• আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি
শনিবার, জুন 6, 2026
  • Login
BnBoi.Com
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
BnBoi.Com
No Result
View All Result

ইন্দুবালা ভাতের হোটেল – কল্লোল লাহিড়ী

Indubala Vater Hotel by kallol lahiri

খাটের ওপর চিৎ হয়ে শোন ইন্দুবালা। পিঠের ব্যথাটা আরও বাড়ে। রাতের নেওয়া হট ওয়াটারের ব্যাগটা তখনও অল্প অল্প গরম। কাছে টেনে নেন। পিঠের কাছে রাখলে আরাম পান। যন্ত্রণা শুধু স্মৃতির নয় শরীরেরও। সব যন্ত্রণা শেষ হলে মানুষ মুক্তি পায়। তাই হয়তো সেই অন্তিম লগ্নে মুখের ওপর ছেয়ে থাকে পরম শান্তির ছায়া। এখনও কি জীবনে শান্তি নেই ইন্দুবালার? দিব্যি শান্তি আছে। না হলে নিজেকে এইভাবে জিইয়ে রেখেছেন কী করে? শুয়ে শুয়েই বুঝতে পারেন রাস্তার উলটো দিকে কর্পোরেশানের কলে জল নিতে আসছে টুকটাক করে বাজারের লোকজন। উঠতে ইচ্ছে করছে না। সারা দেহের অবসাদ আজ যেন মনে নেমে এসেছে। ঠাম্মার মৃত্যু সংবাদ যেদিন ভাই নিয়ে এসেছিল সেদিন ইন্দুবালার সাধ। বাড়ি ভরতি লোক বিয়েতেই হয়নি সাধে হবে ভাবাটাও বোকামো। নিজের বউভাতের রান্না যেমন ইন্দুবালাকে নিজেই করতে হয়েছিল ঠিক তেমনি সাধের রান্নাটাও। গোনাগুন্তি মাছের দাগা ছিল। চাল নেওয়া হয়েছিল মাথা গুনে। শাশুড়িকে খাইয়ে, স্বামীকে খাইয়ে যখন ইন্দুবালা নিজে খেতে বসতে যাবেন দরজায় কড়া নাড়লো কেউ। ওই ভরা অবস্থায় রান্নাঘর থেকে উঠে এসে সদর খুলতে হলো তাঁকেই। শ্রাবণের চড়া রোদ আর বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভাইটা তাঁরই সামনে। কতদিন পরে। চোখে তখন দিদির কপোতাক্ষের টলটলে জল। ইচ্ছামতী গাল বেয়ে গড়াচ্ছে। বাড়িতে ঢুকতে বলবেন কী! ভাষাই হারিয়ে ফেলেছেন যেন ইন্দুবালা এতদিন পরে ভাইকে দেখে। ঠোঁটের ওপর গোঁফের রেখা। গালে কচি ঘাসের মতো দাড়ি। চোখে কালো ফ্রেমের চশমা। ঠিক যেন মনিরুল সেজে দাঁড়িয়ে আছে ভাই। “ভেতরে আসতে বলবি না? এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবো?” ইন্দুবালা ভাইকে জড়িয়ে ধরেন। ঝুপ করে যেন তাকে ছুঁয়ে ফেলে কলাপোতার গ্রামটা। বোসদের পুকুর। তেপান্তরের ধানক্ষেত। কতবেলের আচার। আর ভাই দেখে তার দিদি আরও সুন্দর হয়েছে। গা থেকে খসে গেছে অজ গাঁয়ের পুরোনো চাদর। নতুন মা হবার যাবতীয় সব কিছু যেন গা থেকে তেড়েফুঁড়ে বের হয়ে আসছে তার। ঠিক এই সময়েতো ইন্দুবালার থাকা উচিত ছিল গ্রামে। ঠাম্মা কী খুশি হতো! উঠোন ভরে উঠতো আচারের বয়ামে। মা বিশালাক্ষ্মী তলায় পুজো দিতো। আর বাবা? সবার বাড়িতে গিয়ে মিষ্টি দিয়ে বলে আসতো, “এই যে শুনছো আমার ইন্দু মা হবে। তোমরা ওকে সবাই আশীর্বাদ করো। সব যেন ঠিক মতো হয়ে যায়। নাতনির সন্তান দেখার আশায় ঠাম্মা ছিলেন না। এত সৌভাগ্য তাঁর কপালে জুটবে না সেটা হয়তো আন্দাজ করতে পেরেছিলেন। তিনি শুধু চেয়েছিলেন তাঁর এই শেষ শয্যায় মেয়েটা এসে একটু বসুক। বাবা চিঠি দিয়েছিলেন বেশ কয়েকটা। নিজেই আসতে পারতেন মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার জন্য কিন্তু তাঁর শরীরটা তখন ভালো নয়। ভাইটা পরীক্ষা দিচ্ছে। তার পক্ষে আসাও সম্ভব ছিল না। প্রত্যেকটা চিঠি আসার পরেই ইন্দুবালার শাশুড়ি মুখ ভার করে থাকতেন। এই বুঝি তাঁর ছেলেকে ফুসলে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যায় বউ। কিন্তু সেই আশার আগুনে জল পড়তো বারে বারেই। ছেলে দু দিন পর পর যাও বা বাড়ি ফিরতো কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিত সারাদিন। শাশুড়ির তখন ছেলেকে খাওয়ানোর ধুম লেগে যেত। ইন্দুবালাকে উনুনের সামনে বসিয়ে ফিরিস্তি মতো এটা সেটা রান্না করিয়ে নিতেন। ছেলেও তখন দিন কতক ঘুমিয়ে, রাশিকৃত গিলে, পাউডার সেন্ট মেখে বউয়ের গা থেকে যেকোনো একটা গয়না খুলে নিয়ে বেরিয়ে পড়তো। সেই যে বেরোতো, টাকা না ফুরানো পর্যন্ত বাড়ি ফিরতো না। ছেলে না ফিরলে শাশুড়ির কাজও যেত কমে। একমাত্র বসে বসে দুশ্চিন্তা করা ছাড়া তখন আর তাঁর কিছু করার থাকতো না। এমনকি নাতিগুলো কী খেয়েছে না খেয়েছে সেসব দিকেও নজর থাকতো না তাঁর। ডালে চালে ফুটিয়ে চলে যেত সংসার। কোনো কোনো দিন লছমী এলে মাছ জুটতো বাচ্চাদের পাতে। এইসময় ইন্দুবালা সংসারের কাজ থেকে একটু অবসর পেলেই চিঠিগুলো চোখের সামনে নিয়ে বসে থাকতেন। অক্ষরগুলোর গায়ে হাত বোলালে মানুষগুলোকে স্পর্শ করছেন বলে মনে হতো। কত কত রাত যে জেগে কাটিয়েছেন একা একা ছোটো ছোটো ছেলে-মেয়েগুলোকে নিয়ে, সঙ্গী থেকেছে তো এই স্মৃতিই। মনে মনে বুনে চলেছেন সেই কবে থেকে এক নক্সীকাঁথা। যতই অতীতকে গাল পাড়ুন না কেন সেই নক্সীকাঁথায় নিজেকে জড়ালে চার পাশে না থাকা মানুষগুলোর ওম পেয়েছেন ইন্দুবালা। ঠিক এখন যেমন পাচ্ছেন হট ওয়াটার ব্যাগের। এক বর্ষার ভোরে চোখে কেঁপে নামছে যেন সারা রাতের ঘুম।

