রূপা কি বলবে চুপ করে ভাবতে লাগল।
আসিফ একটু অপেক্ষা করে বলল, আব্দুস সাত্তার প্রায় প্রতিদিন আমাদের বাসায় আসে। সপ্তাহখানেক আগে এসেছিল। তার মন খারাপ দেখে বললাম, কী রে, কী হয়েছে? বলল, আপনি নাকি ওকে ফ্রড ভাবেন। তাই মনে খুব আঘাত পেয়েছে। আমি ব্যাপারটা জানতে চাইলে আপনার সঙ্গে ফোনে যা কিছু আলাপ হয়েছিল বলে দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বলল, আমি জীবনে আর কোনো মেয়ের কথা চিন্তা করতে পারব না। বললাম, দোষ তোর। তুই কেন আজ দেড় বছর তার সঙ্গে লুকোচুরি খেলছিস? তা ছাড়া তুই মাঝে মাঝে অনেকদিন তার সঙ্গে যোগাযোগও রাখিস না। মেয়েটি নিশ্চয় খুব ভালো, তাই তোর সঙ্গে ফোনে কথা বলে। ঠিকানা দে, আমি তোদের ভুল ভাঙ্গিয়ে দেখা সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেব। ও অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “কারো কথায় রূপা আমাকে ভালবাসবে, তা মেনে নিতে পারব না। এ ব্যাপারে আর কোনো কথা বলবি না। বললে এতদিনের বন্ধুত্ব হারাবি।” তার কথা শুনে আমি আর কিছু বলি নি।
আপনি নিশ্চয় ওঁর ঠিকানা জানেন?
হ্যাঁ, জানি।
ফোন নাম্বার?
তাও জানি।
রূপা ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে কাগজ কলম বের করে বলল, লিখে দিন তো?
মাফ করবেন, ঠিকানা বা ফোন নাম্বার কোনোটাই দিতে পারব না।
রূপা খুব অবাক হয়ে বলল, কেন?
আপনাদের সম্পর্কের কথা প্রথম যখন বলে তখন ওয়াদা করিয়ে নিয়েছিল, আমি যেন কাউকে তার ঠিকানা বা ফোন নাম্বার না জানাই।
ওঁর পুরো বায়োডাটা বলুন তো?
মাফ করবেন, তাও বলতে পারব না, নিষেধ আছে।
রূপা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বলল, তা হলে আপনি আমার কোনো উপকার করতে পারবেন না?
বিশ্বাস করুন, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পারছি না। তারপর একটু চিন্তা করে একটা ফোন নাম্বার লিখে দিয়ে বলল, ও প্রতিদিন তিনটের দিকে আমাদের বাসায় আসে বললাম না? সে সময় ফোন করে কথা বলতে পারেন।
রূপা খুশী হয়ে বলল, অনেক ধন্যবাদ। তারপর কাগজটা ভ্যানিটি ব্যাগে রেখে বলল, বোনেরা আমাদেরকে নিয়ে অন্য কিছু ভাবতে পারে। চলুন ওঠা যাক বলে দাঁড়িয়ে পড়ল।
আসিফও দাঁড়িয়ে মৃদু হেসে বলল, ভাবাটাই তো স্বাভাবিক। ওরাও তো বড় হয়েছে।
.
আসিফ ও রূপা অন্য টেবিলে চলে যাওয়ার পর সায়মা উম্মে কুলসুমকে জিজ্ঞেস করল, আপনি নিশ্চয় পড়াশোনা করছেন?
হ্যাঁ, কামিল ফার্স্ট ইয়ারে।
আপনাদের হোম ডিস্ট্রিক্ট কোথায়?
উম্মে কুলসুম চিন্তা করল, ভাইয়া যখন নাম পাল্টে বলেছে তখন নিশ্চয় কোনো কারণ আছে। তাই সেও হোমডিস্ট্রিক্ট পাল্টে বলল, দিনাজপুর।
ঢাকায় কোথায় থাকেন?
এটাও পাল্টে বলল, রাজারবাগ।
নিজেদের বাড়ি?
হ্যাঁ।
আপনারা কয় ভাই বোন?
