The sexual exploitation of children does not occur in a vaccum but involves a more widespread exploitation, sexual or otherwise. Poverty and ignorance are the underlying causes of this worldwide phenomenon.”
ইতস্তত ঘুরছিল সে রাস্তায়। সহায়সম্বলহীন। ভীত। সন্ত্রস্ত। এক পুলিশ তাকে দেখতে পায় এবং প্রশ্ন করে। কী বলেছিল তার মনে নেই। সেই আরক্ষাকর্মীটি তাকে থানায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে সে প্রেরিত হয় সরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রে।
পুনর্বাসন কেন্দ্র। সে হাসে। উঠে দাঁড়ায়। পায়চারি করে। চুপ করে ভাবে কিছুক্ষণ। ছেলেটি অপলক তাকিয়ে থাকে। প্রশ্ন করতে ভুলে যায়। সে এসে ছেলেটির মুখোমুখি বসে আবার। ফাল্গুনের হাওয়া ঘরের দুয়ারে মাথা কুটে ফিরে যায়। সে কথা বলে আবার। ঘোর লাগা গলায় কথা বলে।
পুনর্বাসন কেন্দ্র। সরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্র। হারিয়ে যাওয়া মেয়েদের রক্ষাকল্পে নির্মিত। আর সেখানেই এক রাত্রে তার শরীর থেকে পোশাক খুলে নেয় তাদের দেখাশুনোয় নিয়োজিত রাধামাসি। জোর করে একটি ফাঁকা ঘরে তাকে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে শেকল তুলে দেয়।
কিছুক্ষণ পর এক বিশালাকার মাতাল পুরুষ সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে ঘরে ঢোকে। দেখে ত্রাসে সে থর থর কাঁপতে থাকে। আর তারকাঁপন দেখে লোকটি হা-হা শব্দে হাসে। দুই হাত মেলে তাকে ধরার জন্য এগোয়। সে প্রাণভয়ে ছুটে পালাতে থাকে এ-কোণ থেকে ওই কোণ। বেশিক্ষণ পারে না। দু’হাতে কলবন্দি ইদুরের মতো তাকে টিপে ধরে লোকটা। এবং ধর্ষণ করে।
“ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের সমীক্ষায় পাওয়া গেছে, দারিদ্রলাঞ্ছিত মানুষ অনেক বেশি মাত্রায় এডসের শিকার। অনেক দেশেই জীবনধারণের অন্য কোনও উপায় খুঁজে না পেয়ে তরুণী ও যুবতী মেয়েরা দেহব্যবসা শুরু করে। নিরাপত্তার সুব্যবস্থা না থাকায় এইচ আই ভি দ্বারা আক্রান্ত হয়। টানজানিয়ার কথা ধরা যাক। ক্রমবর্ধমান দারিদ্র আক্রান্ত সমাজে মেয়েদের প্রথাগত উপায়ে বিয়ে হওয়া কঠিন। সুতরাং যুবতী মেয়েদের মধ্যে বুড়ো বর বাগানোর জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। যুবাপুরুষদের চেয়ে বুড়োতেই তাদের বেশি টান একমাত্র এ কারণে যে বুড়োরা অনেক বেশি প্রতিষ্ঠিত। দেখা গেছে বুড়োদের থেকে এইচ আই ভি সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেক বেশি।”
যোনিপথ ছিঁড়ে-খুড়ে গিয়েছিল তার। সারা শরীর আঁচড়ে-কামড়ে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গিয়েছিল। সাতদিন বিছানা ছেড়ে উঠতে পারেনি সে। জগৎ সংসারে যা কিছু পরিবর্তন এর মধ্যে ঘটেছিল তার মধ্যে এও ছিল যে সেই দানব-সদৃশ লোকটি পুলিশের পোশাক পরে আরক্ষাকর্মী হয়ে যায় এবং সে লোকটিকে নগ্ন ও মাতাল অবস্থার পর সরাসরি সুস্থ পুলিশ হিসেবে দেখে।
