জিনিয়া বলল, “কী?”
সুলগ্না তার দিকে তাকিয়ে বলল, “সিরিয়াসলি নো ফিজিক্যাল রিলেশন? আই মিন, তোর বর তো বেশ হ্যান্ডু রে, তোর ইচ্ছা করেনি?”
জিনিয়া কঠিন মুখে বলল, “আমার বর বলে কিছু নেই। তুই জানিস ব্যাপারটা কী। বারবার এভাবে মেনশন করলে ভালো লাগবে না আমার।”
সুলগ্না বলল, “ওকে, ওকে। এক্সট্রিমলি সরি। জাস্ট এক লাইনে বল, ঠিক কী হচ্ছে তোদের দুজনের মধ্যে?”
জিনিয়া বলল, “কিছুই হচ্ছে না। আমরা দুজন আলাদা দুটো ঘরে থাকি জাস্ট লাইক হোস্টেল। সিম্পল। অ্যান্ড ডেফিনিটলি হি ইজ এ জেন্টলম্যান। ভীষণ ভদ্রলোক। কোনও অসুবিধেই হচ্ছে না।”
সুলগ্না মুখ চুন করে বলল, “এই হয় তো, যারা সত্যিকারের ভালো ছেলে, তারা এরকম উলটোপালটা বিয়ে করে দিন কাটিয়ে দেয়।”
জিনিয়া বলল, “মানে?”
সুলগ্না বলল, “মানে আবার কী? ভালো ছেলেগুলো আর কেউ অবশিষ্ট থাকে না, কিছু প্লেবয় পড়ে থাকে, আর কিছু ঠরকি বুড়ো। নইলে দেখ, তোর তো বিয়ের দরকার ছিল না, কিন্তু ভালো ছেলে পেয়ে গেলি। দিস ইজ কলড সৌভাগ্যবতী মেয়ে।”
জিনিয়া বলল, “এরকম ব্যাপার? উদ্দালকের সঙ্গে কথা বলব? ওকে বিয়ে করবি?”
সুলগ্না বলল, “থাক ভাই। মিছে আশা দেখাস না আর। কষ্ট হয়। তবে তুই যা ডেসক্রিপশন দিচ্ছিস, সে অনুযায়ী এ ছেলে একদিকে ভদ্র, অন্যদিকে কোল্ড হার্টেড। এসব ছেলের থেকে দূরে থাকাই ভালো। এরা কাউকে ভালোবাসতে পারে না।”
জিনিয়া বলল, “ভালোবাসাটা চাইনি বলেই তো এই বিয়েটা করেছি সুলগ্না। দেখা যাক, সব কিছু কোন দিকে যায়। ভদ্রলোকের সম্পর্কে আমার এখন অবধি কোনও অভিযোগ নেই।”
সুলগ্না বলল, “আচ্ছা? প্রেমে পড়ে যাচ্ছিস না তো আবার?”
জিনিয়া ছিটকে গেল খানিকটা। তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
সুলগ্না বলল, “কী হল?”
জিনিয়া কড়া গলায় বলল, “আমার সঙ্গে এরকম ইয়ার্কি না মারলেই খুশি হব। প্লিজ।”
সুলগ্না জিনিয়ার কাঁধে আলতো চাপড় মেরে বলল, “সরি ইয়ার। এক্সট্রিমলি সরি। আমি অত ভেবে কিছু বলিনি।”
জিনিয়া বলল, “ওকে। নাও, জাস্ট লিভ মি অ্যালোন।”
সুলগ্না বলল, “রেগে গেলি?”
জিনিয়া বলল, “না, ঠিক আছে। প্লিজ এখন যা। ভালো লাগছে না।”
সুলগ্না বলল, “এক্সট্রিমলি সরি। আবার সরি বলছি। প্লিজ রেগে থাকিস না।”
জিনিয়া চুপ করে রইল।
সুলগ্না নিজের ডেস্কে গিয়ে বসল। জিনিয়া কিছুক্ষণ কাজ করে ওয়াশরুমে গিয়ে শব্দ করে কেঁদে ফেলল।
কিছুক্ষণ কেঁদে সুপ্রতিমের চেম্বারে গিয়ে বলল, “স্যার এখন একটু বেরোতে হচ্ছে। দরকার পড়েছে হঠাৎ একটা।”
সুপ্রতিম বললেন, “ঠিক আছে, ঠিক আছে। গাড়ি লাগবে?”
