হাদীস নং ৪০৩২
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ জুফী রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে জুমআর নামায জারী করার পরে সর্বপ্রথম যে মসজিদে জুমআর নামায জারী করা হয়েছিল তাহল বাহরাইনের জুয়াসা এলাকার আবদুল কায়েস গোত্রের মসজিদ।
হাদীস নং ৪০৩৪
আবুল ইয়ামান রহ…………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে একবার মিথ্যুক মুসায়লামা (মদীনায়) এসেছিল। সে বলতে লাগল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি আমাকে তাঁর পরবর্তীতে নিয়োগ করে যায় তাহলে আমি তাঁর অনুগত হয়ে যাব। সে তার গোত্রের বহু লোকজনসহ এসেছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাবিত ইবনে কায়েস ইবনে সাম্মাসকে সাথে নিয়ে তার দিকে অগ্রসর হলেন। সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে ছিল একটি খেজুরের ডাল। মুসায়লামা তার সাথীদের মধ্যে ছিল, এমতাবস্থায় তিনি তার কাছে গিয়ে পৌঁছলেন। তিনি বললেন, যদি তুমি আমার কাছে এ তুচ্ছ ডালটিও চাও তবে এটিও আমি তোমাকে দেব না। তোমার ব্যাপারে আল্লাহর ফায়সালা লঙ্ঘিত হতে পারে না। যদি তুমি আমার আনুগত্য থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন কর তাহলে অবশ্যই আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করে দিবেন। আমি তোমাকে ঠিক তেমনই দেখতে পাচ্ছি যেমনটি আমাকে (স্বপ্নযোগে) দেখানো হয়েছে। এই সাবিত আমার পক্ষ থেকে তোমাকে জবাব দেবে। এরপর তিনি তার কাছ থেকে চলে আসলেন। ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি ‘আমি তোমাকে তেমনই দেখতে পাচ্ছি যেমনটি আমাকে দেখানো হয়েছিল’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে আবু হুরায়রা রা আমাকে জানালেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একদিন আমি ঘুমাচ্ছিলাম তখন স্বপ্নে দেখলাম, আমার দু’হাতে স্বর্ণের দুটি খাড়ু। খাড়ু দুটি আমাকে ঘাবড়িয়ে দিল (পুরুষের জন্য স্বর্ণের খাড়ু অবৈধ) তখন ঘুমের মধ্যেই আমার প্রতি নির্দেশ দেয়া হল, খাড়ু দুটির উপর ফু দাও। আমি সে দুটির উপর ফু দিলে তা উড়ে গেল। এরপর আমি এর ব্যাখ্যা করেছি দু’জন মিথ্যাবাদী (নবী) বলে যারা আমার পরে বের হবে। এদের একজন আনসী আর অপরজন মুসায়লামা।
হাদীস নং ৪০৩৫
ইসহাক ইবনে নাসর রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি ঘুমাচ্ছিলাম এমতাবস্থায় (স্বপ্নে) আমার নিকট যমীনের সমুদয় সম্পদ উপস্থাপন করা হল এবং আমার হাতে দুটি সোনার খাড়ু রাখা হল। ফলে আমার মনে ব্যাপারটি গুরুতর অনুভূত হলে আমাকে ওহীর মাধ্যমে জানানো হল যে, এগুলোর উপর ফু দাও। আমি ফু দিলাম খাড়ু দুটি উধাও হয়ে গেল। এরপর আমি এ দুটির ব্যাখ্যা করলাম যে, এরা সেই সে দু’ মিথ্যাবাদী (নবী) যাদের মাঝখানে আমি অবস্থান করছি। অর্থাৎ সানআ শহরের অধিবাসী (আসওয়াদ আনসী) এবং ইয়ামামা শহরের অধিবাসী ((মুসায়লামাতুল কাযযাব)।
হাদীস নং ৪০৩৬
