I was bored to tears. I don’t like music. I wanted to go home.
চার্চিল-সাহেব নাকি গানের মাঝপথেই উঠে চলে যেতে চেয়েছিলেন। ট্রুম্যান তাকে আটকে রাখেন, বলেন এটা খারাপ দেখাবে।
তার দুদিন পরে চরম প্রতিশোধ নিলেন সিংহশিশু চার্চিল। এবার তিনি হলেন নিমন্ত্রণকর্তা। লন্ডন থেকে এল রয়্যাল এয়ারফোর্সের পিয়ানো-বাদকের দল। অ্যাডমিরাল লেহি লিখেছেন, ‘গান যেমনই হক, চার্চিল সাহেবের কড়া হুকুম ছিল; রাত দুটোর আগে যেন গান-বাজনার আসর না ভাঙা হয়। সিগারেটসেবী ট্রুম্যান-সাহেবের উপর পাইপমুখো স্তালিন মেরেছিলেন টেক্কা। কিন্তু পিঠ তুলতে পারলেন না তিনি–চুরুটমুখো চার্চিল এবার ঝাড়লেন ছোট্ট একখানি দুরি। তুরুপের।
এদিকে ট্রুম্যানের অবস্থা সেই ‘ভবম-হাজামের মত। পেট ফুলছে ক্রমাগত। ফুলবেই। চার্চিলকে বলেছেন, চার্চিল বারণ করেছেন স্তালিনকে জানাতে–কিন্তু সামরিক শক্তি হিসাবে ব্রিটেনের চেয়ে রাশিয়ার স্থান অনেক উঁচুতে। তাই এতবড় খবরটা স্তালিনকে না বলা পর্যন্ত ঘুম হচ্ছিল না ট্রুম্যানের। তাতে চার্চিল চটে যায় তো যাক। কে জানে–এই নিয়ে যদি যুদ্ধোত্তর-দুনিয়ায় স্তালিনের সঙ্গে তার মনোমালিন্যের সূত্রপাত হয়ে যায়? তখন তো চার্চিল পাঁচিলের ওপর বসে মিটিমিটি হাসবে।–এতবড় দায়িত্ব নিতে সাহস হল না ট্রুম্যানের। স্থির করলেন, খবরটা জানাবেন–তবে কায়দা করে। অর্থাৎ সময়, পরিবেশ আর ভাষার ভেতর থাকবে ওস্তাদি প্যাঁচ।’ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ ভঙ্গিতে!
পরদিন চব্বিশে জুলাই–অর্থাৎ হিরোশিমায় বোমাবর্ষণের মাত্র তেরোদিন আগে–সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষিত হবার পর সবাই যখন একে একে চলে যাচ্ছেন তখন ট্রুম্যান গুটিগুটি এগিয়ে এলেন স্তালিনের কাছে। যেন মামুলি খোশ-খবর বলছেন, এমন ভঙ্গিতে বললেন, ‘ভাল কথা মনে পড়ল… ইয়ে হয়েছে….শুনেছি আমার বিজ্ঞানীরা নাকি একটা মারণাস্ত্র বার করেছেন যার অস্বাভাবিক বিস্ফোরণ শক্তি।
একনিশ্বাসে কথাটা বলে ট্রুম্যান হাসিহাসি মুখ করলেন। চার্চিল দাঁড়িয়ে ছিলেন পাশেই। ঊর্ধ্বমুখে চুরুটের ধোঁয়া ছাড়ছিলেন নির্বিকারভাবে। যেন খবরটা নেহাৎই মামুলি। স্তালিন বিন্দুমাত্র ঔৎসুক্য দেখালেন না। বললেন তাই নাকি? খুব আনন্দের কথা। ওটা ঐ বাঁটকুল জাপানিদের মাথার ঝাড়ুন তাহলে।
ভাষাটা আমি বানিয়েছি। হয়তো ঠিক এ ভাষায় কথোপকথা হয়নি। এই ঐতিহাসিক আলাপচারিতার কোনো ‘ডাইরেক্ট স্পীচ অফ ন্যারেশান’ অনেক খুঁজেও পাইনি। যা পেয়েছি তা এই:
ট্রুম্যান তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন
“On July 24 I casually mentioned to Stalin that we had a new weapon of unusual destructive force. The Russian Premier showed no special interest. All he said was that, he was glad 16 hear it and hoped we make good use of it against the Japanese,”
স্তালিন গাড়িতে উঠে রওনা দেওয়া মাত্র চার্চিল বললেন, মহান নেতা-সাহেব কী বললেন?
