ওই চ্যাপ্টার তো তাহলে ক্লোজড।
আমি একটা কথা ভাবছিলাম।
ওই মেয়েটাকে শোধরাবার দায়িত্ব নেবে, এই তো?
একজ্যাক্টলি। তুম একেবারে অন্তর্যামী। নাকি থট রিডিং জানো?
আমার দিকে খানিকটা ঝুঁকে লতিকা এবার বলল, মেয়েটা সুন্দর বলে বুঝি এত ইন্টারেস্ট?
তার চেয়ে অনেক বেশি ইন্টারেস্ট আরেকজন সম্পর্কে।
কে সে?
কাচের দেয়ালের ওপারে এখন সে বসে আছে।
ফ্ল্যাটারি।
তোমার কি তাই মনে হয়?
লতিকা সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল না। একটু পরে সে বলল, এটা কিন্তু আমাদের প্রফেসান নয়। অ্যাডভান্স নেবার পরই আমরা কিন্তু ক্লায়েন্টের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক কাট অফ করে দিই।
কৈফিয়ৎ দেবার ভঙ্গিতে বললাম, কিন্তু ব্যাপারটা কী জানো, আমার মনে হচ্ছে এই মেয়েটা মানে শমিতাকে ফলো করলে একটা অদ্ভুত সোসাল অ্যাটমসফিয়ারকে ধরতে পারব।
সোসিওলজির ওপর তুমি কোনও বই লিখবে নাকি?
না, মানে সিম্পলি কৌতূহল।
লতিকা আর কিছু বলল না। শমিতার ব্যাপারে তার মনোভাবটা ঠিক বুঝতে পারলাম না। হে মহান জনগণ, মেয়েটা দারুণ চাপা ধরনের। মেরুপ্রদেশের নদীতে বরফের পাহাড়ের মতো তার খানিকটা দেখা যায়, বাদবাকি সবটাই গোপন। যাই হোক, একটু ভেবে বললাম, আজ বিজনেসের খবর কী?
খুব ভালো। তুমি আসার আগে এক ঘণ্টায় এই-ইলেকসান কর্পোরেশনে পাঁচজন নাম লিখিয়ে গেছে। এর মধ্যে তিনজন এম-এল-এ হতে চায়, দুজন মিউনিসিপ্যাল কমিশনার। অ্যাডভান্স পেয়েছি বারো হাজার টাকা।
