হাদীস নং ৪০৯৪
মুহাম্মদ রহ…………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, আবদুর রাহমান ইবনে আবু বকর রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলেন। তখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমার বুকে হেলান দেওয়া অবস্থায় রেখেছিলাম এবং আবদুর রাহমানের হাতে তাজা মিসওয়াকের ডালা ছিল যা দিয়ে সে দাঁত পরিস্কার করছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে বিশেষ দৃষ্টিতে তাকাচ্ছিলেন। আমি মিসওয়াকটি নিলাম এবং তা চিবিয়ে নরম করলাম। তারপর তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দিলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দিয়ে দাঁত মর্দন করলেন। আমি তাকে এর আগে এত সুন্দরভাবে মিসওয়াক করতে আর কখনও দেখিনি। এ থেকে অবসর হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উভয় হাত অথবা আঙ্গুল উপরে উঠিয়ে তিনবার বললেন, ঊর্ধ্বলোকের মহান বন্ধুর সাথে (আমাকে মিলিত করুন)। তারপর তিনি ইন্তিকাল করলেন। আয়েশা রা. বলতেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বুক ও থুতনির মধ্যস্থলে থাকাবস্থায় ইন্তিকাল করেন।
হাদীস নং ৪০৯৫
হিব্বান রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হয়ে পড়তেন তখন তিনি আশ্রয় প্রার্থনার দুই সূরা (ফালাক ও নাস) পাঠ করে নিজ দেহে ফুঁক দিতেন এবং স্বীয় হাত দ্বারা শরীর মাসেহ করতেন। এরপর যখন তিনি মৃত্যু-রোগে আক্রান্ত হলেন, তখন আমি আশ্রয় প্রার্থনার সূরাদ্বয় দ্বারা তাঁর শরীরে দম করতাম, যা দিয়ে তিনি দম করতেন। আমি তাঁর হাত দ্বারা তাঁর শরীর মাসেহ করিয়ে দিতাম।
হাদীস নং ৪০৯৬
মুআল্লাহ ইবনে আসাদ রহ…………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালের পূর্বে যখন তাঁর পিঠ আমার উপর হেলান দেয়া অবস্থায় ছিল, তখন আমি কোন ঝুঁকিয়ে দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, হে আল্লাহ ! আমাকে মাফ করুন, রহম করুন এবং (ঊর্ধ্বজগতের) মহান বন্ধুর সাথে আমাকে মিলিত করুন।
হাদীস নং ৪০৯৭
সালত ইবনে মুহাম্মদ রহ…………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে রোগ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর সুস্থ হয়ে উঠেননি সে রোগবস্থায় তিনি বলেন, ইহুদীদের প্রতি আল্লাহ লা’নত করেছেন। তারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে সিজদার স্থানে পরিণত করেছে। আয়েশা রা. মন্তব্য করেন, এরূপ প্রথা যদি না থাকত তবে তাঁর কবরকেও খোলা রাখা হত। কারণ তাঁর কবরকেও মসজিদ (সিজদার স্থান) বানানোর আশংকা ছিল।
হাদীস নং ৪০৯৮
সাঈদ ইবনে উফাইর রহ……….নবী সহধর্মিণী আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর রোগ প্রবল হল ও ব্যথা তীব্র আকার ধারণ করল, তখন তিনি আমার ঘরে সেবা শুশ্রুষা করার ব্যাপারে তাঁর বিবিগণের নিকট অনুমতি চাইলেন। তখন তাঁরা তাকে অনুমতি দিলেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর থেকে বের হয়ে ইবনে আব্বাস রা. ও অপর একজন সাহাবীর সাহায্যে জমীনের উপর পা হিচড়ে চলতে লাগলেন। উবায়দুল্লাহ রা. বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-কে আয়েশা কথিত ব্যক্তি সম্পর্কে অবহিত করলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন, তুমি কি সেই দ্বিতীয় ব্যক্তি যার নাম আয়েশা রা. উল্লেখ করেননি তার নাম জান? আমি বললাম, না। ইবনে আব্বাস রা. বললেন, তিনি হলেন আলী রা.। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা রা. বর্ণনা করতেন যে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর ব্যথা বেড়ে গেল, তখন তিনি বললেন, তোমরা এমন সাত মশক যার মুখ এখনও খোলা হয়নি, তা থেকে আমার শরীরে পানি ঢেলে দাও। যেন আমি (সুস্থ হয়ে) লোকদের উপদেশ দিতে পারি। এরপর আমরা তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী হাফসা রা.-এর একটি বড় গামলায় বসালাম। তারপর আমরা উক্ত মশক হতে তাঁর উপর ততক্ষণ পর্যন্ত পানি ঢালা অব্যাহত রাখলাম যতক্ষণ না তিনি তাঁর হাত দ্বারা আমাদের ইশারা করে জানালেন যে, তোমরা তোমাদের কাজ সম্পন্ন করেছ। আয়েশা রা বলেন, তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের কাছে গিয়ে তাদের সাথে জামাতে নামায আদায় করলেন এবং তাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন। উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবা রহ. আমাকে জানালেন যে, আয়েশা ও আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. উভয়ে বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোগ-যাতনায় অস্থির হতেন তখন তিনি তাঁর কালো চাদর দিয়ে নিজ মুখমণ্ডল ঢেকে রাখতেন। আবার যখন জ্বরের উষ্ণতা হ্রাস পেত তখন মুখমণ্ডল থেকে চাদর সরিয়ে ফেলতেন। রাবী বলেন, এরূপ অবস্থায়ও তিনি বলতেন, ইহুদী ও নাসারাদের প্রতি আল্লাহর লানত, তারা নবীদের কবরকে মসজিদে পরিণত করেছে। তাদের কৃতকর্ম থেকে সতর্ক করা হয়েছে। উবায়দুল্লাহ রহ. বলেন যে, আয়েশা রা. বলেন, আমি আবু বকর রা.-এর ইমামতির ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বারবার আপত্তি করেছি। আর আমার তাঁর কাছ বারবার আপত্তি করার কারণ ছিল এই, আমার অন্তরে একথা আসেনি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরে তাঁর স্থলে কেউ দাঁড়ালে লোকেরা তাকে পছন্দ করবে। বরং আমি মনে করতাম যে কেউ তাঁর স্থলে দাঁড়ালে লোকরো তাঁর প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করবে, তাই আমি ইচ্ছা করলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দায়িত্ব আবু বকর রা.-এর পরিবর্তে অন্যকাউকে প্রদান করুন। আবু আবদুল্লাহ বুখারী রহ. বলেন, এ হাদীস ইবনে উমর, আবু মূসা ও ইবনে আব্বাস রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
