কিন্তু উপায় ছিল না চার্লস-এর। সে কত টিপস্ দেবে তারও নির্দেশ সে পেয়েছিল। টিপসের অঙ্কটা যেন এতবেশি না হয় যাতে ওয়েটারটা কৃতজ্ঞ হয়ে দ্বিতীয়বার ওর মুখের দিকে তাকায়। আবার এত কমও যেন না হয়, যাতে অন্য কারণে সে চোখ তুলে তাকায়।
পথে নেমে এসে ডেক্সটার বলল, গুড নাইট!
–জাস্ট এ মিনিট। তোমার অ্যাটাচি-কেসটা ফেলে যাচ্ছ।
হাত বাড়িয়ে অ্যাটাচি-কেসটা চার্লস দিতে চায় ডেক্সটারকে। ভ্রূদুটি কুঞ্চিত হয়ে ওঠে ডেক্সটারের। বলে, কী আছে ওতে?
চারদিকে চোখ বুলিয়ে একবার দেখল চার্লস। রাস্তার এদিকটা এখন জনশূন্য। নিম্নকণ্ঠে বললে, ওজনটা তুমিই দেখ। অল ইন টোয়েন্টি অ্যান্ড ফিফটি ডলার বিলস্।
অর্থাৎ বিশ এবং পঞ্চাশ ডলারের খুচরো নোট। যা অপরাধ-বিজ্ঞানের ভাষায় ‘নম্বরী নোট’ নয়। যা সহজে খরচ করা যাবে। ডেক্সটার একজন বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী। সুটকেসের ওজনটা বাদ দিয়ে “নেট ওজনে’ ডলারের অঙ্কটা টেন-টু-দ্য-পাওয়ার কততে দাঁড়াবে আন্দাজ করতে তার কোনো স্লাইড-রুলের প্রয়োজন হল না। বললে, এ শর্ত ছিল না তো
–জুলিয়াস বিনা পারিশ্রমিকে কাউকে দিয়ে কোনো কাজ করায় না।
হঠাৎ ধক করে জ্বলে উঠল ডেক্সটারের চোখ দুটো। বললে, দেন গিভ মি ব্যাক মাই সিগারেট-প্যাকেট!
আঁতকে ওঠে রেমন্ড: কী ব্যাপার?
-জুলিয়াসকে বোলো-ডেক্সটার অর্থের লোভে একাজ করছে না।
–ঠিক হ্যায়।
কোনোরকম বিদায় সম্ভাষণ না জানিয়েই চার্লস অ্যাটাচিটা হাতে হাঁটতে শুরু করে। একটা ট্যাক্সি আসছিল এদিকে। সেটাকে দাঁড় করায়। পালাতে পারলে সে বাঁচে।
ডেক্সটার অন্যমনস্কর মতো হাঁটতে থাকে ফুটপাথ ধরে।
সেই রাত্রে লস অ্যালামসে ফিরে ডেক্সটার শোওয়ার আগে দিনপঞ্জিকায় লিখেছিল:
Others talk, hope, wait and are repeatedly disappointed, be cause they don’t understand the true nature of political power. Well, I’m going to act. I’ve acted. May be I have prevented another World War.
: ওরা বাকবিস্তার করে, আশা করে, অপেক্ষা করে আর বারে বারে বোকা হয়, কারণ ওরা জানে না রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রকৃত স্বরূপ। আমি ও ফাঁদে পা দেব না। যা করবার নিজেই করব। করেছি। হয়তো আজ আমিই পথ রুদ্ধ করে দিয়ে। গেলাম তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের।
তারপর বাতি নিবিয়ে শুয়ে পড়ল।
তবু শেষ হল না দিনটা। মিনিটদশেক বিছানায় পরে থেকে আবার উঠল। আলোটা জ্বালল। দিনপঞ্জিকার পাতাখানা পড়ল আবার। হাসল। ছিঁড়ে নিল পাতাটা। তারপর দেশলাই জ্বেলে লেখাটা পুড়িয়ে ছাই করে দিল।
পাঠকের হয়তো স্মরণ আছে-আমি অনেক আগেই বলেছি–এ বিশ্বাসঘাতকতার মূল্যায়ন করতে বসে একটা সমীকরণ কষে দুটি ফল পেয়েছি। একটা বিলিয়ন ডলারের অঙ্ক এবং দ্বিতীয়টা শূন্য।
আশা করি হিসাবের কড়ি বাঘে খায়নি।
x(x –10^9) = 0
ইকোয়েশানের দুটি ‘রূপ’ই নির্ভুল। এ বিশ্বাসঘাতকতার মূল্যমান বিলিয়ান ডলারেও প্রকাশ করা যায়; আবার বলা যায়, সেটা স্রেফ শূন্য! কিউ. ই. ডি.।
৬. কেন ১-৪
০১.