ভাইকে দেখে বেশ বিরক্ত হয়েছিলেন শাশুড়ি। “বলি কোন কাণ্ডজ্ঞান আছে তোমাদের? শুভ বাড়িতে অশৌচে এগোচো নাকি?” মাথা নেড়েছিল ভাই। শ্রাদ্ধ, নিয়মভঙ্গ সব কাজকর্ম মিটিয়ে তারপরে সে এসেছে। আরও বিরক্ত হয়ে বুড়ি বলেছিল “তাহলে আর কী! গেলাও কোটাও এবার ভাইকে।” খারাপ লেগেছিল ইন্দুবালার কথাটা শুনতে। ভাইয়েরও কি খারাপ লাগেনি? নিশ্চয়ই লেগেছিল। সে চলে যেতে চেয়েছিল তখনই। ইন্দুবালা বুঝিয়েছিলেন অনেক, “বয়েস হয়েছে তো। তাই এমন হয়ে গেছে মানুষটা। তুই রাগ করিস না ভাই। চট করে স্নানটা সেরে আয় দেখি”। ভাই চলে গেলে ইন্দুবালা খাবার জোগাড়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। সেই কতদূর থেকে তেতে পুড়ে এসেছে ছেলেটা। অমন ভাবে না বললেও হয়তো পারতেন শাশুড়ি। কিন্তু তিনি জানেন এই সংসারে একটা লোক বেশি খাওয়া মানে ভাঁড়ার ঘরে টান পড়া। ছেলের নেশা বেড়েছে। বাইরে মতি গতিও। কেমন যেন কঙ্কালসার হয়ে উঠছে বাড়ির চেহারাটা আস্তে আস্তে। বুড়ি সারাদিন তাই খিটখিট করেন। নিজের যা গয়না ছিল সেগুলো অনেক দিন আগেই গেছে। বউয়েরগুলো ছেলে নিচ্ছে। তাই এবার হাত পড়েছে বাসনের বাক্সে। ভারী ভারী সব গামলা, ঘড়া বিক্রি চলছে। এগুলো গেলে আর কিছু থাকবে না তাঁর আমলের। পাছে পোয়াতি বউয়ের অভুক্ত মুখটা দেখতে হয় তাই বুড়ি গিয়ে শুলো ওপরের বারান্দার ঘরে। আর এদিকে ইন্দুবালা আসন পেতে কাঁসার থালায়, বাটিতে সাজিয়ে দিলেন নিজের খাবারটুকু। পরম আদরে খাওয়ালেন ভাইকে। খুব ছোট্ট থেকেই ছেলেটা বড্ড আস্তে আস্তে খায়। তার খাওয়া নিয়েও ছিল নানান ঝামেলা। এটা খাবো না। ওটা খাবো না। মা বড় বড় দলা করে ভাতের গ্রাস গালের মধ্যে পুড়ে দিতেন। ঠাম্মা ওদিক থেকে চিৎকার করতো, “ও বউমা করো কী? মেরে ফেলবে নাকি দুধের বাচ্চাটাকে?” আর একটু বড় হলে এক থালায় ভাত নিয়ে স্কুলে যাওয়ার আগে ইন্দুবালা আর তার ভাই খেয়ে নিত। ভাইকে খাওয়াতে বড় ভালো লাগতো তাঁর। ছোটো ছোটো দাঁতগুলো আঙুলে ঠেকতেই কেমন যেন সুড়সুড় করে উঠতো হাত। সেই ভাই কী পরিপাটি করে আজ নিজে নিজেই খাচ্ছে। বসার ভঙ্গীটাও ঠিক বাবার মতো। বাবু হয়ে, সামনের দিকে মাথাটা বেশ খানিকটা ঝুঁকিয়ে। খাওয়ার সময় বাবা কথা বলতো না একটুও। ভাইও না। