খোঁজে তোমার ঘ্রাণশক্তি, যাহা মানুষে কথঞ্চিৎ, তাহাই ক্রমবর্ধমান হইতেছে।
আবার পরিলক্ষিত হয়, বালকের ঘোট হাতখানি–সে নিজ ঢালু নিম্নে থাকার কারণে মানে তাহার শরীর দেখা যায় না!–এখন ওতপ্রোত এই বিরাট নশ্বরতার মধ্যে ফাঁকার মধ্যে উচ্চাইয়া উজাইয়া উঠে। তিলেক বাদেই সে ছুটিয়া আসে, যেমন তদীয় পক্ষী যেমন পোকা ঠোঁটে দৌড়ায়–খুব সাদা সাঁওতাল গীতের লাইনের ব্যঞ্জনা যেমত বা।
আর যে তুমি ঐ সকল সংগৃহীত টুকরা সুদক্ষ প্রতিভাধর মণিকারের ন্যায়, পরীর গল্প রচয়িতার প্রায়, বিচক্ষণতায়ে কাজল-টানার যতনে, সাজাইতে বসিলে প্রত্যেক খণ্ডে নুড়ি চাপা দিলে, এবার তুমি অধিকতর চাতুর্যে নির্মাণ করিতে লাগিলে ইত্যাকারে যে,–চিঠি সুবাসিত!
সম্ভবত খোঁপায় ছিল…উঁহু তৈল চিহ্ন নাই! ব্লাউজের অন্তরে, বুকের ঘামে অক্ষর তাই নির্ঘাত আর্দ্র-হওয়ত ছাত্র…মানে কিছুক্ষণ আগেই অর্থাৎ সদ্য ঘেঁড়া…এই চিঠি প্রথম না, কিছু উত্তরের পর…পুরুষের হস্তাক্ষর। পুরুষেরই…!
ও! প্লেটোনিক…..
ফ্যা…ব্রাউন ও নিশ্চয় ফ্যানী হইতেই হইবে…কলেজের কোন ছোকরা…বেশ কথা ভালবাসিতে চাহিতেছে আর মেয়েটি বোধ হয় লিখিয়াছিল…বিবাহিতা? হয়ত না! শেলীয়ান হাইটের তোড়…চমৎকার পেগানাইজ!
আঃ শেলীয়ান হাইটেও ইহা নূতন peganisation.
যে এবং এই পর্যন্ত বলিয়া তুমি আমার প্রতি নেত্রপাত করিলে।
আমি অসহিষ্ণু হইলেও তোমার ব্যবকলনে (deduction) খুসী, অবশ্য হোমস-স্মরণে (শার্লকহোমস) সমগ্র ব্যাপার শুদ্ধ করিয়া নহে বরঞ্চ তোমার এতাদৃশ বৈচিত্র্য আমার এমনিতেই বেশ লাগিতেছিল–নিশ্চয়ই আমিও কোন ঘঘারে ছিলাম!
এখন তুমি স্নায়ু-বিধ্বস্ত কেন না চিঠির মধ্যে ফাঁকা–খানিক স্থান টুকরাবিহীন–সেখানে টিলার জমি গর্জন করিতেছিল, পোকা, ঘাস, ফুল উদ্ধৃত, এই ফাঁক নিরখিয়া তুমি জড়, থ, তুমি আধ্যাত্মিক!
যে ঝটিতি ব্যক্ত করিলে, আঃ নিষ্ঠুরতা! পত্রলেখক এক বীভৎস নিষ্ঠুরতা প্রত্যাশী-হন্যে! নিষ্ঠুরতা তাহার স্বর্গ! ইহার পর তুমি প্রচণ্ড প্রসারিত, রিখিয়ার সভ্যতার দিকে ব্যর্থতায় তাকাইলে ‘আঃ রিখিয়া’ বলিয়া এবং যে তুমি মহাশক্তিতে শ্বাস গ্রহণ করিলে যাহাতে বহু দূরস্থিত বৃক্ষলগ্ন পরগাছা চমকিত হইল।
শনৈঃ যে আরও যোগ দিয়াছিলে…মনে কর পেগানাইজেশনের তোড়ে দুজনেই দুই জনকে, একে অন্যরে, কীদৃশী ভয় পাইতে চাহে! সমস্ত অস্তিত্ব কণ্টকিত!
আর আমারে জিজ্ঞাসিলে, না না আমার সায় প্রত্যাশায়ে কহিলে…কেন মানুষ এতেক নিষ্ঠুরতা চাহে…নিষ্ঠুরতাই কি প্রেমের মৃত্তিকা…একের নিষ্ঠুরতা ক্ষয় করিবার চায়…অনৈসর্গিক মরালিটি…ফুলের ঘায়ে যে মূর্হিত এখন সে দলিত হইতে প্রস্তুত!
