আমি জানি, নীলা বলে, পাসকালের পক্ষে এ মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তুমি ওর কাছে ক্ষমা চেয়ে নাও। তারপর আমার সঙ্গে আর যোগাযোগ কোরো না। আমিও করব না।
বেনোয়া তার খালি গেলাসটি মেঝেয় ছুঁড়ে ফেলে চেঁচিয়ে ওঠে, এই কি তুমি চাও?
নীলা কেঁপে ওঠে বেনোয়ার বিকট শব্দে।
টেনে তাকে চেয়ার থেকে ওঠায়, সামনে দাঁড় করিয়ে বেনোয়া বলে, আমার চোখের দিকে তাকাও।
নীলা মেঝেয় টুকরো কাচের দিকে তাকিয়ে থাকে।
ওদিকে কী দেখছ? তোমার দামি গেলাস ভেঙে দিয়েছি?
বেনোয়ার চোখে তাকায় সে, চোখে উৎকণ্ঠা কাঁপে।
তুমি কি আমাদের সম্পর্ক শেষ করে দিতে চাও? এ তোমার মনের কথা?
নীলার চোখের কোনায় দুফোঁটা জল থমকে থাকে। চিবুক উঁচু করে ধরে চোখের জল দেখে বেনোয়া, যতক্ষণ না সে জল গড়িয়ে নামে।
ভাঙা কণ্ঠে নীলা বলে, না আমি চাই না।
নীলাকে বুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বেনোয়া উন্মাদের মতো চুমু খায়। শরীর অবশ হতে থাকে নীলার।
অবশ হতে থাকা শরীরটিকে বিছানায় নিয়ে বুকে মুখ ঘসতে ঘসতে বেনোয়া বলতে থাকে, জ তেম জ তেম জ তেম।
স্বস্তির শ্বাস ফেলে নীলা। মলিনাকে কি কখনও এভাবে ভালবেসেছেন অনির্বাণ। যেভাবে তাকে জড়িয়ে ধরে আছে বেনোয়া, অনির্বাণ কখনও মলিনাকে এভাবে জড়িয়ে ধরেননি, কখনও বলেননি, যে তিনি মলিনাকে ভালবাসেন। মলিনা যদি পাখি হয়ে বসতেন ওই জানালায়, একবার দেখতেন কেউ তাঁর কন্যাকে ভালবাসছে…।
এই, কী ভাবো?
নীলার চিবুক ধরে নিজের দিকে ফেরায় বেনোয়া।
নীলা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, কিছু না।
কিছু তো নিশ্চয়ই। আমাকে বলো।
তুমি আমাকে সত্যিই ভালবাসো বেনোয়া?
কেন এ কথা জিজ্ঞেস করছ, বোঝো না?
মাঝে মাঝে…
কী মাঝে মাঝে?
মাঝে মাঝে আমার কাছে অবাক লাগে, যে তুমি আমাকে ভালবাসো। আমি কে, বলো? আমি কিছু না। কেউ না। আত্মীয় বলো, বন্ধু বলল, কেউ নেই আমার। ভাঙাচোরা জীবন আমার।
তোমার আমি আছি তো! আমি তোমাকে সব দেব, সব দেব।
বেনোয়া নীলাকে সব দেয়। শরীরে যতটা নীলার প্রয়োজন, তারও চেয়ে বেশি দেয়। একবার নয়, বারবার দেয়। সারারাত দেয়।
ভোরের আলো নীলার কপালে ঠোঁট ছোঁয়ালে নীলা বলে, এই ঘুমোবে না নাকি! সাতবার হল কিন্তু।
বেনোয়া বাঁ হাতের ওপর মাথার ভর রেখে কাত হয়ে ডান হাতে তার প্রিয় চেরিদুটো নিয়ে খেলা করতে করতে বলে, তুমি আমার ঘুম কেড়ে নিয়েছ নীলা। কী যে আশ্চর্য সম্পদ তোমার ভেতরে, যত ভেতরে যাই, তত ইচ্ছে করে যেতে, প্রতিবার যেন প্রথমবারের মতো যাচ্ছি, প্রতিবার যেন নতুন করে দেখছি তোমাকে, যত তৃষ্ণা মেটাই, তৃষ্ণা আরও বাড়ে। সবচেয়ে ভাল লাগে তুমি যখন আনন্দে কাতরাতে থাকো, দেখতে। তুমি যখন আমার পিঠ খামচে ধরো প্রচণ্ড সুখে, পৌরুষ সার্থক মনে হয় আমার!
.
