হাদীস নং ৪১১৯ – নবী (সা.) কতটি যুদ্ধ করেছেন।
আবদুল্লাহ ইবনে রাজা রহ………….আবু ইসহাক রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যায়েদ ইবনে আরকাম রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কতটি যুদ্ধ করেছেন ? তিনি বলেন, সতেরটি। আমি বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতটি যুদ্ধ করেছেন? তিনি বললেন, উনিশটি।
হাদীস নং ৪১২০
আবদুল্লাহ ইবনে রাজা রহ………….বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে পনেরটি যুদ্ধ করেছি।
হাদীস নং ৪১২১
আহমদ ইবনে হাসান রহ………….বুরাইদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ষোলটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন।
তাফসীর অধ্যায় (৪১২২-৪৩৩০)
হাদীস নং ৪১২২ – সূরা ফাতিহা প্রসঙ্গে।
মুসাদ্দাদ রহ…………….আবু সাঈদ ইবনে মুআল্লা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদা মসজিদে নববীতে নামায আদায় করছিলাম, এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডাকেন। কিন্তু সে ডাকে আমি সাড়া দেইনি। পরে আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি নামাযে রত ছিলাম (এ কারণে জবাব দিতে পারিনি) তখন তিনি বললেন, আল্লাহ কি বলেননি যে, হে মুমিনগণ ! তোমরা আল্লাহর ডাকে সাড়া দিবে এবং রাসূলের ডাকেও যখন তিনি তোমাদেরকে আহবান করেন। (৮: ২৪)। তারপর তিনি আমাকে বললেন, তুমি মসজিদ থেকে বের হওয়ার পূর্বেই তোমাকে আমি কুরআনের এক মহান সূরা শিক্ষা দিব। তারপর তিনি আমার হাত ধরেন। এরপর যখন তিনি মসজিদ থেকে বের হওয়ার ইচ্ছা করেন তখন আমি তাকে বললাম, আপনি না আমাকে কুরআনের শ্রেষ্ঠতম সূরা শিক্ষা দিবেন বলে বলেছিলেন? তিনি বললেন, “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি বিশ্ব জাহানের প্রতিপালক, এটা বারবার পঠিত সাতটি আয়াত এবং মহান কুরআন যা আমাকেই প্রদান করা হয়েছে।
হাদিস নম্বরঃ ৪১২৩
পরিচ্ছদঃ ২২৫৫. যারা ক্রোধে নিপতিত নয়
৪১২৩। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন ইমাম বলবে غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ তখন তোমরা বলবে آمِينَ অর্থ আল্লাহ আপনি কবূল করুন। যার পড়া ফেরেশতাদের পড়ার সময়ে হবে, তার পূর্বে গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।
হাদিস নম্বরঃ ৪১২৪ | 4124 | ٤۱۲٤
পরিচ্ছদঃ وعلم ادم الاسماء كلها এবং তিনি আদম (আঃ) কে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিলেন (২ঃ ৩১)
৪১২৪। মুসলিম ও খলীফা (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন মু’মিনগণ একত্রিত হবে এবং তারা বলবে, আমরা যদি আমাদের রবের কাছে আমাদের জন্য একজন সুপারিশকারী পেতাম। এরপর তারা আদম (আলাইহিস সালাম) এর কাছে আসবে এবং তাঁকে বলবে আপনি মানব জাতির পিতা। আপনাকে আল্লাহ তা‘আলা নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন। আর ফেরেশতা দ্বারা আপনাকে সিজদা করিয়েছেন এবং যাবতীয় বস্তুর নাম আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন। অতএব আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন, যেন আমাদের কঠিন স্থান থেকে আরাম দিতে পারেন। তিনি বলবেন, তোমাদের এ কাজের আমার সাহস হচ্ছে না। তিনি নিজ ভুলের কথা স্মরণ করে লজ্জাবোধ করবেন। (তিনি বলবেন) তোমরা নূহ (আলাইহিস সালাম) এর কাছে যাও। তিনই প্রথম রাসূল যাকে আল্লাহ জগতবাসীর কাছে পাঠিয়েছেন।
তখন তারা তাঁর শরণাপন্ন হবে। তিনিও বলবেন, তোমাদের এ কাজের জন্য আমার সাহস হচ্ছে না। তিনি তাঁর রবের কাছে প্রশ্ন করেছিলেন এমন বিষয় যা তাঁর জানা ছিল না। সেকথা স্মরণ করে তিনি লজ্জাবোধ করবেন। এবং বলবেন বরং তোমরা আল্লাহর খলীল (ইবরাহীম) (আলাইহিস সালাম) এর কাছে যাও। তারা তখন তাঁর কাছে আসবে, তখন তিনি বলবেন, তোমাদের এ কাজের জন্য আমার সাহস হচ্ছে না। তোমরা মূসা (আলাইহিস সালাম) এর কাছে যাও। তিনি এমন বান্দা যে তাঁর সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন এবং তাঁকে তাওরাত গ্রন্থ দান করেছেন। তখন তারা তাঁর কাছে আসবে। তিনি বলবেন, তোমাদের এ কাজের জন্য আমার সাহস হচ্ছে না। এবং তিনি এক কিবতীকে বিনা দোষে হত্যা করার কথা স্মরণ করে তাঁর রবের নিকট লজ্জাবোধ করবেন।
তিনি বলবেন, তোমরা ঈসা (আলাইহিস সালাম) এর কাছে যাও। তিনি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল এবং আল্লাহর বাণী ও রূহ্। (তারা সেখানে যাবে) তিনি বলবেন, তোমাদের এ কাজের জন্য আমার সাহস হচ্ছে না। তোমরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যাও। তিনি এমন এক বান্দা যার পূর্ব ও পরের ভুলত্রটি আল্লাহ মাফ করে দিয়েছেন। তখন তারা আমার কাছে আসবে। তখন আমি আমার রবের কাছে যাব এবং অনুমতি চাব, আমাকে অনুমতি প্রদান করা হবে। আর আমি যখন আমার রবকে দেখব, তখন আমি সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। আল্লাহ যতক্ষণ চান আমাকে এ অবস্থায় রাখবেন। তারপর বলা হবে, আপনার মাথা উঠান এবং চান দেওয়া হবে, বলুন শোনা হবে, সুপারিশ করুন কবুল করা হবে। তখন আমি আমার মাথা উঠাব এবং আমাকে যে প্রশংসাসূচক বাক্য শিক্ষা দিবেন তা দ্বারা আমি তাঁর প্রশংসা করব। তারপ সুপারিশ করব। আমাকে একটি সীমারেখা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। (সেই সীমিত সংখ্যায়) আমি তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাব।
