আমি পুনরায় রবের সমীপে ফিরে আসব। যখন আমি আমার রবকে দেখব তখন পূর্বের ন্যায় সব কিছু করব। তারপর আমি সুপারিশ করব। আবার আমাকে একটি সীমারেখা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। তদনুসারে আমি তাদের জান্নাতে দাখিল করাব। (তারপর তৃতীয়বার) আমি আবার রবের নিকটে উপস্থিত হয়ে অনুরূপ করব। এরপর আমি চতুর্থবার ফিরে আসব এবং আরজ করব এখন কেবল তারাই জাহান্নামে অবশিষ্ট রয়ে গেছে যারা কুরআনের ঘোষণা অনুযায়ী আটকে রয়েছে আর যাদের উপর চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকা অবধারিত রয়েছে।
আবূ আবদুল্লাহ বুখারী (রহঃ) বলেন, কুরআনের যে ঘোষণায় তারা জাহান্নামে আবদ্ধ রয়েছে তা হল মহান আল্লাহর বাণীঃ خَالِدِينَ فِيهَا অর্থাৎ তারা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে।
হাদিস নম্বরঃ ৪১২৫ | 4125 | ٤۱۲۵
পরিচ্ছদঃ ২২৫৭. মহান আল্লাহর বাণীঃ কাজেই জেনেশুনে কাউকে তোমরা আল্লাহর সমকক্ষ দাঁড় করবে না (২ঃ ২২)
২২৫৬. অনুচ্ছেদঃ মুজাহিদ (রহ.) বলেন, إِلَى شَيَاطِيْنِهِمْ তাদের সঙ্গী-সাথী মুনাফিক ও মুশরিক। مُحِيْطٌ بِالْكَافِرِيْنَ -আল্লাহ কাফিরদের পরিবেষ্টন করে আছেন- (২ঃ ১৯)। অর্থাৎ আল্লাহ তাদের একত্রকারী। صِبْغَةَ অর্থাৎ দ্বীন। عَلَى الْخَاشِعِيْنَ-প্রকৃত মু’মিনদের নিকট। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, بِقُوَّةٍ-তাতে যা আছে তা ‘আমাল করে। আবুল আলিয়া (রহ.) বলেন, مَرَضٌ-সন্দেহ। وَمَا خَلْفَهَا -পরবর্তীদের জন্য নাসীহাত। لَا شِيَةَ -দাগ বিহীন। অন্যরা বলেন, يَسُوْمُوْنَكُمْ-তারা তোমাদের কষ্ট দিত- (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/৪৯)। الْوَلَايَةُ আল ওয়াও মাফতুহ্ অবস্থায় الْوَلَاء আল-ওয়ালা এর ধাতু। অর্থাৎ প্রভুত্ব, আর যখন ‘ওয়াও’-কে যের দেয়া হবে, তখন অর্থ দাঁড়াবে নেতৃত্ব। কেউ কেউ বলেন, যে সমস্ত বীজ খাওয়া হয় তাকে ফুম فُوْمٌ বলে। ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন, فَبَاءُوْا তারা (আল্লাহর গযবের দিকে) ফিরে গেল। يَسْتَفْتِحُوْنَ তারা সাহায্য চাইতো। شَرَوْا-তারা বিক্রি করল। رَاعِنَا নির্গত হয়েছে الرُّعُوْنَةِ মাসদার থেকে। যখন তারা লোককে বোকা বানাতে চাইত তখন বলত, রায়িনা رَاعِنَا
لَا يَجْزِيঅর্থাৎ কোন কাজে আসবে না। ابْتَلَى -পরীক্ষা করলেন। خُطُوَاتِ নির্গত (خطو) থেকে, অর্থ পদচিহ্ন।
৪১২৫। উসমান ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) … আবদুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, কোন গুনাহ আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা বড়? তিনি বললেন, আল্লাহর জন্য সমকক্ষ দাঁড়ান করান। অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি বললাম, এতো সত্যি বড় গুনাহ। আমি বললাম, তারপর কোন গুনাহ? তিনি উত্তর দিলেন, তুমি তোমার সন্তানকে এই ভয়ে হত্যা করবে যে সে তোমার সাথে আহার করবে। আমি আরয করলাম, এরপর কেনটি? তিনি উত্তর দিলেন, তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে তোমার ব্যভিচার করা।
হাদিস নম্বরঃ ৪১২৬ | 4126 | ٤۱۲٦