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন ইন্দুবালা। যতক্ষণ না খাওয়া শেষ হয়। ভাইয়ের মধ্যে ইন্দুবালা কাকে খুঁজছিলেন সেদিন? বাবাকে? মনিরুলকে? নাকি নিজের ফেলে আসা অতীতকে? চলে যেতে চেয়েছিল ভাই সেদিনই। কলেজ স্ট্রিট। সেখান থেকে কোনো এক বন্ধুর বাড়ি। এখানে আবার তোর বন্ধু হলো কী করে?” সন্দেহ হয়েছিল ইন্দুবালার। “বল থাকতে ভালো লাগছে না দিদির বাড়ি। আদর যত্ন হচ্ছে না একটুও।” ভাই মিটিমিটি হেসেছিল। “তুইও দেখছি কলকাতার মতো কথা বলতে শিখে গেছিস দিদি”। সেদিন ভাইয়ের আর ফিরে যাওয়া হয়নি। বরং বলা ভালো যেতে দেননি ভাইকে ইন্দুবালা। “একটু ঘুমিয়ে নে ভাই। তারপরে বিকেলে না হয় কলেজ স্ট্রিটের দিকে বেরোস। চিনতে পারবি তো রাস্তা”। ভাই যতক্ষণ না ঘুমিয়ে পড়ে ইন্দুবালা ঠায় বসে থাকেন তার মাথার কাছে। হাত পাখা দিয়ে বাতাস করেন। অনেক কিছু জানতে ইচ্ছে করে তাঁর। কিন্তু কিছুই জানা হয় না। একটু কথা বলেই ঘুমিয়ে পড়ে ক্লান্ত ভাই। দিদির কোলের কাছে তার মাথাটা। চুলগুলো এলিয়ে পড়েছে কপালে। ঘুমিয়ে থাকা মুখের প্রশান্তি বড় ভালো লাগে ইন্দুবালার। এই প্রশান্তি কি তিনি দেখেননি স্বর্ণলতার মুখেও? পুকুরে ভাসছিল দেহটা। বউ সাজার বড় শখ ছিল তার। রিয়াজও ভালোবাসতো মেয়েটাকে খুব। স্বর্ণলতার ফুলে ওঠা দেহটাকে জল থেকে তোলা হয়েছিল বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার মুখটায়। বন্ধ করা চোখ দুটোয় ছিল নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ার শান্তি। ঠোঁটের কোনায় ছিল এক টুকরো হাসি। যেন জলের তলা থেকে ঘুমন্ত রাজকন্যেকে তোলা হলো এক্ষুনি। কথা ছিল রিয়াজ দাঁড়িয়ে থাকবে খেয়া ঘাটে। রাতের নৌকা তাদের পার করে দেবে সভ্য জনপদ। দূরে কোথাও তারা ভালোবাসার জঙ্গলের মধ্যে আশ্রয় নেবে। যেখানে কেউ তাদের চেনে না। জানে না। ধর্মের পরিচয় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে না। স্বর্ণলতা ঠিক পে ছৈছিল সময়েই। খেয়াও ছিল ঘাটে বাঁধা। শুধু রিয়াজ আসেনি। অনেক ভোরে আকাশ যখন সবে ফর্সা হতে শুরু করেছে স্বর্ণলতা রিয়াজকে পেয়েছিল ধানক্ষেতের আলের ধারে। রিয়াজের কাছে সব কিছুই ছিল শুধু প্রাণটুকু ছাড়া। কারা যেন তার শ্বাসনালিটা কেটে দিয়েছিল এফোঁড় ওফোঁড় করে। এত রাগ ছিল তাদের রিয়াজের ওপরে, জানে মেরেও শান্তি পায়নি তারা। কুপিয়ে রেখে গিয়েছিল দেহটাকে। নিজের ভালোবাসার মানুষটার সামনে দাঁড়িয়ে স্বর্ণলতার তখন কান্নায়, দুঃখে লুকিয়ে পড়তে ইচ্ছে করছিল। কিন্তু কোথায় লুকোবে সে? যেখানেই যাবে ভালোবাসাহীন মানুষগুলো তাকে