জিনিয়া বলল, “না স্যার।”
সুপ্রতিম বললেন, “ঠিক আছে। সাবধানে যাও।”
জিনিয়া আর দাঁড়াল না। বেরিয়ে গেল।
ট্যাক্সি নিয়ে সৌপ্তিকদের বাড়ি পৌঁছল। দরজা খুলে সৌপ্তিকের ঘরে গিয়ে আবার কাঁদতে শুরু করল।
৯
স্কুলে ঢুকেই সুদেববাবুর তোম্বা মুখটা দেখল উদ্দালক। সে হেসে বলল, “সব ঠিক তো স্যার?”
সুদেববাবু গম্ভীর মুখে বললেন, “হুম।”
টিচার্সরুমে যেতে সবাই হইহই করে উঠলেন। তারাপদবাবু বললেন, “হালকায় ছেড়ে দেব না কিন্তু বাপু। বিয়ের মেনুটাই স্কুলে করতে হবে। শুধু মিষ্টিতে হবে না।”
উদ্দালক বলল, “আচ্ছা বেশ। আপনাদের এই প্রস্তাব আমি মেনে নিলাম।”
বিরাট একটা গিফট প্যাকেট তার জন্য রাখা হয়েছিল। উদ্দালককে সব শিক্ষক মিলে সেটা দিলেন। হেডস্যার বললেন, “অদ্ভুত ছেলে তো বাপু তুমি? এই কদিন ছুটিতেই হয়ে গেল? কোথাও বেড়াতে গেলে না?”
উদ্দালক হাসল, “হ্যাঁ স্যার, মানে যাব, আপনাকে বলা হয়নি, যাব।”
হেডস্যার বললেন, “ঠিক আছে। ছুটিছাটা লাগলে আমাকে বলবে।”
সারাদিনই ক্লাস ছিল। স্কুল থেকে বেরিয়ে উদ্দালক সাইকেল নিয়ে রওনা দিয়েছে এমন সময় দেখল জিনিয়ার মা ফোন করছেন, উদ্দালক ধরল, “হ্যাঁ বলুন।”
মালতী বললেন, “বলছি জিনিয়াকে ফোনে পাচ্ছি না বাবা। ও কি ফিরেছে?”
উদ্দালক থমকে গিয়ে বলল, “অফিসে ফোন করেছিলেন?”
মালতী বললেন, “ওর বন্ধু আছে সুলগ্না বলে একজন। সে বলল ফার্স্ট হাফেই বেরিয়ে গেছে। ফোনও পাচ্ছি না। বুঝতে পারছি না ঠিক, কী হল।”
উদ্দালক বলল, “ঠিক আছে। আপনি রাখুন, আমি দেখছি।”
ফোন রেখে উদ্দালক জিনিয়ার ফোনে চেষ্টা করল। ফোন নট রিচেবল বলছে।
সাইকেল নিয়ে সে সোজা স্টেশনে চলে গেল।
কপাল ভালো ট্রেন এসে গেছিল। টিকেট কাটার সময় পেল না। মাথাতেও আসেনি টিকেট কাটার কথা। সৌভাগ্যবশত রাস্তায় বা শিয়ালদা স্টেশনে তার চেকিং হল না। শিয়ালদায় নেমে ট্যাক্সি করে সে যখন সৌপ্তিকদের বাড়ি পৌঁছল, তখন রাত সাড়ে আটটা বাজে। দেখল আলো জ্বলছে।
খানিকটা ইতস্তত করে কলিং বেল বাজাল। সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত অবস্থায় জিনিয়া এল।
উদ্দালক বলল, “বাড়িতে ফোন করেননি, আপনার বাড়ির লোক চিন্তা করছে তো।”
জিনিয়া গেট খুলে তার কথার উত্তর না দিয়ে ভিতরে চলে গেল।
উদ্দালক বাড়িটায় ঢুকে সৌপ্তিকের ঘরে গেল। বিছানা এলোমেলো। সৌপ্তিকের ছবি নামিয়ে খাটে রাখা। বোঝা যাচ্ছে ওর ছবি জড়িয়ে ধরে জিনিয়া শুয়ে ছিল।
উদ্দালক বলল, “রাতে যিনি থাকেন, কখন আসবেন?”
জিনিয়া বলল, “জানি না। আপনি কেন আসতে গেলেন? আমি খবর পাঠিয়ে দিতাম।”