পরিচ্ছদঃ ২২৫৮. মহান আল্লহর বাণীঃ “আর আমি মেঘমালা দিয়ে তোমাদের উপর ছায়া দান করেছি এবং তোমাদের জন্য খাবার পাঠিয়েছি মান্না ও সালওয়া । তোমরা খাও সেসব পবিত্র বস্তু যা আমি তোমাদেরকে দান করেছি । তারা আমার প্রতি কোন যুলম করেনি বরং তারা নিজেদের উপরই যুলম করেছিল । (সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ৫৭) মুজাহিদ (র) বলেন, মান্না শিশির জাতীয় সুস্বাদু খাদ্য (যা পাথর ও গাছের উপর অবতীর্ণ হত পরে জমে গিয়ে ব্যাঙের ছাতার মত হত) আর সাল্ওয়া-পাখি।
৪১২৬। আবূ নুআইম (রহঃ) … সাঈদ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ الْكَمْأَةُ আল কামাআত (ব্যাঙের ছাতা) মান্ন জাতীয়। আর তার পানি চক্ষু রোগের শিফা।
হাদিস নম্বরঃ ৪১২৭ | 4127 | ٤۱۲۷
পরিচ্ছদঃ ২২৫৯. মহান আল্লাহর বাণীঃ “স্মরন করুন, যখন আমি বললাম, এই জনপদে প্রবেশ কর, যেখানে ইচ্ছা স্বাচ্ছন্দে খাও, অবনত মস্তকে প্রবেশ কর দার দিয়ে এবং বল حِطَّةٌ ‘ক্ষমা চাই’। আমি তোমাদের ভূল-ত্রুটি ক্ষমা করব এবং সৎকর্মশীলদের প্রতি আমার দান বৃদ্ধি করব”- (সূরাহ আল-বাক্বারা ২/৫৮)। رَغَدَّا প্রভূত স্বাচ্ছন্দ্য।
৪১২৭। মুহাম্মদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, বনী ইসরাঈলকে বলা হয়েছিল যে, তোমরা সিজদা অবস্থায় শহর দ্বারে প্রবেশ কর এবং বল حِطَّةٌ (ক্ষমা চাই) কিন্তু তারা প্রবেশ করল নিতম্ব হেঁচড়িয়ে এবং নির্দেশিত শব্দকে পরিবর্তন করে তদস্থলে বলল, গম ও যবের দানা। আল্লাহর বাণীঃ مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِجِبْرِيلَ ‘যারা জিবরীলের শত্রুতা করবে। ‘ইকরিমা (রহঃ) বলেন, জবর, মীক, সারাফ অর্থ ‘আবদ-বান্দা, ঈল-আল্লাহ। (অর্থ দাঁড়াল আবদুল্লাহ-আল্লাহর বান্দা)
হাদিস নম্বরঃ ৪১২৮ | 4128 | ٤۱۲۸
পরিচ্ছদঃ ২২৫৯. মহান আল্লাহর বাণীঃ “স্মরন করুন, যখন আমি বললাম, এই জনপদে প্রবেশ কর, যেখানে ইচ্ছা স্বাচ্ছন্দে খাও, অবনত মস্তকে প্রবেশ কর দার দিয়ে এবং বল حِطَّةٌ ‘ক্ষমা চাই’। আমি তোমাদের ভূল-ত্রুটি ক্ষমা করব এবং সৎকর্মশীলদের প্রতি আমার দান বৃদ্ধি করব”- (সূরাহ আল-বাক্বারা ২/৫৮)। رَغَدَّا প্রভূত স্বাচ্ছন্দ্য।
৪১২৮। আবদুল্লাহ ইবন মুনীর (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শুভাগম বার্তা শুনতে পেলেন। তখন তিনি (আবদুল্লাহ ইবনু সালাম) বাগানে ফল আহোরণ করছিলেন। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেন, আমি আপনাকে তিনটি বিষয় জিজ্ঞাসা করব যা নাবী বতীত অন্য কেউ জানেন না। তা হল কিয়ামতের প্রথম লক্ষণ কি? জান্নাতীদের প্রথম খাদ্য কি হবে? এবং সন্তান কখন পিতার সদৃশ হয় আর কখন মাতার সদৃশ হয়? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমাকে জিবরীল (আলাইহিস সালাম) এখনি এসব সম্পর্কে অবহিত করলেন, আবদুল্লাহ ইবনু সালাম বললেন, জিবরীল? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললে, হ্যাঁ। ইবনু সালাম বললেন, সে তো ফেরেশতাদের মধ্যে ইয়াদীদের শত্রু। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াত পাঠ করলেন, যে ব্যাক্তি জিবরীলের শত্রু হবে, এ জন্য যে তিনি তো আপনার অন্তরে, (আল্লাহর হুকুমে) ওহী নাযিল করেন। (২ঃ ৯৭)।
