হাদীস নং ৪১০৯
আবু নুআইম রহ………….তালহা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি ওসীয়াত করে গেছেন? তিনি বললেন, না। তখন আমি বললাম, তাহলে কেমন করে মানুষের জন্য ওসীয়াত লিপিবদ্ধ করা হল অথবা কিভাবে এর নির্দেশ দেয়া হল? তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন সম্পর্কে ওসীয়াত করে গেছেন।
হাদীস নং ৪১১০
কুতাইবা রহ………….আমর ইবনে হারিস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন দীনার, দিরহাম, গোলাম ও বাঁদি রেখে যাননি। কেবলমাত্র মাদা উষ্ট্রীটি যার উপর তিনি আরোহণ করতেন এবং তাঁর যুদ্ধাস্ত্র আর একখণ্ড (খায়বর ও ফদাকের) জমীন যা মুসাফিরদের জন্য দান করে গেছেন।
হাদীস নং ৪১১১
সুলাইমান ইবনে হারব রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রোগ প্রকট রূপ ধারণ করে তখন তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় ফাতিমা রা. বললেন, উহ ! আমার পিতার উপর কত কষ্ট ! তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, আজকের পরে তোমার পিতার উপর আর কোন কষ্ট নেই। যখন তিনি ইন্তিকাল করলেন তখন ফাতিমা রা. বললেন, হায় ! আমার পিতা ! রবের ডাকে সাড়া দিয়েছেন। হায় আমার পিতা ! জান্নাতুল ফিরদাউসে তাঁর বাসস্থান ! হায় পিতা জিবরাঈল আ.-কে তাঁর ইন্তিকালে খবর পরিবেশন করছি। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সমাহিত করা হল, তখন ফাতিমা রা. বললেন, হে আনাস! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মাটি চাপা দিতে কি করে তোমাদের প্রাণ সায় দিল।
হাদীস নং ৪১১২ – নবী (সা.) সবশেষে যে কথা বলেছেন।
বিশর ইবনে মুহাম্মদ রহ…………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্থ থাকাকালীন বলতেন, কোন নবীর ওফাত হয়নি যতক্ষণ না তাকে জান্নাতে তাঁর ঠিকানা দেখানো হয়। তারপর তাকে ইখতিয়ার প্রদান করা হয় (দুনিয়া বা আখিরাত গ্রহণের) যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রোগ বৃদ্ধি পেল তখন তাঁর মাথা আমার উরুর উপর ছিল এ সময় তিনি মূর্ছা যান। তারপর আবার হুশ ফিরে এলে, ছাদের দিকে তিনি দৃষ্টি উত্তোলন করেন। তারপর বলেন, হে আল্লাহ আমাকে ঊর্ধ্বজগতের মহান বন্ধুর (সান্নিধ্য দান করুন)। তখন আমি বললাম, তাহলে তো তিনি আর আমাদের মাঝে থাকতে চাচ্ছেন না। আমি বুঝতে পারলাম যে, এটা ঐ কথা যা তিনি সুস্থাবস্থায় আমাদের কাছে বর্ণনা করতেন। আয়েশা রা. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শেষ কথা যা তিনি উচ্চারণ করেছিলেন তাহল ‘ হে আল্লাহ ! ঊর্ধ্বলোকের বন্ধুর সাথে আমাকে মিলিত করুন’।
হাদীস নং ৪১১৩ – নবী (সা.)-এর ওফাত।
আবু নুআইম রহ…………..আয়েশা ও ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নুযুলে কুরআনের দশ বছর মক্কায় বসবাস করেছেন এবং মদীনাতেও দশ বছর কাটান।
হাদীস নং ৪১১৪
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তেষট্টি বছর বয়সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত হয়। ইবনে শিহাব যুহরী বহ. বলেন, আমাকে সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব এরূপই অবহিত করেন।
হাদীস নং ৪১১৫ – পরিচ্ছেদ ২২৫০
কাবীসা রহ…………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন এমন অবস্থায় যে, তাঁর বর্ম (যুদ্ধাস্ত্র) ইহুদীর কাছে ত্রিশ সা’ যবের বিনিময়ে বন্ধক রাখা ছিল।
হাদীস নং ৪১১৬ – নবী (সা.)-এর মৃত্যু-রোগে আক্রান্ত অবস্থায় উসামা ইবনে যায়েদ রা.-কে যুদ্ধাভিযানে প্রেরণ।
আবু আসিম যাহহাক ইবনে মাখলাদ রহ…………আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসামা ইবনে যায়েদ রা.-কে (একটি যুদ্ধের আমীর) নিযুক্ত করেন। এতে সাহাবীগণ (নিজেদের মধ্যে) সমালোচনা করেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি জানতে পেরেছি যে, তোমরা উসামার আমীর নিযুক্তি সম্পর্কে সমালোচনা করছো, অথচ সে আমার নিকট প্রিয়তম লোক।
হাদীস নং ৪১১৭
ইসমাঈল রহ…………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সেনাদল প্রেরণ করেন এবং উসামা ইবনে যায়েদ রা.-কে তাদের আমির নিযুক্ত করেন। তখন সাহাবীগণ নেতৃত্বের সমালোচনা করতে থাকেন। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং বললেন, তোমরা আজ তার নেতৃত্বের সমালোচনা করছ, এভাবে তোমরা তাঁর পিতা (যায়েদ)-এর নেতৃত্বের প্রতিও সমালোচনা করতে। আল্লাহর কসমসে (যায়েদ) ছিল নেতৃত্বের জন্য যোগ্য ব্যক্তি এবং আর সে আমার কাছে লোকদের মধ্যে প্রিয়তম ব্যক্তি। আর এ (উসামা) তার পিতার পর লোকদের মধ্যে আমার কাছে প্রিয়তম ব্যক্তি।
হাদীস নং ৪১১৮ – পরিচ্ছেদ ২২৫২
আসবাগ রহ…………সুনাবিহী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাকে কেউ জিজ্ঞাসা করেন আপনি কখন হিজরত করেছেন? তিনি বলেন, আমরা ইয়ামান থেকে হিজরতের উদ্দেশ্যে বের হয়ে জুহফাতে পৌঁছি। তখন একজন অশ্বরোহীকে পেয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, খবর কি খবর কি? তিনি বললেন, পাঁচদিন অতিবাহিত হল আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সমাহিত করেছি। তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি কি শবেকদর সম্পর্কে কিছু শুনেছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুয়াযযিন বিলাল রা. আমাকে জানিয়েছেন যে, তা রমযানের শেষ দশ দিনে সপ্তম দিনে রয়েছে।
