হাদীস নং ৪০৯৯
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন অবস্থায় ইন্তিকাল করেন যে, আমার বুক ও থুতনির মধ্যস্থলে তিনি হেলান দেওয়া অবস্থায় ছিলেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যু-যন্ত্রণার পর আমি আর কারো জন্য মৃত্যু-যন্ত্রণাকে কঠোর বলে মনে করি না।
হাদীস নং ৪১০০
ইসহাক রহ…………আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, আলী ইবনে আবু তালিব রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ হতে বের হয়ে আসেন যখন তিনি মৃত্যুরোগে আক্রান্ত ছিলেন। তখন সাহাবীগণ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আবুল হাসান, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজ কেমন আছেন? তিনি বললেন, আল-হামদুলিল্লাহ , তিনি কিছুটা সুস্থ। তখন আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব রা. তাঁর হাত ধরে তাকে বললেন, আল্লাহর কসম, তুমি তিনদিন পরে অন্যের দ্বারা পরিচালিত হবে। আল্লাহর শপথ, আমি মনে করি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই রোগে অচিরেই ইন্তিকাল করবেন। কারণ আমি আবদুল মুত্তালিবের বংশের অনেকের মৃত্যুকালীন চেহারার অবস্থা লক্ষ্য করেছি। চল যাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এবং তাকে জিজ্ঞাসা করি যে, তিনি দায়িত্ব কার উপর ন্যস্ত করে যাচ্ছেন। যদি আমাদের মধ্যে থাকে তো তা আমরা জানব। আর যদি আমাদের ছাড়া অন্যদের উপর ন্যস্ত করে যান, তাহলে তাও আমরা জানতে পারব এবং তিনি এ ব্যাপারে আমাদের তখন অসীয়ত করে যাবেন। তখন আলী রা. বললেন, আল্লাহর কসম, যদি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমরা জিজ্ঞাসা করি আর তিনি আমাদের নিষেধ করে দেন, তবে তারপরে লোকেরা আর আমাদের তা প্রদান করবে না। আল্লাহর কসম, এজন্য আমি কখনই এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করব না।
হাদীস নং ৪১০১
সাঈদ ইবনে উফাইর রহ…………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, সোমবার সাহাবীগণ ফজরের নামাযে রত ছিলেন। আর আবু বকর রা. তাদের নামাযের জামাতের ইমামতী করছিলেন। হঠাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রা.-এর কক্ষের পর্দা উঠিয়ে তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন। সাহাবীগণ কাতারবন্দী অবস্থায় নামায আদায় করছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসি দিলেন। আবু বকর রা. পেছনে মুক্তদির সারিতে নামায আদায়ের নিমিত্ত পিছিয়ে আসতে মনস্থ করলেন। তিনি ধারণা করেছিলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে নামায আদায়ের জন্য বেরিয়ে আসার ইচ্ছা করছেন। আনাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমনের আনন্দে সাহাবীগণের নামায ভঙ্গের উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে ইশারায় তাদের নামায পুরা করতে বললেন। তারপর তিনি কক্ষে প্রবেশ করলেনও পর্দা টেনে দিলেন।
হাদীস নং ৪১০২
মুহাম্মদ ইবনে উবায়দা রহ…………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তি বলেন প্রায়ই বলতেন, আমার প্রতি আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে আমার পালার দিনে এবং আমার হলকুম ও সিনার মধ্যস্থলে থাকাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকাল হয় এবং আল্লাহ তায়ালা তাঁর ইন্তিকালের সময় আমার থুথু তাঁর থুথুর সাথে মিশ্রিত করে দেন। এ সময় আবদুর রহমান রা. আমার নিকট প্রবেশ করে এবং তার হাতে মিসওয়াক ছিল। আর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (আমার বুকে) হেলান অবস্থায় রেখেছিলাম। আমি লক্ষ্য করলাম যে, তিনি আবদুর রাহমানের দিকে তাকাচ্ছেন। আমি অনুভব করতে পারলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিসওয়াক চাচ্ছেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আমি কি আপনার জন্য মিসওয়াক আনব? তিনি তখন মাথার ইশারায় জানালেন যে, হ্যা, আন। তখন আমি মিসওয়াক আনলাম। কিন্তু মিসওয়াক শক্ত ছিল, তাই আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি কি এটি আপনার জন্য নরম করে দিব? তখন তিনি মাথার ইশারায় হ্যাঁ বললেন। তখন আমি মিসওয়াকটি চিবিয়ে নরম করে দিলাম। এরপর তিনি মিসওয়াক করলেন। তাঁর সম্মুখে পাত্র অথবা পেয়ালা ছিল (রাবী উমরের সন্দেহ) তাতে পানি ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারবার স্বীয় হস্তদ্বয় উক্ত পানির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে তার দ্বারা তাঁর চেহারা মাসেহ করালেন। এবং বলছিলেন ‘আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই, সত্যিই মৃত্যুযন্ত্রণা কঠিন’। তারপর উভয় হাত উপর দিকে উত্তেলন করে বলছিলেন, আমি ঊর্ধ্বলোকের মহান বন্ধুর সাথে মিলিত হতে চাই। এ অবস্থায় তাঁর ইন্তিকাল হল আর হাত শিথিল হয়ে গেল।
হাদীস নং ৪১০৩
ইসমাঈল রহ………….আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, যে রোগে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন সে অবস্থায় তিনি জিজ্ঞাসা করতেন, আমি আগামীকাল কার ঘরে থাকব। আগামীকাল কার ঘরে থাকব? এর দ্বারা তিনি আয়েশা রা.-এর ঘরে থাকার পালার প্রতি ইচ্ছা প্রকাশ করতেন। অন্য সহধর্মিণীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যার ঘরে ইচ্ছা সেখানে অবস্থান করার অনুমতি দিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রা.-এর ঘরে অবস্থান করতে থাকেন। এমনকি তাঁর ঘরেই তিনি ইন্তিকাল করেন। আয়েশা রা. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য নির্ধারিত পালার দিন আমার ঘরে ইন্তিকাল করেন এবং আল্লাহ তাঁর রূহ কবজ করেন এ অবস্থায় যে, তাঁর মাথা আমার হলকুম ও সীনার মধ্যস্থলে ছিল। এবং আমার থুথুর সাথে তাঁর থুথু মিশ্রিত হয়ে যায়। তারপর তিনি বলেন, আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর রা.-এর হাতে একটি মিসওয়াক ছিল যা দিয়ে সে তার দাঁত মাজছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকালেন। আমি তখন তাকে বললাম, হে আবদুল রহমান এই মিসওয়াকটি আমাকে দাও ; তখন সে তা আমাকে দিয়ে দিল। আমি সেটি চিবিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দিলাম। তিনি মিসওয়াকটি দ্বারা দাঁত পরিষ্কার করলেন, আর তিনি তখন আমার বুকে হেলান লাগান অবস্থায় ছিলেন।