–কিছুই তো বললেন না। জানতেও চাইলেন না কী জাতের বিস্ফোরক!
চার্চিল তাঁর স্মৃতিচারণ গ্রন্থে বিস্ময় প্রকাশ করে লিখেছেন :
“Nothing would have been easier than for him to say : Thank you so much for telling me about your new bomb. I, of course, have no technical knowledge. May I send my experts in these nu clear sciences to see your experts tomorrow morning?”
“স্তালিন সহজেই বলতে পারতেন, ঐ বোমার কথা জানানোর জন্য ধন্যবাদ। আমি অবশ্য বিজ্ঞানের ব্যাপার ভাল বুঝি না। কাল বরং আমার পরমাণু-বিশারদ পদার্থ বিজ্ঞানীদের আপনার বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠিয়ে দিই, কী বলেন?”
চার্চিল তিনটি ভুল করেছেন। প্রথমত ট্রুম্যান ‘বোমা’ শব্দটা আদৌ ব্যবহার করেননি, বলেছিলেন ‘মারণাস্ত্র। দ্বিতীয়ত, পারমাণবিক’ শব্দটাও উচ্চারণ করেননি ট্রুম্যান-ফলে নিউক্লিয়ার পদার্থ বিজ্ঞানীদের’ প্রসঙ্গই ওঠে না। তৃতীয়ত, চার্চিল জানতেন না স্তালিনের এ ঔদাসিন্যের মূল কারণ কী! স্তালিন ন্যাকা সেজেছিলেন মাত্র। তিনি জানতেন সবই, এবং এও জানতেন যে, ঐ পারমাণবিক অস্ত্রের যাবতীয় সংবাদ তার গুপ্তচরবাহিনী সংগ্রহ করে যাচ্ছে। যথাসময়ে তার সবকটি খুঁটিনাটি জানতে পারবেন উনি।
সেয়ান সেয়ানে কোলাকুলির সময় এমনই হয়ে থাকে। কোন্ সেয়ান কোন্ সেয়ানকে লেঙ্গি মারছে কোনো সেয়ানই তা বুঝতে পারে না। সবাই ভাবে আমি বুঝি জিতলাম। লেঙ্গি যে আসলে মারছেন মহানেতা স্তালিন তা ট্রুম্যান টের পেলেন বেশ কিছুদিন পরে-ম্যাকেঞ্জি কিং-এর পত্র পেয়ে।
***
ওইদিনই ট্রুম্যান এবং স্টিমসনের কাছে এসে উপস্থিত হলেন মার্কিন স্থলবাহিনীর প্রধান জেনারেল মার্শাল এবং বিমানবাহিনীর চিফ জেনারেল আর্নল্ড। তারা জানতে চাইলেন–পারমাণবিক বোমা আদৌ ফেলা হবে কি না, হলে কবে হবে এবং কোথায় ফেলা হবে।
প্রথম দুটি প্রশ্নের জবাব পেলেন সহজেই : বোমা ফেলা হবে এবং যতশ্রীঘ্র সম্ভব। তৃতীয় প্রশ্নটির বিষয়েই বিস্তারিত আলোচনা হল। প্রথমে স্থির হয়েছিল এই পাঁচটি শহরের মধ্যে যে কোনো একটিতে ফেলা হবে সেই বিধ্বংসী বোমা-হিরোসিমা, ককুরা, নীগাতা, নাগাসাকি অথবা কিয়াতো। স্টিমসনের অনুরোধে শেষ নামটা বাতিল করা হল। ওখানে নাকি আছে প্রাচীনতম বৌদ্ধমন্দির–বহু শতাব্দীর স্মৃতিবিজড়িত স্বর্ণমন্দির।
