বেনোয়া নীলার শরীরের ওপর নিজের শরীর ফেলে না, দু হাতে ভর রেখে শরীরকে তুলে রাখে শরীরের ওপর, কেবল সেই দৈত্যটি তার অথৈ জলের কাছে গোড়ালি ভেজাতে থাকে। নীলা ছটফট করে, তীব্র এক তৃষ্ণা তাকে কামড়াতে থাকে, জল ফুসে উঠলে দৈত্যটি তীরের বালুতে দৌড়ে চলে যায়। জল ফুসতে থাকে, ওকে পেতে। ও যাবে না। একী খেলা, মুখের কাছে টোপ ঝুলিয়ে রেখেছ, খেতে দাও। নীলা চোখ খুলে দেখে বেনোয়া হাসছে। দুহাতে বেনোয়ার পিঠ আঁকড়ে নিজের দিকে টানে সে।
কী চাও, বলো। বেনোয়া ফিসফিস করে। আবছা আলো এসে পড়েছে অদ্ভুত সুন্দর মুখে। এত গভীর নিকটে এমন সুদর্শন নীলা কখনও দেখেনি আগে। নীলার সারা গা ভালবাসায় কাঁপে।
বলো কী চাও।
লাজে রক্তিম হয় নীলা, সে বলে না সে কী চায়। ডানে কাত করে মাথা, বেনোয়াও ডানে ফেরে, নীলা বামে ঘোরায়, বেনোয়াও বামে।
কী, দেরি সইছে না বুঝি?
দেরি সইছে না তার কিন্তু মুখে এ কথা বলতে সে জানে না, শেখেনি, অভ্যেস নেই। ব্রীড়ার চাদর তাকে আমুল ঢেকে রাখে।
বেনোয়া মিষ্টি মিষ্টি হাসে। দুষ্টু দুষ্টু হাসে। হাসতে হাসতে নীলার ছাতি ফেটে যাওয়া তৃষ্ণা দেখে।
হঠাৎ কোনও কিছু জানান না দিয়ে সেই হিমালয় পাড় বিদীর্ণ করে নীলার থইথই জলে ঢুকে যায়, সবটুকু জল এক অতিকায় তিমির মতো শুষে নেয়। আর্তনাদ করে ওঠে নীলা, ধনুকের মতো বেঁকে ওঠে মসৃণ শ্যামল শরীর।
আর বেনোয়া, সেই এপোলো, সেই ঝড়ের দেবতা, ভেঙে তছনছ করে সব, বলতে বলতে তুমি তো কুমারী মেয়ে, কেউ তোমাকে স্পর্শ করেনি এর আগে, কেবল আমি, কেবল আমি! নীলার পা দুটো বুকের ওপর তুলে ঝড় তোলে, পা দুটোয় চুমু খেতে খেতে, তেড়ে আসে উদ্দাম উত্তাল সর্বনাশের মতো। ঝড়ের গতি দ্রুত বাড়তে থাকে, ভেতরে বাইরে ঝড়ের দেবতা হাসছে। সারা শরীরে তার উথাল পাথাল সুখ, বিদ্যুৎ চমকের তীব্র সুখ।
চিত হয়ে শোয়া নীলাকে ঝটিতে বেনোয়া নিজের কোলের ওপর বসিয়ে দেয়, আর নিজে শ্রান্ত দু হাত দু পাশে ছড়িয়ে শুয়ে পড়ে।
ঘোড়ার পিঠে চড়েছ কখনও?
না, চড়েনি, ঘোড়া দৌড়োনোর অভ্যেস তার নেই, নিশ্চল বসে থাকে সে।
বেনোয়া তাকে দুহাতে ওপরে তোলে, নীচে নামায়। অশ্বচালনা শেখায়। দুর্বার গতিতে তাকে ছুটতে বলে। কানে কানে মন্ত্র দেয় তুখোড় অশ্বারোহী হবার। টেনে আনে নিজের কাছে, দু স্তন মুঠো করে ধরে, আর সেই চেরিফলের নেশায় মাতাল হতে থাকে।
বিছানার একপাশ থেকে একের গভীরে ঢুকে থাকা আরেক, গড়িয়ে অন্য পাশে যায়। সেই পাশ থেকে দৃঢ় আলিঙ্গনে বেঁধে পরস্পরকে আরেক পাশে। গড়াতে গড়াতে দুটো শরীর এবার মেঝেয়।
আবার ফিসফিস করে বেনোয়া, নাচতে জানো?
