কী করে?
শিখতে হয় প্রেমিকের কাছ থেকে, বালিশ থেকে বালিশে, শুয়ে।
নীলাকে বুকে জড়িয়ে নীলার চুলের সুগন্ধ নিতে নিতে বেনোয়া বলে, তুমি কি আমাকে ভালবাসো?
বাসি। নীলা বলে।
তবে বলো, জ তেম।
জ তেম।
এল, এমব্রোসো মো।
এমব্রোসো মো।
বলো, লা ভি এ বেল।
লা ভি এ বেল।
সা সে লা ভি।
সা সে লা ভি।
বেনোয়া চুমু খায় নীলাকে আবার।
বেনোয়া শান্তিপুরি চপ্পল খুলে নীলার পায়ে চুমু খায়, পায়ের প্রতিটি আঙুলে, সুশান্তর কথা ভাবে নীলা, সুশান্তও তো তাকে ভালবাসে বলে বলত, কিন্তু কখনও তো এভাবে বেনোয়ার মতো আদর করেনি। বেনোয়ার ভেতরে এক শিল্পী বাস করে, বেনোয়াই পুরো জগতের আর সব পুরুষ থেকে আলাদা না কি সব ফরাসি পুরুষই এমন চমৎকার করে ভালবাসে তাদের প্রেমিকাদের। নীলা বোঝে না, না বোঝা চোখে থই থই করে প্রেম।
আমি তোমার বয়সে বড় জানো তো। আমাদের দেশে বয়সে বড়দের দিদি বলে ডাকে। বোনকে যেমন দিদি বলে। নীলা বলে।
তুমি যদি চাও তোমাকেও দিদি বলব।
ও কাজটি কোরো না। তা হলে তোমাকে আমি চুমুই খেতে পারব না।
বেনোয়া আবার চুমু খায় নীলার ঠোঁটে জিভে। চুমু খেয়ে মুখটি উঠিয়ে বলে, দিদি।
আবার চুমু খেয়ে আবার দিদি বলে।
বয়সে বড় তুমি? তাতে কী হয়েছে?
আমাদের সমাজে প্রেম করো বা বিয়ে করো, ছেলেদের হতে হবে বড়, মেয়েদের বয়সে ছোট।
এ তো তোমাদের সমাজ নয়। এ আমাদের। ভাল যে এ আমাদের, নয়তো তোমাকে আমার পাওয়া হত না। বেনোয়া হেসে বলে।
এই যে কচি কচি ফুটফুটে মেয়েগুলো সারা শহর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, তোমার ইচ্ছে করে না কাউকে জ তেম বলতে?
ঠোঁট ওলটায় সে, না।
তুমি তো বলেছ, বাদামি রং নাকি পছন্দ, রোদে পুড়ে ওরাও তো এই রং পাচ্ছে, তবে?
বেনোয়া অনেকক্ষণ হেসে বলল, ও রং তো ওদের কদিন পর চলে যাবে, কৃত্রিম রং। ছো!
বেনোয়া আবার চুমু খায়, নীলাকে জড়িয়ে।
তুমি বয়সে বড় তো। এ ভাল, তোমার কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।
আমার চেয়ে তুমি অনেক বেশি জানো।
কী জানি তোমার থেকে বেশি?
নীলা বেনোয়ার নাক নাড়ে দু আঙুলে, তুমি জানো তুমি কী জানো।
না জানি না, বলো।
বলব না।
বলবে না?
না।
কেন?
ইচ্ছে।
আমারও একটি ইচ্ছে আছে।
কী, শুনি।
এ শোনার জিনিস নয়।
তবে কীসের জিনিস।
অনুভবের।
নীলা চোখ বোজে।
চোখ বুজে সে অপেক্ষা করে বেনোয়ার স্পর্শের, বেনোয়ার বেনো জলের, প্রলংকরী ঝড়ের।
অনেকক্ষণ কোনও স্পর্শ নেই। চোখ খুলে নীলা দেখে বেনোয়া তার পাশেও নেই, হাসছে মেঝেয় শুয়ে, নীলার নাগাল থেকে দূরে।
কিছু অনুভব করেছ?