তিমি-শিকারী দলটাকে পাঁচটি ভাগে বিভক্ত করা হল। হ্যাঁ, ‘তিমি-শিকারীর দল। যুগ্মসচিবের নির্দেশ নিয়ে এফ. বি. আই. চিফের কাছে যখন অনুসন্ধানের আদেশ এল তখন তৈরি হল এই ‘হোয়েলার্স–স্কোয়াড। তিমি-শিকারীরা হারপুন দিয়ে বিঁধে আনবে সেই অতলসঞ্চারী তিমি মাছটিকে–ডেক্সটার! একা ডেক্সটার নয়, ইতিমধ্যে জানা গেছে, আরও দুজন ছোট-মাপের বিশ্বাসঘাতক এই দুষ্কার্যে প্রত্যক্ষ অংশ নিয়েছে। তাদের ছদ্মনাম যথাক্রমে ‘অ্যালেক্স’ আর ‘ডগলাস’। এফ. বি. আই. অনুসন্ধান করে বুঝেছে–ওই তিনজন পৃথক পৃথকভাবে গুপ্তচরবৃত্তিতে অংশ নিয়েছে, তারা সম্ভবত পরস্পরকে চেনে না। মানে স্বনামে হয়তো চেনে–গুপ্তচর হিসাবে ছদ্মনামে চেনে না। আরও জানা গেছে, সর্বনাশের সিংহভাগ দাবী করতে পারে একমাত্র ডেক্সটার একাই। অ্যালেক্স এবং ডগলাস মিলিতভাবে যদি চার-আনা ক্ষতি করে থাকে, তবে ডেক্সটার একাই করেছে বারো আনা।
খুব ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে হবে। রাতারাতি রাঘববোয়াল জালে ধরা পড়বে না! প্রথমে চিহ্নিত করতে হবে ওই দুটি চুনোপুঁটিকে : অ্যালেক্স এবং উল্লাস। তাদের স্বীকারোক্তি থেকেই হয়তো পাওয়া যাবে ডেক্সটার-বধের ব্রহ্মাস্ত্র।
যুদ্ধসচিবের নির্দেশ পাওয়ার পর কর্নেল ল্যান্সডেল মূল পরিকল্পনাটা ছকে ফেলেছেন। কর্নেল প্যাশকে নিজের চেম্বারে ডেকে নিয়ে তিনি পরিকল্পনাটা বুঝিয়ে দিলেন
হোয়েলার্স-স্কোয়াডে থাকবে পাঁচটি ইউনিট। পাঁচটি বিভাগের পাঁচজন দলপতি থাকবেন। বিভাগের নামগুলি মূলত দেশ অনুসারে।
হাঙ্গেরিয়ান-য়ুনিট অনুসন্ধান করবেন তিনজন বিজ্ঞানীর বিষয়ে, তারা হলেন ফন নয়ম্যান, ৎজিলাৰ্ড এবং টেলার। এর মধ্যে মূল লক্ষ্য হলেন ৎজিলাৰ্ড। তিনি বরাবর অ্যাটম-বোমা নিক্ষেপের বিরুদ্ধে কাজ করে গিয়েছেন। গোপনীয়তার নির্দেশ অমান্য করে লস-অ্যালামসের বৈজ্ঞানিকদের ভিতর প্রচার-পুস্তিকা বণ্টন করেছেন–বোমা-বিরোধী ফ্রন্ট গঠনে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন।
দ্বিতীয় বিভাগ হচ্ছে রাশিয়ান-য়ুনিট। তার মূল লক্ষ্য ক্রিস্টিয়াকৌস্কি। রোবিনোভিচ অবশ্য বোমা-নিক্ষেপের বিরুদ্ধে দল ও মত গঠনে সক্রিয় অংশ নিয়েছিলেন; কিন্তু গুপ্তচরবৃত্তি যেন তার চরিত্রের সঙ্গে খাপ খায় না। তা হোক–খবরটা পাচার হয়েছে রাশিয়ায়। ফলে দুজন রাশিয়ান বৈজ্ঞানিককেই যাচাই করে দেখতে হবে।