নীলা নাচতে জানে না। নাচ সে শেখেনি কোনওদিন।
নাচো, ঘুরে ঘুরে নাচো, আমার দিকে পেছন ফিরে নাচো।
শরীরটিকে ঘুরিয়ে দিয়ে নাচায় বেনোয়া। এমন নাচ নীলা নাচেনি কখনও, পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে নীলাকে নাচের তালিম দেয়। এরপর সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে দিয়ে শুইয়ে দেয় উপুড় করে, সুঠাম সুদর্শন শরীরে ঢেকে দেয় সুশ্রী সুতনু।
ঝড় বইছে পেছনের আঙিনায়। আবার তছনছ।
নীলা চিৎকার করে বিদ্যুৎ চমকে।
সেই ঝড়ো হাওয়া এতটুকু না থেমে, নীলার কটিদেশ তুলে আনে ওপরে। নিতম্বজোড় বেনোয়ার হাতের মুঠোয়। হাঁটু ভেঙে বসে নীলার সমুদ্রে উত্তাল ঢেউ আনে আবার। আবার গোড়ালি ভেজাল তো, আচমকা ঝাঁপিয়ে পড়ে সেই ঢেউএ, পুরো গা ভিজিয়ে স্নান করে।
নীলা হাঁপাতে থাকে।
মেঝে থেকে তুলে নীলাকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে বেনোয়া জল নিয়ে আসে, গেলাসে অর্ধেক খেয়ে বাকিটা নীলাকে দেয় খেতে। জল খেতে খেতে আড়চোখে দেখে সে, লাল জিভ বের করে দৈত্যটি তখনও ফুঁসছে। বেনোয়া পাঁজাকোলা করে নীলাকে সোফায় এনে নিজের কোলে বসায়। সারা শরীরে চুমু খেতে খেতে তাকে চঞ্চল করতে করতে বলে, এত সুন্দর নিতম্বকে স্থবির করে রাখো কেন, দোলাও, দোলাও আমার জগৎখানা দোলাও।
দোলাতে সে জানে না। দোলাতে বেনোয়াকেই হয়। ঝড়ের বেগ যখন বাড়ে, নীলাকে কোলের ওপর তুলেই বেনোয়া দাঁড়ায়। শরীরটিকে শূন্যে তুলে, দেয়ালে সেঁটে ঝড় বইরে দেয় ভেতর ঘরে, আবার। নীলার শীৎকারে চিৎকারে ঘর দোলে। বেনোয়া দোলে। দুলতে দুলতেই, নীলাকে, যেন ছোট্ট শিশু, বাঁ কাতে শুইয়ে দেয় বিছানায়। পেছন থেকে জাপটে রাখে ক্লান্ত শিশুকে, শিশুর বুকের কচি বাতাবিলেবু দুটোকে, তার ওপরের দুটে চেরিফলকে। তারপর নতুন উদ্যমে বেনোয়া, সেই ঝড়, সেই তুফান, সেই তছনছ করে দেওয়া উন্মত্ত উত্তাল উত্তেজনা, প্রবল গতিতে ঢোকে নীলার শান্ত স্নিগ্ধ মন্দিরে, ভেঙে চুরে সর্বনাশ করে ঘেমে নেয়ে বিদ্যুৎচমক আনে, সেই চমক নীলা থেকে বেনোয়ায় সংক্রামিত হয়, বেনোয়া থেকে নীলায়। বেনোয়ার সাদা বেনো জলে নীলার দুকুল ভেসে যায়, নীলার ভুবন ভেসে যায়।
ঘাম ঝরছে বেনোয়ার চুলের গোড়া থেকে, বুক পিঠ থেকে। তখনও সুখে কাঁপতে থাকা নীলার শরীরখানি জড়িয়ে রাখে বেনোয়া, বুকে।
.
মোমবাতি অনেকক্ষণ নিবে গেছে। ব্রায়ান অ্যাডামস অনেকক্ষণ থেমে গেছে। ঘড়ির কাঁটা এক এক করে তিন ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। মধ্যরাতও পার হয়েছে।
বেনোয়ার বুকের সুগন্ধ নিতে নিতে নীলা তখন খানিক ঘুমে, খানিক না ঘুমে। আঁধার আঁধার ঘরটিতে বেনোয়াকে সেই রাজপুতুরের মতো লাগে, নীলা যে হঠাৎ হঠাৎ ভাবত একটি রাজপুত্তুর এসে তাকে ঘোড়ায় তুলে নিয়ে যাবে তার প্রাসাদে। এই তো সেই প্রাসাদ এই সেই রাজপুত্তুর। নীলার সারা শরীরে অদ্ভুত এক প্রশান্তি, সারা হৃদয়ে সুখ। এর চের বেশি সুখ, নীলার বিশ্বাস, আর কেউ পেতে পারে না। ভালবাসা এত তীব্র করে এর আগে কখনও সে অনুভব করেনি। নীলা থরথর কণ্ঠে বলে তোমাকে খুব, খুব ভালবাসি বেনোয়া। বলে না, এক দেখাতেই প্রেম। এমনই হল আমাদের।