দুষ্টুমি হচ্ছে, না? নীলা বিছানা থেকে নেমে বেনোয়ার পাশে বুকের ওপর মাথা রেখে শোয়।
বেনোয়া এক হাতে নীলাকে জড়িয়ে রাখে। সাদা বুকে বাদামি আঙুল বুলোতে বুলোতে চুমু খায়, বুক থেকে নীলার ঠোঁট বেনোয়ার গলায়, চিবুকে, ঠোঁটে।
দু বাহুতে নীলাকে শক্ত করে বেঁধে বেনোয়া বলে, জ তেম, জ তেম, জ তেম।
এখানেই জগৎ থেমে যাক। শ্বাস বন্ধ করে রাখে সে। তৃষ্ণার জন্য এক ফোঁটা তার প্রয়োজন ছিল, বেনোয়া উজাড় করে গোটা সমুদ্র তাকে ঢেলে দিচ্ছে, এত তার প্রাপ্য ছিল না, নীলা তাড়া খাওয়া, আত্মীয়হীন বন্ধুহীন, আশ্রয়হীন একটি অসহায় প্রাণী, মেরুদণ্ড ভেঙে যাওয়া, কুঁকড়ে যাওয়া, কুঁচকে যাওয়া, তলিয়ে যাওয়া।
আবেগে সে চোখ বোজে। সেই বোজা চোখের ওপর বেনোয়ার ঠোঁটের স্পর্শ। বেনোয়ার ভালবাসা নীলা সমস্ত শরীরে অনুভব করে। সমস্ত হৃদয়ে। যত গভীরে যায় বেনোয়া, যত অতলে, নীলা টের পায়, এ নিছক সঙ্গম নয়, শরীর শরীর খেলা নয়, এ গভীর গহন ভালবাসা। এ শরীরকে শুদ্ধ করে, স্নিগ্ধ করে, শীতল করে। এ হৃদয়কে প্রফুল্ল করে, প্রশস্ত করে, প্রোজ্জ্বল করে।
.
বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে দুজন রাতে, ঘড়িতে রাত, অথচ আকাশ জুড়ে আলো। এ প্রকৃতির ক্ষতিপূরণ, শীতকালে আলো কেড়ে নেয় বলে গ্রীষ্মে এসে তার পূরণ করে দেয়। শাঁজ এলিজের ঘাসের ওপর ঘন হয়ে বসে থাকে, হৃদয়ে আনন্দধারা বইতে থাকে নীলার। একটি সাদা ঘাসফুল তুলে, ঘাসফুলের নাম মার্গারিত, পাপড়িগুলো ছিঁড়ে ছিঁড়ে বেনোয়া বলতে থাকে, জ তেম, ওঁ প, বকু, প্যাশনোমো, আলা ফলি, পা দু তু। তোমাকে ভালবাসি, অল্প, বেশি, অত্যধিক, পাগলের মতো, একটুও না। শেষ পাপড়িটি যেটিতে এসে থামবে, সেটিই ধরে নিতে হবে মনের কথা। এই পাপড়ি ছেঁড়া খেলায় বেনোয়ার শেষ পাপড়িতে হয় আলা ফলি, নীলার হয় পা দু তু। বেনোয়া বলে, দেখলে তো আমি তোমাকে পাগলের মতো ভালবাসি, তুমি আমাকে একটুও না।
তাই মনে হয় তোমার? নীলা হেসে বলে।
নীলাকে চুমু খায় প্রথম, পরে বলে, না। আমি জানি তুমি আমাকে খুব ভালবাসো।
আর তুমি কি সত্যিই আলা ফলি?
আমি সত্যিই আলা ফলি।
ক্যাফেতে বসে রাতের খাবার খেতে খেতে মানুষের ঢল দেখে নীলা, আলোয় ভাসছে মানুষ, উচ্ছল উজ্জ্বল প্রাণবন্ত মানুষ। শাঁজ এলিজে সারারাত জেগে থাকে, হাজার মানুষের ভিড় সারারাত। ক্যাফের ভেতর সেজেগুজে ষাট সত্তর বছর বয়সের মহিলারা বসে আছে। দেখে নীলা বলে, বুড়োবুড়ি কারওরই ঘুম নেই!
ওই ধনী বুড়িগুলো বসে আছে জিগোলো পেতে। বেনোয়া নীলার কানে কানে বলে।
জিগোলো পেতে মানে? গলা চেপে নীলা।
যুবকেরা আসবে, যে যাকে পছন্দ করবে, তার সঙ্গে সেঁটে যাবে এরা।