তিন বোন ও দুই ভাই। বড় ভাই দু’বছর আগে মারা গেছেন। আমি সবার ছোট। তারপর উম্মে কুলসুম মৃদু হেসে বলল, আপনি তো আমার সবকিছু জানলেন, এবার আপনাদেরটা বলুন।
সায়মা তাদের সবকিছু বলে বলল, আপনার সঙ্গে আলাপ করে খুব ভালো লাগল। ফোন নাম্বারটা দিন, মাঝেমাঝে আলাপ করব।
ফোন নাম্বার দেওয়াটা ঠিক হবে কিনা উম্মে কুলসুম চিন্তা করতে লাগল।
কী ব্যাপার? আপনাদের ফোন নেই? না আমাকে আপনার ভালো লাগে নি?
না-না, তা কেন? আপনাকে আমারও ভালো লেগেছে। তারপর একটা কাগজে ফোন নাম্বার লিখে দিয়ে বলল, আপনাদেরটা দেবেন না?
নিশ্চয় বলে সায়মা আব্বার একটা কার্ড দিল।
কার্ডের ওপর চোখ বুলিয়ে উম্মে কুলসুম হর্ষোৎফুল্লা কণ্ঠে বলল, ওমা, আপনারা মন্ত্রীর মেয়ে?
এমন সময় রূপা ও আসিফ ফিরে এলে উম্মে কুলসুম ভাইয়াকে উদ্দেশ্য করে বলল, জান ভাইয়া, ইনারা মন্ত্রীর মেয়ে।
আসিফ বলল, আমি জানি। এবার চল, তোর তো অনেক কিছু কেনার রয়েছে।
.
ফেরার পথে সায়মা আপুকে বলল, আসিফ সাহেব কী এমন আলাপ করলেন। যা আমাদের সামনে করা গেল না?
যা কিছু আলাপ হয়েছে বলে রূপা বলল, তুই তো আসিফ সাহেবকেই আব্দুস সাত্তার বলেছিলি।
আজও তাই বলব। রূপা হেসে উঠে বলল, সাধে কি আর বলি তোর বুদ্ধি একদম কাঁচা।
ঠিক আছে, কাঁচা বুদ্ধি নিয়েই বেড ধরেছি, ।আসিফ সাহেব যদি আব্দুস সাত্তার না হন, তা হলে তোকে আমি পাঁচশ টাকা দেব। আর যদি হন, তা হলে তুই কী দিবি বল?
বেড ধরা ইসলামে নিষেধ। তাই ওসব বাদ দিয়ে বল, কেন তুই এত জোর দিয়ে কথাটা বলছিস? কোনো প্রমাণ পেয়েছিস?
প্রমাণ যা পেয়েছি, তা বললে তুই আমার বুদ্ধিকে কাঁচা বলবি। যেদিন পাকা প্রমাণ পাব, সেদিন বলব।
তা হলে অনুমান করে বলেছিস?
হ্যাঁ।
যাদের বুদ্ধি কাঁচা, তাদের অনুমানও কাঁচা।
সায়মা রেগে উঠে বলল, বারবার কাঁচা বুদ্ধি কাঁচা বুদ্ধি বলে রাগাবি না বলছি। যেদিন প্রমাণ করব আসিফ সাহেব ও আব্দুস সাত্তার একই মানুষ, সেদিন বুঝিয়ে দেব কার বুদ্ধি কাঁচা আর কার বুদ্ধি পাকা।
রূপা হাসতে হাসতে বলল, ঠিক আছে, তাই বোঝাস।
সায়মা তাকে হাসতে দেখে আরো রেগে গিয়ে বলল, অত হাসিস না, বেশি হাসতে হাদিসে নিষেধ, সে কথা ভুলে গেছিস বুঝি?
ততক্ষণে গাড়ি বাসায় পৌঁছে গেল। রুমে এসে সায়মা বলল, আসিফ সাহেবের ফোন নাম্বারটা দে তো।
রূপা ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে কাগজটা বের করে দিল।
উম্মে কুলসুম সায়মাকে যে নাম্বার দিয়েছিল সেটা বের করে মিলিয়ে দেখল একই। বলল, বাসার ঠিকানা নিস নি?
রূপা বলল, না।
এটা কিন্তু তোর পাকা বুদ্ধির পরিচয় হয় নি। আমি কিন্তু ওঁর বোনের কাছ থেকে দুটোই নিয়েছি। যদিও মনে হচ্ছে, ফোন নাম্বার ঠিক দিলেও বাসার ঠিকানা ঠিক দেয় নি।
