হাদীস নং ৪০৮৭
মুহাম্মদ ইবনে আরআরা রহ…………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর ইবনে খাত্তাব রা. ইবনে আব্বাস রা.-কে তাঁর কাছে বসাতেন। এতে আবদুর রাহমান ইবনে আউফ রা. তাকে বললেন, আমাদেরও তো ইবনে আব্বাস রা.-এর সমবয়সী ছেলেপুলে আছে ! তখন উমর রা. বললেন, সে কিরূপ মর্যাদার লোক তা তো আপনারাও জানেন। এরপর উমর রা. ইবনে আব্বাস রা.-কে এই إذا جاء نصر الله والفتح আয়াতের প্রকৃত মর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি বললেন, এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালের খবর (তাকে অবগত করানো হয়েছে) তখন উমর রা. বললেন, আমিও তা-ই মনে করি যা তুমি মনে করছ।
হাদীস নং ৪০৮৮
কুতাইবা রহ…………সাঈদ ইবনে জুরাইর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে আব্বাস রা. বললেন, বৃহস্পতিবার ! বৃহস্পতিবারের ঘটনা কি ? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রোগ জ্বালা প্রবলভাবে দেখা দেয়। তখন তিনি বললেন, তোমরা আমার কাছে আস, আমি তোমাদের জন্য কিছু লিখে দিয়ে যাই যেন তোমরা এরপর কখনও বিভ্রান্ত না হও। তখন তারা পরস্পর মতভেদ করতে থাকে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সান্নিধ্যে মতবিরোধ করা শোভনীয় নয়। এরপর কিছুসংখ্যক লোক বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থা কেমন? তিনি কি ব্যাপারটি পুনরুত্থাপনের উদ্যেগ নিলেন। তখন তিনি বললেন, তোমরা আমাকে আমার অবস্থায় ছেড়ে দাও, তোমরা যে কাজের দিকে আমাকে আহবান জানাচ্ছ তার চেয়ে আমি উত্তম অবস্থায় অবস্থান করছি। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের তিনটি নসীহত করলেন (১) আরব উপদ্বীপ থেকে মুশরিকদের বহিষ্কার করে দিবে (২) দূতদের সেরূপ আদর-আপ্যায়ন করবে যেমন আমি করতাম এবং তৃতীয়টি বলা থেকে তিনি নীরব থাকলেন অথবা বর্ণনাকারী বলেন, তৃতীয়টি আমি ভুলে গিয়েছি।
হাদীস নং ৪০৮৯
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ…………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের সময় যখন নিকটবর্তী হল এবং ঘরে ছিল লোকের সমাবেশ, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আস আমি তোমাদের জন্য কিছু লিখে দেই, যেন তোমরা পরবর্তীতে পথভ্রষ্ট না হও। তখন তাদের মধ্যকার কিছু লোক বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রোগ-যন্ত্রণা কঠিনতর অবস্থায়, আর তোমাদের কাছে তো কুরআন মওজুদ আছে। আল্লাহর কিতাবই আমাদের জন্য যথেষ্ট। ইত্যবসরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারের লোকজনের মধ্যে মতানৈক্য শুরু হয়ে যায়, এবং তারা পরস্পর বাক-বিতণ্ডা করতে থাকেন। তাদের কেউ বললেন, তোমরা কাগজ উপস্থিত কর, তিনি তোমাদের জন্য কিছু লিখে দিন। যাতে তোমরা তাঁর পরে কোন বিভ্রান্তিতে নিপতিত না হও। আবার কেউ বললেন এর বিপরীত। এরপর যখন বাক-বিতণ্ডা ও মতবিরোধ চরমে পৌঁছল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা উঠে চলে যাও। উবায়দুল্লাহ রা. বলেন, ইবনে আব্বাস রা. বলতেন, এ ছিল অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কিরামের জন্য কিছু লিখে দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের মতবিরোধ ও উচ্চ শব্দই মূলত প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
হাদীস নং ৪০৯০
ইয়াসারা ইবনে সাফয়ান ইবনে জামীল আল লাখমী রহ…………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু-রোগকালে ফাতিমা রা.-কে ডেকে আনলেন এবং চুপে চুপে কিছু বললেন, তখন তিনি হাসলেন। পরে আমরা এ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে রোগে আক্রান্ত আছেন এ রোগেই তাঁর ইন্তিকাল হবে। এ কথাটিই তিনি গোপনে আমাকে বলেছেন। তখন আমি কাঁদলাম। আবার তিনি আমাকে চুপে চুপে বললেন, তাঁর পরিবার-পরিজনের মধ্যে সর্বপ্রথম আমিই তাঁর সঙ্গে মিলিত হব, তখন আমি হাসলাম।
হাদীস নং ৪০৯১
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ…………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একথা শুনছিলাম যে, কোন নবী মারা যান যতক্ষণ না তাকে ইখতিয়ার প্রদান করা হয় দুনিয়া বা আখিরাত গ্রহণ করার। যে রোগে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন সে রোগে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মৃত্যু যন্ত্রণায় আক্রান্তাবস্থায় বলতে শুনেছি, তাদের সাথে যাদের প্রতি আল্লাহ তায়ালা নিয়ামত প্রদান করেছেন (তাঁরা হলেন, নবী (আ)-গণ, সিদ্দীকগণ এবং শহীদগণ) (৪: ৭২) তখন আমি ধারণা করলাম যে তিনিও ইখতিয়ার প্রাপ্ত হয়েছেন।
হাদীস নং ৪০৯২
মুসলিম রহ…………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুত্যু-রোগে আক্রান্ত হন, তখন তিনি বলিতেছিলেন, ‘ফির রফীকিল আলা’। – মহান ঊর্ধ্বলোকের বন্ধুর সাথে (আমাকে মিলিত করুন)।
হাদীস নং ৪০৯৩
আবুল ইয়ামান রহ…………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্থাবস্থায় বলতেন, কোন নবী আ.-এর প্রাণ কখনো কবজ করা হয়নি, যতক্ষণ না তাঁর স্থান জান্নাতে দেখান হয়েছে। তারপর তাকে জীবিত রাখা হয় অথবা ইন্তিকালের ইখতিয়ার দেয়া হয়। এরপর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং তাঁর মাথা আয়েশা রা.-এর উরুতে রাখাবস্থায় তাঁর জান কবজের সময় উপস্থিত হল তখন তিনি চৈতন্যহীন হয়ে পড়লেন। এরপর যখন তিনি চেতনা ফিরে পেলেন তখন তিনি ঘরের ছাদের দিকে দৃষ্টি দিয়ে বললেন, হে আল্লাহ ! মহান ঊর্ধ্বজগতের বন্ধুর সাথে (আমাকে মিলিত করুন)। অনন্তর আমি বললাম, তিনি আর আমাদের মাঝে থাকছেন না। এরপর আমি উপলব্ধি করলাম যে, এ ঐ কথাই যা তিনি আমাদের কাছে বর্ণনা করতেন। আর তাই ঠিক।