এবং ঐ সময় সুঘরাইএর পক্ষীটি তোমার চিঠি সাজানর নিকটে পাছে উহা ভাঙে তাই তুমি তাহারে হেই বলিয়া তাড়া দিয়া আরবার মন্তব্য করিলে যে,…অবশ্য ইহাতে আমি মনস্তত্ত্বর যুক্তি বলি নাই।
তোমার উক্ত বাক্যালাপ আমার নিকট ঝাঁপসা অবশ্যই তাই বলিয়া আমি হেঁয়ালী নামে উহা সকল দূরে ঠেলি নাই–যেহেতু তখন আমি সন্ধ্যাকালীন শঙ্খের আওয়াজে অন্যমনস্কা, অবশ্য তোমার ঐ শেয়োক্তিটিতে আমার বারম্বার মনে হইতেছিল যে তুমি, শঙ্কা হইতেছিল যে তুমি, এখনই ললাটাঘাত বিষণ্ণতায় বলিবে, আঃ মনুষ্যজাতি! অবশ্যই নিরাশার যে উহা, ঐ কথা, অবশ্য বাবার (মনিব পত্নীর শ্বশুর) গলার স্বর ঐ ব্যঞ্জনায় নাই, তবু বাবার মতই বলিয়া উঠিবে আঃ মনুষ্য জাতি!
আঃ বাবার হাতে কি অমোঘ পরমায়ু! তাঁহার হাত ট্যালকের গুঁড়ায় কি অদ্ভুত অশরীরী–কি সাদা! হাতে ম্যাগনিফাইং গ্লাস, হাতে খোলামকুচি! হ্যাঁ হ্যাঁ মনে পড়ে বাবা একবার বলিয়াছিলেন, অসট্রাকন! এক টুকরো খোলামকুচিতে কি বিদ্বেষ, কি অট্টহাস্য, সঞ্চিত ক্ষোভ।…আবার একটুকরাতে কি হদিশ, এমন একরেখা মোটিফ, এমন এক নিরবচ্ছিন্নতা…মিসিং লিঙ্ক! আর মনুষ্য জাতি!–
ইহা বলিতে থাকিয়া বাবার চক্ষুর্ঘয় আশায় বিস্ফারিত, আর তুমি আর এক, সেদিন তদ্রূপ উপলব্ধিতে আমি যথার্থই অশান্তিতে ছিলাম, আবার ইহাও যে, সন্দেহ হইতেছিল যে তুমি রহস্যপ্রিয়, যে কোন মুহূর্তই চমক দিয়া হা-হা হাসিতে আমাকে অপ্রতিভ, আমার রমণী স্বভাবকে অপদস্থ করিতে পার!
এখন, আজ উপস্থিত আপনার স্বামীকে সম্যক বুঝিবার চেষ্টা হইতে বিরত হওয়ত ইনি কপট বিরক্তি প্রকাশে তর্ক করিলেন,…আহা বললেই হ’ল কোথায় ঐ চোর চোর দেখতে ডোম ছোঁড়ার মধ্যে তোমায় সেই যে বলছিল–এবং ইহার সহিত প্রধান শিক্ষয়িত্রীর ধারায় বলিলেন,–একশোর মধ্যে জিরো…যাও!
কিন্তু পরক্ষণেই মনিব পত্নী আত্মস্থ হইলেন কেন না তাহাতে আভাসিত ইহা যে, সেই দিনকার সেই চিঠির টুকরার পাশে বসিয়া তাহার প্রেমাস্পদ স্বামী নিজ ভাবুকতার সূচনা করিয়াছিলেন, যথা…ধর…অবশ্য বলা যায় কোন এক অলিখিত অপেরার মহতী দৃশ্য…হয়ত তোমার মনে হইবে বড় খুকু কল্পনা…তবু…একদল স্টেজের অন্তে আসিল, অঙ্গুলিনির্দেশে খণ্ডিত পত্র সকল দেখাইল, তাহারা ক্রন্দিত নয়নে কুড়াইতে লাগিল, এই রূপ কুড়াইতে, হাত বহুবার চকিয়াছে এক এক খণ্ড চমকপ্রদ মনোভাব প্রকাশিয়াছে, কখন বা মসৃণ হাতকে ভ্রমবশত, যে উহা পত্র-খণ্ড, কতবারই না একে অন্যের হাত কেহ ধরিয়া থাকে।