কুরে কুরে খাবে। তাই ডুব সাঁতার দিয়েছিল সে জলে। যখন ভেসে উঠেছিল তখন বেলা গড়িয়ে গেছে। জালের মধ্যে ঘুমন্ত রাজকন্যেকে দেখার জন্য আশেপাশের গাঁ থেকে ভিড় করে এসেছিল মানুষ। খবরটা প্রথমে এনেছিল মনিরুল। ইন্দুকে বলার পর ফুঁপিয়ে কেঁদেছিল মেয়েটা। সেদিনও যে সৰ্বর্ণলতা স্বপ্ন দেখতো সংসারের। রিয়াজের সাথে অনেক দূরে চলে যাচ্ছে কোথাও। বলেছিল চিঠি দেবে ইন্দুকে। সংসার সাজিয়ে তার খুঁটি-নাটি নিয়ে লিখবে অনেক কথা। পুণ্যি পুকুর ব্রত করতে গিয়ে বিড়বিড় করে মানত করতে স্বর্ণলতা। রিয়াজের সাথে সংসার যেন হয় তার। কেউ কথা শোনেনি মেয়েটার। এমনকি ঈশ্বরও না। এর আগে কোনোদিন মনিরুল ইন্দুকে কাঁদতে দেখেনি। যদিও প্রথম চিঠিটা ততদিনে দেওয়া হয়ে গেছে দুজনের। সেখানে ভালোবাসার কথা কোথাও লেখা ছিল না। ছিল শুধু বাংলার মাঠ ঘাট সবজেটে রঙের জীবনের কথা। ছিল এক দিন দেখা না হলে অন্যদিনের অনেক না বলা দুঃখ, মন কেমনের কথা। সেটাই কি ভালোবাসা নয়? ছটফট করে ওঠেন ইন্দুবালা। তাহলে কি এতক্ষণ ভাইয়ের ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি মনিরুলের কথাই চিন্তা করছিলেন? উঠে পড়েন। পেটের ভেতর থেকে লাথি মারছে বাচ্চাটা। যেমন খিদে পেয়েছে তার মায়ের। তেমনি তারও। রান্নাঘরে এসে দেখেন চাল বাড়ন্ত। ভাত বসাবেন তার যোগাড়টুকু নেই। এই এত বেলায় কী খাবেন? নজরে পড়লো বেতের ঝুড়ি শালপাতায় মোড়া। ভাই এনেছে। তাকে এতক্ষণ যত্ন-আত্তি করতে গিয়ে সেদিকে নজরও পড়েনি। ভুলেই গিয়েছিলেন ইন্দুবালা। শালপাতায় বাঁধা টুকরিটা খুললেন। তার মধ্যে থরে থরে সাজানো আছে মালপোয়া। চোখ ফেটে জল এলো ইন্দুবালার। গোগ্রাসে খেতে থাকলেন তিনি। যেন কত জন্মের খিদে নিয়ে দাদু ঢুকে পড়েছেন তাঁর পেটে। ঠাম্মার হাতে না হোক গাঁয়ের ভোলা ময়রার দোকানের মালপোয়া খেতে চাইছে গোটা শরীর তোলপাড় করে। অনেকটা খাওয়ার পর যখন থামলেন ইন্দুবালা তখন জলতেষ্টা পেয়েছে খুব। কিন্ত জল গড়িয়ে দেওয়ার মতো কেউ নেই হাতের কাছে। শুনেছিলেন ঠাম্মাকেও শেষ সময়ে জল খাওয়াতে পারেনি কেউ। গড়িয়ে পড়েছিল গালের পাশ দিয়ে সব জলটুকু। ঠিক তখনই সেই মুহর্তে বুক ছাপিয়ে, গলা কাঁপিয়ে কান্না পেলো ইন্দুবালার মৃত ঠাম্মার জন্য। পায়ের তলায় গোটা পৃথিবীটা যেন নড়ে উঠলো হঠাৎ। চোখে অন্ধকার দেখলেন। যা খেয়েছিলেন উগড়ে দিলেন সব। রান্নাঘর ভেসে গেল সাধ না-খাওয়া নতুন মায়ের বমিতে।