সালত ইবনে মুহাম্মদ রহ………….আবু রাজা উতারিদী রহ. বলেন যে, (ইসলাম গ্রহণ করার পূর্বে) আমরা একটি পাথরের পূজা করতাম। যখন এ অপেক্ষা উত্তম কোন পাথর পেতাম তখন এটিকে নিক্ষেপ করে দিয়ে অপরটির পূজা আরম্ভ করতাম আর কখনো যদি আমরা কোন পাথর না পেতাম তাহলে কিছু মাটি একত্রিত করে স্তুপ বানিয়ে নিতাম। তারপর একটি বকরী এনে সেই স্তুপের উপর দোহন করতাম (যেনো কৃত্রিমভাবে তা পাথরের মত দেখায়) তারপর এর চারপাশে তাওয়াফ করতাম। আর রজব মাস আসলে আমরা বলতাম, এটা তীর থেকে ফলা বিচ্ছিন্ন করার মাস। কাজেই আমরা রজব মাসে তীক্ষ্ণতা যুক্ত সব কটি তীর ও বর্শা থেকে এর তীক্ষ্ণ অংশ খুলে আলাদা করে রেখে দিতাম। রাবী (মাহদী) রহ. বলেন, আমি আমাদের উট চরাতাম। তারপর যখন আমরা শুনলাম যে, তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের কাওমের উপর অভিযান চালিয়েছেন (এবং মক্কা জয় করে ফেলছেন) তখন আমরা পালিয়ে এলাম জাহান্নামের দিকে অর্থাৎ মিথ্যাবাদী (নবী) মুসায়লামার দিকে।
হাদীস নং ৪০৩৭ – আসওয়াদ আনসীর ঘটনা।
সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ জারমী রহ………..উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবা রহ. বলেন, আমাদের কাছে এ খবর পৌঁছে যে, (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায়) মিথ্যাবাদী মুসায়লামা একবার মদীনায় এসে হারিসের কন্যার ঘরে অবস্থান করেছিল। হারিস ইবনে কুরায়যের কন্যা তথা আবদুল্লাহ ইবনে আমিরের মা ছিল তার স্ত্রী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে আসলেন। তখন তার সঙ্গে ছিলেন সাবিত ইবনে কায়েস ইবনে শাম্মাস রা. তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খতীব বলা হত। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে ছিল একটি খেজুরের ডাল। তিনি তার কাছে গিয়ে তার সাথে কথাবার্তা রাখলেন।। মুসায়লামা তাকে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) বলল, আপনি ইচ্ছা করলে আমার এবং আপনার মাঝে কর্তৃত্বের বাধা এভাবে তুলে দিতে পারেন যে, আপনার পরে তা আমার জন্য নির্দিষ্ট করে দেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি যদি এ ডালটিও আমার কাছে চাও, তাও আমি তোমাকে দেব না। আমি তোমাকে ঠিক তেমনই দেখতে পাচ্ছি যেমনটি আমাকে দেখানো হয়েছে। এই সাবিত ইবনে কায়েস এখানে রইল সে আমার সাথে যেমনটি আমাকে (স্বপ্নযোগে) দেখানো হয়েছে। এই সাবিত ইবনে কায়েস এখানে রইল সে আমার পক্ষ থেকে তোমার জবাব দেবে। এ কথা বল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলে গেলেন। উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ রহ. বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উল্লেখিত স্বপ্ন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন ইবনে আব্বাস রা. বললেন, (আবু হুরায়রা রা. কর্তৃক) আমাকে বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি ঘুমাচ্ছিলাম এমতাবস্থায় আমাকে দেখানো হল যে, আমার দুহাতে দুটি সোনার খাড়ু রাখা হয়েছে। এতে আমি ঘাবড়ে গেলাম এবং তা অপছন্দ করলাম। তখন আমাকে (ফুঁ দিতে) বলা হল। আমি এ দুটির উপর ফুঁ দিলে সে দুটি উড়ে গেল। আমি এ দুটির ব্যাখ্যা করলাম যে, দুজন মিথ্যাবাদী (নবী) আবির্ভূত হবে। উবায়দুল্লাহ রহ. বলেন, এ দু’জনের একজন হল আসওয়াদ আল আনসী, যাকে ফায়রুয নামক এক ব্যক্তি ইয়ামান এলাকায় হত্যা করেছে আর অপর জন হল মুসায়লামা।