সকালে নীলাকে নরম স্পর্শে জাগায় বেনোয়া। সুপ্রভাত মাদাম। বেনোয়ার হাতে ট্রে, ট্রেতে কোয়াসোঁ, আর চা। সকালের স্নিগ্ধতা বেনোয়ার সারা মুখে।
নীলা বিছানায় শুয়ে চা পান করে না তো করে অমৃত পান।
বেনোয়া বলে, কাল আমার মাথার ঠিক ছিল না নীলা। আমি খুব দুঃখিত।
নিজের কফি নিজেই বানিয়ে নিয়েছে বেনোয়া, নীলা দেখে আর ভাবে, একদিনও সে অনির্বাণকে বা কিষানলালকে দেখেনি নিজে কফি বা চা বানাতে। কোনওদিনও শোনেনি, কোনও ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করতে। নীলা মুগ্ধ চোখে বেনোয়াকে নয়, দেখে নিজেকে। নিজের সৌভাগ্যকে।
সকালবেলা অনেকক্ষণ দেখেছি তোমার ঘুমন্ত মুখ। কী সুন্দর শিশুর মতো ঘুমোচ্ছিলে। তোমার যেন ঘুম না ভাঙে, পা টিপে উঠে শ্যাম্পেনের ভাঙা গেলাস সরালাম, তোমার যেন পা না কাটে, ও জায়গাটা ভাল করে ঝাড়ু দিয়ে দিলাম। তারপর স্নান করলাম, বুলনজেরি থেকে কোয়াসোঁ কিনে আনলাম, চা বানালাম, তারপর তোমাকে ডেকে তুললাম।
গুনে গুনে নীলাকে একশো চুমু খেয়ে, বাড়ির দরজার দুটো চাবির মধ্যে থেকে একটি তুলে নিয়ে, বেনোয়া আপিসে যায়। আপিস থেকে ঘণ্টায় দুবার ফোন করে জানায়, সে নীলাকে ভালবাসে। শেষে এও জানায়, পাসকালকে তুলে আনতে আজ আপিস ছুটির পর তার ইশটিশনে যেতে হবে। ইশটিশন থেকে সোজা রু দ্য রেনে। আর পাসকালের জন্য না হলেও জ্যাকলিনের জন্য তাকে বাড়ি থাকতে হবে। দেখা হচ্ছে না।
.
নীলা দিন পার করে শুয়ে বসে, দুএকটি বইয়ের কিছু পাতা পড়ে, সন্ধের পর টেলিভিশন খোলে, বন্ধ করে। শুয়ে থাকে, উঠে বসে। জ্যাক ব্রেলের গান শোনে। গান বন্ধ করে। বারান্দায় দাঁড়ায়, ফিরে আসে। রান্নাঘরে ঢোকে। রান্না করতে ইচ্ছে করে না। ফোনের কাছে যায়, রিসিভার হাতে নেয়, রেখে দেয়। বালিশে মুখ গোঁজে, চাদরে মুখ মাথা ঢাকে, চাদর সরিয়ে ফেলে, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একটি একটি করে পরনের কাপড় খোলে, নিজেকে দেখে, কাপড় পরে আয়নায় নিজেকে ভেংচি কেটে, কাঁদো মুখ করে, স্মিত হেসে, হা হা হেসে, সরে আসে। একা বসে গান গাইতে গীতবিতান হাতে নেয়, গাইতে গিয়ে লক্ষ করে গলার স্বর বুজে আসছে, গীতবিতান রেখে দেয়।
আর রাত হলে বিছানায় শুয়ে সে খোলা জানালায় কালো আকাশ দেখতে দেখতে ভাবে, বেনোয়া পাসকালকে চুমু খাচ্ছে, ঠিক যেমন করে চুমু খায় নীলাকে। জ্যাকলিনকে ঘুম পাড়িয়ে পাসকাল শোবার ঘরে এসেছে, আর তাকে জড়িয়ে ধরে বেনোয়া বলছে জ তেম জ তেম জ তেম। জ তেম প্যাশনোমো, জ তেম সিরিয়াসোমো। তারপর ঠিক যেমন করে নীলাকে উলঙ্গ করে বেনোয়া, তেমন করে করছে পাসকালকে। নীলার স্তনবৃন্ত দুটোর নাম যদি চেরি হয়, পাসকালের ও দুটো লিঙমবেরি তবে। পাসকালের সাদা ত্বক স্পর্শ করে বেনোয়া উল্লাসে ফেটে পড়ছে আর বলছে, কী সুন্দর রং তোমার, কী মসৃণ তোমার ত্বক, ঠিক যেমন করে নীলার রং দেখে সে বলে। পাসকালের ভেতর ঢোকার জন্য বেনোয়ার পুরুষ অঙ্গ ফুলে ফেঁপে উঠেছে, ফুঁসছে। সারারাত পাসকালকে ঠিক তেমন করে সুখ দিচ্ছে, যেমন করে নীলাকে দেয় বেনোয়া।