প্রতি রাতে একজন-দু’জন করে সেই পুনর্বাসন কেন্দ্রের সমস্ত পুরুষকর্মী তাকে ধর্ষণ করেছিল। ভয় দেখিয়েছিল যদি সে ওপরতলায় নালিশ করে দেয় তবে খুন করে ফেলবে। পেট ভরে খেতে দেয়নি। কেন্দ্র থেকে দেওয়া পোশাকও তারা আত্মসাৎ করেছিল। সে স্বীকার করে, আজও স্বীকার করে, সেই মামির বাড়িতে সে পেট-ভরা খাবার অন্তত পেয়েছিল।
একদিন, আরও দু’জন মেয়ের সঙ্গে পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে সে পলায়ন করে। আবার তারা একটি দালালের কবলে পড়ে এবং আবার সেই মামির পাড়ায় গিয়ে ঠেকে।
সেই থেকেই এখানে। সেই থেকেই চলছে দেহব্যবসা। বহু দিন পর বাবা-মাকে চিঠি লিখেছিল সে। তারা দেখতে এসেছিল তাকে। কিন্তু গ্রামে ফিরে যেতে বারণ করেছিল। তার এই পেশার কথা জানাজানি হলে গ্রামে থাকা মুশকিল হবে সকলের।
মেনে নিয়েছিল সে। মা-বাবা আসত মাঝে মাঝে। বেঁচে ছিল যত দিন। সে-ও টাকা পাঠাত নিয়মিত। দাদারা আসেনি কোনও দিন। ডাকেনি। সে-ও যায়নি। মা বাবা মরে যাবার পর গ্রামের সঙ্গে সম্পর্ক চুকেবুকে গেছে।
“Twelve out of 49 children of prostitutes were motherless. 40 said that they have or had illiterate mothers.
Young girls are raped, beaten and starved and thus pressurised into receiving customers.
From the ancient temples of Delphi to the modern Hindu temples of India, the regular sexual abuse of young girls as temple prostitutes has been a way of obtaining religious merit.”
কেউ কারওকে স্পর্শ করেনি। শুধু চোখে চোখ রেখে বসে আছে। ছেলেটির মুখ বেদনায় বিবর্ণ। তার মুখ করুণ হয়তোবা। সে অস্ফুটে কথা বলে। এ পাড়ায় শত শত মেয়ের এ রকম কাহিনি আছে। করুণতর কাহিনি। তারা যখন সম্মেলনে যোগ দেয়, বহু জায়গার বহু যৌনকর্মীর সঙ্গে সুখ-দুঃখ, অভিজ্ঞতা, সুবিধা-অসুবিধা আদান-প্রদান সম্ভব করে তখন জানতে পারে আরও করুণ, বীভৎস সব কাহিনি। সভ্যতার জন্মলগ্ন থেকে এ কাহিনির সূচনা। শুধু অধর্মেই নয়, ধর্মেও জড়িয়ে গেছে বেশ্যাবৃত্তি।
মুম্বইয়ের একটি মেয়ের অভিজ্ঞতা ভয়ঙ্কর। পর পর তিন দিন অকথ্য অত্যাচার করেও তাকে রাজি করানো যায়নি যখন, তার সুগঠিত দেহের জন্য চড়া মূল্য হাঁকা পুরুষেরা হতাশ হয়ে ফিরে যেতে লাগল যখন, তখন একটি ছোট ঘরে নগ্ন করে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় তাকে। সেই ঘৱে সে ছাড়া ছিল মাত্র আর একজন। একটি কালকেউটে সাপ।
টানা দুদিন সে অনড় হয়ে বসেছিল সেই ঘরে। দু’চোখের পাতা এক করেনি। একবিন্দু জল পর্যন্ত খায়নি। তৃতীয় দিন সেভেঙে পড়ে এবং শয়তানের হাতে নিজেকে সঁপে দেয়।
