হাদীস নং ৪০৭৭ – রাসূল (সা.) এর হিজর বস্তিতে অবতরণ।
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ জুফী রহ………….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সামূদ গোত্রের) হিজর বস্তি অতিক্রম করেন, তখন তিনি বললেন, যারা নিজ আত্মার উপর অত্যাচার করছে তাদের আবাস স্থল ক্রন্দনাবস্থা ব্যতীত প্রবেশ কর না। যেন তোমাদের প্রতিও শাস্তি নিপতিত না হয় যা তাদের প্রতি নিপতিত হয়েছিল। তারপর তিনি তাঁর মস্তক আবৃত করেন এবং অতি দ্রুতবেগে চলে উক্ত স্থান অতিক্রম করেন।
হাদীস নং ৪০৭৮
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ…………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজর নামক স্থান দিয়ে অতিক্রমকালে তাঁর সঙ্গীদের বললেন, তোমরা ঐ শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ক্রন্দনরত অবস্থা ছাড়া প্রবেশ কর না—যাতে তোমাদের উপরও সেরূপ বিপদ আপতিত না হয় যেরূপ তাদের উপর আপতিত হয়েছিল।
হাদীস নং ৪০৭৯ – পরিচ্ছেদ ২২৪৫
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………….মুগীরা ইবনে শুবা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (প্রকৃতির) প্রয়োজনে বাহিরে গেলেন। (ফিরে এলে) আমি দাঁড়িয়ে তাঁর (অজুর) পানি ঢেলে দিচ্ছিলাম। (স্থানটি কোথায়) তা আমার স্মরণ নেই। তবে তা ছিল তাবূক যুদ্ধের সময়কার। এরপর তিনি তাঁর চেহারা ধৌত করেন। এবং তাঁর বাহুদ্বয় ধৌত করতে গেলে দেখা গেল যে, তাঁর জামার আস্তিন আটসাট। তখন তিনি উভয় বাহুকে জামার মধ্য থেকে বের করে আনেন এবং তা ধৌত করেন। তারপর তিনি তাঁর মোজার উপর মাসেহ করেন।
হাদীস নং ৪০৮০
খালিদ ইবনে মাখলাদ রহ……………আবু হুমাইদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাবূক যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করে মদীনাতে পদার্পন করলাম তখন তিনি বললেন, এই মদীনার অপর নাম ত্বাবা (পবিত্র)। এবং এই উহুদ এমন পাহাড় যে, সে আমাদের ভালবাসে আর আমরাও তাকে ভালবাসি।
হাদীস নং ৪০৮১
আহমদ ইবনে মুহাম্মদ রহ…………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবূক যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করে মদীনার নিকটবর্তী হলেন, তখন তিনি বললেন, মদীনাতে এমন সম্প্রদায় রয়েছে যারা কোন দূরপথ ভ্রমণ করেনি, এবং কোন উপত্যকাও অতিক্রম করেনি তবুও তারা তোমাদের সাথে (সাওয়াবে) শরীক রয়েছে। সাহাবায়ে কিরাম রা. আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! তারা তো মদীনায়-ই অবস্থান করছিল। তখন তিনি বললেন, তারা মদীনায়ই রয়ে গেছে, তবে ওযর তাদের আটকে রেখেছিল।
হাদীস নং ৪০৮২ – পারস্য অধিপতি কিসরা ও রোম অধিপতি কায়সারের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্র।
ইসহাক রহ…………..ইবনে আব্বাস রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ ইবনে হুযাফা সামী রা.-কে তাঁর পত্রসহ কিসরার কাছে প্রেরণ করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এ নির্দেশ দেন যে, সে যেন পত্রখানা প্রথমে বাহরাইনের গভর্নরের কাছে দেয় এবং পরে বাহরাইনের গভর্নর যেন কিসরার হাতে পত্রটি পৌঁছিয়ে দেয়। কিসরা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পত্রখানা পড়ল, তখন তা ছিড়ে টুকরা করে ফেলল। (রাবী বলেন) আমার যতদূর মনে পড়ে ইবনুল মুসায়্যাব রা. বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের প্রতি এ বলে বদদোয়া করেন, আল্লাহ তাদেরকেও সম্পূর্ণরূপে টুকরো টুকরো করে দিন।
হাদীস নং ৪০৮৩
উসমান ইবনে হায়সাম রহ………….আবু বাকরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শ্রুত একটি বাণী আমাকে জঙ্গে জামালের (উষ্টের যুদ্ধ) দিন মহা উপকার করেছে, যে সময় আমি সাহাবায়ে কিরামের সাথে মিলিত হয়ে জামাল যুদ্ধে শরীক হতে প্রায় প্রস্তুত হয়েছিলাম। আবু বাকরা রা. বলেন, সে বাণীটি হল, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এ খবর পৌঁছল যে, পারস্যবাসী কিসরা তনয়াকে তাদের বাদশাহ মনোনীত করেছেন, তখন তিনি বললেন, কখনই সে জাতি সফলতার মুখ দেখবে না যারা স্ত্রীলোককে তাদের প্রশাসক নির্বাচন করে।
হাদীস নং ৪০৮৪
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………….সায়িব ইবনে ইয়াযীদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার স্মৃতিপটে এখনও সে ঘটনা জাগে যে, মদীনার ছেলেপুলের সাথে ছানিয়্যাতুল বিদায়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে স্বাগত জানাতে আমি গিয়েছিলাম। সুফিয়ান রা.-রিওয়ায়েতে ‘গিলমান’ এর স্থলে ‘চিবইয়ান’ শব্দের উল্লেখ রয়েছে।
হাদীস নং ৪০৮৫
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ…………সায়িব (ইবনে ইয়াযীদ) রা. থেকে বর্ণিত যে, আমি স্মৃতিচারণ করি যে, ছানিয়্যাতুল বিদায়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে স্বাগত জানাতে মদীনার ছেলেদের সাথে গিয়েছিলাম যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবূক যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করছিলেন।
হাদীস নং ৪০৮৬ – নবী (সা.) এর রোগ ও তাঁর ওফাত।
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………..উম্মুল ফজল বিনতে হারিস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মাগরিবের নামাযে সূরা ‘ওয়াল মুরসালাতে উরফা’ পাঠ করতে শুনেছি। তারপর আল্লাহ তায়ালা তাঁর রূহ মুবারক কবজ করা পর্যন্ত তিনি আর আমাদের নিয়ে কোন নামায আদায় করেননি।