Page 21 of 46
Prev1...202122...46Next
Previous Post

সরস গল্প – বিমল কর

Next Post

ছেড়ে আসা গ্রাম – দক্ষিণারঞ্জন বসু

Next Post

ছেড়ে আসা গ্রাম - দক্ষিণারঞ্জন বসু

মিনি বাস - নরেন্দ্রনাথ মিত্র

মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সাম্প্রতিক প্রকাশনাসমূহ

  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৫: ভূমিকম্প – শামসুদ্দীন নওয়াব
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৮: বিভীষিকার প্রহর – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: বড়দিনের ছুটি – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আলাস্কা অভিযান – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আমিই কিশোর – রকিব হাসান

বিভাগসমূহ

  • আত্মজীবনী
  • ইতিহাস
  • উপন্যাস
  • কবিতা
  • কাব্যগ্রন্থ
  • গল্পের বই
  • গোয়েন্দা কাহিনী
  • ছোট গল্প
  • জীবনী
  • দর্শন
  • ধর্মীয় বই
  • নাটকের বই
  • প্রবন্ধ
  • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
  • বৈজ্ঞানিক বই
  • ভূতের গল্প
  • রহস্যময় গল্পের বই
  • রোমাঞ্চকর গল্প
  • রোম্যান্টিক গল্পের বই
  • শিক্ষামূলক বই
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In