রেন্ডিগুলো বউ সেজে যে কী আনন্দ পায় কে জানে। সে এসবের থই পায় না। কী-ই বা তফাত গৃহবধুর সঙ্গে বারবধুর? ওরা দেয় শরীর আর মন, বিনিময়ে পালন-পোষণ পায়। তারা দেয় শুধু শরীর। বিনিময় প্রায় একই। পালন-পোষণ কিংবা অর্থ। মনই বা কটা বউ সত্যিকারের দেয় তার স্বামীকে? দিতে পারে ক’টা বউ! দেয় না। দিতে পারে না। দেওয়ার ভান করে মাত্র। অতএব এই দুনিয়া জুড়ে শুধুই শরীর-শরীর খেলা। আরে কে বেশ্যা, কে বধু ঠিক করে দিল কারা? সমাজের গোটা ক’জন ধরে-বেঁধে বলে দিল এই মেয়েটা এই ছোলসঙ্গে শোবে। ব্যস হয়ে গেল বর বউ। আর বহু পুরুষ চড়ালেই সব বেশ্যা। সব বেশ্যা। আক্ থুঃ। সমাজের চাদমুখে সে মুতে দেয়। এবং যত বার সমাজ’ শব্দটা সে ভাবে, তত বার, সে জানে না কেন, তার চোখে ভাসে অসংখ্য পুরুষের শক্ত, রাগত, নির্মম মুখ।
ছেলেটির মুখোমুখি এসে সে বসে আবার। দু’হাত মাথার পেছনে দিয়ে চোখ বন্ধ করে বসে আছে সে। ভাল-জৌড়-ডিমের। ছেলেটা লাগাতে আসেনি। কথা বলতে এসেছে। এসে মুখে কুলুপ এঁটেছে। আশ্চর্য। ছেলেটাকে ধ্বজভঙ্গ বলেও তো মনে হচ্ছে না। ধ্বজভঙ্গদের অবশ্য বাইরে থেকে দেখে বোঝা যায় না। কত রকমই না জুটেছে তার। একবার এক ধ্বজভঙ্গের কী কান্না! পারবে না বলে কী আফসোেস। ওফ! শেষে সারাক্ষণ আঙলি করে গেল। কী অস্বস্তি। পরে ওই লোক চাইলেও সে আর নেয়নি। খেয়ালি আর বদমেজাজি রেন্ডি বলে এ পাড়ায় বদনাম আছে তার।
পাক বদনাম। সে জানে তার সংকল্পগুলো ভাল। যত দিল গতর দেয়, কামিয়ে নেবে। তারপর ঘরবাড়ি কিনবে। কিনে মাসিও হবে না। এই এলাকা থেকে চলেও যাবে না। খানকির ছেলেগুলো পেট থেকে পড়েই রাস্তায় ঘোঘারাঘুরি করে। এই সব বন্ধ করবে সে। বেশ্যার ছেলেকে দালাল, হতে দেবে না আর। খানকির মেয়েকে নতুন করে রেন্ডি বানাবে না। সে একটা ইস্কুল করবে। অনাথদের জন্য হোম। অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা জানা আছে তার। কথাও বলেছে সে কয়েকটির সঙ্গে। টাকারঅভাব হবে। শুধু মনের জোর চাই। আর ইচ্ছা। তার কাজে উৎসাহ দেবার জন্য অনেক লোক থাকবে। বাধা দেবার লোকও কম পড়বে না।
